ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজারে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এ কথাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। গতকাল সন্ধ্যার পর প্রায় এক ঘণ্টা রায়চাঁদবাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন উভয়পক্ষের লোকজন।
নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষে অংশ নেওয়া একপক্ষ নৌবাহিনীর গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৯ থেকে ১০ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে গতকাল রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত–সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব মুহা. নিজামুল হক। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির আবদুল হক, সেক্রেটারি জেনারেল মো. রুহুল আমিনসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুহা. নিজামুল হক বলেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজার এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেলা ১১টার দিকে এক নারী নেত্রী বাড়ি ফেরার সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিএনপি কর্মী রুবেল তাঁকে লাঞ্ছিত করেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন। ওই নারীর স্বামী মো. জসিম উদ্দিন রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী ও জামায়াতের কর্মী। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি মুঠোফোনে রুবেলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁকেও গালাগালি, পরে এলে মারধর করা হয়। বিকেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে ফিরে যান। পরে আবার ঝামেলা হলে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিজামুল হক অভিযোগ করেন, তিনি স্থানীয় ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে বাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে বিএনপির দুই শতাধিক কর্মী তাদের ওপর হামলা করেন। এতে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নৌবাহিনীকে খবর দেওয়া হলে নৌবাহিনী এসে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি শান্ত করে। তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে জামায়াতের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল বলেন, জামায়াত নেতারা ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি উত্তেজনা প্রশমিত করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে ফিরে আসেন। পরে আবার সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও স্থানীয় মুরব্বি নান্নু মাস্টারসহ ১৫-১৬ জন বিএনপির নেতা-কর্মী আহত হন। এখানে তাঁর উপস্থিতিতে কিছুই হয়নি, তিনি কোনো নির্দেশও দেননি। জামায়াত বলে বেড়াচ্ছে যে তাঁর নেতৃত্বে হামলা হয়েছে, এটি মিথ্যা। এ বিষয়ে তাঁরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, রায়চাঁদবাজারে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির লোকজনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়েছে। সকালের দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের যে দাওয়াতি কাজ হয়েছে, সেটা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়, সেটা পরে রাতে প্রশমিত হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, জামায়াতে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি, তবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ও জামায়াত রায়চাঁদবাজারে লোক জমায়েত করেছে। বাজারের ভেতর রাস্তা সংস্কারের জন্য ইট তুলে রেখেছে। দুই পক্ষ দুই পক্ষের দিকে সেই ইট ছুড়ে মারে। এতে আহত ৯ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি, তবে অভিযোগ দেবে। ঘটনাস্থল থেকে কেউ আটক হয়নি।’

২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২০
ভোলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশে মজুত করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. মো. সালমান বিন শওকত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উম্মেদ ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার দুইটি গোডাউনে তল্লাশি করে ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।
লে. মো. সালমান বিন শওকত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় রবিবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক দুইটি গোডাউন তল্লাশি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুতকৃত প্রায় ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট ও গাঁজা সেবন কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৫২ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩৪৮ বান্ডেল রোলিং পেপার জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, এর সঙ্গে জড়িতরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়, তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত সিগারেট ও রোলিং পেপারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরিশাল টাইমস
ভোলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশে মজুত করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. মো. সালমান বিন শওকত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উম্মেদ ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার দুইটি গোডাউনে তল্লাশি করে ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।
লে. মো. সালমান বিন শওকত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় রবিবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক দুইটি গোডাউন তল্লাশি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুতকৃত প্রায় ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট ও গাঁজা সেবন কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৫২ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩৪৮ বান্ডেল রোলিং পেপার জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, এর সঙ্গে জড়িতরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়, তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত সিগারেট ও রোলিং পেপারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরিশাল টাইমস

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১২
ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার স্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত লালমোহন হেলিপ্যাডের উপরেই এখন ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌর প্রশাসকের নির্দেশেই এই কাজ হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেলিপ্যাডের পুরো এলাকাজুড়ে স্তূপ হয়ে আছে ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসা-বাড়ি ও পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ময়লার আকর্ষণে প্রতিদিন কয়েক দল কুকুর জড়ো হচ্ছে। গত কয়েকদিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন ৩ জন। আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগীও।
হেলিপ্যাড এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউল্যাহ, হাছানোজ্জামান ও রাশেদা বেগম বলেন, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার নামে, সেখানে ময়লা ফেলা কতটা যৌক্তিক? গন্ধে থাকা যায় না। কুকুরের ভয়ে ঘর থেকে বের হওয়া দায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজু চৌধুরী জানান, "ফজরের নামাজে মসজিদে যেতেও কুকুরের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।"
তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত-মৌখিক অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও পৌরসভা হেলিপ্যাডের পাশের ব্যস্ত মহাসড়কে ময়লা ফেলছিল। তখন সংবাদ প্রকাশের পর তা বন্ধ হয়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। আমরাও চাই না। কিন্তু পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন নেই। বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে এখানে ফেলতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ময়লা ফেলার জন্য জমি ক্রয় ও ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল হয়েছে। সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর কাজ চলছে।
প্রথম শ্রেণির লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের দাবি জানিয়ে আসছে পৌরবাসী। সাবেক প্রশাসক মো. শাহ আজিজ এ বিষয়ে জমি কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলা বন্ধ ও স্তূপকৃত ময়লা অপসারণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌরসভার জন্য স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্ধারণ করা জরুরি ।
ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার স্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত লালমোহন হেলিপ্যাডের উপরেই এখন ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌর প্রশাসকের নির্দেশেই এই কাজ হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেলিপ্যাডের পুরো এলাকাজুড়ে স্তূপ হয়ে আছে ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসা-বাড়ি ও পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ময়লার আকর্ষণে প্রতিদিন কয়েক দল কুকুর জড়ো হচ্ছে। গত কয়েকদিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন ৩ জন। আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগীও।
হেলিপ্যাড এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউল্যাহ, হাছানোজ্জামান ও রাশেদা বেগম বলেন, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার নামে, সেখানে ময়লা ফেলা কতটা যৌক্তিক? গন্ধে থাকা যায় না। কুকুরের ভয়ে ঘর থেকে বের হওয়া দায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজু চৌধুরী জানান, "ফজরের নামাজে মসজিদে যেতেও কুকুরের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।"
তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত-মৌখিক অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও পৌরসভা হেলিপ্যাডের পাশের ব্যস্ত মহাসড়কে ময়লা ফেলছিল। তখন সংবাদ প্রকাশের পর তা বন্ধ হয়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। আমরাও চাই না। কিন্তু পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন নেই। বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে এখানে ফেলতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ময়লা ফেলার জন্য জমি ক্রয় ও ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল হয়েছে। সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর কাজ চলছে।
প্রথম শ্রেণির লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের দাবি জানিয়ে আসছে পৌরবাসী। সাবেক প্রশাসক মো. শাহ আজিজ এ বিষয়ে জমি কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলা বন্ধ ও স্তূপকৃত ময়লা অপসারণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌরসভার জন্য স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্ধারণ করা জরুরি ।

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪০
ভরা মৌসুমেও ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার জেলে। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলেও কাক্সিক্ষত মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় অনেকের দিন কাটছে অর্ধাহার-অনাহারে।
উপজেলার শশীগঞ্জ, চৌমুহনী, গুরিন্দা ও মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট ঘুরে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার শুরু থেকেই নদীতে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। যে অল্প কিছু মাছ ধরা পড়ছে, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানি, বরফ ও নৌকার মাল্লাদের খরচই উঠছে না। ফলে ধার-দেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন উপজেলার অধিকাংশ জেলে পরিবার।
শশীগঞ্জ এলাকার জেলে নাসির উদ্দিন, মজির উদ্দিন, জেবল হকসহ কয়েকজন বলেন, সারাদিন নদীতে থেকেও জালে তেমন ইলিশ উঠছে না। যা পাই, তা বিক্রি করে নৌকার খরচও ওঠে না। পরিবারের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নদীতে নামছি। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় ঋণ শোধ করতে পারছি না। সংসারে অভাব লেগেই আছে। এমতাবস্থায় পেশা পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোন পথ দেখছি না।
শশীগঞ্জ মাছঘাটের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন খোকন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটে ইলিশের আমদানি কম। এতে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীÑসবাই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিদিন আড়তের খরচ পর্যন্ত হচ্ছে না মাছ বেচা-কেনা করে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন বলেন, নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন, স্রোতের তারতম্য ও আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে অনেক সময় ইলিশের বিচরণে পরিবর্তন আসে। প্রচুর বর্ষা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে মেঘনা নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের দাবি, দুর্দিনে নিবন্ধিত ও প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্য সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে মেঘনাপাড়ের হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
ভরা মৌসুমেও ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার জেলে। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলেও কাক্সিক্ষত মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় অনেকের দিন কাটছে অর্ধাহার-অনাহারে।
উপজেলার শশীগঞ্জ, চৌমুহনী, গুরিন্দা ও মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট ঘুরে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার শুরু থেকেই নদীতে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। যে অল্প কিছু মাছ ধরা পড়ছে, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানি, বরফ ও নৌকার মাল্লাদের খরচই উঠছে না। ফলে ধার-দেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন উপজেলার অধিকাংশ জেলে পরিবার।
শশীগঞ্জ এলাকার জেলে নাসির উদ্দিন, মজির উদ্দিন, জেবল হকসহ কয়েকজন বলেন, সারাদিন নদীতে থেকেও জালে তেমন ইলিশ উঠছে না। যা পাই, তা বিক্রি করে নৌকার খরচও ওঠে না। পরিবারের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নদীতে নামছি। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় ঋণ শোধ করতে পারছি না। সংসারে অভাব লেগেই আছে। এমতাবস্থায় পেশা পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোন পথ দেখছি না।
শশীগঞ্জ মাছঘাটের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন খোকন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটে ইলিশের আমদানি কম। এতে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীÑসবাই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিদিন আড়তের খরচ পর্যন্ত হচ্ছে না মাছ বেচা-কেনা করে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন বলেন, নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন, স্রোতের তারতম্য ও আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে অনেক সময় ইলিশের বিচরণে পরিবর্তন আসে। প্রচুর বর্ষা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে মেঘনা নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের দাবি, দুর্দিনে নিবন্ধিত ও প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্য সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে মেঘনাপাড়ের হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৪
ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজারে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এ কথাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। গতকাল সন্ধ্যার পর প্রায় এক ঘণ্টা রায়চাঁদবাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন উভয়পক্ষের লোকজন।
নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষে অংশ নেওয়া একপক্ষ নৌবাহিনীর গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৯ থেকে ১০ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে গতকাল রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত–সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব মুহা. নিজামুল হক। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির আবদুল হক, সেক্রেটারি জেনারেল মো. রুহুল আমিনসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুহা. নিজামুল হক বলেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজার এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেলা ১১টার দিকে এক নারী নেত্রী বাড়ি ফেরার সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিএনপি কর্মী রুবেল তাঁকে লাঞ্ছিত করেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন। ওই নারীর স্বামী মো. জসিম উদ্দিন রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী ও জামায়াতের কর্মী। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি মুঠোফোনে রুবেলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁকেও গালাগালি, পরে এলে মারধর করা হয়। বিকেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে ফিরে যান। পরে আবার ঝামেলা হলে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিজামুল হক অভিযোগ করেন, তিনি স্থানীয় ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে বাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে বিএনপির দুই শতাধিক কর্মী তাদের ওপর হামলা করেন। এতে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নৌবাহিনীকে খবর দেওয়া হলে নৌবাহিনী এসে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি শান্ত করে। তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে জামায়াতের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল বলেন, জামায়াত নেতারা ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি উত্তেজনা প্রশমিত করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে ফিরে আসেন। পরে আবার সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও স্থানীয় মুরব্বি নান্নু মাস্টারসহ ১৫-১৬ জন বিএনপির নেতা-কর্মী আহত হন। এখানে তাঁর উপস্থিতিতে কিছুই হয়নি, তিনি কোনো নির্দেশও দেননি। জামায়াত বলে বেড়াচ্ছে যে তাঁর নেতৃত্বে হামলা হয়েছে, এটি মিথ্যা। এ বিষয়ে তাঁরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, রায়চাঁদবাজারে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির লোকজনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়েছে। সকালের দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের যে দাওয়াতি কাজ হয়েছে, সেটা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়, সেটা পরে রাতে প্রশমিত হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, জামায়াতে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি, তবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ও জামায়াত রায়চাঁদবাজারে লোক জমায়েত করেছে। বাজারের ভেতর রাস্তা সংস্কারের জন্য ইট তুলে রেখেছে। দুই পক্ষ দুই পক্ষের দিকে সেই ইট ছুড়ে মারে। এতে আহত ৯ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি, তবে অভিযোগ দেবে। ঘটনাস্থল থেকে কেউ আটক হয়নি।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