বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪০
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০৯
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।’

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৩৩
১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল, প্রশাসক শিরিনের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় বিসিসির পদক্ষেপ
বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল এবং এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রকে এক বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
বিসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক জলাশয় অবৈধভাবে ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন নেওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল ও চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে কার্যাদেশপ্রাপ্তদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরবাসীর সেবা ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর দপ্তর।
প্রশাসকের প্রেসসচিব সাকলাইন মোস্তাক জানান, পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক শিরিন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
বিসিসির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নগরীর জলাশয় রক্ষা, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পাইপলাইনের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালের উজিরপুরে চুরির অপবাদে অনিক সরদার নামের এক যুবককে মারধর করে খুঁটির সাথে বেধে রাখেন স্থানীয়রা। খাবার না দিয়ে রাতভর আটকে রাখায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাবার এই করুণ কাহিনী শুনে শনিবার খুব সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছোট্ট শিশুসন্তান, তার হাতে ছিল চা-রুটি। খুঁটিতে বাধা বাবাকে এই অবুঝ সন্তান নিজের হাতে রুটি খাইয়ে দিচ্ছেন— এমন একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়।
উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের এই হৃদয়বিদারক বা বিদীর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজপাতায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের কারও কারও মন্তব্য হচ্ছে, এক শ্রেণির শিক্ষিত বদমাইশ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। অথচ তারা গ্রেপ্তার হলেও দুধেভাতে থাকতে দেখা যায়। আর সামান্য ছিচকে চুরির অপবাদে একজন দরিদ্র মানুষকে রাতভর খুঁটিতে বেধে রাখা এবং নির্যাতন করার বিষয়টি বড় উদ্বেগের।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, শনিবার সকালে শিশুসন্তান যখন বাবাকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও তার হাত খুঁটিতে বাধা ছিল এবং পাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই উৎসুক জনতার ওপরও চটেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক। পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের শিশুসন্তান। সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। এই ঘটনাটির ভিডিওচিত্র স্থানীয় এক যুবক মোবাইল ফোনে ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেকার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শনিবার সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌছানোর আগেই স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেয়।’
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।’
১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল, প্রশাসক শিরিনের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় বিসিসির পদক্ষেপ
বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল এবং এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রকে এক বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
বিসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক জলাশয় অবৈধভাবে ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন নেওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল ও চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে কার্যাদেশপ্রাপ্তদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরবাসীর সেবা ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর দপ্তর।
প্রশাসকের প্রেসসচিব সাকলাইন মোস্তাক জানান, পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক শিরিন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
বিসিসির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নগরীর জলাশয় রক্ষা, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পাইপলাইনের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৭
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০২
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৫
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪১