পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০২
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক নামে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব ফাহিম, রাশেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফারুককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি হোটেলের পাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে ফারুককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি বিয়েতে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই ফারুককে তুলে নেওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল বলেন, ওই রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফারুককে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে কলাপাড়ার রুবান হোটেলের পাশ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফাহিম বলেন, ‘মারধরের বিষয়টি আমি জানি। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাসুদ রানাও। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুষার বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। ১৭ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কাজে আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তে ডিবি পরিচয় ব্যবহার, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।'
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক নামে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব ফাহিম, রাশেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফারুককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি হোটেলের পাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে ফারুককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি বিয়েতে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই ফারুককে তুলে নেওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল বলেন, ওই রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফারুককে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে কলাপাড়ার রুবান হোটেলের পাশ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফাহিম বলেন, ‘মারধরের বিষয়টি আমি জানি। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাসুদ রানাও। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুষার বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। ১৭ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কাজে আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তে ডিবি পরিচয় ব্যবহার, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।'

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৮
পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ১৫ জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে কাছাকাছি থাকা অন্য একটি ট্রলারের সহায়তায় সাগর থেকে ১৫ জেলেকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গভীরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির নাম এমবি মায়ের দোয়া-৬।
ট্রলারটির মাঝি মূসা জানান, সকালে আলীপুর বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে তারা সাগরে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারের তলা বা কাঠামো ফেটে যায়। এতে দ্রুত ট্রলারে পানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
তিনি জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার আগে তারা সাগরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। পরে কাছাকাছি থাকা একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। ওই ট্রলারের সহায়তায় ১৫ জেলেকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, মাছ ধরার জন্য ট্রলারটি সাগরে পাঠানো হয়েছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলেদের উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, গভীর সমুদ্রে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এটি উদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।'
পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ১৫ জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে কাছাকাছি থাকা অন্য একটি ট্রলারের সহায়তায় সাগর থেকে ১৫ জেলেকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গভীরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির নাম এমবি মায়ের দোয়া-৬।
ট্রলারটির মাঝি মূসা জানান, সকালে আলীপুর বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে তারা সাগরে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারের তলা বা কাঠামো ফেটে যায়। এতে দ্রুত ট্রলারে পানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
তিনি জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার আগে তারা সাগরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। পরে কাছাকাছি থাকা একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। ওই ট্রলারের সহায়তায় ১৫ জেলেকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, মাছ ধরার জন্য ট্রলারটি সাগরে পাঠানো হয়েছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলেদের উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, গভীর সমুদ্রে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এটি উদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।'

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
পটুয়াখালীর বাউফলে দুটি গরু জবাই করে মাথা ফেলে রেখে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নয়াহাট এলাকার ভাই ভাই দোকানের সামনে ধানক্ষেত ও পানিভরা ডোবায় দুটি গরুর মাথা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে গরু দুটির মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ের ধারনা, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা অন্য কোনো এলাকা থেকে গরু দুটি নিয়ে এসে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। তবে গরু দুটির মালিক কে বা কোথা থেকে গরু দুটি আনা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গরু চুরি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেফালী আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি জানার পর স্থানীয় চৌকিদার ও ইউপি সদস্যদের এলাকায় খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নওমালা ইউনিয়নের কোনো বাসিন্দা গরু নিখোঁজ হওয়ার কথা জানাননি। পার্শ্ববর্তী দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা থেকেও গরু এনে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালীর বাউফলে দুটি গরু জবাই করে মাথা ফেলে রেখে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নয়াহাট এলাকার ভাই ভাই দোকানের সামনে ধানক্ষেত ও পানিভরা ডোবায় দুটি গরুর মাথা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে গরু দুটির মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ের ধারনা, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা অন্য কোনো এলাকা থেকে গরু দুটি নিয়ে এসে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। তবে গরু দুটির মালিক কে বা কোথা থেকে গরু দুটি আনা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গরু চুরি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেফালী আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি জানার পর স্থানীয় চৌকিদার ও ইউপি সদস্যদের এলাকায় খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নওমালা ইউনিয়নের কোনো বাসিন্দা গরু নিখোঁজ হওয়ার কথা জানাননি। পার্শ্ববর্তী দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা থেকেও গরু এনে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

১৫ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৭
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০২
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৫
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪১