
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৮
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস
ছবি- সংগৃহীত
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:০১
পিরোজপুরে ইন্দুরকানীতে পৃথক জায়গায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এক বৃদ্ধ ও এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে আবু হানিফ মৃধা (৭২) ভবানীপুর এলাকার সড়ক পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আবু হানিফ মৃধা পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা বুনিয়া গ্রামের মৃত এসাহাক আলী মৃধার ছেলে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে একই উপজেলার ইন্দুরকানী গ্রামের ইসমাইল গাজীর স্ত্রী (৫০) পিরোজপুরের ধুপপাশা এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা পরপর দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বুধবার জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত আবু হানিফের ভাইপো সাব্বির হোসেন বাবু বলেন, ‘আমার চাচা সকাল ১১টার দিকে বাড়ির সামনের সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। বেপরোয়া অটোরিকশাচালকদের আইনের আওতায় আনা দরকার।’
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. মাহমুদ হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুরে ইন্দুরকানীতে পৃথক জায়গায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এক বৃদ্ধ ও এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে আবু হানিফ মৃধা (৭২) ভবানীপুর এলাকার সড়ক পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আবু হানিফ মৃধা পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা বুনিয়া গ্রামের মৃত এসাহাক আলী মৃধার ছেলে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে একই উপজেলার ইন্দুরকানী গ্রামের ইসমাইল গাজীর স্ত্রী (৫০) পিরোজপুরের ধুপপাশা এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা পরপর দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বুধবার জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত আবু হানিফের ভাইপো সাব্বির হোসেন বাবু বলেন, ‘আমার চাচা সকাল ১১টার দিকে বাড়ির সামনের সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। বেপরোয়া অটোরিকশাচালকদের আইনের আওতায় আনা দরকার।’
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. মাহমুদ হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২৮
পাবনার আটঘরিয়ায় নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে কামরুল ইসলামকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হারুলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম লোকমান হোসেন (৫৫)। তিনি মাজপাড়া ইউনিয়নের হারুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ঘটনার দিন নেশার টাকা চেয়ে বাবা লোকমান হোসেনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নিজ ঘরের ভেতর ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা লোকমান হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আটঘরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ছেলে কামরুল ইসলামকে আটক করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পাবনার আটঘরিয়ায় নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে কামরুল ইসলামকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হারুলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম লোকমান হোসেন (৫৫)। তিনি মাজপাড়া ইউনিয়নের হারুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ঘটনার দিন নেশার টাকা চেয়ে বাবা লোকমান হোসেনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নিজ ঘরের ভেতর ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা লোকমান হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আটঘরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ছেলে কামরুল ইসলামকে আটক করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪৩
যশোরে মাসুদ রানা (২০) নামে এক যুবকের পেটের ভেতর থেকে ২ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ড থেকে র্যাব সদস্যরা তাকে আটক করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পঙ্গু হাসপাতালে তার এক্স-রে করার পর পেটে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাসুদ রানা শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া কলোনিপাড়ার হোসেন আলীর ছেলে।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ. টি. এম. ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন এক যুবক ইয়াবাসহ যশোর হয়ে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয় এবং মাসুদ রানাকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ রানা স্বীকার করেন, তার পেটের ভেতরে আনুমানিক ২ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। এসব ইয়াবা তিনি কক্সবাজার থেকে যশোরে নিয়ে আসছিলেন। চিকিৎসকের সহায়তায় তার পেট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো বের করা হয়েছে। র্যাব সদস্যদের পাহারায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে মাসুদ রানার চিকিৎসা চলছে।
যশোরে মাসুদ রানা (২০) নামে এক যুবকের পেটের ভেতর থেকে ২ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ড থেকে র্যাব সদস্যরা তাকে আটক করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পঙ্গু হাসপাতালে তার এক্স-রে করার পর পেটে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাসুদ রানা শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া কলোনিপাড়ার হোসেন আলীর ছেলে।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ. টি. এম. ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন এক যুবক ইয়াবাসহ যশোর হয়ে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয় এবং মাসুদ রানাকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ রানা স্বীকার করেন, তার পেটের ভেতরে আনুমানিক ২ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। এসব ইয়াবা তিনি কক্সবাজার থেকে যশোরে নিয়ে আসছিলেন। চিকিৎসকের সহায়তায় তার পেট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো বের করা হয়েছে। র্যাব সদস্যদের পাহারায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে মাসুদ রানার চিকিৎসা চলছে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.