বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (০১ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার সদর রোডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন - সিদ্দিকুর রহমান (৩০), শাকিল হোসেন (২৭), রবিউল মুসুল্লি (২৬), মহসিন খান (২৭), মান্নু(৪৫), আলাউদ্দিন (৪৫), কবির হোসেন (৩৫), রহিম হাওলাদার (৪০), রুবেল হোসেন (৩৪), সাহাবিদ খান (৪২), আঃ হাই (৫০), সাইদুল ইসলাম (৩৫), নুর মোহাম্মদ (৪৫), মিজানুর রহমান ওরফে টাস মিজান (২৫)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এবং অপর একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ জুন) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের বিরুদ্ধে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি কর্মী ও ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম মামুন, কৃষক দলের বরগুনা জেলা সহসভাপতি অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ খান, উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া শামিম আহসান, মংসেলন তালুকদার, যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি জাফর হাওলাদার প্রমুখ।
এঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (০১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের সমর্থকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এ কর্মসূচি পালনের সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন ও যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ এর নেতৃত্বে একই স্থানে সমাবেশ করার জন্য বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সমবেত হন। একই স্থানে উভয়পক্ষ মুখোমুখী হলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও নৌবাহিনী মাইকিং করে শহরের দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং ঘন্টা ব্যাপী চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতরা সবাই তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় ৪ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন গুরুতর আহত থাকায় তাদেরকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হক চাঁদার দাবিতে প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী আবুল কালাম কে মারধর করেন।
এঘটনায় মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আমরা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করি।
এ কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে শহিদুল হকের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের উপর অতর্কিত হামলা করলে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। মামুন আরো বলেন, উপজেলা বিএনপি'র আহবায়ক মো. শহিদুলের বিষয়ে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন চলছিলো। এসময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন ও যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের নেতৃত্বে আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহজালাল বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে নৌ বাহিনীর সাথে মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ব্যাপারে কোন পক্ষ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, বিএনপির দু'গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সহায়তায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের দোকানপাট ২ ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫১
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

০১ জুলাই, ২০২৫ ১৭:০১
বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (০১ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার সদর রোডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন - সিদ্দিকুর রহমান (৩০), শাকিল হোসেন (২৭), রবিউল মুসুল্লি (২৬), মহসিন খান (২৭), মান্নু(৪৫), আলাউদ্দিন (৪৫), কবির হোসেন (৩৫), রহিম হাওলাদার (৪০), রুবেল হোসেন (৩৪), সাহাবিদ খান (৪২), আঃ হাই (৫০), সাইদুল ইসলাম (৩৫), নুর মোহাম্মদ (৪৫), মিজানুর রহমান ওরফে টাস মিজান (২৫)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এবং অপর একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ জুন) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের বিরুদ্ধে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি কর্মী ও ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম মামুন, কৃষক দলের বরগুনা জেলা সহসভাপতি অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ খান, উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া শামিম আহসান, মংসেলন তালুকদার, যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি জাফর হাওলাদার প্রমুখ।
এঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (০১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের সমর্থকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এ কর্মসূচি পালনের সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন ও যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ এর নেতৃত্বে একই স্থানে সমাবেশ করার জন্য বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সমবেত হন। একই স্থানে উভয়পক্ষ মুখোমুখী হলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও নৌবাহিনী মাইকিং করে শহরের দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং ঘন্টা ব্যাপী চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতরা সবাই তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় ৪ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন গুরুতর আহত থাকায় তাদেরকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও তালতলী বাজার বহুমুখী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হক চাঁদার দাবিতে প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী আবুল কালাম কে মারধর করেন।
এঘটনায় মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আমরা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করি।
এ কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে শহিদুল হকের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের উপর অতর্কিত হামলা করলে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। মামুন আরো বলেন, উপজেলা বিএনপি'র আহবায়ক মো. শহিদুলের বিষয়ে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন চলছিলো। এসময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন ও যুবদলের সদস্য সচিব মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের নেতৃত্বে আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহজালাল বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে নৌ বাহিনীর সাথে মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ব্যাপারে কোন পক্ষ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, বিএনপির দু'গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সহায়তায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের দোকানপাট ২ ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।