পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুরে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে পিরোজপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। মামলাগুলোর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। তদন্ত কর্মকর্তা পরে নিয়োগ করা হবে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মো. মহিউদ্দীন মহারাজ তার নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয় করেন। এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ার ক্রয় ও দুটি বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়সহ প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এভাবে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ব্যয় হিসেবে পাওয়া যায় প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
অন্যদিকে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে, মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক শাখার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের আরেক মামলায় মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ, ৭২ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, নগদ অর্থ ও ব্যবসার মূলধনসহ তার নামে উল্লেখযোগ্য অস্থাবর সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে। ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদ অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে।
দুদক জানিয়েছে, ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস নেই। তার নামে থাকা সম্পদের বড় অংশই মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ আয়ের অর্থ থেকে অর্জিত এবং অবৈধ সম্পদের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে তার নামে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের পারমিশন পিটিশনের আদেশ অনুযায়ী মহিউদ্দীন মহারাজ ও স্ত্রী-ছেলের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যে ক্রোক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মামলার তদন্তে আরও সম্পদের তথ্য সামনে আসতে পারে। রাজনীতি ও ভুয়া প্রকল্পের আড়ালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে মহারাজ পরিবার বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ গ্রহণের পর কাজ না করেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে মহিউদ্দীন মহারাজ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করেন। সেসব মামলাও বর্তমানে তদন্তাধীন।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৫
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে সম্বোধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হেনা পশারী।
বড় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, ‘তখন আমি শ্বশুরবাড়ি খুলনায় ছিলাম। এরপর এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমরা কোনো যোগাযোগ করিনি। তার কাছে এ বিষয়ে কিছু জানতেও চাইনি।’
৫ আগস্টের পর বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশপাশেই ছিলাম।’
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় মানিক পশারীর সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে হেনা পশারী বলেন, ‘তিনি (সাঈদী) আল্লাহর ওলি ছিলেন। বড় ভাই কিসের জন্য কী করেছে, এটা সে জানে আর আল্লাহ জানে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে আমাদের জিজ্ঞাসা না করাই ভালো।’
এদিকে, মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই চান মিয়া পশারী। এ-সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
চান মিয়া পশারীর ওই সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।'
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে সম্বোধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হেনা পশারী।
বড় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, ‘তখন আমি শ্বশুরবাড়ি খুলনায় ছিলাম। এরপর এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমরা কোনো যোগাযোগ করিনি। তার কাছে এ বিষয়ে কিছু জানতেও চাইনি।’
৫ আগস্টের পর বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশপাশেই ছিলাম।’
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় মানিক পশারীর সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে হেনা পশারী বলেন, ‘তিনি (সাঈদী) আল্লাহর ওলি ছিলেন। বড় ভাই কিসের জন্য কী করেছে, এটা সে জানে আর আল্লাহ জানে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে আমাদের জিজ্ঞাসা না করাই ভালো।’
এদিকে, মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই চান মিয়া পশারী। এ-সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
চান মিয়া পশারীর ওই সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।'

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে মন্দিরের জমিতে দীর্ঘদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে জমিটির অবস্থান। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে সেখানে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শরিকদের একজনের অংশ নিয়ে করা অনিবন্ধিত বায়না চুক্তির ভিত্তিতে জমিটি দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি।
মনোজ বিশ্বাসের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা করে আসছেন। জমিটি উদ্ধার করে সেখানে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
সুমন আইচের অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শফিকুল তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত।
আবু হানিফ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি এবং মন্দিরের জমি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধান দাবি করেন তিনি।
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে মন্দিরের জমিতে দীর্ঘদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে জমিটির অবস্থান। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে সেখানে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শরিকদের একজনের অংশ নিয়ে করা অনিবন্ধিত বায়না চুক্তির ভিত্তিতে জমিটি দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি।
মনোজ বিশ্বাসের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা করে আসছেন। জমিটি উদ্ধার করে সেখানে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
সুমন আইচের অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শফিকুল তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত।
আবু হানিফ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি এবং মন্দিরের জমি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধান দাবি করেন তিনি।
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহ আনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করা হয়। এটি তাঁর বক্তব্য; এ দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাত ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমবার খোঁড়া কবরটি কেউ ভরাট করে দেওয়ায় নতুন করে কবর খুঁড়তে হয়। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কোদাল হাতে সেই কাজ করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন; তবে কোনো পুরুষ স্বজন এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দাফন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পিরোজপুর জেলা জামায়াত দাবি করেছে, তাদের কোনো নেতা-কর্মী দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০০৯ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহ আনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করা হয়। এটি তাঁর বক্তব্য; এ দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাত ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমবার খোঁড়া কবরটি কেউ ভরাট করে দেওয়ায় নতুন করে কবর খুঁড়তে হয়। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কোদাল হাতে সেই কাজ করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন; তবে কোনো পুরুষ স্বজন এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দাফন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পিরোজপুর জেলা জামায়াত দাবি করেছে, তাদের কোনো নেতা-কর্মী দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০০৯ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১০
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুরে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে পিরোজপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। মামলাগুলোর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। তদন্ত কর্মকর্তা পরে নিয়োগ করা হবে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মো. মহিউদ্দীন মহারাজ তার নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয় করেন। এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ার ক্রয় ও দুটি বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়সহ প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এভাবে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ব্যয় হিসেবে পাওয়া যায় প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
অন্যদিকে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে, মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক শাখার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের আরেক মামলায় মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ, ৭২ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, নগদ অর্থ ও ব্যবসার মূলধনসহ তার নামে উল্লেখযোগ্য অস্থাবর সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে। ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদ অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে।
দুদক জানিয়েছে, ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস নেই। তার নামে থাকা সম্পদের বড় অংশই মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ আয়ের অর্থ থেকে অর্জিত এবং অবৈধ সম্পদের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে তার নামে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের পারমিশন পিটিশনের আদেশ অনুযায়ী মহিউদ্দীন মহারাজ ও স্ত্রী-ছেলের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যে ক্রোক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মামলার তদন্তে আরও সম্পদের তথ্য সামনে আসতে পারে। রাজনীতি ও ভুয়া প্রকল্পের আড়ালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে মহারাজ পরিবার বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ গ্রহণের পর কাজ না করেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে মহিউদ্দীন মহারাজ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করেন। সেসব মামলাও বর্তমানে তদন্তাধীন।
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২১
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:২০
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫০