
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৬
ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে গতির দানব হয়ে ওঠেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সুযোগ বুঝে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো যেন হয়ে ওঠে একেকটি বুলেট ট্রেন! বেপরোয়া এই গতির ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে মানুষের প্রাণ। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীসহ পথচারীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। জেলাজুড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনোভাবেই সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশাগুলোর অপ্রতিরোধ্য গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৌদ্ধেরপুল এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একজন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ৩ জন। এরআগেও ঘটেছে আরো বড় ধরনের কয়েকটি দুর্ঘটনা। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক।
স্থানীয়রা জানান, ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে দৈনিক দুইশতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশার চালকদের অধিকাংশেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কারও কাগজ থাকলেও ফিট নেই অটোরিকশা। এসব সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে কেউ আগে কৃষি কাজ ও দিনমজুরিসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত ছিলেন। সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা এখন মৃত্যুদূত হয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মো. ইকবাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও মো. মিরাজ নামে কয়েকজন যাত্রী বলেন, সকাল ৮টায় লালমোহন থানার মোড় থেকে আমরা তিন জন পেছনে এবং সামনে আরো দুইজন যাত্রীসহ ভোলার ইলিশাঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। চালক বলেছেন এক ঘন্টার মধ্যে ঘাটে পৌঁছে দেবেন। চালকের কথা মতো সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। তবে রওয়ানা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চালক বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশাটি চালানো শুরু করেন। প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল এই বুঝি অন্য কোনো গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। চালকের এমন কাণ্ড দেখে তাকে আমরা বারবার ধীরে চালাতে বলি। বলার পর কিছু সময় ঠিকমতো চালালেও কিছুক্ষণ পরই আবারও বেপরোয়া গতিতে চালানো শুরু করেন। যতক্ষণ সিএনজি চালিত ওই অটোরিকশায় ছিলাম, ততক্ষণ মনে হয়েছিল বাধ্য হয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দিয়েছি। চালকদের এমন বেপরোয়া গতির কারণেই ঘটে দুর্ঘটনা। এসব বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ভোলা জেলা দক্ষিণ জোনের লালমোহন সার্কেলের সার্জেন্ট মাখম লাল জানান, চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছি। যারা আইন অমান্য করছেন এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করছি। তবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা যেন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালান সে জন্য তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তবে সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে। তাহলেই দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছি।
ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে গতির দানব হয়ে ওঠেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সুযোগ বুঝে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো যেন হয়ে ওঠে একেকটি বুলেট ট্রেন! বেপরোয়া এই গতির ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে মানুষের প্রাণ। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীসহ পথচারীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। জেলাজুড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনোভাবেই সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশাগুলোর অপ্রতিরোধ্য গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৌদ্ধেরপুল এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একজন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ৩ জন। এরআগেও ঘটেছে আরো বড় ধরনের কয়েকটি দুর্ঘটনা। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক।
স্থানীয়রা জানান, ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে দৈনিক দুইশতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশার চালকদের অধিকাংশেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কারও কাগজ থাকলেও ফিট নেই অটোরিকশা। এসব সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে কেউ আগে কৃষি কাজ ও দিনমজুরিসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত ছিলেন। সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা এখন মৃত্যুদূত হয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মো. ইকবাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও মো. মিরাজ নামে কয়েকজন যাত্রী বলেন, সকাল ৮টায় লালমোহন থানার মোড় থেকে আমরা তিন জন পেছনে এবং সামনে আরো দুইজন যাত্রীসহ ভোলার ইলিশাঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। চালক বলেছেন এক ঘন্টার মধ্যে ঘাটে পৌঁছে দেবেন। চালকের কথা মতো সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। তবে