গতিরোধকের দাবিতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় মহাসড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ মহাসড়ক অবরোধ করেন নগরের সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মাদ্রাসার সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের অবস্থান। এটি দিয়ে শুধু দূরপাল্লার নয় নগরের যানবাহনও চলাচল করে। আর এই ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশেই সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অবস্থান।
ফলে বেশিরভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের এই মহাসড়কটি পার হয়ে মাদ্রাসায় আসতে হয় এবং মহাসড়ক পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এর কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার সামনের ওই সড়কে একটি গতিরোধক স্থাপনের দাবি করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্প্রতি আমাদের মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা রাস্তাটি পাড় হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের চাপায় গুরুতর আহত হয় এবং তার পা ভেঙে যায়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আগের ন্যায় একটা গতিরোধক স্থাপনের দাবি তোলে।
কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ এতে ভ্রুক্ষেপ করছে না। তাই আমরা সেই দাবিতে রোববার মানববন্ধন করি কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনেননি, বাধ্য হয়ে সোমবার মহাসড়ক অবরোধ করেছি। গতিরোধক বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলে এবং দৃশ্যমান কাজ শুরু না হলে আন্দোলন চলবে।
এদিকে অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই প্রান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন সড়কেও তীব্র যানজট দেখা দেয়। তবে দুপুর দেড়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩০
৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে সবুজ বেষ্টনী, মজুত হবে ১১ লাখ টনের বেশি কার্বন
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ম্যানগ্রোভ বনায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে এ বনায়ন করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক উপকূলীয় জেলা ও উপজেলা-থানা এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটির মাধ্যমে উপকূলকে একটি সবুজ বেষ্টনীর আওতায় আনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগের বরিশাল সদর, পটুয়াখালী, দশমিনা, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, বামনা, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, চরফ্যাশন, মনপুরা ও তজুমদ্দিন এলাকায় বনায়ন করা হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট, রামগতি, হালিশহর, আকবরশাহ, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, কক্সবাজার, টেকনাফ ও মহেশখালী এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা ভূমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বনায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলে বনাচ্ছাদন বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় জনপদের জন্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
একই সঙ্গে নতুন জেগে ওঠা চরকে স্থিতিশীল করা, ভূমিক্ষয় কমানো, নদী ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও এ বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে প্রায় ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৯১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের উপকূলীয় বনায়নের অভিজ্ঞতা পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। সাধারণত সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা চরে এ ধরনের বনায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে। পোল্ডার বা বাঁধের বাইরে উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দেখা যায়, ম্যানগ্রোভ বনায়নের সুফল শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নতুন চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, ভূমির স্থায়িত্ব বাড়ায়, নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করে এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর দেশে নতুন জেগে ওঠা চর স্থায়ী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভ বনায়ন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকায় নদীবাহিত পলিমাটি জমে প্রতিনিয়ত নতুন ভূমি তৈরি হচ্ছে। মেঘনাসহ দেশের প্রধান নদীগুলো ও অসংখ্য শাখানদী থেকে আসা পলিমাটির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এসব চর ভবিষ্যতে বসতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলায় নতুন জেগে ওঠা চরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনায়নের জন্য ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ জারি করা সরকারি নোটিফিকেশনও প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় এলাকা ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের জন্য উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় দুই কোটি ম্যানগ্রোভ বনায়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে তার একটি বড় অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান। প্রকল্পের আওতায় বনায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ যুক্ত হবে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বনায়ন পাহারাদার হিসেবে ৮১ হাজার ১৮ জন/মাস এবং অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবিকার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাদের মতে, বনায়নের জন্য নির্বাচিত জমির মালিকানা, দখল ও সরেজমিন বাস্তবতা আগে নিশ্চিত করা জরুরি। কাগজে উপযুক্ত জমি থাকলেও মাঠপর্যায়ে জমির অবস্থা ভিন্ন হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সৃজিত বনভূমির রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে, কে দায়িত্ব নেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বন রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকবে—সেটিও এখনই নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু প্রশাসনিক ও পরিকল্পনাগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির কার্যবিবরণীতে প্রকল্পের আগের নাম ‘গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প’ রয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জমি, পরিবেশ, সামাজিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও গভীর যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশাল এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলে ম্যানগ্রোভের সবুজ দেয়াল গড়ে উঠলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সুফল মিলতে পারে।
তবে প্রকল্পের সাফল্য শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যায় নয়—গাছ বাঁচানো, বনভূমি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করবে প্রকৃত সাফল্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর যদি সৃজিত বনভূমি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, তাহলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই ম্যানগ্রোভ বন একদিকে যেমন দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হবে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে।’
৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে সবুজ বেষ্টনী, মজুত হবে ১১ লাখ টনের বেশি কার্বন
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ম্যানগ্রোভ বনায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর জমিতে এ বনায়ন করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নেওয়া এ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের একাধিক উপকূলীয় জেলা ও উপজেলা-থানা এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটির মাধ্যমে উপকূলকে একটি সবুজ বেষ্টনীর আওতায় আনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগের বরিশাল সদর, পটুয়াখালী, দশমিনা, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কলাপাড়া, বামনা, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, চরফ্যাশন, মনপুরা ও তজুমদ্দিন এলাকায় বনায়ন করা হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট, রামগতি, হালিশহর, আকবরশাহ, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, কক্সবাজার, টেকনাফ ও মহেশখালী এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা ভূমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বনায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো উপকূলীয় অঞ্চলে বনাচ্ছাদন বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় জনপদের জন্য প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
একই সঙ্গে নতুন জেগে ওঠা চরকে স্থিতিশীল করা, ভূমিক্ষয় কমানো, নদী ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও এ বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে প্রায় ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৯১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের উপকূলীয় বনায়নের অভিজ্ঞতা পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। সাধারণত সমুদ্রতীরবর্তী চর ও নতুন জেগে ওঠা চরে এ ধরনের বনায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে। পোল্ডার বা বাঁধের বাইরে উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দেখা যায়, ম্যানগ্রোভ বনায়নের সুফল শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নতুন চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, ভূমির স্থায়িত্ব বাড়ায়, নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করে এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর দেশে নতুন জেগে ওঠা চর স্থায়ী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভ বনায়ন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকায় নদীবাহিত পলিমাটি জমে প্রতিনিয়ত নতুন ভূমি তৈরি হচ্ছে। মেঘনাসহ দেশের প্রধান নদীগুলো ও অসংখ্য শাখানদী থেকে আসা পলিমাটির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এসব চর ভবিষ্যতে বসতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলায় নতুন জেগে ওঠা চরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনায়নের জন্য ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ জারি করা সরকারি নোটিফিকেশনও প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় এলাকা ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের জন্য উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় দুই কোটি ম্যানগ্রোভ বনায়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে তার একটি বড় অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান। প্রকল্পের আওতায় বনায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ যুক্ত হবে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বনায়ন পাহারাদার হিসেবে ৮১ হাজার ১৮ জন/মাস এবং অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবিকার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়নের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাদের মতে, বনায়নের জন্য নির্বাচিত জমির মালিকানা, দখল ও সরেজমিন বাস্তবতা আগে নিশ্চিত করা জরুরি। কাগজে উপযুক্ত জমি থাকলেও মাঠপর্যায়ে জমির অবস্থা ভিন্ন হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সৃজিত বনভূমির রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে, কে দায়িত্ব নেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বন রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকবে—সেটিও এখনই নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু প্রশাসনিক ও পরিকল্পনাগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির কার্যবিবরণীতে প্রকল্পের আগের নাম ‘গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প’ রয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জমি, পরিবেশ, সামাজিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও গভীর যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশাল এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলে ম্যানগ্রোভের সবুজ দেয়াল গড়ে উঠলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সুফল মিলতে পারে।
