স্থানীয় বিএনপির ৪ নেতার নাম প্রস্তাব। বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে লবিং-তদবির। আলোচনায় আরও অর্ধডজন।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কে হচ্ছে এনিয়ে সরব আলোচনা চলছে। স্থানীয় বিএনপির শীর্ষসারির ৪ নেতার নাম ইতিমধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির আরও অন্তত অর্ধডজন নেতা একই পদে আসীন হতে চাইছেন। পদপ্রত্যাশিরা বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির হাইকমান্ডে লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সরকারের তরফ থেকে কবে নাগাদ ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ চেয়ারম্যান মনোনীত করা হবে তা স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত বলতে পারছেন না। এর আগে গত সপ্তাহে বরিশাল বাদে দেশের ৮টি শহরে সরকার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় সরকার।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এর পরপরই গুঞ্জন ছড়িয়েছে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জন্য একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অর্ধডজন নেতাকর্মী বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী হলেও আলোচনায় আছেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, একই কমিটির নির্বাহী সদস্য এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ। এ জন্য লবিং, তদবিরও চালাচ্ছেন বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েক নেতা।
উল্লেখিত নেতৃত্বসারির নেতাদের মধ্যেকার কে হচ্ছেন বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তা বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতাও নিশ্চিত করতে পারছেন না। কিন্তু বলছেন, এটি একমাত্র বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে মনোনীত করা হতে পারে।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় বিষয়টি নিয়ে পদপ্রত্যাশীরাও বিস্তর মন্তব্য করতে চাইছেন না। কেউ কেউ এনিয়ে মিডিয়ায় কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন, কারণ কি বলতে গিয়ে আবার বিরাগভাজন হয়ে পড়েন।
মহানগর বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদার বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী। তিনি চেয়ারটি পেতে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, এমনকি লবি-তদবিরও চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই নেতা বলছেন, এই নগরের পরিবেশের সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়নে এমন একজন চেয়ারম্যান দরকার, যিনি শহরের বাসিন্দা এবং এই শহরের মানুষকে চেনেন-জানেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহও একই পদে আসীন হতে চাইছেন। গোপনে তিনিও লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, কোনো পদ-পদবির আকাঙ্খা করেন না। তবে সরকার মনোনীত করলে তার আপত্তি থাকবে না, বরং গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। পদপ্রত্যাশী বাকি নেতাদের বক্তব্যও অনুরূপ। সকলে সমান্তরালভাবে লবিং-তদবির করে গেলেও বলছেন, তাদের নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কেমন চরিত্রের হবে- এই বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীও চিন্তায় আছেন। কদিন পুর্বে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এনিয়ে আলোচনাও হয়। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে উঠে আসে বিগত সময়ে বরিশাল নগরের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কাহিনী, যা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে অন্তত একজন যোগ্য মানুষকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান রাখা হয়।
নগরের পরিকল্পিত উন্নয়নে ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে মন্তব্য করেন বরিশালের সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান ফিরোজ। এই সমাজকর্মী বলেন, এটি সরকারের অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণ, পরিবেশ রক্ষা এ দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যিনি বরিশাল সম্পর্কে জানেন, ভাবেন এবং বরিশালের খেলার মাঠ, জলাশয় রক্ষা করবেন, এমন একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা উচিৎ।
বাসদের বরিশাল জেলা সমন্বয়ক তরুণ নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, বরিশালবাসীর স্বার্থে একজন দক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং জনবান্ধব চেয়ারম্যান সরকারের নিয়োগ দেওয়া জরুরি। যদি এর ব্যত্তয় হয় তাহলে বরিশালবাসী দুর্ভোগে থাকতে হবে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সৎ-পরিচ্ছন্ন এমন একজন ব্যক্তিকে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করা উচিৎ। অতীতে জনপ্রতিনিধিরা মহাসড়ক দখল করে পার্ক করেছেন, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। সেই ধরনের প্রকল্প কীর্তনখোলা তীরের বাসিন্দারা আর দেখতে চান না, মন্তব্য করেন তিনি।
বরিশালবাসীর প্রত্যাশার সাথে বিএনপির হাইকমান্ড একমত পোষণ করেছে বলে দলটির দায়িত্বশীল এক নেতা নিশ্চিত করেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতা জানিয়েছেন, আলোচনায় যে ৪/৫ জন আছেন তাদের মধ্যেকার একজনকে মনোনীত করা হতে পারে। এবং শিগগিরই সেই নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে কে লবিংয়ে এগিয়ে আছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কথা না বাড়িয়ে বলছেন অপেক্ষা করুন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখুন।’

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৫
কর্মজীবী বাবা-মায়ের সন্তানদের নিরাপদ পরিচর্যা, প্রাথমিক শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ দিতে বরিশাল নগরীতে চালু হয়েছে ‘বরিশাল ডে কেয়ার এন্ড প্রি-স্কুল’। এক থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম, পড়াশোনায় সহায়তা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার সপ্ত বর্ণ কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুর ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবারে বাবা ও মা দুজনই কর্মজীবী। কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের নিয়মিত দেখাশোনা ও পরিচর্যা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একক অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও সন্তান লালন-পালনে বাড়তি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ থাকে। শিশুদের যত্নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফারজানা আক্তার মনি বলেন, এক বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এখানে ভর্তি করা যাবে। শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অভিভাবকদের ক্যামেরার অ্যাক্সেস দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে তারা মোবাইল ফোন বা অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে সন্তানদের কার্যক্রম লাইভ দেখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু শিশুদের দেখাশোনা নয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রয়েছে খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার জন্য প্লে-জোন। পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম ও পড়াশোনায় সহায়তার জন্য কোচিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ফারজানা আক্তার মনি বলেন, কর্মজীবী অভিভাবকেরা কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় যাতে সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রাখা যায় এবং একই সঙ্গে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ দেওয়া যায়—সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত ব্যক্তিগত সচিব মাসুম হাসান, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব সাকলাইন মোস্তাকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের মতে, নগরীতে কর্মজীবী অভিভাবকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত ডে কেয়ার সুবিধার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সেই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে পরিচর্যা, শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্মজীবী বাবা-মায়ের সন্তানদের নিরাপদ পরিচর্যা, প্রাথমিক শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ দিতে বরিশাল নগরীতে চালু হয়েছে ‘বরিশাল ডে কেয়ার এন্ড প্রি-স্কুল’। এক থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম, পড়াশোনায় সহায়তা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার সপ্ত বর্ণ কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুর ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবারে বাবা ও মা দুজনই কর্মজীবী। কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের নিয়মিত দেখাশোনা ও পরিচর্যা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একক অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও সন্তান লালন-পালনে বাড়তি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ থাকে। শিশুদের যত্নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফারজানা আক্তার মনি বলেন, এক বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এখানে ভর্তি করা যাবে। শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অভিভাবকদের ক্যামেরার অ্যাক্সেস দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে তারা মোবাইল ফোন বা অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে সন্তানদের কার্যক্রম লাইভ দেখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু শিশুদের দেখাশোনা নয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রয়েছে খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার জন্য প্লে-জোন। পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম ও পড়াশোনায় সহায়তার জন্য কোচিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ফারজানা আক্তার মনি বলেন, কর্মজীবী অভিভাবকেরা কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় যাতে সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রাখা যায় এবং একই সঙ্গে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ দেওয়া যায়—সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত ব্যক্তিগত সচিব মাসুম হাসান, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব সাকলাইন মোস্তাকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের মতে, নগরীতে কর্মজীবী অভিভাবকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত ডে কেয়ার সুবিধার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সেই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে পরিচর্যা, শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩১
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র পাননি বরিশাল জেলার ৭২ প্রার্থী। কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বরিশাল জেলায় ৩৭১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।
প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলা হলেও তাদের নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এ অবস্থায় নিয়োগ বাতিল বা স্থগিতের কোনো লিখিত আদেশ, প্রতিবেদন কিংবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থাকলে তার অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো কাগজপত্র বা প্রশাসনিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকলে তা সম্পন্ন করার সুযোগ, পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিত নির্দেশনা এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর ও বর্তমান অবস্থা জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান করে কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেই কারণ স্পষ্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার বয়স শেষ পর্যায়ে। পরে আর সুযোগ পাব কি না জানি না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করব—এই আশায় মেট্রোরেলের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলাম। চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘ আট মাস বেকার সময় পার করছি। এখন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানি না।’
তিনি বলেন, ‘এখনো যদি যোগদান করতে না পারি, তাহলে আমার সবকিছু হারাতে হবে। আমরা যারা বাদ পড়েছি, আমার মনে হয় সবাই যোগ্য প্রার্থী। তাই কোনো কারণ না জানিয়ে বাদ না দিয়ে আমাদের একযোগে নিয়োগ দিয়ে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
নিয়োগবঞ্চিত ৭২ প্রার্থীর দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা দ্রুত স্পষ্ট করে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র পাননি বরিশাল জেলার ৭২ প্রার্থী। কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বরিশাল জেলায় ৩৭১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।
প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলা হলেও তাদের নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এ অবস্থায় নিয়োগ বাতিল বা স্থগিতের কোনো লিখিত আদেশ, প্রতিবেদন কিংবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থাকলে তার অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো কাগজপত্র বা প্রশাসনিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকলে তা সম্পন্ন করার সুযোগ, পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিত নির্দেশনা এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর ও বর্তমান অবস্থা জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান করে কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেই কারণ স্পষ্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার বয়স শেষ পর্যায়ে। পরে আর সুযোগ পাব কি না জানি না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করব—এই আশায় মেট্রোরেলের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলাম। চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘ আট মাস বেকার সময় পার করছি। এখন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানি না।’
তিনি বলেন, ‘এখনো যদি যোগদান করতে না পারি, তাহলে আমার সবকিছু হারাতে হবে। আমরা যারা বাদ পড়েছি, আমার মনে হয় সবাই যোগ্য প্রার্থী। তাই কোনো কারণ না জানিয়ে বাদ না দিয়ে আমাদের একযোগে নিয়োগ দিয়ে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
নিয়োগবঞ্চিত ৭২ প্রার্থীর দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা দ্রুত স্পষ্ট করে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪০
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’

২২ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
স্থানীয় বিএনপির ৪ নেতার নাম প্রস্তাব। বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে লবিং-তদবির। আলোচনায় আরও অর্ধডজন।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কে হচ্ছে এনিয়ে সরব আলোচনা চলছে। স্থানীয় বিএনপির শীর্ষসারির ৪ নেতার নাম ইতিমধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির আরও অন্তত অর্ধডজন নেতা একই পদে আসীন হতে চাইছেন। পদপ্রত্যাশিরা বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির হাইকমান্ডে লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সরকারের তরফ থেকে কবে নাগাদ ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ চেয়ারম্যান মনোনীত করা হবে তা স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত বলতে পারছেন না। এর আগে গত সপ্তাহে বরিশাল বাদে দেশের ৮টি শহরে সরকার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় সরকার।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এর পরপরই গুঞ্জন ছড়িয়েছে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জন্য একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অর্ধডজন নেতাকর্মী বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী হলেও আলোচনায় আছেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, একই কমিটির নির্বাহী সদস্য এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ। এ জন্য লবিং, তদবিরও চালাচ্ছেন বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েক নেতা।
উল্লেখিত নেতৃত্বসারির নেতাদের মধ্যেকার কে হচ্ছেন বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তা বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতাও নিশ্চিত করতে পারছেন না। কিন্তু বলছেন, এটি একমাত্র বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে মনোনীত করা হতে পারে।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় বিষয়টি নিয়ে পদপ্রত্যাশীরাও বিস্তর মন্তব্য করতে চাইছেন না। কেউ কেউ এনিয়ে মিডিয়ায় কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন, কারণ কি বলতে গিয়ে আবার বিরাগভাজন হয়ে পড়েন।
মহানগর বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদার বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী। তিনি চেয়ারটি পেতে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, এমনকি লবি-তদবিরও চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই নেতা বলছেন, এই নগরের পরিবেশের সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়নে এমন একজন চেয়ারম্যান দরকার, যিনি শহরের বাসিন্দা এবং এই শহরের মানুষকে চেনেন-জানেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহও একই পদে আসীন হতে চাইছেন। গোপনে তিনিও লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, কোনো পদ-পদবির আকাঙ্খা করেন না। তবে সরকার মনোনীত করলে তার আপত্তি থাকবে না, বরং গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। পদপ্রত্যাশী বাকি নেতাদের বক্তব্যও অনুরূপ। সকলে সমান্তরালভাবে লবিং-তদবির করে গেলেও বলছেন, তাদের নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কেমন চরিত্রের হবে- এই বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীও চিন্তায় আছেন। কদিন পুর্বে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এনিয়ে আলোচনাও হয়। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে উঠে আসে বিগত সময়ে বরিশাল নগরের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কাহিনী, যা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে অন্তত একজন যোগ্য মানুষকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান রাখা হয়।
নগরের পরিকল্পিত উন্নয়নে ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে মন্তব্য করেন বরিশালের সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান ফিরোজ। এই সমাজকর্মী বলেন, এটি সরকারের অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণ, পরিবেশ রক্ষা এ দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যিনি বরিশাল সম্পর্কে জানেন, ভাবেন এবং বরিশালের খেলার মাঠ, জলাশয় রক্ষা করবেন, এমন একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করা উচিৎ।
বাসদের বরিশাল জেলা সমন্বয়ক তরুণ নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, বরিশালবাসীর স্বার্থে একজন দক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং জনবান্ধব চেয়ারম্যান সরকারের নিয়োগ দেওয়া জরুরি। যদি এর ব্যত্তয় হয় তাহলে বরিশালবাসী দুর্ভোগে থাকতে হবে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সৎ-পরিচ্ছন্ন এমন একজন ব্যক্তিকে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করা উচিৎ। অতীতে জনপ্রতিনিধিরা মহাসড়ক দখল করে পার্ক করেছেন, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। সেই ধরনের প্রকল্প কীর্তনখোলা তীরের বাসিন্দারা আর দেখতে চান না, মন্তব্য করেন তিনি।
বরিশালবাসীর প্রত্যাশার সাথে বিএনপির হাইকমান্ড একমত পোষণ করেছে বলে দলটির দায়িত্বশীল এক নেতা নিশ্চিত করেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতা জানিয়েছেন, আলোচনায় যে ৪/৫ জন আছেন তাদের মধ্যেকার একজনকে মনোনীত করা হতে পারে। এবং শিগগিরই সেই নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে কে লবিংয়ে এগিয়ে আছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কথা না বাড়িয়ে বলছেন অপেক্ষা করুন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখুন।’
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০