গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের এক সাধারণ তরুণ মোহাম্মদ আম্মার। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল প্রযুক্তি জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। তবে গ্রামীণ পরিবেশে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি।
অবশেষে স্বপ্ন পূরণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ছুটে যান কুমিল্লায়। সেখানে গিয়ে ভর্তি হন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে। সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখে এখন সফল তরুণ আম্মার।
এরইমধ্যে তিনি আয় করেছেন চারশত ডলার। আম্মার ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. বাবুলের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি গজারিয়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসার আলিম ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
আম্মার বলেন, আমি প্রত্যন্ত এলাকায় থাকি। সেখানে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে এখনো অনেকেরই ভালো কোনো ধারণা নেই। তবে আমার স্বপ্ন ছিল এই ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে চলে যাই কুমিল্লাতে। সেখানে গিয়ে আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে ভর্তি হই।
এরপরই শুরু হয় আমার নবযাত্রা। তবে প্রথম দিকে টেকনিক্যাল বিষয় শিখতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে। এ নিয়ে অনেক সময় হতাশও হয়ে পড়তাম। তবে ছায়ার মতো পাশে থেকে প্রতিদিন আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন মেন্টর মো. ওমর ফারুক।
তিনি আরো বলেন, কোর্স চলাকালীন সময়েই কাজ শুরু করি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ‘মার্কেটপ্লেস আই আউট অব মার্কেটপ্লেস’-এ, দুই মাসের মাথায়ই আয় করি ষাট ডলার। এ পর্যন্ত মোট আয় করেছি চারশত ডলার।
বর্তমানে কোর্স চলাকালীন সময়েও প্রতি মাসে আমার শতাধিক ডলার করে আয় হচ্ছে। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য এটি কেবল অর্থই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বড়ভিত্তি। আমার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়।
আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেই একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। যার মাধ্যমে আমার নিজেরে এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের নতুন প্রজন্মকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে মোহাম্মদ আম্মারের গ্রামের বাড়ি দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, এই তরুণের সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে গ্রাম আর শহর নয়, যেকোনো স্থানে থেকে যে কেউ বিশ^বাজারে স্বমহিমায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আম্মারের এমন সফলতায় তিনি হয়ে উঠছেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, বর্তমানে এই উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো প্রশিক্ষণ বা সহযোগিতার সুযোগ নেই। তবে সামনে কোনো সুযোগ আসলে তা আগ্রহীদের জানানো হবে।

২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২০
ভোলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশে মজুত করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. মো. সালমান বিন শওকত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উম্মেদ ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার দুইটি গোডাউনে তল্লাশি করে ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।
লে. মো. সালমান বিন শওকত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় রবিবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক দুইটি গোডাউন তল্লাশি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুতকৃত প্রায় ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট ও গাঁজা সেবন কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৫২ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩৪৮ বান্ডেল রোলিং পেপার জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, এর সঙ্গে জড়িতরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়, তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত সিগারেট ও রোলিং পেপারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরিশাল টাইমস
ভোলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশে মজুত করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. মো. সালমান বিন শওকত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উম্মেদ ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার দুইটি গোডাউনে তল্লাশি করে ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।
লে. মো. সালমান বিন শওকত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় রবিবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক দুইটি গোডাউন তল্লাশি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুতকৃত প্রায় ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার ৪০০ শলাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট ও গাঁজা সেবন কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৫২ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৩৪৮ বান্ডেল রোলিং পেপার জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, এর সঙ্গে জড়িতরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়, তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত সিগারেট ও রোলিং পেপারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরিশাল টাইমস

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১২
ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার স্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত লালমোহন হেলিপ্যাডের উপরেই এখন ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌর প্রশাসকের নির্দেশেই এই কাজ হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেলিপ্যাডের পুরো এলাকাজুড়ে স্তূপ হয়ে আছে ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসা-বাড়ি ও পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ময়লার আকর্ষণে প্রতিদিন কয়েক দল কুকুর জড়ো হচ্ছে। গত কয়েকদিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন ৩ জন। আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগীও।
