দেশবাসীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ চালুর পরে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী ভাটা দেখা দেয় এবং ক্রমাগত লোকসানের মুখে বেশ কয়েকজন মালিক তাদের লঞ্চ বন্ধ রাখেন। বর্তমানে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে রোটেশন করে দুটি বিলাসবহুল নৌযান সেবায় নিয়োজিত থাকলেও সংখ্যাগত দিক থেকে যাত্রী কম হওয়ায় লঞ্চের স্টাফ বিল-জ্বালানি খরচ পোষানো যাচ্ছে না। একাধিক মালিক যাত্রীসংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের নৌযান ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী নেই এবং যেখানে বিলাসবহুল পরিবহনের সত্ত্বাধিকারীরা প্রতিদিন লোকসান গুণছেন জেনেও এই রুটে ১৫০ বছরের পুরানো স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চলতি মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে যাত্রীসাধারণকে ভোগানোর পাশাপাশি অতীতের ন্যায় লোকসানে একটি নতুন ক্ষেত্রে তৈরি করতে যাচ্ছে কী না তা নিয়ে লঞ্চ মালিকদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬/৭ টি লঞ্চ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল, এমনকি দুটি ঈদের আগে পরে বেশকিছু দিন ১০/১২ টি করেও চলেছে। এই সময়ে দুপুরের পর থেকে নৌবন্দর যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত। ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতুটি যান চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সপ্তাহখানের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। লোকসান কমাতে গত বছর রোটেশন করে ২/৩ টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কোনো অবস্থায় মালিকদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না। ফলে একে একে বেশ কয়েকটি লঞ্চ আর্থিক দৈন্যতার মুখে যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে সম্ভব্য লোকশানের বিষয়টি সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওয়াকিবহাল থাকলেও শক্তিহীন স্টিমার মাহসুদকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীসেবায় যুক্ত করা বড় ধরনের বোকামি মনে করা হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে লোকসানতো গুণতে হবে! পাশাপাশি যাত্রী সাধারণকেও ভুগতে হবে। কারণ, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা স্টিমারটি বর্তমানে একদম বলহীন। তাছাড়া এই নৌযানটি অতীতে অসংখ্যবার মাঝনদীতে বিকল হয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় ফেলার একাধিক উদাহরণ রয়েছে, যা নিয়ে অনেকে তিক্ত-বিরক্ত।
লক্কর-ঝক্কর নৌযান মাহসুদ বর্তমানে রঙচঙে এসে অতীত ঐতিহ্য বহন করলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাপথে স্টিমারটির ধীরগতিতে চলা এবং লঞ্চগুলোর তুলনায় বিলম্বে গন্তব্যে পৌছানো নিয়ে আগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যেতো। তবে নতুন আঙ্গিকে আসার আগেই ব্যয় ও যাত্রী বিবেচনায় স্টিমারটিকে পর্যটক সার্ভিস হিসেবে সপ্তাহে একদিন শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে প্রমোদভ্রমণের জন্য ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেড়শ বছরের রোগাক্রান্ত মাহসুদ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সেবা দিতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টিমারটি বিভিন্ন সময়ে মাঝনদীতে বহুবার বিকল হয়ে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেয়। গত মে মাসে বরিশাল সফরকালে সেই ইতিহাস আবার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। এর পর থেকে বরিশালবাসী অধীর আগ্রহে ঐতিহ্যবাহী এই জলযান চালুর অপেক্ষা করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত কয়লাচালিত প্যাডেল স্টিমার প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও পরে ঢাকা থেকে খুলনার নৌপথে চলাচল করত। পথে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, মোরেলগঞ্জ, হুলারহাট, সন্ন্যাসী, কাউখালী ঘাটে যাত্রাবিরতি দিত। ঔপনিবেশিক সময়ে খুলনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ শুরু হলে নৌপথে যাত্রী পরিবহন গুরুত্ব পায়। তখন বহরে ছিল ফ্লোটিলা কোম্পানির ১৪টি স্টিমার। পরে পিএস গাজী, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস টার্ন, পিএস সেলার মতো ঐতিহ্যবাহী স্টিমারের সংযোজিত হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী ও নাব্যতাসংকটে ২০১৯ সাল থেকে স্টিমার চলাচল সীমিত হয়ে যায়। খুলনার বদলে যাত্রা থেমে যায় মোরেলগঞ্জে। সর্বশেষ এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-মোরেলগঞ্জ নৌপথে চলাচল করলেও শেষ যাত্রাটি ছিল ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। স্টিমারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তৎসময়ে লোকসান উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন নতুন করে সপ্তাহে একদিন স্টিমার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বরিশালবাসী সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জলযানটি প্রতিদিন যাত্রীসেবায় নিয়োজিত রাখার দাবি তুলেছে, যা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, শত বছরের পুরোনো স্টিমারগুলো এখন অনেকটা শক্তিহীন, মেরামত করে পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও আগের শক্তিতে ফিরতে পারবে না। তাছাড়া এসব স্টিমারে যাত্রা সময়সাপেক্ষ। যাত্রীদের অবারিত সময় না থাকলে স্টিমারে উঠতে চাইবেন না। ফলশ্রুতিতে ব্যয় পোষানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে, সরকারকে লোকসান গুণতে হবে। সুতরাং ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুরূপ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান। এই কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে দুটি স্টিমারের পুনর্বাসনকাজ শেষ হয়েছে, ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সাজসজ্জার কিছু কাজ বাকি, এখন সেগুলো চলছে। এরপর সার্ভেসহ অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি স্টিমার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যুক্ত হবে। এবং আপাতত একটি স্টিমার সপ্তাহে এক দিন শুক্রবার যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে কেউ ভাড়া নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যেখানে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো যাত্রীসংকটে ধুকছে সেখানে স্টিমারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জনগণের অর্থ নদীতে ঢালতে যাচ্ছে কী না তা নিয়েও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানান আলোচনায় শোনা যায়। এনিয়ে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য না করলেও লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে সপ্তাহে দুদিন শুক্র-শনিবার কিছু যাত্রী হয়। যাত্রীরা সাধারণত সেবার মান বিবেচনা করেন এবং নিরাপদ ভ্রমণ করতে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোকে বেচে নেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দুর্বলগতির স্টিমার মাহসুদ নতুন আঙ্গিকে এসে বিলাসবহুল এমভি এম খান, সুরভী, সুন্দরবনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে কী না সেটা দেখার বিষয়।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

১১ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:৫০
দেশবাসীর স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’ চালুর পরে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী ভাটা দেখা দেয় এবং ক্রমাগত লোকসানের মুখে বেশ কয়েকজন মালিক তাদের লঞ্চ বন্ধ রাখেন। বর্তমানে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে রোটেশন করে দুটি বিলাসবহুল নৌযান সেবায় নিয়োজিত থাকলেও সংখ্যাগত দিক থেকে যাত্রী কম হওয়ায় লঞ্চের স্টাফ বিল-জ্বালানি খরচ পোষানো যাচ্ছে না। একাধিক মালিক যাত্রীসংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের নৌযান ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রী নেই এবং যেখানে বিলাসবহুল পরিবহনের সত্ত্বাধিকারীরা প্রতিদিন লোকসান গুণছেন জেনেও এই রুটে ১৫০ বছরের পুরানো স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চলতি মাসে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে যাত্রীসাধারণকে ভোগানোর পাশাপাশি অতীতের ন্যায় লোকসানে একটি নতুন ক্ষেত্রে তৈরি করতে যাচ্ছে কী না তা নিয়ে লঞ্চ মালিকদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।
লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬/৭ টি লঞ্চ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল, এমনকি দুটি ঈদের আগে পরে বেশকিছু দিন ১০/১২ টি করেও চলেছে। এই সময়ে দুপুরের পর থেকে নৌবন্দর যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত। ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতুটি যান চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সপ্তাহখানের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। লোকসান কমাতে গত বছর রোটেশন করে ২/৩ টি লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কোনো অবস্থায় মালিকদের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে না। ফলে একে একে বেশ কয়েকটি লঞ্চ আর্থিক দৈন্যতার মুখে যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে সম্ভব্য লোকশানের বিষয়টি সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওয়াকিবহাল থাকলেও শক্তিহীন স্টিমার মাহসুদকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীসেবায় যুক্ত করা বড় ধরনের বোকামি মনে করা হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে লোকসানতো গুণতে হবে! পাশাপাশি যাত্রী সাধারণকেও ভুগতে হবে। কারণ, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা স্টিমারটি বর্তমানে একদম বলহীন। তাছাড়া এই নৌযানটি অতীতে অসংখ্যবার মাঝনদীতে বিকল হয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনায় ফেলার একাধিক উদাহরণ রয়েছে, যা নিয়ে অনেকে তিক্ত-বিরক্ত।