রওয়ানা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চালক বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশাটি চালানো শুরু করেন। প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল এই বুঝি অন্য কোনো গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। চালকের এমন কাণ্ড দেখে তাকে আমরা বারবার ধীরে চালাতে বলি। বলার পর কিছু সময় ঠিকমতো চালালেও কিছুক্ষণ পরই আবারও বেপরোয়া গতিতে চালানো শুরু করেন। যতক্ষণ সিএনজি চালিত ওই অটোরিকশায় ছিলাম, ততক্ষণ মনে হয়েছিল বাধ্য হয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দিয়েছি। চালকদের এমন বেপরোয়া গতির কারণেই ঘটে দুর্ঘটনা। এসব বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ভোলা জেলা দক্ষিণ জোনের লালমোহন সার্কেলের সার্জেন্ট মাখম লাল জানান, চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছি। যারা আইন অমান্য করছেন এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করছি। তবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা যেন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালান সে জন্য তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তবে সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে। তাহলেই দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছি।

০৪ মার্চ, ২০২৬ ১৬:২০
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন। বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও রয়েছে এর তীব্র সংকট। এতে দুশ্চিন্তায় জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে ভিড় করছেন রোগীরা। কেউ এসেছেন কুকুরের কামড়ে শিকার হয়ে, আবার কেউ এসেছেন বিড়ালের আঁচড়ে শিকার হয়ে।
রোগীদের মধ্যে শিশুসহ নানা বয়সী নারী ও পুরুষ রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে মিলছে না ভ্যাকসিন। এমনকি বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও সচরাচর মিলছে না ভ্যাকসিন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ রোগী ও স্বজনদের।
দৌলতখান উপজেলা থেকে আসা রোগী মাইনুর আক্তার জানান, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি কুকুর কামড় দেয়। পরে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন দিতে গেলে সেখানে ভ্যাকসিন পাননি।
এরপর ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও এসে পাননি ভ্যাকসিন। এখানকার নার্স ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। তাই বাইরে থেকে কিনে আনলে তারা ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারবেন। বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পারলে তো এখানে আসার দরকার ছিল না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা রোগীর স্বজন মো. ফিরোজ আলম জানান, তার শিশু সন্তানকে বিড়াল আঁচড় দিয়েছে।
তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। তিনি সদর হাসপাতালে আসলেও এখানেও ভ্যাকসিন পাননি।
তিনি জানান, এত দূর থেকে এসেও ভ্যাকসিন পাননি। সরকারি হাসপাতালে যদি ভ্যাকসিন না থাকে, তাহলে গরিবের চিকিৎসা হয় কীভাবে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে।
ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের শান্তিরহাট থেকে আসা রোগীর স্বজন জানান, সন্তানকে কুকুরে কামড় দেওয়ার পর ভ্যাকসিন দেওয়াতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু ভ্যাকসিন নেই। পরে বাধ্য হয়ে চারজন মিলে টাকা তুলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। ওই ভ্যাকসিন দিয়ে বাড়ি ফিরছি।
আরেক রোগীর স্বজন লিমা আক্তার জানান, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোলার শহরের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করে তারপর ভ্যাকসিন পেয়েছেন। ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন সচরাচর পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমাদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
ভোলার শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. হারুন অর রশিদ জানান, ভোলার শহর থেকে গ্রাম—সব রাস্তা ও বাড়ির আশপাশে বর্তমানে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে।
সঙ্গে কুকুরের আক্রমণও বেড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভোলা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এমনকি ভোলার ফার্মেসিগুলোতেও ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো দ্রুত যেন এ সমস্যার সমাধান করেন।
ভোলা সদর রোডের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আরিফ ও মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিগত দুই মাস ধরে কোম্পানিগুলো আমাদের ভ্যাকসিন চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছে না। আমাদের দৈনিক প্রয়োজন ৫০টি, সেখানে আমাদের সপ্তাহে দেয় ১০-২০টি। তাই আমরাও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছি না।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, দুই মাস ধরে ভ্যাকসিন নেই। এতে রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। তবে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এছাড়াও বাজারেও ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। তাই সবাইকে কুকুর ও বিড়াল থেকে সাবধানে থাকার পাশাপাশি আঁচড় বা কামড় দিলে অন্তত ৩০ মিনিট সাবান-পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন। বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও রয়েছে এর তীব্র সংকট। এতে দুশ্চিন্তায় জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে ভিড় করছেন রোগীরা। কেউ এসেছেন কুকুরের কামড়ে শিকার হয়ে, আবার কেউ এসেছেন বিড়ালের আঁচড়ে শিকার হয়ে।
