২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে এখন যেন অন্য এক জগতে। সাধারণ বন্দিদের মতো কষ্ট নয়, তারা ডিভিশন পেয়ে বসে বসে চা পান করছেন, পা দুলিয়ে পড়ছেন জাতীয় পত্রিকা, খাচ্ছেন আলাদাভাবে রান্না করা বাড়তি খাবারও।
গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েও কারাগারে তাদের এমন ভিআইপি সুবিধা কতটা যৌক্তিক, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এমন তথ্য পাওয়ার পর অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের এসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তারা ভিআইপি হিসেবে যদি ডিভিশন পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদের অপরাধ অনুযায়ী এ সুবিধা কতটুকু প্রাসঙ্গিক তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) কারা সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত এই বিশেষ কারাগারটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্থাপনা, যা ছিল নারীদের জন্য। আনুমানিক পাঁচ বছর যাবত খালি পড়ে থাকা কারাগারটি এখন বিশেষ কারাগার হিসেবে ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি সংখ্যা ১৩৭। এদের মধ্যে কয়েদি সংখ্যা ৭২, অর্থাৎ তাদের মামলার রায় হয়েছে এবং তারা সাজা খাটছেন। বিশেষ বন্দি রয়েছেন ৬৫ জন, তাদের মধ্যে ৫৫ জন আবার ডিভিশনপ্রাপ্ত। তাদের দেখভাল ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়তার জন্য ওই ৭২ জন সাধারণ কয়েদি নিয়োজিত।
কারাগার সম্পর্কিত একটি সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের এই বিশেষ কারাগারটির ব্যবহার প্রথমে ছিল অন্য রকম। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী-নেতারা খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারটি ধোয়া-মোছার নাম করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের হুমকি দিতেন। এমনকি সাবেক আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন— ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে আবার কারাগারে ঢুকিয়ে দেব। ’ তার সেই বক্তব্যের পরপরই তৎকালীন কারা কর্তৃপক্ষ ওই খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারে ধোয়া-মোছার কাজ শুরু করে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই নারী কারাগার আজ রূপান্তরিত হয়েছে বিশেষ কারাগারে যেখানে বন্দি রাখা হয়েছে আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের। সেখানে ডিভিশনপ্রাপ্তরা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী; সাবেক হওয়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
ওই সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে হাজতি বা কয়েদিদের ডিভিশনের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশের পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (ডিসি) কাছে আবেদন ও আদেশের কপি পাঠানো হয়। তিনি সরকারের পক্ষে, বন্দি কোন শ্রেণির ডিভিশন পাবেন সেই সিদ্ধান্ত দেন। কাগজ-কলমে নির্দেশনা মোতাবেক কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
যেমন সাধারণ বন্দিদের খাবারের মান এবং ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের খাবারের মান প্রায় কাছাকাছি হলেও স্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য সাধারণ বন্দিদের তুলনায় উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হয়, পরিমাণেও থাকে বেশি। তাদের জন্য আলাদা রান্নার ব্যবস্থাও থাকে।
সাধারণ বন্দিদের সকালের খাবারে দেওয়া হয় রুটি, সবজি ও গুড়। দুপুরে থাকে ভাত, ডাল ও সবজি। আর রাতে পরিবেশন করা হয় ভাত, ডাল, সঙ্গে মাছ বা মাংস। তবে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী খাবারের তালিকায় আলাদা আয়োজন থাকে।
যেমন, তাদের জন্য মাছ-মাংসের রান্নার ধরন আলাদা হয়, পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিরা দুপুর ও রাতে প্রতিবারই ১৫০ গ্রাম করে মাছ বা মাংস পান, অথচ সাধারণ বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩৬ গ্রাম।
আবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যায়। সাধারণ বন্দিদের নির্দিষ্ট ভবনের ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। সেখানে পাকা ফ্লোরে কম্বল বিছিয়েই রাত কাটাতে হয় তাদের। অন্যদিকে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে আলাদা কক্ষ।
কেউ একা বা সর্বোচ্চ কয়েকজন মিলে সেখানে থাকতে পারেন। ঘরে থাকে খাট, একটি ম্যাট্রেস, দুটি চাদর, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল। প্রতিদিন তাদের জন্য একটি পত্রিকা সরবরাহ করা হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় দুধ-চিনি মেশানো চা।
ডিভিশন সুবিধার ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কারাগারে আদালতের নির্দেশে সাজাপ্রাপ্ত কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামিদের মধ্যে অনেকেই তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থানের ভিত্তিতে ডিভিশন-সুবিধা পান। তবে বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত সবার সুবিধা এক রকম নয়। কারা কোন ক্যাটাগরিতে পড়বেন এবং কী ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন— সেটি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা কোনো অধ্যাপক পাবেন না। যদিও দুজনই নিয়ম অনুযায়ী ডিভিশন সুবিধাভুক্ত বন্দি হিসেবে গণ্য হবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার তার নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে আবু সাইদ, মুগ্ধসহ অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার প্রধানসহ সাবেক ও তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীরা এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে যায়। পরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় মামলা হলে অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার হয়।
