ছবি- সংগৃহীত
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৭
কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরী দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে অভিযানের সময় নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী।
অভিযানের সময় নদীতে একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।
পরে সন্দেহজনক নৌকাটির গতিপথ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান কোস্ট গার্ড সদস্যরা। একপর্যায়ে নদীতে ভাসমান একটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্যাগটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরী দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে অভিযানের সময় নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী।
অভিযানের সময় নদীতে একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।
পরে সন্দেহজনক নৌকাটির গতিপথ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান কোস্ট গার্ড সদস্যরা। একপর্যায়ে নদীতে ভাসমান একটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্যাগটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৮
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৫
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