ছবি: বরিশালটাইমস
বরগুনার তালতলীতে চিরকুট লিখে মো. ফারুক হোসেন (৫২) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুক হোসেন ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামের রতন আলী গাজীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্য হিসেবে তালতলী থানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন শনিবার রাতের ডিউটি শেষ করে রোববার সকালে পুলিশ ব্যারাকে ফিরে যান। পরে ব্যারাকে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরে পুলিশ ব্যারাক থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিচ্ছি।
অযথা কাউকে হয়রানি না করা হয়। আর আমার অনুরোধ বাড়ীর কাছে দয়া করে জানাবেন যে, সে স্ট্রোক করে মৃত্যু বরণ করেছে। আমার ডেথ সার্টিফিকেটের সাথে পাঠাইয়া দিবে। বাড়ি জানালে কোথায় তারা আসবে নিশ্চিত করে জানাবে যাহাতে তারা হয়রানি না হয় এবং মহিলারা যাতে না আসে দয়া করে বলে দিবেন।’
চিরকুটে তিনি আরো লেখেন ‘আমার লাশ পুরান বাড়িতে দাফন করবে।
আমার স্ত্রীকে যেন আগে না জানায় তাহলে সে মারা যাবে।’ পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর কীভাবে জানাতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনাও উল্লেখ করেন।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সোহাগ বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেছেন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
আমতলী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো.তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রাতের ডিউটি শেষ করে সকালের দিকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন, চিরকুটে বিশেষ কিছু লেখা নেই, কেবল পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা লেখা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালটাইমস

০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৩
বরিশালে যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাহিন্দ্রার চালকসহ আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের নগরীর রূপাতলী-দপদপিয়া সেতুর ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহত ব্যক্তি মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন। তার নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ববি শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসির আরাফাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জুবায়ের জানান, পটুয়াখালী থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে মাহিন্দ্রাটি বরিশাল নগরীর রূপাতলীর দিকে আসছিল। দপদপিয়া সেতুর টোলঘরসংলগ্ন ঢাল অতিক্রম করার সময় রূপাতলী থেকে যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার দিকে যাওয়া বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্রাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাহিন্দ্রার চালক ও পাঁচ যাত্রী আহত হন।
পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল চন্দ্র শীল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৯
বরিশাল শহরের সাপানিয়া এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি টিম শনিবার সন্ধ্যা রাতে শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের সাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান সৈকতের (৩২) মালিকানাধীন ঘেরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করাসহ মো. মেহেদী হাসান (২৫) এবং মো. আব্দুর রহমানকে (২৫) আটকে সফলতা পায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই মূলহোতা ঘের মালিক সৈকত পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিহ্নিত অপরাধী সৈকতের ঘেরে হানা দেওয়া হয়। এসময় সৈকত পালিয়ে গেলেও তার দুই সহযোগী মেহেদী হাসান এবং আব্দুর রহমানকে আটকে সফলতা মেলে। এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টিনের বসতঘরের অভ্যন্তরে থাকা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে দুটি ধারালো ছোড়া, একটি হাসুয়া, দুটি ডেগার, পাঁচটি রামদা ও দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ মোট ১৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আটক মেহেদী হাসান কাউনিয়া থানার নগরের পোল এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে এবং আব্দুর রহমান ভাটিখানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মৃধার পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সাপানিয়ার বাসিন্দা সৈকত তার মালিকানাধীন ঘেরটিকে একটি সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। সন্ধ্যা হলে সেখানে মাদকের আসর বসত এবং মাঝেমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সি সন্ত্রাসীদের দেখা যেত। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কানাঘুষা চললেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না। আবার কেউ কেউ সৈকতের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেইজ্জতিও হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী সৈকতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৪টি মামলা চলমান আছে, যা আদালতে বিচারাধীন। এই সন্ত্রাসী সেসব মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন এবং তার অপরাধকর্ম চলমান ছিল।
সন্ধ্যা রাতে ঘেরে আসর বসানোর বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে কাউনিয়া পুলিশ যুবকের অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান লাভ করে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ নাথ বরিশালটাইমসকে জানান, বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এসময় সহযোগী দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হলেও পালিয়ে যান মূলহোতা ঘের মালিক সৈকত। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে, জানান ওসি।’

০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:২৩
বরিশাল নগরীতে যে মাদকের বিস্তার ঘটেছে তা খোদ নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ নিজেও অনুমান করতে পেরেছেন। এবং এই মাদকের ভয়াবহতা রুখে দিতে তিনি এক ধরনের জিহাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কর্মস্থলে যোগদান পরবর্তী সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় বরিশাল শহরের মাদক ইস্যুটি নিয়ে এই শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা খোলামেলা আলোচনা করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মীরা অংশ নেন।
নয়া পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমি আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাই। আজ আপনারা যেভাবে আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, এই সহযোগিতা যেন ভবিষ্যতে আরও বাড়ে, কমে না সেটাই প্রত্যাশা করি।
পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলে পুলিশি কার্যক্রম আরও সহজ হবে। এবং জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদা পূরণ করা সহজতর হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরফুদ্দিন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।’

১৪ জুন, ২০২৬ ১৫:১৯
বরগুনার তালতলীতে চিরকুট লিখে মো. ফারুক হোসেন (৫২) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুক হোসেন ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামের রতন আলী গাজীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্য হিসেবে তালতলী থানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন শনিবার রাতের ডিউটি শেষ করে রোববার সকালে পুলিশ ব্যারাকে ফিরে যান। পরে ব্যারাকে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরে পুলিশ ব্যারাক থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিচ্ছি।
অযথা কাউকে হয়রানি না করা হয়। আর আমার অনুরোধ বাড়ীর কাছে দয়া করে জানাবেন যে, সে স্ট্রোক করে মৃত্যু বরণ করেছে। আমার ডেথ সার্টিফিকেটের সাথে পাঠাইয়া দিবে। বাড়ি জানালে কোথায় তারা আসবে নিশ্চিত করে জানাবে যাহাতে তারা হয়রানি না হয় এবং মহিলারা যাতে না আসে দয়া করে বলে দিবেন।’
চিরকুটে তিনি আরো লেখেন ‘আমার লাশ পুরান বাড়িতে দাফন করবে।
আমার স্ত্রীকে যেন আগে না জানায় তাহলে সে মারা যাবে।’ পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর কীভাবে জানাতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনাও উল্লেখ করেন।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সোহাগ বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেছেন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
আমতলী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো.তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রাতের ডিউটি শেষ করে সকালের দিকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন, চিরকুটে বিশেষ কিছু লেখা নেই, কেবল পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা লেখা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালটাইমস
বরিশালে যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাহিন্দ্রার চালকসহ আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের নগরীর রূপাতলী-দপদপিয়া সেতুর ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহত ব্যক্তি মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন। তার নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ববি শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসির আরাফাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জুবায়ের জানান, পটুয়াখালী থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে মাহিন্দ্রাটি বরিশাল নগরীর রূপাতলীর দিকে আসছিল। দপদপিয়া সেতুর টোলঘরসংলগ্ন ঢাল অতিক্রম করার সময় রূপাতলী থেকে যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার দিকে যাওয়া বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্রাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাহিন্দ্রার চালক ও পাঁচ যাত্রী আহত হন।
পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল চন্দ্র শীল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল শহরের সাপানিয়া এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি টিম শনিবার সন্ধ্যা রাতে শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের সাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান সৈকতের (৩২) মালিকানাধীন ঘেরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করাসহ মো. মেহেদী হাসান (২৫) এবং মো. আব্দুর রহমানকে (২৫) আটকে সফলতা পায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই মূলহোতা ঘের মালিক সৈকত পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিহ্নিত অপরাধী সৈকতের ঘেরে হানা দেওয়া হয়। এসময় সৈকত পালিয়ে গেলেও তার দুই সহযোগী মেহেদী হাসান এবং আব্দুর রহমানকে আটকে সফলতা মেলে। এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টিনের বসতঘরের অভ্যন্তরে থাকা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে দুটি ধারালো ছোড়া, একটি হাসুয়া, দুটি ডেগার, পাঁচটি রামদা ও দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ মোট ১৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আটক মেহেদী হাসান কাউনিয়া থানার নগরের পোল এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে এবং আব্দুর রহমান ভাটিখানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মৃধার পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সাপানিয়ার বাসিন্দা সৈকত তার মালিকানাধীন ঘেরটিকে একটি সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। সন্ধ্যা হলে সেখানে মাদকের আসর বসত এবং মাঝেমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সি সন্ত্রাসীদের দেখা যেত। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কানাঘুষা চললেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না। আবার কেউ কেউ সৈকতের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেইজ্জতিও হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী সৈকতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৪টি মামলা চলমান আছে, যা আদালতে বিচারাধীন। এই সন্ত্রাসী সেসব মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন এবং তার অপরাধকর্ম চলমান ছিল।
সন্ধ্যা রাতে ঘেরে আসর বসানোর বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে কাউনিয়া পুলিশ যুবকের অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান লাভ করে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ নাথ বরিশালটাইমসকে জানান, বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এসময় সহযোগী দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হলেও পালিয়ে যান মূলহোতা ঘের মালিক সৈকত। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে, জানান ওসি।’
বরিশাল নগরীতে যে মাদকের বিস্তার ঘটেছে তা খোদ নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ নিজেও অনুমান করতে পেরেছেন। এবং এই মাদকের ভয়াবহতা রুখে দিতে তিনি এক ধরনের জিহাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কর্মস্থলে যোগদান পরবর্তী সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় বরিশাল শহরের মাদক ইস্যুটি নিয়ে এই শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা খোলামেলা আলোচনা করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মীরা অংশ নেন।
নয়া পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে পুলিশ কমিশনার বলেন, আমি আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাই। আজ আপনারা যেভাবে আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, এই সহযোগিতা যেন ভবিষ্যতে আরও বাড়ে, কমে না সেটাই প্রত্যাশা করি।
পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলে পুলিশি কার্যক্রম আরও সহজ হবে। এবং জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদা পূরণ করা সহজতর হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরফুদ্দিন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।’
১২ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০৩
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৪
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৬
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২৮