কুড়িগ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সেখানে ধান সংরক্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সহযোগিতা করতে বাধ্য হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শনিবার (১৬ মে) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খামার হলোখানা মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সাবেক সভাপতির এমন কাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে এসে দেখে মেঝেতে ধান ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। সেই অবস্থায়ই তারা পাঠগ্রহণ শুরু করে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শামছুল হক তার লোকজন নিয়ে এসে শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। শিক্ষার্থীরা তখন প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানালেও তিনি আমলে নেননি।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বাইরে এসে এলাকাবাসীকে বিষয়টি অবহিত করে। এলাকার কেউ কেউ ঘটনা ভিডিও করতে গেলে সাবেক সভাপতি তাদের বাধা দেন এবং বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে ধান রাখার কারণে পাঠগ্রহণের পরিবেশ ছিল না এবং পরে তাদের বের করেও দেওয়া হয়।
স্থানীয় সবুজ মিয়া, শামীম আহমেদসহ অনেকে জানান, সাবেক সভাপতি শামছুল হক প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে মাঝেমধ্যেই বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে বিদ্যালয়ের মাঠে ধান মাড়াই, ধান-খড় শুকানো ও শ্রেণিকক্ষে ধান সংরক্ষণ তার নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে।
এমনকি তাঁর জমিতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি ও নাশতা জোর করে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের বাড়ি দূর-দূরান্তে হওয়ায় তারা এর প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রসুল জানান, সাবেক সভাপতি গত বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে শ্রেণিকক্ষে ধান রাখার বিষয়টি জানান। সে কারণে তাঁকে ধান রাখতে দেওয়া হয়। শনিবার ক্লাস শুরুর আগেই ধান সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
সাবেক সভাপতি শামছুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি হিসেবে শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই ধান রেখেছি। তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি বা নাশতা শ্রমিকদের খাওয়ানোর তথ্য সঠিক নয়।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) জাহেদুল ইসলাম বলেন, ক্লাস্টারের আওতাধীন বিদ্যালয়টিতে ধান রাখাসহ এ ধরনের কার্যক্রম মোটেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, খামার হলোখানা মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার কোনো বিদ্যালয়েই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কাজের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

১৭ মে, ২০২৬ ১২:২৩
কুড়িগ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সেখানে ধান সংরক্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সহযোগিতা করতে বাধ্য হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শনিবার (১৬ মে) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খামার হলোখানা মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সাবেক সভাপতির এমন কাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে এসে দেখে মেঝেতে ধান ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। সেই অবস্থায়ই তারা পাঠগ্রহণ শুরু করে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শামছুল হক তার লোকজন নিয়ে এসে শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। শিক্ষার্থীরা তখন প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানালেও তিনি আমলে নেননি।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বাইরে এসে এলাকাবাসীকে বিষয়টি অবহিত করে। এলাকার কেউ কেউ ঘটনা ভিডিও করতে গেলে সাবেক সভাপতি তাদের বাধা দেন এবং বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে ধান রাখার কারণে পাঠগ্রহণের পরিবেশ ছিল না এবং পরে তাদের বের করেও দেওয়া হয়।
স্থানীয় সবুজ মিয়া, শামীম আহমেদসহ অনেকে জানান, সাবেক সভাপতি শামছুল হক প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে মাঝেমধ্যেই বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে বিদ্যালয়ের মাঠে ধান মাড়াই, ধান-খড় শুকানো ও শ্রেণিকক্ষে ধান সংরক্ষণ তার নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে।
এমনকি তাঁর জমিতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি ও নাশতা জোর করে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের বাড়ি দূর-দূরান্তে হওয়ায় তারা এর প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রসুল জানান, সাবেক সভাপতি গত বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে শ্রেণিকক্ষে ধান রাখার বিষয়টি জানান। সে কারণে তাঁকে ধান রাখতে দেওয়া হয়। শনিবার ক্লাস শুরুর আগেই ধান সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
সাবেক সভাপতি শামছুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি হিসেবে শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই ধান রেখেছি। তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি বা নাশতা শ্রমিকদের খাওয়ানোর তথ্য সঠিক নয়।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) জাহেদুল ইসলাম বলেন, ক্লাস্টারের আওতাধীন বিদ্যালয়টিতে ধান রাখাসহ এ ধরনের কার্যক্রম মোটেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, খামার হলোখানা মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার কোনো বিদ্যালয়েই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কাজের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৯
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫২
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪০
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫১