ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে গতির দানব হয়ে ওঠেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সুযোগ বুঝে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো যেন হয়ে ওঠে একেকটি বুলেট ট্রেন! বেপরোয়া এই গতির ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে মানুষের প্রাণ। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীসহ পথচারীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। জেলাজুড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনোভাবেই সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশাগুলোর অপ্রতিরোধ্য গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৌদ্ধেরপুল এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একজন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ৩ জন। এরআগেও ঘটেছে আরো বড় ধরনের কয়েকটি দুর্ঘটনা। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক।
স্থানীয়রা জানান, ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে দৈনিক দুইশতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশার চালকদের অধিকাংশেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কারও কাগজ থাকলেও ফিট নেই অটোরিকশা। এসব সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে কেউ আগে কৃষি কাজ ও দিনমজুরিসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত ছিলেন। সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা এখন মৃত্যুদূত হয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মো. ইকবাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও মো. মিরাজ নামে কয়েকজন যাত্রী বলেন, সকাল ৮টায় লালমোহন থানার মোড় থেকে আমরা তিন জন পেছনে এবং সামনে আরো দুইজন যাত্রীসহ ভোলার ইলিশাঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। চালক বলেছেন এক ঘন্টার মধ্যে ঘাটে পৌঁছে দেবেন। চালকের কথা মতো সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। তবে রওয়ানা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চালক বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশাটি চালানো শুরু করেন। প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল এই বুঝি অন্য কোনো গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। চালকের এমন কাণ্ড দেখে তাকে আমরা বারবার ধীরে চালাতে বলি। বলার পর কিছু সময় ঠিকমতো চালালেও কিছুক্ষণ পরই আবারও বেপরোয়া গতিতে চালানো শুরু করেন। যতক্ষণ সিএনজি চালিত ওই অটোরিকশায় ছিলাম, ততক্ষণ মনে হয়েছিল বাধ্য হয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দিয়েছি। চালকদের এমন বেপরোয়া গতির কারণেই ঘটে দুর্ঘটনা। এসব বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ভোলা জেলা দক্ষিণ জোনের লালমোহন সার্কেলের সার্জেন্ট মাখম লাল জানান, চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছি। যারা আইন অমান্য করছেন এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করছি। তবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা যেন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালান সে জন্য তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তবে সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে। তাহলেই দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছি।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৬
ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে গতির দানব হয়ে ওঠেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সুযোগ বুঝে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো যেন হয়ে ওঠে একেকটি বুলেট ট্রেন! বেপরোয়া এই গতির ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে মানুষের প্রাণ। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীসহ পথচারীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। জেলাজুড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনোভাবেই সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশাগুলোর অপ্রতিরোধ্য গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৌদ্ধেরপুল এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একজন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ৩ জন। এরআগেও ঘটেছে আরো বড় ধরনের কয়েকটি দুর্ঘটনা। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক।
স্থানীয়রা জানান, ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে দৈনিক দুইশতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশার চালকদের অধিকাংশেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কারও কাগজ থাকলেও ফিট নেই অটোরিকশা। এসব সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে কেউ আগে কৃষি কাজ ও দিনমজুরিসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত ছিলেন। সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা এখন মৃত্যুদূত হয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মো. ইকবাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও মো. মিরাজ নামে কয়েকজন যাত্রী বলেন, সকাল ৮টায় লালমোহন থানার মোড় থেকে আমরা তিন জন পেছনে এবং সামনে আরো দুইজন যাত্রীসহ ভোলার ইলিশাঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। চালক বলেছেন এক ঘন্টার মধ্যে ঘাটে পৌঁছে দেবেন। চালকের কথা মতো সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। তবে রওয়ানা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চালক বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশাটি চালানো শুরু করেন। প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল এই বুঝি অন্য কোনো গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। চালকের এমন কাণ্ড দেখে তাকে আমরা বারবার ধীরে চালাতে বলি। বলার পর কিছু সময় ঠিকমতো চালালেও কিছুক্ষণ পরই আবারও বেপরোয়া গতিতে চালানো শুরু করেন। যতক্ষণ সিএনজি চালিত ওই অটোরিকশায় ছিলাম, ততক্ষণ মনে হয়েছিল বাধ্য হয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দিয়েছি। চালকদের এমন বেপরোয়া গতির কারণেই ঘটে দুর্ঘটনা। এসব বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ভোলা জেলা দক্ষিণ জোনের লালমোহন সার্কেলের সার্জেন্ট মাখম লাল জানান, চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছি। যারা আইন অমান্য করছেন এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করছি। তবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা যেন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালান সে জন্য তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তবে সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে। তাহলেই দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছি।