
২৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৭
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে এখন যেন অন্য এক জগতে। সাধারণ বন্দিদের মতো কষ্ট নয়, তারা ডিভিশন পেয়ে বসে বসে চা পান করছেন, পা দুলিয়ে পড়ছেন জাতীয় পত্রিকা, খাচ্ছেন আলাদাভাবে রান্না করা বাড়তি খাবারও।
গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েও কারাগারে তাদের এমন ভিআইপি সুবিধা কতটা যৌক্তিক, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এমন তথ্য পাওয়ার পর অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের এসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তারা ভিআইপি হিসেবে যদি ডিভিশন পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদের অপরাধ অনুযায়ী এ সুবিধা কতটুকু প্রাসঙ্গিক তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) কারা সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত এই বিশেষ কারাগারটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্থাপনা, যা ছিল নারীদের জন্য। আনুমানিক পাঁচ বছর যাবত খালি পড়ে থাকা কারাগারটি এখন বিশেষ কারাগার হিসেবে ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি সংখ্যা ১৩৭। এদের মধ্যে কয়েদি সংখ্যা ৭২, অর্থাৎ তাদের মামলার রায় হয়েছে এবং তারা সাজা খাটছেন। বিশেষ বন্দি রয়েছেন ৬৫ জন, তাদের মধ্যে ৫৫ জন আবার ডিভিশনপ্রাপ্ত। তাদের দেখভাল ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়তার জন্য ওই ৭২ জন সাধারণ কয়েদি নিয়োজিত।
কারাগার সম্পর্কিত একটি সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের এই বিশেষ কারাগারটির ব্যবহার প্রথমে ছিল অন্য রকম। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী-নেতারা খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারটি ধোয়া-মোছার নাম করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের হুমকি দিতেন। এমনকি সাবেক আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন— ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে আবার কারাগারে ঢুকিয়ে দেব। ’ তার সেই বক্তব্যের পরপরই তৎকালীন কারা কর্তৃপক্ষ ওই খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারে ধোয়া-মোছার কাজ শুরু করে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই নারী কারাগার আজ রূপান্তরিত হয়েছে বিশেষ কারাগারে যেখানে বন্দি রাখা হয়েছে আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের। সেখানে ডিভিশনপ্রাপ্তরা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী; সাবেক হওয়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
ওই সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে হাজতি বা কয়েদিদের ডিভিশনের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশের পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (ডিসি) কাছে আবেদন ও আদেশের কপি পাঠানো হয়। তিনি সরকারের পক্ষে, বন্দি কোন শ্রেণির ডিভিশন পাবেন সেই সিদ্ধান্ত দেন। কাগজ-কলমে নির্দেশনা মোতাবেক কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
যেমন সাধারণ বন্দিদের খাবারের মান এবং ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের খাবারের মান প্রায় কাছাকাছি হলেও স্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য সাধারণ বন্দিদের তুলনায় উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হয়, পরিমাণেও থাকে বেশি। তাদের জন্য আলাদা রান্নার ব্যবস্থাও থাকে।
সাধারণ বন্দিদের সকালের খাবারে দেওয়া হয় রুটি, সবজি ও গুড়। দুপুরে থাকে ভাত, ডাল ও সবজি। আর রাতে পরিবেশন করা হয় ভাত, ডাল, সঙ্গে মাছ বা মাংস। তবে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী খাবারের তালিকায় আলাদা আয়োজন থাকে।
যেমন, তাদের জন্য মাছ-মাংসের রান্নার ধরন আলাদা হয়, পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিরা দুপুর ও রাতে প্রতিবারই ১৫০ গ্রাম করে মাছ বা মাংস পান, অথচ সাধারণ বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩৬ গ্রাম।
আবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যায়। সাধারণ বন্দিদের নির্দিষ্ট ভবনের ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। সেখানে পাকা ফ্লোরে কম্বল বিছিয়েই রাত কাটাতে হয় তাদের। অন্যদিকে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে আলাদা কক্ষ।
কেউ একা বা সর্বোচ্চ কয়েকজন মিলে সেখানে থাকতে পারেন। ঘরে থাকে খাট, একটি ম্যাট্রেস, দুটি চাদর, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল। প্রতিদিন তাদের জন্য একটি পত্রিকা সরবরাহ করা হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় দুধ-চিনি মেশানো চা।
ডিভিশন সুবিধার ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কারাগারে আদালতের নির্দেশে সাজাপ্রাপ্ত কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামিদের মধ্যে অনেকেই তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থানের ভিত্তিতে ডিভিশন-সুবিধা পান। তবে বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত সবার সুবিধা এক রকম নয়। কারা কোন ক্যাটাগরিতে পড়বেন এবং কী ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন— সেটি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা কোনো অধ্যাপক পাবেন না। যদিও দুজনই নিয়ম অনুযায়ী ডিভিশন সুবিধাভুক্ত বন্দি হিসেবে গণ্য হবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার তার নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে আবু সাইদ, মুগ্ধসহ অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার প্রধানসহ সাবেক ও তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীরা এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে যায়। পরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় মামলা হলে অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার হয়।
বর্তমানে তারা কেরানীগঞ্জ কারাগারে চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি থাকলেও ডিভিশন অনুযায়ী উন্নতমানের খাবার ও বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে। এখন প্রশ্ন হলোতারা যদি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ডিভিশন পেয়ে থাকে, তবে তা কতটা যৌক্তিক? কারণ, তারা কেউ কেউ নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী-এমপি বা শিল্পপতি ভিআইপি পরিচয়ে ডিভিশন পেলেও, মামলার প্রেক্ষাপটে তো তারা গণহত্যার আসামি। ’
তৌহিদুল হক আরও বলেন, ‘মামলা অনুযায়ী তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, অর্থাৎ গণহত্যাকারী। তাদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা আসলে ডিভিশন সুবিধা কারা পাচ্ছে এবং তা কতটা ন্যায্য। ’
এ বিষয়ে কারা মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বিশেষ বন্দিদের নিয়ম অনুযায়ী কিছুটা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিভিশনপ্রাপ্তদের কি কি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার সেটি জেল বিধিতে উল্লেখ আছে। তাদের সেভাবেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে এখন যেন অন্য এক জগতে। সাধারণ বন্দিদের মতো কষ্ট নয়, তারা ডিভিশন পেয়ে বসে বসে চা পান করছেন, পা দুলিয়ে পড়ছেন জাতীয় পত্রিকা, খাচ্ছেন আলাদাভাবে রান্না করা বাড়তি খাবারও।
গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েও কারাগারে তাদের এমন ভিআইপি সুবিধা কতটা যৌক্তিক, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এমন তথ্য পাওয়ার পর অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের এসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তারা ভিআইপি হিসেবে যদি ডিভিশন পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদের অপরাধ অনুযায়ী এ সুবিধা কতটুকু প্রাসঙ্গিক তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) কারা সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত এই বিশেষ কারাগারটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্থাপনা, যা ছিল নারীদের জন্য। আনুমানিক পাঁচ বছর যাবত খালি পড়ে থাকা কারাগারটি এখন বিশেষ কারাগার হিসেবে ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি সংখ্যা ১৩৭। এদের মধ্যে কয়েদি সংখ্যা ৭২, অর্থাৎ তাদের মামলার রায় হয়েছে এবং তারা সাজা খাটছেন। বিশেষ বন্দি রয়েছেন ৬৫ জন, তাদের মধ্যে ৫৫ জন আবার ডিভিশনপ্রাপ্ত। তাদের দেখভাল ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়তার জন্য ওই ৭২ জন সাধারণ কয়েদি নিয়োজিত।
কারাগার সম্পর্কিত একটি সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের এই বিশেষ কারাগারটির ব্যবহার প্রথমে ছিল অন্য রকম। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী-নেতারা খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারটি ধোয়া-মোছার নাম করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের হুমকি দিতেন। এমনকি সাবেক আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন— ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে আবার কারাগারে ঢুকিয়ে দেব। ’ তার সেই বক্তব্যের পরপরই তৎকালীন কারা কর্তৃপক্ষ ওই খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারে ধোয়া-মোছার কাজ শুরু করে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই নারী কারাগার আজ রূপান্তরিত হয়েছে বিশেষ কারাগারে যেখানে বন্দি রাখা হয়েছে আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের। সেখানে ডিভিশনপ্রাপ্তরা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী; সাবেক হওয়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
ওই সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে হাজতি বা কয়েদিদের ডিভিশনের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশের পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (ডিসি) কাছে আবেদন ও আদেশের কপি পাঠানো হয়। তিনি সরকারের পক্ষে, বন্দি কোন শ্রেণির ডিভিশন পাবেন সেই সিদ্ধান্ত দেন। কাগজ-কলমে নির্দেশনা মোতাবেক কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
যেমন সাধারণ বন্দিদের খাবারের মান এবং ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের খাবারের মান প্রায় কাছাকাছি হলেও স্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য সাধারণ বন্দিদের তুলনায় উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হয়, পরিমাণেও থাকে বেশি। তাদের জন্য আলাদা রান্নার ব্যবস্থাও থাকে।
সাধারণ বন্দিদের সকালের খাবারে দেওয়া হয় রুটি, সবজি ও গুড়। দুপুরে থাকে ভাত, ডাল ও সবজি। আর রাতে পরিবেশন করা হয় ভাত, ডাল, সঙ্গে মাছ বা মাংস। তবে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী খাবারের তালিকায় আলাদা আয়োজন থাকে।
যেমন, তাদের জন্য মাছ-মাংসের রান্নার ধরন আলাদা হয়, পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিরা দুপুর ও রাতে প্রতিবারই ১৫০ গ্রাম করে মাছ বা মাংস পান, অথচ সাধারণ বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩৬ গ্রাম।
আবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যায়। সাধারণ বন্দিদের নির্দিষ্ট ভবনের ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। সেখানে পাকা ফ্লোরে কম্বল বিছিয়েই রাত কাটাতে হয় তাদের। অন্যদিকে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে আলাদা কক্ষ।
কেউ একা বা সর্বোচ্চ কয়েকজন মিলে সেখানে থাকতে পারেন। ঘরে থাকে খাট, একটি ম্যাট্রেস, দুটি চাদর, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল। প্রতিদিন তাদের জন্য একটি পত্রিকা সরবরাহ করা হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় দুধ-চিনি মেশানো চা।
ডিভিশন সুবিধার ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কারাগারে আদালতের নির্দেশে সাজাপ্রাপ্ত কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামিদের মধ্যে অনেকেই তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থানের ভিত্তিতে ডিভিশন-সুবিধা পান। তবে বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত সবার সুবিধা এক রকম নয়। কারা কোন ক্যাটাগরিতে পড়বেন এবং কী ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন— সেটি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা কোনো অধ্যাপক পাবেন না। যদিও দুজনই নিয়ম অনুযায়ী ডিভিশন সুবিধাভুক্ত বন্দি হিসেবে গণ্য হবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার তার নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে আবু সাইদ, মুগ্ধসহ অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার প্রধানসহ সাবেক ও তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীরা এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে যায়। পরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় মামলা হলে অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার হয়।
বর্তমানে তারা কেরানীগঞ্জ কারাগারে চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি থাকলেও ডিভিশন অনুযায়ী উন্নতমানের খাবার ও বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে। এখন প্রশ্ন হলোতারা যদি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ডিভিশন পেয়ে থাকে, তবে তা কতটা যৌক্তিক? কারণ, তারা কেউ কেউ নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী-এমপি বা শিল্পপতি ভিআইপি পরিচয়ে ডিভিশন পেলেও, মামলার প্রেক্ষাপটে তো তারা গণহত্যার আসামি। ’
তৌহিদুল হক আরও বলেন, ‘মামলা অনুযায়ী তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, অর্থাৎ গণহত্যাকারী। তাদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা আসলে ডিভিশন সুবিধা কারা পাচ্ছে এবং তা কতটা ন্যায্য। ’
এ বিষয়ে কারা মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বিশেষ বন্দিদের নিয়ম অনুযায়ী কিছুটা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিভিশনপ্রাপ্তদের কি কি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার সেটি জেল বিধিতে উল্লেখ আছে। তাদের সেভাবেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:০৩
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:৪৮
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৩৭
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫২

২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪৬
‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কিনা—সেই চিন্তা আমাদের করতে হবে।
তাদের যে অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রতিফলিত হয়েছে। জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে এই নির্বাচন স্বীকৃত।
দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়ে জামাত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয় বরং এটি সুস্থ চিন্তার পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য বিএনপি কেবল প্রত্যাখ্যানই করছে না বরং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ পেয়েছি, একটি বিশেষ পক্ষ বারবার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করতে চাইছে। তারা দেশকে আবারও স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে চায় কি না, তা দেশবাসীকে ভেবে দেখতে হবে।’
‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কিনা—সেই চিন্তা আমাদের করতে হবে।
তাদের যে অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রতিফলিত হয়েছে। জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে এই নির্বাচন স্বীকৃত।
দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়ে জামাত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয় বরং এটি সুস্থ চিন্তার পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য বিএনপি কেবল প্রত্যাখ্যানই করছে না বরং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ পেয়েছি, একটি বিশেষ পক্ষ বারবার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করতে চাইছে। তারা দেশকে আবারও স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে চায় কি না, তা দেশবাসীকে ভেবে দেখতে হবে।’

২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪০
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, জনপ্রিয় সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা দলটিতে যোগ দেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
সূত্রে জানা গেছে, ইসহাক সরকারকে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এই লক্ষ্যে বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
ইসহাক সরকার ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি তিন শতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে তিনি খালাসও পান।
সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসহাক সরকার। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
একই অনুষ্ঠানে এনসিপিতে যোগ দেয়া মহিউদ্দিন রনি রেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। অন্যদিকে নুরুজ্জামান কাফি তার জনপ্রিয় সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিত মুখ। নতুন রাজনৈতিক এই প্ল্যাটফর্মে তাদের অন্তর্ভুক্তি এনসিপিকে আরও চাঙা করবে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।’
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, জনপ্রিয় সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা দলটিতে যোগ দেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
সূত্রে জানা গেছে, ইসহাক সরকারকে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এই লক্ষ্যে বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
ইসহাক সরকার ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি তিন শতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে তিনি খালাসও পান।
সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসহাক সরকার। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
একই অনুষ্ঠানে এনসিপিতে যোগ দেয়া মহিউদ্দিন রনি রেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। অন্যদিকে নুরুজ্জামান কাফি তার জনপ্রিয় সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিত মুখ। নতুন রাজনৈতিক এই প্ল্যাটফর্মে তাদের অন্তর্ভুক্তি এনসিপিকে আরও চাঙা করবে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।’

২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩৯
তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম ও তার শিশু সন্তান জামিন পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। এদিকে ওই নেত্রীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিতে তার সহকর্মীরা সকাল থেকেই কারাগার ফটকে অপেক্ষা করেন৷
তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি আমাদের এলাকার বড় বোন। একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছিল, তা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারের কারণে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন দেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
কারা ফটকে শিল্পী বেগম বলেন, আমাকে পুলিশ ধরতে চায়নি, বিএনপির লোকজন আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু কোনো পদ-পদবি নেই৷ আমাকে মুক্তি দিয়েছে এজন্য আমি আইনের প্রতি কৃতজ্ঞ৷
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে মঙ্গলবার রাতে শিল্পী বেগম তার দেড় মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।
তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম ও তার শিশু সন্তান জামিন পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। এদিকে ওই নেত্রীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিতে তার সহকর্মীরা সকাল থেকেই কারাগার ফটকে অপেক্ষা করেন৷
তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি আমাদের এলাকার বড় বোন। একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছিল, তা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারের কারণে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন দেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
কারা ফটকে শিল্পী বেগম বলেন, আমাকে পুলিশ ধরতে চায়নি, বিএনপির লোকজন আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু কোনো পদ-পদবি নেই৷ আমাকে মুক্তি দিয়েছে এজন্য আমি আইনের প্রতি কৃতজ্ঞ৷
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে মঙ্গলবার রাতে শিল্পী বেগম তার দেড় মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.