রোগীদের মধ্যে শিশুসহ নানা বয়সী নারী ও পুরুষ রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে মিলছে না ভ্যাকসিন। এমনকি বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও সচরাচর মিলছে না ভ্যাকসিন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ রোগী ও স্বজনদের।
দৌলতখান উপজেলা থেকে আসা রোগী মাইনুর আক্তার জানান, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি কুকুর কামড় দেয়। পরে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন দিতে গেলে সেখানে ভ্যাকসিন পাননি।
এরপর ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও এসে পাননি ভ্যাকসিন। এখানকার নার্স ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। তাই বাইরে থেকে কিনে আনলে তারা ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারবেন। বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পারলে তো এখানে আসার দরকার ছিল না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা রোগীর স্বজন মো. ফিরোজ আলম জানান, তার শিশু সন্তানকে বিড়াল আঁচড় দিয়েছে।
তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। তিনি সদর হাসপাতালে আসলেও এখানেও ভ্যাকসিন পাননি।
তিনি জানান, এত দূর থেকে এসেও ভ্যাকসিন পাননি। সরকারি হাসপাতালে যদি ভ্যাকসিন না থাকে, তাহলে গরিবের চিকিৎসা হয় কীভাবে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে।
ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের শান্তিরহাট থেকে আসা রোগীর স্বজন জানান, সন্তানকে কুকুরে কামড় দেওয়ার পর ভ্যাকসিন দেওয়াতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু ভ্যাকসিন নেই। পরে বাধ্য হয়ে চারজন মিলে টাকা তুলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। ওই ভ্যাকসিন দিয়ে বাড়ি ফিরছি।
আরেক রোগীর স্বজন লিমা আক্তার জানান, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোলার শহরের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করে তারপর ভ্যাকসিন পেয়েছেন। ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন সচরাচর পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমাদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
ভোলার শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. হারুন অর রশিদ জানান, ভোলার শহর থেকে গ্রাম—সব রাস্তা ও বাড়ির আশপাশে বর্তমানে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে।
সঙ্গে কুকুরের আক্রমণও বেড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভোলা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এমনকি ভোলার ফার্মেসিগুলোতেও ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো দ্রুত যেন এ সমস্যার সমাধান করেন।
ভোলা সদর রোডের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আরিফ ও মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিগত দুই মাস ধরে কোম্পানিগুলো আমাদের ভ্যাকসিন চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছে না। আমাদের দৈনিক প্রয়োজন ৫০টি, সেখানে আমাদের সপ্তাহে দেয় ১০-২০টি। তাই আমরাও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছি না।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, দুই মাস ধরে ভ্যাকসিন নেই। এতে রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। তবে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এছাড়াও বাজারেও ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। তাই সবাইকে কুকুর ও বিড়াল থেকে সাবধানে থাকার পাশাপাশি আঁচড় বা কামড় দিলে অন্তত ৩০ মিনিট সাবান-পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

০১ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১২
শনিবার মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।
ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা চলবে। এসময় মাছ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী থেকে তীরে ফিরেছেন জেলেরা। দীর্ঘ দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ভোলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে দ্রুত চাল বিতরণের পাশাপাশি দুই মাসের জন্য এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মেঘনা নদীর জেলে মো. আকবর মাঝি ও মো. মহিউদ্দিন মাঝি জানান, ১ মার্চ থেকে নদীতে মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তাই আগেভাগেই নদী থেকে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে দুই মাস পর আবার নদীতে গিয়ে মাছ ধরবেন।
একই এলাকার রুহুল আমিন মাঝি, শাকিল মাঝি ও মো. মনির মাঝি জানান, সরকার প্রতি বছরই ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে অভিযান চালায়। কিন্তু জেলেদের এনজিওর কিস্তি থাকে, যা বন্ধ হয় না। ফলে অনেক জেলে কিস্তির চাপে গোপনে নদীতে গিয়ে মাছ ধরেন।
তারা জানান, সরকার যদি এ বছর দুই মাসের অভিযান শতভাগ সফল করতে চায়, তাহলে এই সময়ের জন্য এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে। তাহলে জেলেরা নদীতে যাবে না এবং কেউ মাছ ধরবে না— তবেই অভিযানের সফলতা আসবে।
একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলার খাল এলাকার জেলে মো. জাকির হোসেন মাঝি ও মো. নোমান মাঝি জানান, সরকার জাটকা সংরক্ষণের জন্য চাল দেয়, কিন্তু প্রতি বছর অভিযানের শেষের দিকে তা বিতরণ করা হয়। এবার রোজা ও সামনে ঈদ থাকায় তারা আগেভাগে চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চালের সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, ইলিশের অভয়াশ্রমের জন্য আলাদাভাবে চাল দেওয়া হয় না; তবে জাটকা সংরক্ষণের জন্য প্রতি জেলের নামে চার মাসে মোট ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ বছরও ভোলার নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার জেলেকে চাল দেওয়া হবে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই তা বিতরণের চেষ্টা করা হবে।
প্রথমবারের মতো এ বছর ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভোলার সাত উপজেলার ১৩ হাজার ৬০০ জেলের মাঝে আটা, ডাল, তেল, আলু, চিনি ও লবণ বিতরণ করা হবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জাটকা সংরক্ষণের চাল জেলেদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।
ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা চলবে। এসময় মাছ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী থেকে তীরে ফিরেছেন জেলেরা। দীর্ঘ দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ভোলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে দ্রুত চাল বিতরণের পাশাপাশি দুই মাসের জন্য এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মেঘনা নদীর জেলে মো. আকবর মাঝি ও মো. মহিউদ্দিন মাঝি জানান, ১ মার্চ থেকে নদীতে মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তাই আগেভাগেই নদী থেকে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে দুই মাস পর আবার নদীতে গিয়ে মাছ ধরবেন।
একই এলাকার রুহুল আমিন মাঝি, শাকিল মাঝি ও মো. মনির মাঝি জানান, সরকার প্রতি বছরই ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে অভিযান চালায়। কিন্তু জেলেদের এনজিওর কিস্তি থাকে, যা বন্ধ হয় না। ফলে অনেক জেলে কিস্তির চাপে গোপনে নদীতে গিয়ে মাছ ধরেন।
তারা জানান, সরকার যদি এ বছর দুই মাসের অভিযান শতভাগ সফল করতে চায়, তাহলে এই সময়ের জন্য এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে। তাহলে জেলেরা নদীতে যাবে না এবং কেউ মাছ ধরবে না— তবেই অভিযানের সফলতা আসবে।
একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলার খাল এলাকার জেলে মো. জাকির হোসেন মাঝি ও মো. নোমান মাঝি জানান, সরকার জাটকা সংরক্ষণের জন্য চাল দেয়, কিন্তু প্রতি বছর অভিযানের শেষের দিকে তা বিতরণ করা হয়। এবার রোজা ও সামনে ঈদ থাকায় তারা আগেভাগে চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চালের সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, ইলিশের অভয়াশ্রমের জন্য আলাদাভাবে চাল দেওয়া হয় না; তবে জাটকা সংরক্ষণের জন্য প্রতি জেলের নামে চার মাসে মোট ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ বছরও ভোলার নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার জেলেকে চাল দেওয়া হবে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই তা বিতরণের চেষ্টা করা হবে।
প্রথমবারের মতো এ বছর ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভোলার সাত উপজেলার ১৩ হাজার ৬০০ জেলের মাঝে আটা, ডাল, তেল, আলু, চিনি ও লবণ বিতরণ করা হবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জাটকা সংরক্ষণের চাল জেলেদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৫৯
ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহতের পর বোমা সদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনাটি জানাজনির পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ হামলার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন—হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন মুন্সি (৪৬), তার মা মাজেদা বেগম (৭৫), স্ত্রী সাথী বেগম (৩৫), ভাই আমানুল্লাহ মুন্সি (৫৫), ভাতিজা মাসুম প্রিন্স (২৬), মো. আবির (২৩) ও আশিক হাওলাদার।
আহতদের মধ্যে বিল্লাল, সাথী ও প্রিন্সকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন স্বজনরা। এ ছাড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন আবির আশিক নামে দুজন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী বিল্লাল ও তার বড় ভাই দেউলা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আহত আমানুল্লাহ মুন্সির বাড়িতে শনিবার দিবাগত রাতে একদল অস্ত্রধারী হামলা করে। তারা বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে আমানুল্লাহর বসতঘরের বাইরের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয় এবং ব্যবসায়ী বিল্লালের বসতঘরে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় বিল্লাল ও তার ঘরে থাকা লোকজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে অস্ত্রধারীরা। এরপর তাদের ডাক-চিৎকারে আমানুল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন পেছনের দরজা থেকে বেরিয়ে তাদেরকে প্রতিহতের চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালায়। একপর্যায়ে বোমা সদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দৃর্বৃত্তরা।
তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, এরপর তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করার। সেখান থেকে ব্যবসায়ী বিল্লাল, তার স্ত্রী সাথী ও ভাতিজা প্রিন্সকে ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। এর আগেও ব্যবসায়ী বিল্লালের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও দুই দফায় তার ভাইয়ের গরু চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় হামলার শিকার ব্যবসায়ী বিল্লালের বড় ভাই আকবর মুন্সি অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে করি। সম্প্রতি আমার ছোট ভাই বিল্লালের স্থানীয় মজমবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা, এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। হামলাকারীরা আমার ভাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশেই ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে এবং অন্যদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। অন্য ঘরে থাকা আমার বড় ভাই ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাওয়ার পর ঘর থেকে বের হওয়ায় তাদেরকেও এলোপাতাড়ি মারধরের পর সন্ত্রাসীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে।
হামলায় নারী পুরুষসহ সাতজনকে আহত করা হয়েছে। তিনজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আমরা বিচার চাই। আমাদের লোকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা শুধু আমার মায়ের কানের একজোড়া সোনার দুল নিতে পেরেছে।
দেউলা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আহত আমানুল্লাহ মুন্সি বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের উপরেও হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে, কাউকে চিহ্নিত করতে পারিনি। তারা ৫-৬ জনের একটা দল ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশাল টাইমসকে বলেন, ঘটনাটি শোনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি, তদন্ত চলছে। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি।
বরিশাল টাইমস
ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহতের পর বোমা সদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনাটি জানাজনির পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ হামলার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন—হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন মুন্সি (৪৬), তার মা মাজেদা বেগম (৭৫), স্ত্রী সাথী বেগম (৩৫), ভাই আমানুল্লাহ মুন্সি (৫৫), ভাতিজা মাসুম প্রিন্স (২৬), মো. আবির (২৩) ও আশিক হাওলাদার।
আহতদের মধ্যে বিল্লাল, সাথী ও প্রিন্সকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন স্বজনরা। এ ছাড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন আবির আশিক নামে দুজন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী বিল্লাল ও তার বড় ভাই দেউলা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আহত আমানুল্লাহ মুন্সির বাড়িতে শনিবার দিবাগত রাতে একদল অস্ত্রধারী হামলা করে। তারা বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে আমানুল্লাহর বসতঘরের বাইরের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয় এবং ব্যবসায়ী বিল্লালের বসতঘরে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় বিল্লাল ও তার ঘরে থাকা লোকজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে অস্ত্রধারীরা। এরপর তাদের ডাক-চিৎকারে আমানুল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন পেছনের দরজা থেকে বেরিয়ে তাদেরকে প্রতিহতের চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালায়। একপর্যায়ে বোমা সদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দৃর্বৃত্তরা।
তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, এরপর তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করার। সেখান থেকে ব্যবসায়ী বিল্লাল, তার স্ত্রী সাথী ও ভাতিজা প্রিন্সকে ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। এর আগেও ব্যবসায়ী বিল্লালের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও দুই দফায় তার ভাইয়ের গরু চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় হামলার শিকার ব্যবসায়ী বিল্লালের বড় ভাই আকবর মুন্সি অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে করি। সম্প্রতি আমার ছোট ভাই বিল্লালের স্থানীয় মজমবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা, এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। হামলাকারীরা আমার ভাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশেই ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে এবং অন্যদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। অন্য ঘরে থাকা আমার বড় ভাই ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাওয়ার পর ঘর থেকে বের হওয়ায় তাদেরকেও এলোপাতাড়ি মারধরের পর সন্ত্রাসীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে।
হামলায় নারী পুরুষসহ সাতজনকে আহত করা হয়েছে। তিনজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আমরা বিচার চাই। আমাদের লোকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা শুধু আমার মায়ের কানের একজোড়া সোনার দুল নিতে পেরেছে।
দেউলা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আহত আমানুল্লাহ মুন্সি বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের উপরেও হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়েছে, কাউকে চিহ্নিত করতে পারিনি। তারা ৫-৬ জনের একটা দল ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশাল টাইমসকে বলেন, ঘটনাটি শোনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি, তদন্ত চলছে। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.