ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি’র সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ। চাল খাদ্যগুদামে পড়ে থাকার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে চাল উত্তোলন না হওয়ায় একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিমাসে ভিজিডির সরকারি বরাদ্দকৃত কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করেন।
কিন্তু ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫টন চাল পড়ে আছে গোডাউনে। গোডাউনের একটি সুত্রে জানায়, ভিজিডির ডিওর মেয়াদ উত্তীর্ণ চলের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫মাসের বরাদ্দের চাল, চাচড়ার ৩মাস, বড়মলংচাড় ইউনিয়নের ৪মাস, সোনাপুর ইউনিয়নের ১মাস ও শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের চাল গোডাউনের পড়ে রয়েছে। তার বাহিরে জুন মাসের ডিও হয়ে আছে।
এছাড়াও সমুদ্রগামী জেলেদের বরাদ্দ রয়েছে, চাঁদপুরে ১০টন, সোনাপুরে ৭৫টন, চাঁচড়ায় ১৪টন, বড়মলংচড়ায় ৬.৫০টন ও শম্ভপুরে ৪টন সর্ব মোট ৩৪০টন ৫শ কেজি চাল গোডাউনে পড়ে রয়েছে।
সমুদ্রগামী জেলেদের চাল মে মাসের ৩১ তারিখে বিতরণের শেষ সময়সীমা থাকলেও তাও এখনো গোডাউন থেকেই নেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় সরকারি নতুন বরাদ্দের চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ দিশেহারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে সরকারি খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে রয়েছে।
এতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে উপকারভোগী গবীর অসহায় মানুষ। সচেতন মহল মনে করছেন, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন ও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি চাল অনুত্তোলিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে এর কারণ, দায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো উপজেলায় বরাদ্দের চাল বিতরণ না হওয়ায় অনেক উপকারভোগী অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল হাতে পাননি।
ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাজাহান মিয়া বলেন, ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা দেয়।
এটাকায় চাল পরিবহন করা যায়না। টন প্রতি খরচ লাগে ৬শ থেকে ১২ টাকা। টাকার সমন্বয় না হওয়ায় আমরা গোডাউন থেকে চাল আনতে পারিনি। আশা করি খুব শিগ্রই একটি সুরাহা হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, আমার জানমতে সকল ডিও হওয়া সকল চাল বিতরণ শেষ। তবুও যদি পরিবহনের খরচের জন্য কোন ইউনিয়ন চাল নিতে না পারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা কাছাকাছি চাল বিতরণের ব্যবস্থা করে দিবো যেখানে তারা চাল বিতরণ করতে পারবে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা ডিও হওয়া চাল নিতে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রতিনিয়তই চাপ দিচ্ছি। তার চাল না নিলে আমারতো আর চাল ফেলে দিতে পারিনা।
ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল সরকারি গোডাউনে রাখার নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে কোন সুষ্পষ্ট নীতিমালা নেই। উপজেলা নির্বাহি কর্তকর্তা মোঃ বনি আমিন বলেন, ডিও হওয়া সকল চাল যতদ্রুত সম্ভব গোডাউন থেকে বের করে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
কাতারের লুসাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. বাবুল আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল আহমেদ ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে কাতারে বসবাস করছিলেন।
জানা গেছে, লুসাইল থেকে ফেরার পথে বাবুল আহমেদের ব্যবহৃত গাড়িতে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তিনি গাড়িটি সড়কের পাশে থামিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাবুল আহমেদকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি একজন মিশরীয় নাগরিক চালাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহত বাবুল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কাতারে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মাহবুব আলমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি কাতারে বসবাস করছিলেন।
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুবাদে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্ঘটনার পর বাবুল আহমেদের মরদেহ কাতারের হামাদ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাতার থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে স্বজনরা প্রিয়জনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বাবুল আহমেদ দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার বড় ছেলে বর্তমানে কাতারেই প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।
প্রায় দুই দশক ধরে প্রবাসে জীবন কাটানোর পর সড়ক দুর্ঘটনায় বাবুল আহমেদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বজন ও পরিচিতজনরা জানান, কর্মজীবনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কাতারের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বাবুল আহমেদ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
কাতারের লুসাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. বাবুল আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল আহমেদ ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে কাতারে বসবাস করছিলেন।
জানা গেছে, লুসাইল থেকে ফেরার পথে বাবুল আহমেদের ব্যবহৃত গাড়িতে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তিনি গাড়িটি সড়কের পাশে থামিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাবুল আহমেদকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি একজন মিশরীয় নাগরিক চালাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহত বাবুল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কাতারে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মাহবুব আলমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি কাতারে বসবাস করছিলেন।
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুবাদে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্ঘটনার পর বাবুল আহমেদের মরদেহ কাতারের হামাদ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাতার থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে স্বজনরা প্রিয়জনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বাবুল আহমেদ দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার বড় ছেলে বর্তমানে কাতারেই প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছেন। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।
প্রায় দুই দশক ধরে প্রবাসে জীবন কাটানোর পর সড়ক দুর্ঘটনায় বাবুল আহমেদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বজন ও পরিচিতজনরা জানান, কর্মজীবনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কাতারের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বাবুল আহমেদ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মডেল কলেজে ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা ঠেকানোকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও কেন্দ্র পরিদর্শকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাহিদ (২২) ও রাসেল (২০) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুলারহাট মডেল কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন পরীক্ষার্থী নকলের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। দায়িত্ব পালনরত কেন্দ্র পরিদর্শকরা বিষয়টি শনাক্ত করে নকলের খাতা জব্দ করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও তাদের সহযোগিতা করেন।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নকল করতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে থাকা বহিরাগত যুবকরা কলেজের বাইরে জড়ো হন। পরে কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব শেষে বেরিয়ে আসা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
দুলারহাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে থানার পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মডেল কলেজে ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা ঠেকানোকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও কেন্দ্র পরিদর্শকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাহিদ (২২) ও রাসেল (২০) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুলারহাট মডেল কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন পরীক্ষার্থী নকলের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। দায়িত্ব পালনরত কেন্দ্র পরিদর্শকরা বিষয়টি শনাক্ত করে নকলের খাতা জব্দ করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও তাদের সহযোগিতা করেন।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নকল করতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে থাকা বহিরাগত যুবকরা কলেজের বাইরে জড়ো হন। পরে কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব শেষে বেরিয়ে আসা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
দুলারহাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে থানার পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিখোঁজের দুই দিন পর সাত বছরের শিশু মো. ইসমাইল হোসেনের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক শিশুটিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া রোকনের (২২) বাড়ি বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি নান্নু মিয়ার ছেলে। বুধবার দুপুরে ভোলা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। নিখোঁজের দুই দিন পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি খালে বস্তাবন্দী মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি ভোলা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. আকবর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোকনকে আটক করে।
জেলা পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে রোকন জানান, পূর্বশত্রুতা ও পাওনা টাকা নিয়ে ক্ষোভের জেরে তিনি ইসমাইলকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে বোরহানউদ্দিন থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিখোঁজের দুই দিন পর সাত বছরের শিশু মো. ইসমাইল হোসেনের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক শিশুটিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া রোকনের (২২) বাড়ি বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি নান্নু মিয়ার ছেলে। বুধবার দুপুরে ভোলা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। নিখোঁজের দুই দিন পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি খালে বস্তাবন্দী মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি ভোলা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. আকবর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোকনকে আটক করে।
জেলা পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে রোকন জানান, পূর্বশত্রুতা ও পাওনা টাকা নিয়ে ক্ষোভের জেরে তিনি ইসমাইলকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে বোরহানউদ্দিন থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৬:১৩
ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি’র সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ। চাল খাদ্যগুদামে পড়ে থাকার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে চাল উত্তোলন না হওয়ায় একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিমাসে ভিজিডির সরকারি বরাদ্দকৃত কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করেন।
কিন্তু ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫টন চাল পড়ে আছে গোডাউনে। গোডাউনের একটি সুত্রে জানায়, ভিজিডির ডিওর মেয়াদ উত্তীর্ণ চলের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫মাসের বরাদ্দের চাল, চাচড়ার ৩মাস, বড়মলংচাড় ইউনিয়নের ৪মাস, সোনাপুর ইউনিয়নের ১মাস ও শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের চাল গোডাউনের পড়ে রয়েছে। তার বাহিরে জুন মাসের ডিও হয়ে আছে।
এছাড়াও সমুদ্রগামী জেলেদের বরাদ্দ রয়েছে, চাঁদপুরে ১০টন, সোনাপুরে ৭৫টন, চাঁচড়ায় ১৪টন, বড়মলংচড়ায় ৬.৫০টন ও শম্ভপুরে ৪টন সর্ব মোট ৩৪০টন ৫শ কেজি চাল গোডাউনে পড়ে রয়েছে।
সমুদ্রগামী জেলেদের চাল মে মাসের ৩১ তারিখে বিতরণের শেষ সময়সীমা থাকলেও তাও এখনো গোডাউন থেকেই নেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় সরকারি নতুন বরাদ্দের চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ দিশেহারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে সরকারি খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে রয়েছে।
এতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে উপকারভোগী গবীর অসহায় মানুষ। সচেতন মহল মনে করছেন, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন ও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি চাল অনুত্তোলিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে এর কারণ, দায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো উপজেলায় বরাদ্দের চাল বিতরণ না হওয়ায় অনেক উপকারভোগী অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল হাতে পাননি।
ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাজাহান মিয়া বলেন, ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা দেয়।
এটাকায় চাল পরিবহন করা যায়না। টন প্রতি খরচ লাগে ৬শ থেকে ১২ টাকা। টাকার সমন্বয় না হওয়ায় আমরা গোডাউন থেকে চাল আনতে পারিনি। আশা করি খুব শিগ্রই একটি সুরাহা হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, আমার জানমতে সকল ডিও হওয়া সকল চাল বিতরণ শেষ। তবুও যদি পরিবহনের খরচের জন্য কোন ইউনিয়ন চাল নিতে না পারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা কাছাকাছি চাল বিতরণের ব্যবস্থা করে দিবো যেখানে তারা চাল বিতরণ করতে পারবে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা ডিও হওয়া চাল নিতে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রতিনিয়তই চাপ দিচ্ছি। তার চাল না নিলে আমারতো আর চাল ফেলে দিতে পারিনা।
ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল সরকারি গোডাউনে রাখার নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে কোন সুষ্পষ্ট নীতিমালা নেই। উপজেলা নির্বাহি কর্তকর্তা মোঃ বনি আমিন বলেন, ডিও হওয়া সকল চাল যতদ্রুত সম্ভব গোডাউন থেকে বের করে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৭
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০২
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৫
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪১