ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনা কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সন্তান জন্ম দেওয়া নারী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্বশুরসহ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে খেই হারিয়ে ফেলার দাবি করেছেন থানার ওসি।
মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন।
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত থেকে তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী (৬০)। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শ্বশুর, শাশুড়ি হাওয়া বেগম এবং ননদ খালেদা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
এরপর ওই নারী গত ২৬ মার্চ গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে তার অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর তিনি গলাচিপা থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ওই নারীর শ্বশুর রুস্তম গাজী ও নবজাতক বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে বেসরকারি ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান নবজাতক উদ্ধার ও দুজন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসীর স্ত্রী তার শ্বশুর মো. রুস্তম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি অভিযুক্তরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টাও করেন।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, সেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন।
পরদিন নবজাতককে ভুক্তভোগীর অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক মাস পর গত রবিবার গলাচিপা থানায় অভিযোগ করার পর ওই নারীর শ্বশুর এবং লিপি বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরদিন করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মামলার এজাহার অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত ও বাচ্চা অপহরণে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চাও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’
এক বছরের বেশি সময় ধরে ধর্ষণ এবং নবজাতককে অপহরণের অভিযোগ কেন এক মাস পরে থানায় জানানো হলো, সে ব্যাপারে মামলাকারী নারীর কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, পুলিশও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর সব কিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৪৫
ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনা কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সন্তান জন্ম দেওয়া নারী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্বশুরসহ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে খেই হারিয়ে ফেলার দাবি করেছেন থানার ওসি।
মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন।
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত থেকে তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী (৬০)। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শ্বশুর, শাশুড়ি হাওয়া বেগম এবং ননদ খালেদা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
এরপর ওই নারী গত ২৬ মার্চ গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে তার অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর তিনি গলাচিপা থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ওই নারীর শ্বশুর রুস্তম গাজী ও নবজাতক বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে বেসরকারি ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান নবজাতক উদ্ধার ও দুজন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসীর স্ত্রী তার শ্বশুর মো. রুস্তম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি অভিযুক্তরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টাও করেন।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, সেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন।
পরদিন নবজাতককে ভুক্তভোগীর অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক মাস পর গত রবিবার গলাচিপা থানায় অভিযোগ করার পর ওই নারীর শ্বশুর এবং লিপি বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরদিন করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মামলার এজাহার অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত ও বাচ্চা অপহরণে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চাও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’
এক বছরের বেশি সময় ধরে ধর্ষণ এবং নবজাতককে অপহরণের অভিযোগ কেন এক মাস পরে থানায় জানানো হলো, সে ব্যাপারে মামলাকারী নারীর কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, পুলিশও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর সব কিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে।
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৫৩
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪৯
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৯