বর্তমানে তারা কেরানীগঞ্জ কারাগারে চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি থাকলেও ডিভিশন অনুযায়ী উন্নতমানের খাবার ও বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে। এখন প্রশ্ন হলোতারা যদি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ডিভিশন পেয়ে থাকে, তবে তা কতটা যৌক্তিক? কারণ, তারা কেউ কেউ নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী-এমপি বা শিল্পপতি ভিআইপি পরিচয়ে ডিভিশন পেলেও, মামলার প্রেক্ষাপটে তো তারা গণহত্যার আসামি। ’
তৌহিদুল হক আরও বলেন, ‘মামলা অনুযায়ী তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, অর্থাৎ গণহত্যাকারী। তাদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা আসলে ডিভিশন সুবিধা কারা পাচ্ছে এবং তা কতটা ন্যায্য। ’
এ বিষয়ে কারা মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বিশেষ বন্দিদের নিয়ম অনুযায়ী কিছুটা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিভিশনপ্রাপ্তদের কি কি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার সেটি জেল বিধিতে উল্লেখ আছে। তাদের সেভাবেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

২২ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৪
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংগঠনের আমীর শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এদিকে জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানোর পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংগঠনের আমীর শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এদিকে জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানোর পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৯
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। পরে একই কক্ষের আরও ভিডিও সামনে আসলে ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে এমপির স্ত্রী দাবি করেছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলছে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এআই ভিডিওর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, এই ভিডিওগুলোতে সেসব নেই। এটি একটি বাস্তব ভিডিও বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স বেশ কম মনে হয়েছে। কালবেলার হাতে তরুণীর একটি বায়োডাটা এসেছে। সেখানে দেওয়া তার জন্মতারিখ অনুযায়ী এখন বয়স হওয়ার কথা ১৮ বছর ২ মাস। মেয়েটির প্রাইভেসি রক্ষায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এমপির ‘জোর সুপারিশ’ করা ওই বায়োডাটায় মেয়েটি নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় কালবেলার পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপের ছবি দেখে বোঝা গেছে, তার পরিবারও জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছবিতে জামায়াতের ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। পরে একই কক্ষের আরও ভিডিও সামনে আসলে ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে এমপির স্ত্রী দাবি করেছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলছে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এআই ভিডিওর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, এই ভিডিওগুলোতে সেসব নেই। এটি একটি বাস্তব ভিডিও বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স বেশ কম মনে হয়েছে। কালবেলার হাতে তরুণীর একটি বায়োডাটা এসেছে। সেখানে দেওয়া তার জন্মতারিখ অনুযায়ী এখন বয়স হওয়ার কথা ১৮ বছর ২ মাস। মেয়েটির প্রাইভেসি রক্ষায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এমপির ‘জোর সুপারিশ’ করা ওই বায়োডাটায় মেয়েটি নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় কালবেলার পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপের ছবি দেখে বোঝা গেছে, তার পরিবারও জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছবিতে জামায়াতের ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।

১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৭
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে এখন যেন অন্য এক জগতে। সাধারণ বন্দিদের মতো কষ্ট নয়, তারা ডিভিশন পেয়ে বসে বসে চা পান করছেন, পা দুলিয়ে পড়ছেন জাতীয় পত্রিকা, খাচ্ছেন আলাদাভাবে রান্না করা বাড়তি খাবারও।
গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েও কারাগারে তাদের এমন ভিআইপি সুবিধা কতটা যৌক্তিক, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এমন তথ্য পাওয়ার পর অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের এসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তারা ভিআইপি হিসেবে যদি ডিভিশন পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদের অপরাধ অনুযায়ী এ সুবিধা কতটুকু প্রাসঙ্গিক তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) কারা সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত এই বিশেষ কারাগারটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্থাপনা, যা ছিল নারীদের জন্য। আনুমানিক পাঁচ বছর যাবত খালি পড়ে থাকা কারাগারটি এখন বিশেষ কারাগার হিসেবে ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি সংখ্যা ১৩৭। এদের মধ্যে কয়েদি সংখ্যা ৭২, অর্থাৎ তাদের মামলার রায় হয়েছে এবং তারা সাজা খাটছেন। বিশেষ বন্দি রয়েছেন ৬৫ জন, তাদের মধ্যে ৫৫ জন আবার ডিভিশনপ্রাপ্ত। তাদের দেখভাল ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়তার জন্য ওই ৭২ জন সাধারণ কয়েদি নিয়োজিত।
