বরিশালের বাবুগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। 'দেশীয় জাত আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি'-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৬ নভেম্বর) বর্ণিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, প্রাণিসম্পদের প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.এফ.এম নাজমুস সালেহীন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়দা আখতার। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাহফুজ আলমের সঞ্চালনায় এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবদুল্লাহ আল আবীরের বাবা মিজানুর রহমান বাচ্চু, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুস সালাম মাঝি, উত্তর দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনতি রাণী দাস, সফল খামারি আবদুল্লাহ আল মামুন, কোহিনূর আক্তার প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভার আগে সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা গেটে ফিতা কেটে ও পায়রা উড়িয়ে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ। এসময় অতিথিদের সাথে নিয়ে তিনি প্রদর্শনী মেলার ৩০টি স্টল পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রদর্শনী কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ বলেন, 'মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আমাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। বিভিন্ন উন্নত এবং দ্রুত বর্ধনশীল জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে আমাদের অর্থনীতি স্বনির্ভর করতে হলে প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। সেজন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে খামারি এবং উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। গবাদি পশুপাখি বিশেষ করে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া এবং বেকারত্ব দূরীকরণের অবারিত সুযোগ রয়েছে। আমাদের এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বেকারত্বের অভিশাপ দূর করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করতে হবে।'
সভাপতির বক্তব্যে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, 'আমরা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চাই। দেশীয় প্রযুক্তিতে দেশীয় খামারে উৎপাদিত গবাদি পশুপাখি দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমাদের খামারি এবং দর্শনার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলাসহ আগামী ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসময় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির ফ্রি ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প, বিনামূল্যে কৃমিনাশক ওষুধ বিতরণ, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, কৃত্রিম প্রজনন সেবাসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে।' #

২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৬
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৫
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩০
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’

২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:২২
বরিশালের বাবুগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। 'দেশীয় জাত আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি'-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৬ নভেম্বর) বর্ণিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, প্রাণিসম্পদের প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.এফ.এম নাজমুস সালেহীন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়দা আখতার। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মাহফুজ আলমের সঞ্চালনায় এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবদুল্লাহ আল আবীরের বাবা মিজানুর রহমান বাচ্চু, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুস সালাম মাঝি, উত্তর দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনতি রাণী দাস, সফল খামারি আবদুল্লাহ আল মামুন, কোহিনূর আক্তার প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভার আগে সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা গেটে ফিতা কেটে ও পায়রা উড়িয়ে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ। এসময় অতিথিদের সাথে নিয়ে তিনি প্রদর্শনী মেলার ৩০টি স্টল পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রদর্শনী কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ বলেন, 'মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আমাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। বিভিন্ন উন্নত এবং দ্রুত বর্ধনশীল জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে আমাদের অর্থনীতি স্বনির্ভর করতে হলে প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। সেজন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে খামারি এবং উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। গবাদি পশুপাখি বিশেষ করে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া এবং বেকারত্ব দূরীকরণের অবারিত সুযোগ রয়েছে। আমাদের এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বেকারত্বের অভিশাপ দূর করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করতে হবে।'
সভাপতির বক্তব্যে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, 'আমরা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চাই। দেশীয় প্রযুক্তিতে দেশীয় খামারে উৎপাদিত গবাদি পশুপাখি দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমাদের খামারি এবং দর্শনার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলাসহ আগামী ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসময় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির ফ্রি ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প, বিনামূল্যে কৃমিনাশক ওষুধ বিতরণ, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, কৃত্রিম প্রজনন সেবাসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে।' #
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'
বহু অঘটন পটিয়াসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে সব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংঘটিত হয়।
বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু। এই রাজনৈতিক জানান, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কাওসার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
বদলি আদশের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলছেন, প্রশাসক যখন তাকে ছাড়বেন, তিনি তখনই বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালটটাইমসকে বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন, এমন একটি খবর শুনেছি।’
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