হেলিপ্যাড এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউল্যাহ, হাছানোজ্জামান ও রাশেদা বেগম বলেন, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার নামে, সেখানে ময়লা ফেলা কতটা যৌক্তিক? গন্ধে থাকা যায় না। কুকুরের ভয়ে ঘর থেকে বের হওয়া দায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজু চৌধুরী জানান, "ফজরের নামাজে মসজিদে যেতেও কুকুরের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।"
তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত-মৌখিক অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও পৌরসভা হেলিপ্যাডের পাশের ব্যস্ত মহাসড়কে ময়লা ফেলছিল। তখন সংবাদ প্রকাশের পর তা বন্ধ হয়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। আমরাও চাই না। কিন্তু পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন নেই। বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে এখানে ফেলতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ময়লা ফেলার জন্য জমি ক্রয় ও ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল হয়েছে। সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর কাজ চলছে।
প্রথম শ্রেণির লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের দাবি জানিয়ে আসছে পৌরবাসী। সাবেক প্রশাসক মো. শাহ আজিজ এ বিষয়ে জমি কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলা বন্ধ ও স্তূপকৃত ময়লা অপসারণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌরসভার জন্য স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্ধারণ করা জরুরি ।
ভোলার লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার স্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত লালমোহন হেলিপ্যাডের উপরেই এখন ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌর প্রশাসকের নির্দেশেই এই কাজ হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেলিপ্যাডের পুরো এলাকাজুড়ে স্তূপ হয়ে আছে ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের বাসা-বাড়ি ও পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ময়লার আকর্ষণে প্রতিদিন কয়েক দল কুকুর জড়ো হচ্ছে। গত কয়েকদিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন ৩ জন। আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগীও।
হেলিপ্যাড এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউল্যাহ, হাছানোজ্জামান ও রাশেদা বেগম বলেন, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার নামে, সেখানে ময়লা ফেলা কতটা যৌক্তিক? গন্ধে থাকা যায় না। কুকুরের ভয়ে ঘর থেকে বের হওয়া দায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজু চৌধুরী জানান, "ফজরের নামাজে মসজিদে যেতেও কুকুরের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।"
তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত-মৌখিক অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও পৌরসভা হেলিপ্যাডের পাশের ব্যস্ত মহাসড়কে ময়লা ফেলছিল। তখন সংবাদ প্রকাশের পর তা বন্ধ হয়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলার সুযোগ নেই। আমরাও চাই না। কিন্তু পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন নেই। বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে এখানে ফেলতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ময়লা ফেলার জন্য জমি ক্রয় ও ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে বাতিল হয়েছে। সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানোর কাজ চলছে।
প্রথম শ্রেণির লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের দাবি জানিয়ে আসছে পৌরবাসী। সাবেক প্রশাসক মো. শাহ আজিজ এ বিষয়ে জমি কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে হেলিপ্যাডে ময়লা ফেলা বন্ধ ও স্তূপকৃত ময়লা অপসারণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌরসভার জন্য স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্ধারণ করা জরুরি ।

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪০
ভরা মৌসুমেও ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার জেলে। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলেও কাক্সিক্ষত মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় অনেকের দিন কাটছে অর্ধাহার-অনাহারে।
উপজেলার শশীগঞ্জ, চৌমুহনী, গুরিন্দা ও মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট ঘুরে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার শুরু থেকেই নদীতে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। যে অল্প কিছু মাছ ধরা পড়ছে, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানি, বরফ ও নৌকার মাল্লাদের খরচই উঠছে না। ফলে ধার-দেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন উপজেলার অধিকাংশ জেলে পরিবার।
শশীগঞ্জ এলাকার জেলে নাসির উদ্দিন, মজির উদ্দিন, জেবল হকসহ কয়েকজন বলেন, সারাদিন নদীতে থেকেও জালে তেমন ইলিশ উঠছে না। যা পাই, তা বিক্রি করে নৌকার খরচও ওঠে না। পরিবারের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নদীতে নামছি। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় ঋণ শোধ করতে পারছি না। সংসারে অভাব লেগেই আছে। এমতাবস্থায় পেশা পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোন পথ দেখছি না।