তবে প্রকল্পের সাফল্য শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যায় নয়—গাছ বাঁচানো, বনভূমি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করবে প্রকৃত সাফল্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর যদি সৃজিত বনভূমি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, তাহলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই ম্যানগ্রোভ বন একদিকে যেমন দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হবে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে।’

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৮
বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার মো. নাজমুল হকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। নাজমুলের বিরুদ্ধে কলেজের ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও তাঁর পরিবারের দাবি, অভিযোগকে কেন্দ্র করে হেনস্তার পর পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, নাজমুল আত্মহত্যা করেছেন।
নাজমুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নাজমুলের স্বজন সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রায় তিন বছর আগে সরকারি মহিলা কলেজে ক্যাশিয়ার পদে যোগ দেন নাজমুল। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তির ৩ লাখের বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে কলেজে নানা জটিলতা চলছিল।
সিরাজুলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নাজমুলের বাবা এনামুল হকও কয়েকবার কলেজে যান। তাঁর অভিযোগ, নাজমুলকে তাঁর বাবার সামনেই একাধিকবার শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। সোমবার নাজমুলের কাছ থেকে অফিসের সব চাবি নিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার তাঁকে কলেজে ডেকে নেওয়ার পর বিকেলে আদালত ভবন থেকে পড়ে মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।
সিরাজুল বলেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাহলে তিনি কীভাবে আদালত ভবনে গেলেন- এ প্রশ্নের উত্তরও পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়।
পরিবারের দাবি, নাজমুলকে পরিকল্পিতভাবে আদালত ভবনের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা না দিয়ে নাজমুল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অডিট আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণে নাজমুলকে কলেজের যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়। একই কারণে সোমবার তাঁর কাছ থেকে অফিসের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে নাজমুল কলেজে এসেছিলেন। তবে কখন তিনি কলেজ থেকে বের হয়ে যান, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। পরে দুপুরের পর আদালত ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়ে তাঁর আত্মহত্যার খবর তাঁরা পান।
অধ্যক্ষ আরও জানান, পরে তাঁরা জানতে পারেন, কলেজের পেছনের গেটসংলগ্ন ফকিরবাড়ি রোডের একটি সাততলা ভবনে উঠতে চেয়েছিলেন নাজমুল। তবে ভবনটির মালিক তাঁকে সেখানে উঠতে দেননি।
এরপরই কীভাবে তিনি আদালত ভবনে পৌঁছালেন এবং সেখান থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হলো- এ বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় আসছে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
নাজমুলের মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড- এ প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তেই মিলবে। ঘটনাটি ঘিরে পরিবার, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার মো. নাজমুল হকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। নাজমুলের বিরুদ্ধে কলেজের ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও তাঁর পরিবারের দাবি, অভিযোগকে কেন্দ্র করে হেনস্তার পর পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, নাজমুল আত্মহত্যা করেছেন।
নাজমুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নাজমুলের স্বজন সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রায় তিন বছর আগে সরকারি মহিলা কলেজে ক্যাশিয়ার পদে যোগ দেন নাজমুল। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তির ৩ লাখের বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে কলেজে নানা জটিলতা চলছিল।
সিরাজুলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নাজমুলের বাবা এনামুল হকও কয়েকবার কলেজে যান। তাঁর অভিযোগ, নাজমুলকে তাঁর বাবার সামনেই একাধিকবার শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। সোমবার নাজমুলের কাছ থেকে অফিসের সব চাবি নিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার তাঁকে কলেজে ডেকে নেওয়ার পর বিকেলে আদালত ভবন থেকে পড়ে মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।
সিরাজুল বলেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাহলে তিনি কীভাবে আদালত ভবনে গেলেন- এ প্রশ্নের উত্তরও পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়।
পরিবারের দাবি, নাজমুলকে পরিকল্পিতভাবে আদালত ভবনের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা না দিয়ে নাজমুল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অডিট আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণে নাজমুলকে কলেজের যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়। একই কারণে সোমবার তাঁর কাছ থেকে অফিসের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে নাজমুল কলেজে এসেছিলেন। তবে কখন তিনি কলেজ থেকে বের হয়ে যান, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। পরে দুপুরের পর আদালত ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়ে তাঁর আত্মহত্যার খবর তাঁরা পান।
অধ্যক্ষ আরও জানান, পরে তাঁরা জানতে পারেন, কলেজের পেছনের গেটসংলগ্ন ফকিরবাড়ি রোডের একটি সাততলা ভবনে উঠতে চেয়েছিলেন নাজমুল। তবে ভবনটির মালিক তাঁকে সেখানে উঠতে দেননি।
এরপরই কীভাবে তিনি আদালত ভবনে পৌঁছালেন এবং সেখান থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হলো- এ বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় আসছে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
নাজমুলের মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড- এ প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তেই মিলবে। ঘটনাটি ঘিরে পরিবার, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১
মেঘনা ব্যাংক পিএলসির বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এসবিএমসিএইচ) সাব-শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার সাগরদী এলাকার আমতলার মোড়ে নতুন স্থানে সাব-শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মিজানুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মমতাজুল করিম এন আহমেদ, হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস রাশেদুল আলম, হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং সামিউল কবিরসহ ব্যাংকের নিকটস্থ শাখাগুলোর ব্যবস্থাপক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গ্রাহক ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, নতুন স্থানে সাব-শাখাটি স্থানান্তরের ফলে এলাকার গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবস্থান থেকে সাব-শাখাটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেঘনা ব্যাংকের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, নতুন ঠিকানায় সাব-শাখাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সাগরদী ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পাবেন।
খবর বিজ্ঞপ্তি
মেঘনা ব্যাংক পিএলসির বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এসবিএমসিএইচ) সাব-শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার সাগরদী এলাকার আমতলার মোড়ে নতুন স্থানে সাব-শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মিজানুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মমতাজুল করিম এন আহমেদ, হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস রাশেদুল আলম, হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং সামিউল কবিরসহ ব্যাংকের নিকটস্থ শাখাগুলোর ব্যবস্থাপক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গ্রাহক ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, নতুন স্থানে সাব-শাখাটি স্থানান্তরের ফলে এলাকার গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবস্থান থেকে সাব-শাখাটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেঘনা ব্যাংকের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, নতুন ঠিকানায় সাব-শাখাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সাগরদী ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পাবেন।
খবর বিজ্ঞপ্তি

০৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:১৩
গতিরোধকের দাবিতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় মহাসড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ মহাসড়ক অবরোধ করেন নগরের সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মাদ্রাসার সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের অবস্থান। এটি দিয়ে শুধু দূরপাল্লার নয় নগরের যানবাহনও চলাচল করে। আর এই ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশেই সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অবস্থান।
ফলে বেশিরভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের এই মহাসড়কটি পার হয়ে মাদ্রাসায় আসতে হয় এবং মহাসড়ক পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এর কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার সামনের ওই সড়কে একটি গতিরোধক স্থাপনের দাবি করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্প্রতি আমাদের মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা রাস্তাটি পাড় হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের চাপায় গুরুতর আহত হয় এবং তার পা ভেঙে যায়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আগের ন্যায় একটা গতিরোধক স্থাপনের দাবি তোলে।
কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ এতে ভ্রুক্ষেপ করছে না। তাই আমরা সেই দাবিতে রোববার মানববন্ধন করি কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনেননি, বাধ্য হয়ে সোমবার মহাসড়ক অবরোধ করেছি। গতিরোধক বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলে এবং দৃশ্যমান কাজ শুরু না হলে আন্দোলন চলবে।
এদিকে অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই প্রান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন সড়কেও তীব্র যানজট দেখা দেয়। তবে দুপুর দেড়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩০
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১