ছবি- সংগৃহীত
ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের তীব্র প্রতিবাদের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং ভারত উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করার পর ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মেনে চলতে হবে।
শনিবার (১৩ জুন) এক ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করকে (Subrahmanyam Jaishankar) এই বার্তা দেন। এমন এক সময় এই বার্তা দেওয়া হলো, যখন ভারত সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ও তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চলতি সপ্তাহে ভারত দু’বার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করে। প্রথমবার তলব করা হয় ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেট্টেবেলো’তে মার্কিন হামলার পর। ওই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশনা মানেনি ও চলমান মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপসাগরে তাদের একটি যুদ্ধবিমান জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ক্রুরা বারবার নির্দেশ অমান্য করায় জাহাজটিকে অচল করে দেওয়া হয়।
এর কিছুদিন পর একই এলাকায় ২০ ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে ভারত।
পরপর দুইবার তলবের পাশাপাশি জয়শঙ্কর ফোনে রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের কথা জানান। এরপর দুই নেতার আলোচনার ভিত্তিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনী যে নির্দেশনা দিচ্ছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে তা অবিলম্বে মেনে চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ লঙ্ঘন ও ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এর আগে জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন যে, তিনি রুবিওর সঙ্গে কথা বলে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ভারতের ‘কঠোর প্রতিবাদ’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি লেখেন, শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কঠোর প্রতিবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার ফলে এরই মধ্যে তিন ভারতীয় নাগরিকের ‘দুঃখজনক ও এড়ানো সম্ভব ছিল’ এমন মৃত্যু ঘটেছে।
ভারত আরও জানায়, বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবেদনশীল অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষাকে দুর্বল করে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন কূটনীতিক জেসন মিকসকে অনুরোধ করে, তিনি যেন ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দেন ও অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এদিকে, মার্কিন বিবৃতি প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতীয় কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেন, এই সরকারি মার্কিন বিবৃতি পড়ে আমি গভীরভাবে বিস্মিত। এতে নিরীহ ভারতীয়দের প্রাণহানির জন্য সামান্য অনুশোচনা বা সমবেদনাও প্রকাশ করা হয়নি। একজন বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার কীভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?
থারুর প্রশ্ন তোলেন, কোনো জাহাজ নির্দেশ না মানলে তাকে থামানোর জন্য প্রাণঘাতী হামলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় কি ছিল না? জাহাজের ইঞ্জিন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো করা কি সম্ভব ছিল না, যাতে বেসামরিক নাবিকদের প্রাণহানি এড়ানো যেত?
তিনি আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাহলে কি এখন তারা সবাই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু?
সবশেষে তিনি মন্তব্য করেন, এই ধরনের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আশা করি, ড. জয়শঙ্কর মার্কো রুবিওকে সেটিই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
বরিশাল টাইমস

১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:০৯
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈন। চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে সরকারি সফরে তিনি ঢাকায় এসেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সফরটি নিয়ে এখনো ভারত বা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পরাগ জৈন ‘র’-এর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভারতের স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বেও রয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবাল রায় চৌধুরী।
রোববার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে প্রতিনিধি দলটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সফরকালে তারা ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে ‘র’-প্রধানের এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, আলোচনার বিষয়বস্তু কিংবা বাংলাদেশি কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৩৩
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
জানা যায়, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুরুগেশ্বর এলাকায়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।'

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২০
অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভের পর তিনি পদ ছাড়লেন।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো টানা আন্দোলন চালিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। সেই চাপের মধ্যেই সরকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকারের ওপর চাপও ক্রমেই বৃদ্ধি পায়।’

১৪ জুন, ২০২৬ ১৬:২৩
ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের তীব্র প্রতিবাদের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং ভারত উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করার পর ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মেনে চলতে হবে।
শনিবার (১৩ জুন) এক ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করকে (Subrahmanyam Jaishankar) এই বার্তা দেন। এমন এক সময় এই বার্তা দেওয়া হলো, যখন ভারত সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ও তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চলতি সপ্তাহে ভারত দু’বার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করে। প্রথমবার তলব করা হয় ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেট্টেবেলো’তে মার্কিন হামলার পর। ওই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশনা মানেনি ও চলমান মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপসাগরে তাদের একটি যুদ্ধবিমান জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ক্রুরা বারবার নির্দেশ অমান্য করায় জাহাজটিকে অচল করে দেওয়া হয়।
এর কিছুদিন পর একই এলাকায় ২০ ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে ভারত।
পরপর দুইবার তলবের পাশাপাশি জয়শঙ্কর ফোনে রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের কথা জানান। এরপর দুই নেতার আলোচনার ভিত্তিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনী যে নির্দেশনা দিচ্ছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে তা অবিলম্বে মেনে চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ লঙ্ঘন ও ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এর আগে জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন যে, তিনি রুবিওর সঙ্গে কথা বলে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ভারতের ‘কঠোর প্রতিবাদ’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি লেখেন, শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কঠোর প্রতিবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার ফলে এরই মধ্যে তিন ভারতীয় নাগরিকের ‘দুঃখজনক ও এড়ানো সম্ভব ছিল’ এমন মৃত্যু ঘটেছে।
ভারত আরও জানায়, বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবেদনশীল অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষাকে দুর্বল করে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন কূটনীতিক জেসন মিকসকে অনুরোধ করে, তিনি যেন ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দেন ও অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এদিকে, মার্কিন বিবৃতি প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতীয় কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেন, এই সরকারি মার্কিন বিবৃতি পড়ে আমি গভীরভাবে বিস্মিত। এতে নিরীহ ভারতীয়দের প্রাণহানির জন্য সামান্য অনুশোচনা বা সমবেদনাও প্রকাশ করা হয়নি। একজন বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার কীভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?
থারুর প্রশ্ন তোলেন, কোনো জাহাজ নির্দেশ না মানলে তাকে থামানোর জন্য প্রাণঘাতী হামলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় কি ছিল না? জাহাজের ইঞ্জিন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো করা কি সম্ভব ছিল না, যাতে বেসামরিক নাবিকদের প্রাণহানি এড়ানো যেত?
তিনি আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাহলে কি এখন তারা সবাই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু?
সবশেষে তিনি মন্তব্য করেন, এই ধরনের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আশা করি, ড. জয়শঙ্কর মার্কো রুবিওকে সেটিই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
বরিশাল টাইমস
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈন। চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে সরকারি সফরে তিনি ঢাকায় এসেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সফরটি নিয়ে এখনো ভারত বা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পরাগ জৈন ‘র’-এর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভারতের স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বেও রয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবাল রায় চৌধুরী।
রোববার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে প্রতিনিধি দলটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সফরকালে তারা ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে ‘র’-প্রধানের এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, আলোচনার বিষয়বস্তু কিংবা বাংলাদেশি কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
জানা যায়, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুরুগেশ্বর এলাকায়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।'
অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভের পর তিনি পদ ছাড়লেন।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো টানা আন্দোলন চালিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। সেই চাপের মধ্যেই সরকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকারের ওপর চাপও ক্রমেই বৃদ্ধি পায়।’
১২ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০৩
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৪
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৬
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৮