শশীগঞ্জ মাছঘাটের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন খোকন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটে ইলিশের আমদানি কম। এতে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীÑসবাই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিদিন আড়তের খরচ পর্যন্ত হচ্ছে না মাছ বেচা-কেনা করে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন বলেন, নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন, স্রোতের তারতম্য ও আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে অনেক সময় ইলিশের বিচরণে পরিবর্তন আসে। প্রচুর বর্ষা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে মেঘনা নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের দাবি, দুর্দিনে নিবন্ধিত ও প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্য সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে মেঘনাপাড়ের হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
ভরা মৌসুমেও ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার জেলে। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলেও কাক্সিক্ষত মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় অনেকের দিন কাটছে অর্ধাহার-অনাহারে।
উপজেলার শশীগঞ্জ, চৌমুহনী, গুরিন্দা ও মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট ঘুরে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার শুরু থেকেই নদীতে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। যে অল্প কিছু মাছ ধরা পড়ছে, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানি, বরফ ও নৌকার মাল্লাদের খরচই উঠছে না। ফলে ধার-দেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন উপজেলার অধিকাংশ জেলে পরিবার।
শশীগঞ্জ এলাকার জেলে নাসির উদ্দিন, মজির উদ্দিন, জেবল হকসহ কয়েকজন বলেন, সারাদিন নদীতে থেকেও জালে তেমন ইলিশ উঠছে না। যা পাই, তা বিক্রি করে নৌকার খরচও ওঠে না। পরিবারের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নদীতে নামছি। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় ঋণ শোধ করতে পারছি না। সংসারে অভাব লেগেই আছে। এমতাবস্থায় পেশা পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোন পথ দেখছি না।
শশীগঞ্জ মাছঘাটের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন খোকন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটে ইলিশের আমদানি কম। এতে জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীÑসবাই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিদিন আড়তের খরচ পর্যন্ত হচ্ছে না মাছ বেচা-কেনা করে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন বলেন, নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন, স্রোতের তারতম্য ও আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে অনেক সময় ইলিশের বিচরণে পরিবর্তন আসে। প্রচুর বর্ষা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে মেঘনা নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের দাবি, দুর্দিনে নিবন্ধিত ও প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্য সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে মেঘনাপাড়ের হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

২২ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:৩১
গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের এক সাধারণ তরুণ মোহাম্মদ আম্মার। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল প্রযুক্তি জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। তবে গ্রামীণ পরিবেশে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি।
অবশেষে স্বপ্ন পূরণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ছুটে যান কুমিল্লায়। সেখানে গিয়ে ভর্তি হন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে। সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখে এখন সফল তরুণ আম্মার।
এরইমধ্যে তিনি আয় করেছেন চারশত ডলার। আম্মার ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. বাবুলের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি গজারিয়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসার আলিম ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
আম্মার বলেন, আমি প্রত্যন্ত এলাকায় থাকি। সেখানে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে এখনো অনেকেরই ভালো কোনো ধারণা নেই। তবে আমার স্বপ্ন ছিল এই ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে চলে যাই কুমিল্লাতে। সেখানে গিয়ে আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে ভর্তি হই।
এরপরই শুরু হয় আমার নবযাত্রা। তবে প্রথম দিকে টেকনিক্যাল বিষয় শিখতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে। এ নিয়ে অনেক সময় হতাশও হয়ে পড়তাম। তবে ছায়ার মতো পাশে থেকে প্রতিদিন আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন মেন্টর মো. ওমর ফারুক।
তিনি আরো বলেন, কোর্স চলাকালীন সময়েই কাজ শুরু করি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ‘মার্কেটপ্লেস আই আউট অব মার্কেটপ্লেস’-এ, দুই মাসের মাথায়ই আয় করি ষাট ডলার। এ পর্যন্ত মোট আয় করেছি চারশত ডলার।
বর্তমানে কোর্স চলাকালীন সময়েও প্রতি মাসে আমার শতাধিক ডলার করে আয় হচ্ছে। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য এটি কেবল অর্থই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বড়ভিত্তি। আমার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়।
আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেই একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। যার মাধ্যমে আমার নিজেরে এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের নতুন প্রজন্মকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে মোহাম্মদ আম্মারের গ্রামের বাড়ি দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, এই তরুণের সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে গ্রাম আর শহর নয়, যেকোনো স্থানে থেকে যে কেউ বিশ^বাজারে স্বমহিমায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আম্মারের এমন সফলতায় তিনি হয়ে উঠছেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, বর্তমানে এই উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো প্রশিক্ষণ বা সহযোগিতার সুযোগ নেই। তবে সামনে কোনো সুযোগ আসলে তা আগ্রহীদের জানানো হবে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