কারাগার সম্পর্কিত একটি সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের এই বিশেষ কারাগারটির ব্যবহার প্রথমে ছিল অন্য রকম। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী-নেতারা খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারটি ধোয়া-মোছার নাম করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের হুমকি দিতেন। এমনকি সাবেক আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন— ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে আবার কারাগারে ঢুকিয়ে দেব। ’ তার সেই বক্তব্যের পরপরই তৎকালীন কারা কর্তৃপক্ষ ওই খালি পড়ে থাকা নারী কারাগারে ধোয়া-মোছার কাজ শুরু করে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই নারী কারাগার আজ রূপান্তরিত হয়েছে বিশেষ কারাগারে যেখানে বন্দি রাখা হয়েছে আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের। সেখানে ডিভিশনপ্রাপ্তরা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী; সাবেক হওয়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
ওই সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে হাজতি বা কয়েদিদের ডিভিশনের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশের পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (ডিসি) কাছে আবেদন ও আদেশের কপি পাঠানো হয়। তিনি সরকারের পক্ষে, বন্দি কোন শ্রেণির ডিভিশন পাবেন সেই সিদ্ধান্ত দেন। কাগজ-কলমে নির্দেশনা মোতাবেক কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
যেমন সাধারণ বন্দিদের খাবারের মান এবং ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের খাবারের মান প্রায় কাছাকাছি হলেও স্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য সাধারণ বন্দিদের তুলনায় উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হয়, পরিমাণেও থাকে বেশি। তাদের জন্য আলাদা রান্নার ব্যবস্থাও থাকে।
সাধারণ বন্দিদের সকালের খাবারে দেওয়া হয় রুটি, সবজি ও গুড়। দুপুরে থাকে ভাত, ডাল ও সবজি। আর রাতে পরিবেশন করা হয় ভাত, ডাল, সঙ্গে মাছ বা মাংস। তবে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী খাবারের তালিকায় আলাদা আয়োজন থাকে।
যেমন, তাদের জন্য মাছ-মাংসের রান্নার ধরন আলাদা হয়, পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিরা দুপুর ও রাতে প্রতিবারই ১৫০ গ্রাম করে মাছ বা মাংস পান, অথচ সাধারণ বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩৬ গ্রাম।
আবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যায়। সাধারণ বন্দিদের নির্দিষ্ট ভবনের ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। সেখানে পাকা ফ্লোরে কম্বল বিছিয়েই রাত কাটাতে হয় তাদের। অন্যদিকে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে আলাদা কক্ষ।
কেউ একা বা সর্বোচ্চ কয়েকজন মিলে সেখানে থাকতে পারেন। ঘরে থাকে খাট, একটি ম্যাট্রেস, দুটি চাদর, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল। প্রতিদিন তাদের জন্য একটি পত্রিকা সরবরাহ করা হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় দুধ-চিনি মেশানো চা।
ডিভিশন সুবিধার ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কারাগারে আদালতের নির্দেশে সাজাপ্রাপ্ত কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামিদের মধ্যে অনেকেই তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থানের ভিত্তিতে ডিভিশন-সুবিধা পান। তবে বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত সবার সুবিধা এক রকম নয়। কারা কোন ক্যাটাগরিতে পড়বেন এবং কী ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন— সেটি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা কোনো অধ্যাপক পাবেন না। যদিও দুজনই নিয়ম অনুযায়ী ডিভিশন সুবিধাভুক্ত বন্দি হিসেবে গণ্য হবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার তার নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে আবু সাইদ, মুগ্ধসহ অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
একপর্যায়ে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার প্রধানসহ সাবেক ও তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীরা এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে যায়। পরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় মামলা হলে অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার হয়।
বর্তমানে তারা কেরানীগঞ্জ কারাগারে চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি থাকলেও ডিভিশন অনুযায়ী উন্নতমানের খাবার ও বিশেষ সুবিধা ভোগ করছে। এখন প্রশ্ন হলোতারা যদি রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ডিভিশন পেয়ে থাকে, তবে তা কতটা যৌক্তিক? কারণ, তারা কেউ কেউ নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী-এমপি বা শিল্পপতি ভিআইপি পরিচয়ে ডিভিশন পেলেও, মামলার প্রেক্ষাপটে তো তারা গণহত্যার আসামি। ’
তৌহিদুল হক আরও বলেন, ‘মামলা অনুযায়ী তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, অর্থাৎ গণহত্যাকারী। তাদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা আসলে ডিভিশন সুবিধা কারা পাচ্ছে এবং তা কতটা ন্যায্য। ’
এ বিষয়ে কারা মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্ত বিশেষ বন্দিদের নিয়ম অনুযায়ী কিছুটা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিভিশনপ্রাপ্তদের কি কি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার সেটি জেল বিধিতে উল্লেখ আছে। তাদের সেভাবেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।