লক্কর-ঝক্কর নৌযান মাহসুদ বর্তমানে রঙচঙে এসে অতীত ঐতিহ্য বহন করলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাপথে স্টিমারটির ধীরগতিতে চলা এবং লঞ্চগুলোর তুলনায় বিলম্বে গন্তব্যে পৌছানো নিয়ে আগে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যেতো। তবে নতুন আঙ্গিকে আসার আগেই ব্যয় ও যাত্রী বিবেচনায় স্টিমারটিকে পর্যটক সার্ভিস হিসেবে সপ্তাহে একদিন শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে প্রমোদভ্রমণের জন্য ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেড়শ বছরের রোগাক্রান্ত মাহসুদ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সেবা দিতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্টিমারটি বিভিন্ন সময়ে মাঝনদীতে বহুবার বিকল হয়ে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেয়। গত মে মাসে বরিশাল সফরকালে সেই ইতিহাস আবার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। এর পর থেকে বরিশালবাসী অধীর আগ্রহে ঐতিহ্যবাহী এই জলযান চালুর অপেক্ষা করছেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত কয়লাচালিত প্যাডেল স্টিমার প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও পরে ঢাকা থেকে খুলনার নৌপথে চলাচল করত। পথে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, মোরেলগঞ্জ, হুলারহাট, সন্ন্যাসী, কাউখালী ঘাটে যাত্রাবিরতি দিত। ঔপনিবেশিক সময়ে খুলনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ শুরু হলে নৌপথে যাত্রী পরিবহন গুরুত্ব পায়। তখন বহরে ছিল ফ্লোটিলা কোম্পানির ১৪টি স্টিমার। পরে পিএস গাজী, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস টার্ন, পিএস সেলার মতো ঐতিহ্যবাহী স্টিমারের সংযোজিত হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী ও নাব্যতাসংকটে ২০১৯ সাল থেকে স্টিমার চলাচল সীমিত হয়ে যায়। খুলনার বদলে যাত্রা থেমে যায় মোরেলগঞ্জে। সর্বশেষ এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-মোরেলগঞ্জ নৌপথে চলাচল করলেও শেষ যাত্রাটি ছিল ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। স্টিমারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তৎসময়ে লোকসান উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন নতুন করে সপ্তাহে একদিন স্টিমার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বরিশালবাসী সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জলযানটি প্রতিদিন যাত্রীসেবায় নিয়োজিত রাখার দাবি তুলেছে, যা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, শত বছরের পুরোনো স্টিমারগুলো এখন অনেকটা শক্তিহীন, মেরামত করে পরিচালনার উদ্যোগ নিলেও আগের শক্তিতে ফিরতে পারবে না। তাছাড়া এসব স্টিমারে যাত্রা সময়সাপেক্ষ। যাত্রীদের অবারিত সময় না থাকলে স্টিমারে উঠতে চাইবেন না। ফলশ্রুতিতে ব্যয় পোষানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে, সরকারকে লোকসান গুণতে হবে। সুতরাং ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুরূপ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান। এই কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে দুটি স্টিমারের পুনর্বাসনকাজ শেষ হয়েছে, ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পানিতে চালানো হয়েছে। সাজসজ্জার কিছু কাজ বাকি, এখন সেগুলো চলছে। এরপর সার্ভেসহ অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি স্টিমার ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যুক্ত হবে। এবং আপাতত একটি স্টিমার সপ্তাহে এক দিন শুক্রবার যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশে কেউ ভাড়া নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে সেই সুযোগ রাখা হবে।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যেখানে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো যাত্রীসংকটে ধুকছে সেখানে স্টিমারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জনগণের অর্থ নদীতে ঢালতে যাচ্ছে কী না তা নিয়েও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানান আলোচনায় শোনা যায়। এনিয়ে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য না করলেও লঞ্চ মালিকেরা বলছেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে সপ্তাহে দুদিন শুক্র-শনিবার কিছু যাত্রী হয়। যাত্রীরা সাধারণত সেবার মান বিবেচনা করেন এবং নিরাপদ ভ্রমণ করতে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোকে বেচে নেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দুর্বলগতির স্টিমার মাহসুদ নতুন আঙ্গিকে এসে বিলাসবহুল এমভি এম খান, সুরভী, সুন্দরবনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে কী না সেটা দেখার বিষয়।’
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৫
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