পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড কে.জি. স্কুল ও দেউলী অক্সফোর্ড জুনিয়র হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, কুয়াকাটা পানসি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ শফিকুল ইসলাম খানের সাথে সাংবাদিকদের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদের সভাপতিত্বে এবং প্রেসক্লাব সদস্য মোঃ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েল মুন্সি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাঁর বক্তব্যে অক্সফোর্ড কে.জি. স্কুল ও অক্সফোর্ড জুনিয়র হাই স্কুলের অর্জিত সাফল্য এবং সমসাময়িক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি মির্জাগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ব্যক্ত করে বলেন, "এলাকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
এ সময় তিনি উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনেও সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। কুয়াকাটায় পাঁচ তারকা মানের পানসী হোটেল গড়ে ওঠার নেপথ্যের ইতিহাস তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জেসাস-এর সাধারণ সম্পাদক খন্দকার তোহিদুল ইসলাম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সোহেল মল্লিক।
মতবিনিময় সভায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ দাস অপু, মোঃ আয়াতুল্লাহ সুজন হাওলাদার, লুৎফর রহমান সিয়াম ও আরিফুর রহমান সুমন মল্লিকসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ। সবশেষে সভাপতি মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৮
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক গ্রাম্য কবিরাজের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মোল্লা বাড়ির কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরিফুর রহমান ওই এলাকার নূর আলম মাতব্বরের ছেলে এবং পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন আরিফুর রহমান। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় কবিরাজ নূরজাহান বেগমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতের দিকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে ভেবে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও মা ও আরিফুর কবিরাজের কাছে থেকে যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মা ঘুম থেকে জেগে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কবিরাজের ঘরের সামনের পুকুরপাড়ের লোটানো অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আরিফুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কবিরাজ নূরজাহান বেগম দাবি করেন, রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে আরিফুরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আবোল-তাবোল বলতে বলতে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাঁস-মুরগি ছাড়তে গিয়ে আরিফুরকে rtsপুকুরপাড় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পুকুরপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২১
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১২৪৫৫৫) ঢাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খলিলপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অগভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং গুরুতর ৬ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠান। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ছিলেন। কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য তারা বাসটি রিজার্ভ নিয়েছিলেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৬
পটুয়াখালীর পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা ও কালীচন্নাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের বিরূপ আবহাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। হঠাৎ করে নদীর পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে অবিরত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠ ও বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে বিভিন্ন কৃষিজ ফসল ও গাছপালা।
স্থানীয়রা জানান, পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রবল জোয়ারের পানি দ্রুতগতিতে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এরই মধ্যে অনেক বসতঘর ও মসজিদে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে এখন পানি মাড়িয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তার সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
চান্দখালী গ্রামের বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, ‘এই বাঁধের রাস্তা দিয়া আমরা চলাচল করতাম। এখন সব ভাইঙ্গা গ্যাছে। তাই পানির মধ্যে দিয়া ভিজ্জা এপার-ওপার চলাচল করি আমরা।’
চান্দখালী গ্রামের মো. কবির বলেন, ‘বাঁধ ভাইঙ্গা এত পানি উঠছে যে আমাগো মসজিদেও পানি উঠছে। এখানে নামাজ আদায় করাও সম্ভব হইতেছে না। আমাগো রান্নাঘরও তলাইয়া গেছে। এ কারণে খাবারও রান্না করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই কষ্টে আছি। সরকারের কাছে দ্রুত পাইলিংয়ের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের দাবি জানাই।’
এদিকে ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। পানির স্রোতে অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে এবং সদ্য রোপণ করা ধানের চারাসহ বিভিন্ন কৃষিজ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
চান্দখালী গ্রামের কৃষক মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘কয়দিন আগে আমরা রোয়া (ধানের চারা) রুইছি (রোপণ করেছি)। হঠাৎ বেড়িবাঁধ ভাইঙ্গা যাইয়া শো শো করে পানি আইয়া আমাগো ক্ষেতে ঢুকছে। এহন সব রোয়া তলাইয়া গ্যাছে। পুরা ক্ষেত নষ্ট হইয়া গ্যাছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা নদীর তীরবর্তী এ বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে নদীতে পানি বাড়লেই ভাঙন দেখা দেয় এবং বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘পায়রা নদীকেন্দ্রিক আমাদের একটি স্টাডি চলমান আছে। ওই স্টাডি রিপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। রিপোর্টটি পাওয়ার পরে আমরা পায়রা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প দাখিল করব।’
এদিকে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নদীভাঙনে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা, কালীচন্না, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া, ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা, তুষখালীর ভুতুমিয়া, মাটিভাঙ্গা এলাকার ফুলতলা এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিঁপড়াখালীসহ নদীতীরবর্তী প্রায় ১৫টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
পটুয়াখালীর পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা ও কালীচন্নাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের বিরূপ আবহাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। হঠাৎ করে নদীর পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে অবিরত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠ ও বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে বিভিন্ন কৃষিজ ফসল ও গাছপালা।
স্থানীয়রা জানান, পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রবল জোয়ারের পানি দ্রুতগতিতে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এরই মধ্যে অনেক বসতঘর ও মসজিদে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে এখন পানি মাড়িয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তার সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
চান্দখালী গ্রামের বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, ‘এই বাঁধের রাস্তা দিয়া আমরা চলাচল করতাম। এখন সব ভাইঙ্গা গ্যাছে। তাই পানির মধ্যে দিয়া ভিজ্জা এপার-ওপার চলাচল করি আমরা।’
চান্দখালী গ্রামের মো. কবির বলেন, ‘বাঁধ ভাইঙ্গা এত পানি উঠছে যে আমাগো মসজিদেও পানি উঠছে। এখানে নামাজ আদায় করাও সম্ভব হইতেছে না। আমাগো রান্নাঘরও তলাইয়া গেছে। এ কারণে খাবারও রান্না করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই কষ্টে আছি। সরকারের কাছে দ্রুত পাইলিংয়ের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের দাবি জানাই।’
এদিকে ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। পানির স্রোতে অনেক গাছপালা উপড়ে গেছে এবং সদ্য রোপণ করা ধানের চারাসহ বিভিন্ন কৃষিজ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
চান্দখালী গ্রামের কৃষক মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘কয়দিন আগে আমরা রোয়া (ধানের চারা) রুইছি (রোপণ করেছি)। হঠাৎ বেড়িবাঁধ ভাইঙ্গা যাইয়া শো শো করে পানি আইয়া আমাগো ক্ষেতে ঢুকছে। এহন সব রোয়া তলাইয়া গ্যাছে। পুরা ক্ষেত নষ্ট হইয়া গ্যাছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা নদীর তীরবর্তী এ বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে নদীতে পানি বাড়লেই ভাঙন দেখা দেয় এবং বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘পায়রা নদীকেন্দ্রিক আমাদের একটি স্টাডি চলমান আছে। ওই স্টাডি রিপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। রিপোর্টটি পাওয়ার পরে আমরা পায়রা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প দাখিল করব।’
এদিকে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নদীভাঙনে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের চান্দখালী, খেঁজুরতলা, কালীচন্না, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া, ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা, তুষখালীর ভুতুমিয়া, মাটিভাঙ্গা এলাকার ফুলতলা এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিঁপড়াখালীসহ নদীতীরবর্তী প্রায় ১৫টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

২৮ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড কে.জি. স্কুল ও দেউলী অক্সফোর্ড জুনিয়র হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, কুয়াকাটা পানসি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ শফিকুল ইসলাম খানের সাথে সাংবাদিকদের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদের সভাপতিত্বে এবং প্রেসক্লাব সদস্য মোঃ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েল মুন্সি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাঁর বক্তব্যে অক্সফোর্ড কে.জি. স্কুল ও অক্সফোর্ড জুনিয়র হাই স্কুলের অর্জিত সাফল্য এবং সমসাময়িক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি মির্জাগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ব্যক্ত করে বলেন, "এলাকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
এ সময় তিনি উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে সাংবাদিকদের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনেও সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। কুয়াকাটায় পাঁচ তারকা মানের পানসী হোটেল গড়ে ওঠার নেপথ্যের ইতিহাস তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জেসাস-এর সাধারণ সম্পাদক খন্দকার তোহিদুল ইসলাম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সোহেল মল্লিক।
মতবিনিময় সভায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ দাস অপু, মোঃ আয়াতুল্লাহ সুজন হাওলাদার, লুৎফর রহমান সিয়াম ও আরিফুর রহমান সুমন মল্লিকসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ। সবশেষে সভাপতি মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