
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৮
সেনাবাহিনী শুক্রবার বরিশাল মহানগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ পুরো এলাকার নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণের পরে পুরো এলাকা জুড়ে স্বস্তি ফিরে আসে।
দিনভর সেনাবাহিনীর জওয়ানরা নথুল্লাবাদে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটির ভেতরে ও বাইরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ স্থানীয় ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট ছিল । ফলে দিনভরই এ টার্মিনালে কোনো ধরনের যানজট সাধারণ সাধারন মানুষের বিড়ম্বনা ছিল না।
ফলে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষও দিনভরই বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের ওপর মহানগরীর এ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে অতিক্রম করতে সক্ষম হন। যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাসে ওঠানামাসহ নথুল্লাবাদ এলাকা অতিক্রম করতে পেরে সেনাবাহিনীর প্রশংসাও করেছেন।
বরিশাল টাইমস
সেনাবাহিনী শুক্রবার বরিশাল মহানগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ পুরো এলাকার নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণের পরে পুরো এলাকা জুড়ে স্বস্তি ফিরে আসে।
দিনভর সেনাবাহিনীর জওয়ানরা নথুল্লাবাদে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটির ভেতরে ও বাইরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ স্থানীয় ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট ছিল । ফলে দিনভরই এ টার্মিনালে কোনো ধরনের যানজট সাধারণ সাধারন মানুষের বিড়ম্বনা ছিল না।
ফলে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষও দিনভরই বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের ওপর মহানগরীর এ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে অতিক্রম করতে সক্ষম হন। যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাসে ওঠানামাসহ নথুল্লাবাদ এলাকা অতিক্রম করতে পেরে সেনাবাহিনীর প্রশংসাও করেছেন।
বরিশাল টাইমস

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৫

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৯
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অন্তত ৩৫০ জন নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নাজিম উদ্দিন আহমেদের ভাই রিয়াজ উদ্দিন রাজন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন তারা। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।
যোগদান অনুষ্ঠান শেষে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী মাহবুব আলম, রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটওয়ারী, রামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির হাসান মাহমুদ বান্নাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৩

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের ১২ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কাজিরহাট থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি কর্মীরা তাঁদের প্রচারণায় হামলা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা করলে তাঁদের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেন এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বরিশাল-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সৈয়দ গুলজার আলম আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সৈয়দ গুলজার আলম বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন সোমবার সন্ধ্যায় আন্ধারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিএনপির নির্বাচনী অফিস থেকে লাঠিসোঁটা এনে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি কর্মীরা।
হামলায় নেতৃত্ব দেন মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদারসহ আরও ২৫-৩০ জন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থাকা ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দেয় এবং একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
এ সময় লাঠির আঘাতে কয়েকজনের মাথা ফেটে যায় এবং একজনের পা ভেঙে যায়। আহত কয়েকজন পাশের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের ফোন পেয়ে সেনাবাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে।’
সৈয়দ গুলজার আলম আরও বলেন, ‘আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলাকারী মোহাম্মদ আলীসহ ধানের শীষের কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় তখন কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।’
হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি কর্মী মোফাজ্জেল দেওয়ান বলেন, ‘জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা শেষ করে ফেরার সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল রেখে মিছিল শুরু করেন। ওই সময় বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দিলে তারা পাঁচ-ছয়জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দিয়েছে।’
আজ সন্ধ্যায় কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীউল হাসান বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের ১২ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কাজিরহাট থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি কর্মীরা তাঁদের প্রচারণায় হামলা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা করলে তাঁদের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেন এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বরিশাল-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সৈয়দ গুলজার আলম আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সৈয়দ গুলজার আলম বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন সোমবার সন্ধ্যায় আন্ধারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিএনপির নির্বাচনী অফিস থেকে লাঠিসোঁটা এনে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি কর্মীরা।
হামলায় নেতৃত্ব দেন মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদারসহ আরও ২৫-৩০ জন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থাকা ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দেয় এবং একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
এ সময় লাঠির আঘাতে কয়েকজনের মাথা ফেটে যায় এবং একজনের পা ভেঙে যায়। আহত কয়েকজন পাশের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের ফোন পেয়ে সেনাবাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে।’
সৈয়দ গুলজার আলম আরও বলেন, ‘আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলাকারী মোহাম্মদ আলীসহ ধানের শীষের কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় তখন কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।’
হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি কর্মী মোফাজ্জেল দেওয়ান বলেন, ‘জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারণা শেষ করে ফেরার সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল রেখে মিছিল শুরু করেন। ওই সময় বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দিলে তারা পাঁচ-ছয়জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দিয়েছে।’
আজ সন্ধ্যায় কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীউল হাসান বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অন্তত ৩৫০ জন নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নাজিম উদ্দিন আহমেদের ভাই রিয়াজ উদ্দিন রাজন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন তারা। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।
যোগদান অনুষ্ঠান শেষে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী মাহবুব আলম, রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটওয়ারী, রামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির হাসান মাহমুদ বান্নাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে— এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।”
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে। আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার সাথে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন।”
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আপামর জনগণের—বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের—আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না।
সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী। প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যার তাৎপর্য থাকে সুদূরপ্রসারী, যেদিন নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র এবং স্থায়িত্ব ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য। আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন, যেদিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।”
“ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগ করে নেওয়াকে আমি আমার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করেছি।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।
এজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিটি সদস্যকে। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি।”
‘তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া— কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা এ যাবৎকালের যেকোনো নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।
এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
“এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব— এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট। আমি সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে। বিশেষ করে আমাদের নারীরা-মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নারীরাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্রঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা— এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প। আপনারা ঘরে, রাজপথে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ আগলে রেখেছেন, সমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন। এই নির্বাচন আপনাদের জন্য এক নতুন সূচনা। আর আমাদের তরুণরা— যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ।”
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে— এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।”
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে। আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার সাথে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন।”
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আপামর জনগণের—বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের—আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না।
সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী। প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যার তাৎপর্য থাকে সুদূরপ্রসারী, যেদিন নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র এবং স্থায়িত্ব ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য। আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন, যেদিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।”
“ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগ করে নেওয়াকে আমি আমার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করেছি।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।
এজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিটি সদস্যকে। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি।”
‘তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া— কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা এ যাবৎকালের যেকোনো নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।
এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
“এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব— এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট। আমি সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে। বিশেষ করে আমাদের নারীরা-মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নারীরাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্রঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা— এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প। আপনারা ঘরে, রাজপথে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ আগলে রেখেছেন, সমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন। এই নির্বাচন আপনাদের জন্য এক নতুন সূচনা। আর আমাদের তরুণরা— যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ।”
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৫
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৯
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৩
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০৬