গাজীপুরের শ্রীপুরে বিএনপির পথসভায় এক ছাত্রদল নেতা দলটির নেতাকর্মীদের ‘মুজিবীয়' শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। তবে এমন বক্তব্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাইক্রোফোন কেড়ে নেন পথসভায় উপস্থিত থাকা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা।
শুক্রবার (২০ জুন) রাতে ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
‘মুজিবীয়’ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির পথসভায় বক্তব্য দেওয়া ছাত্রদল নেতার নাম নাহিদ হাসান। তিনি উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি।
ভাইরাল ভিডিওতে নাহিদকে বলতে দেখা যায়, ‘স্থানীয় প্রহলাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে মুজিবীয় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সবাই আমার’—এরপরই তার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ওই পথসভা মঞ্চ থেকে সরানো হয়।
এদিকে নাহিদ আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছেন এমন ছবিও ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, গাজীপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের ছবিসহ নাহিদ হাসানের একটি পোস্টার।
এ বিষয়ে জানতে নাহিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে ইউনিয়ন ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার সব ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা হওয়ার অনেক পরে এক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এ কমিটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল সরকারের একার সিদ্ধান্তে ও জেলা ছাত্রদল সভাপতির সুপারিশে নাহিদ হাসানকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছিল। নাহিদ ছাত্রলীগের নেতা জানার পরও তাকে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ছাত্রদলের সভাপতির পদটি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের বহু পোস্টার ফেস্টুন এলাকায় সাঁটানো থাকলেও তাকেই সভাপতি করা হয়েছিল। এ নিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
প্রহলাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জনি সিকদার বলেন, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আমাদের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের আমলে নাহিদসহ আমরা ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। ছাত্রদলের দুর্দিনে নাহিদের অবদান অনেক। নাহিদ বহু কষ্ট করেছে ছাত্রদলের কর্মীদের ধরে রাখতে, তাদের পাশে থাকতে। তবে সে ছাত্রলীগ করত এমনটি তিনি স্বীকার করেনি।

শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, কমিটি নিয়ে একা আমার দায় কেন? আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দুজন স্বাক্ষরিত কমিটি হয়েছে। এখন ঘুরেফিরে আমার দায় ছড়ানো হচ্ছে। নাহিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। এখন সে জবাব দিক। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিয়াউল করিম রিফাত মোড়ল জানান, ৪/৫ মাস আগে প্রহলাদপুর এলাকায় একটি পথসভায় ওই বক্তব্যটি দিয়েছিলেন নাহিদ। নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল করছেন। তিনি কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি নিয়ে এরই মধ্যে আমরা বসেছিলাম। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩০
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫২
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান

২২ জুন, ২০২৫ ১২:৫০
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিএনপির পথসভায় এক ছাত্রদল নেতা দলটির নেতাকর্মীদের ‘মুজিবীয়' শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। তবে এমন বক্তব্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাইক্রোফোন কেড়ে নেন পথসভায় উপস্থিত থাকা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা।
শুক্রবার (২০ জুন) রাতে ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
‘মুজিবীয়’ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির পথসভায় বক্তব্য দেওয়া ছাত্রদল নেতার নাম নাহিদ হাসান। তিনি উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি।
ভাইরাল ভিডিওতে নাহিদকে বলতে দেখা যায়, ‘স্থানীয় প্রহলাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে মুজিবীয় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সবাই আমার’—এরপরই তার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ওই পথসভা মঞ্চ থেকে সরানো হয়।
এদিকে নাহিদ আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছেন এমন ছবিও ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, গাজীপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের ছবিসহ নাহিদ হাসানের একটি পোস্টার।
এ বিষয়ে জানতে নাহিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে ইউনিয়ন ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার সব ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা হওয়ার অনেক পরে এক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এ কমিটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল সরকারের একার সিদ্ধান্তে ও জেলা ছাত্রদল সভাপতির সুপারিশে নাহিদ হাসানকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছিল। নাহিদ ছাত্রলীগের নেতা জানার পরও তাকে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ছাত্রদলের সভাপতির পদটি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের বহু পোস্টার ফেস্টুন এলাকায় সাঁটানো থাকলেও তাকেই সভাপতি করা হয়েছিল। এ নিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
প্রহলাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জনি সিকদার বলেন, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আমাদের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের আমলে নাহিদসহ আমরা ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। ছাত্রদলের দুর্দিনে নাহিদের অবদান অনেক। নাহিদ বহু কষ্ট করেছে ছাত্রদলের কর্মীদের ধরে রাখতে, তাদের পাশে থাকতে। তবে সে ছাত্রলীগ করত এমনটি তিনি স্বীকার করেনি।

শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, কমিটি নিয়ে একা আমার দায় কেন? আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দুজন স্বাক্ষরিত কমিটি হয়েছে। এখন ঘুরেফিরে আমার দায় ছড়ানো হচ্ছে। নাহিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। এখন সে জবাব দিক। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিয়াউল করিম রিফাত মোড়ল জানান, ৪/৫ মাস আগে প্রহলাদপুর এলাকায় একটি পথসভায় ওই বক্তব্যটি দিয়েছিলেন নাহিদ। নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল করছেন। তিনি কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি নিয়ে এরই মধ্যে আমরা বসেছিলাম। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১০
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৫
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫২
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৬