পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।

১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০৯
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আদালতের একটি মামলায় ওয়ারেন্ট জারির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক আইনজীবীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামিউল আলীম মল্লিক (৪৪)। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তার স্ত্রীও।
স্থানীয় সূত্র ও আইনজীবীর পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মো. জাকির হোসেন ফরাজী (৪২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) ওই মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা (টাইম পিটিশন) করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর না করে ওয়ারেন্ট জারি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে মোটরসাইকেলে করে উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামে অ্যাডভোকেট সামিউল আলীম মল্লিকের বাড়িতে যান জাকির হোসেন ফরাজী। সেখানে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন।
এ সময় আইনজীবীর স্ত্রী স্বামীকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে তার হাত ও আঙুলে কোপ লাগে। তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারী রক্তমাখা অবস্থায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত আইনজীবীকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত জাকির হোসেন ফরাজী মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর ছোট ভাই। এছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী পূর্বে বিদেশি অস্ত্রসহ যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।'

১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫৮
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকায় নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মাটিসহ একটি ভেকু মেশিন, পল্টুন ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টার দিকে বাহেরচর বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদীর পাড় থেকে মাটি কাটার সময় দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁদের উপস্থিতিতে জব্দ করা মাটিকাটা কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিন, পল্টুন ও বাল্কহেড উদ্ধার করা হয়। আটক দুইজনকে নেওয়া হয় থানার হেফাজতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় রবিবার বাউফল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা ভেকু মেশিন, পল্টুন, বাল্কহেড ও উত্তোলন করা মাটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটক আসামিদের আদালতে পাঠানোর হয়েছে। নদী ও ফসলি জমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে রাতের আঁধারে নদীর পাড় থেকে মাটি কাটার ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলন করা হলে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫৪

১৫ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আদালতের একটি মামলায় ওয়ারেন্ট জারির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক আইনজীবীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামিউল আলীম মল্লিক (৪৪)। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তার স্ত্রীও।
স্থানীয় সূত্র ও আইনজীবীর পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মো. জাকির হোসেন ফরাজী (৪২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) ওই মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা (টাইম পিটিশন) করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর না করে ওয়ারেন্ট জারি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে মোটরসাইকেলে করে উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামে অ্যাডভোকেট সামিউল আলীম মল্লিকের বাড়িতে যান জাকির হোসেন ফরাজী। সেখানে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন।
এ সময় আইনজীবীর স্ত্রী স্বামীকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে তার হাত ও আঙুলে কোপ লাগে। তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারী রক্তমাখা অবস্থায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত আইনজীবীকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত জাকির হোসেন ফরাজী মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর ছোট ভাই। এছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী পূর্বে বিদেশি অস্ত্রসহ যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।'
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকায় নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মাটিসহ একটি ভেকু মেশিন, পল্টুন ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টার দিকে বাহেরচর বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদীর পাড় থেকে মাটি কাটার সময় দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁদের উপস্থিতিতে জব্দ করা মাটিকাটা কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিন, পল্টুন ও বাল্কহেড উদ্ধার করা হয়। আটক দুইজনকে নেওয়া হয় থানার হেফাজতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় রবিবার বাউফল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা ভেকু মেশিন, পল্টুন, বাল্কহেড ও উত্তোলন করা মাটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটক আসামিদের আদালতে পাঠানোর হয়েছে। নদী ও ফসলি জমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে রাতের আঁধারে নদীর পাড় থেকে মাটি কাটার ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলন করা হলে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে হলুদ সোনালি বাটা (Yellow Goatfish) নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। মঙ্গলবার গভীর রাতে এফবি জারিফ-৪ ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এটি আলিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। মাছটি স্থানীয়দেয় কাছে সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।
জানা যায়, আসাদ মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিস গদিতে নিয়ে আসা হলে এর উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রঙ ও আকর্ষণীয় গঠনের কারণে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী, জেলে ও সাধারণ মানুষ মাছটি এক নজর দেখতে ভিড় করেন।
এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলের গভীর সমুদ্র থেকে বিভিন্ন সময়ে বিরল ও ভিন্ন প্রজাতির একাধিক সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধিরই ইঙ্গিত বহন করে।
ট্রলার মাঝি আসাদ বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এটি আমাদের জালে উঠে আসে। মাছটির রং ও গঠন অন্য মাছের চেয়ে আলাদা হওয়ায় বন্দরে আনার পর অনেক মানুষ দেখতে আসে।
মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, এত সুন্দর রঙের মাছ আগে কাছ থেকে দেখিনি। তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি, তবে মাছটি অনেক ছোট।
আরেক দর্শনার্থী মো. সোহেল মিয়া বলেন, কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণা করা প্রয়োজন।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, হলুদ সোনালি বাটা (Upeneus sulphureus) বা গোটফিশ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ, যা সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।
তিনি বলেন, থুতনির নিচে থাকা দুটি শুঁড় (barbels) ব্যবহার করে এটি সমুদ্রের তলদেশে বালি ও কাদা খুঁড়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ প্রক্রিয়ায় তলদেশের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছটি স্থানীয় বাজার ও শুঁটকি শিল্পে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর প্রোটিনেরও একটি ভালো উৎস।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, হলুদ সোনালি বাটা আমাদের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক, উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাছ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের প্রজাতির সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে হলুদ সোনালি বাটা (Yellow Goatfish) নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। মঙ্গলবার গভীর রাতে এফবি জারিফ-৪ ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এটি আলিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। মাছটি স্থানীয়দেয় কাছে সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।
জানা যায়, আসাদ মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিস গদিতে নিয়ে আসা হলে এর উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রঙ ও আকর্ষণীয় গঠনের কারণে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী, জেলে ও সাধারণ মানুষ মাছটি এক নজর দেখতে ভিড় করেন।
এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলের গভীর সমুদ্র থেকে বিভিন্ন সময়ে বিরল ও ভিন্ন প্রজাতির একাধিক সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধিরই ইঙ্গিত বহন করে।
ট্রলার মাঝি আসাদ বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এটি আমাদের জালে উঠে আসে। মাছটির রং ও গঠন অন্য মাছের চেয়ে আলাদা হওয়ায় বন্দরে আনার পর অনেক মানুষ দেখতে আসে।
মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, এত সুন্দর রঙের মাছ আগে কাছ থেকে দেখিনি। তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি, তবে মাছটি অনেক ছোট।
আরেক দর্শনার্থী মো. সোহেল মিয়া বলেন, কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণা করা প্রয়োজন।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, হলুদ সোনালি বাটা (Upeneus sulphureus) বা গোটফিশ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ, যা সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।
তিনি বলেন, থুতনির নিচে থাকা দুটি শুঁড় (barbels) ব্যবহার করে এটি সমুদ্রের তলদেশে বালি ও কাদা খুঁড়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ প্রক্রিয়ায় তলদেশের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছটি স্থানীয় বাজার ও শুঁটকি শিল্পে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর প্রোটিনেরও একটি ভালো উৎস।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, হলুদ সোনালি বাটা আমাদের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক, উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাছ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের প্রজাতির সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০৩
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৪
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৬
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৮