বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলো আজ দখল ও দূষণের থাবায় অস্তিত্ব সংকটে। নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রবাহ, পরিবেশ ও জনজীবনে প্রভাব পড়ছে মারাত্মকভাবে। একদিকে প্রশাসনের নীরবতা, অন্যদিকে প্রভাবশালী দখলদারদের বেপরোয়া দখল সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে চলেছে নদীমাতৃক বাংলার অস্তিত্ব।
বরিশালের প্রাণ কীর্তনখোলা নদী আজ চরম হুমকির মুখে। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ও চরবাড়িয়া এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের দুই পাশে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। দোকানপাট, স-মিল, ইট-বালুর ডিপো, অফিস, ঘরবাড়ি এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে নদীর বুক দখল করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই নদীদূষণ ও দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কালিজিরা, কর্নকাঠী, রসুলপুর ও পলাশপুর এলাকায় নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে ডকইয়ার্ড, গোডাউন ও কারখানা। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব দখলের পেছনে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এখানে আগে মাছ ধরতাম, এখন শুধু বালু আর কংক্রিট দেখি। আমাদের চলাফেরাও বন্ধ হয়ে গেছে। একটি তালিকায় দেখা গেছে, কীর্তনখোলায় ২১৪ জন,পটুয়াখালী নদীতে ৩৫৫ জন, ভোলার জাঙ্গালিয়া নদীতে ৩৫ জন, পিরোজপুরের বেলুয়া নদীতে ৮৮ জন, বরগুনার পায়রা নদীতে ১১০ জন, ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি নদীতে ২৩ জন দখলদার চিহ্নিত করা হয়েছে।
পিরোজপুরের দামোদর নদের ব্রিজ এলাকাও দখলের কবলে। নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বলেশ্বরসহ অন্যান্য নদীরও একই দশা ব্রিজ ও স্থাপনা নির্মাণে হারিয়েছে নাব্যতা।
এলাকাবাসীর দাবি, ‘নদী বাঁচান, আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচান’। প্রশাসনের উচিত এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলো ছিল এক সময়ের প্রাণ। আজ সেই প্রাণ যাচ্ছে নিভে। নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
বিআইডব্লিউটিএ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান জরিপ শেষে শুরু হবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা কীর্তনখোলা নদীর ৪ হাজার ৩২০ জন অবৈধ দখলদারের খসড়া তালিকা তৈরি করেছি। জরিপ শেষে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
বরিশাল জেলার ২৩টি নদীর দুই তীর দখলে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। শুধু কীর্তনখোলা নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য নদ-নদীগুলোর অবস্থাও শোচনীয়।’
এ বিষয়ে বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি নদীর দখলদারদের তালিকা তৈরি করছি। উচ্ছেদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১
মেঘনা ব্যাংক পিএলসির বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এসবিএমসিএইচ) সাব-শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার সাগরদী এলাকার আমতলার মোড়ে নতুন স্থানে সাব-শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মিজানুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মমতাজুল করিম এন আহমেদ, হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস রাশেদুল আলম, হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং সামিউল কবিরসহ ব্যাংকের নিকটস্থ শাখাগুলোর ব্যবস্থাপক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গ্রাহক ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, নতুন স্থানে সাব-শাখাটি স্থানান্তরের ফলে এলাকার গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবস্থান থেকে সাব-শাখাটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেঘনা ব্যাংকের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, নতুন ঠিকানায় সাব-শাখাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সাগরদী ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পাবেন।
খবর বিজ্ঞপ্তি
মেঘনা ব্যাংক পিএলসির বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এসবিএমসিএইচ) সাব-শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার সাগরদী এলাকার আমতলার মোড়ে নতুন স্থানে সাব-শাখাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মিজানুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মেঘনা ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মমতাজুল করিম এন আহমেদ, হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস রাশেদুল আলম, হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং সামিউল কবিরসহ ব্যাংকের নিকটস্থ শাখাগুলোর ব্যবস্থাপক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, গ্রাহক ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, নতুন স্থানে সাব-শাখাটি স্থানান্তরের ফলে এলাকার গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, নতুন অবস্থান থেকে সাব-শাখাটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেঘনা ব্যাংকের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, নতুন ঠিকানায় সাব-শাখাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সাগরদী ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পাবেন।
খবর বিজ্ঞপ্তি

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০২
বরিশাল আদালত চত্বরে ১০ তলা জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে নাজমুল হক (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমুল হক বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল নগরের কাশীপুর হাইস্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন নাজমুল। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুল হক কেন আদালত চত্বরে এসেছিলেন এবং কীভাবে জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে নিচে পড়ে গেলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাজমুলের ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’
বরিশাল আদালত চত্বরে ১০ তলা জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে নাজমুল হক (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমুল হক বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল নগরের কাশীপুর হাইস্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন নাজমুল। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুল হক কেন আদালত চত্বরে এসেছিলেন এবং কীভাবে জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে নিচে পড়ে গেলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাজমুলের ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পর বিষপানে অসুস্থ হওয়া ঝুমুর খানম সেতু (২৭) মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়।
ঝুমুর আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুর বিষপান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখতেন। তার দাবি, শাহারিয়া কর্মসূত্রে কুয়েতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের উসকানি ও প্ররোচনায় মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, একপর্যায়ে ঝুমুর ও তার শিশুকন্যাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেয়েটি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী মালামাল না দেওয়া, বিয়েতে পাঁচশ বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুরের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে কটূক্তিসহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে দীর্ঘদিন ধরে অপমান ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
তার দাবি, ঘটনার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় শাহারিয়া তার মেয়েকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যাওয়ার জন্য উসকানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঝুমুর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করেন বলে দাবি তার বাবার।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ঝুমুরের বাবা। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঝুমুরের বাবার করা অভিযোগের বিষয়ে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্বজনেরা জানান, কয়েক মাস আগে ঝুমুরের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঝুমুরের মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পর বিষপানে অসুস্থ হওয়া ঝুমুর খানম সেতু (২৭) মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়।
ঝুমুর আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুর বিষপান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখতেন। তার দাবি, শাহারিয়া কর্মসূত্রে কুয়েতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের উসকানি ও প্ররোচনায় মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, একপর্যায়ে ঝুমুর ও তার শিশুকন্যাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেয়েটি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী মালামাল না দেওয়া, বিয়েতে পাঁচশ বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুরের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে কটূক্তিসহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে দীর্ঘদিন ধরে অপমান ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
তার দাবি, ঘটনার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় শাহারিয়া তার মেয়েকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যাওয়ার জন্য উসকানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঝুমুর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করেন বলে দাবি তার বাবার।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ঝুমুরের বাবা। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঝুমুরের বাবার করা অভিযোগের বিষয়ে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্বজনেরা জানান, কয়েক মাস আগে ঝুমুরের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঝুমুরের মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

০৬ আগস্ট, ২০২৫ ২০:১৯
বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলো আজ দখল ও দূষণের থাবায় অস্তিত্ব সংকটে। নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রবাহ, পরিবেশ ও জনজীবনে প্রভাব পড়ছে মারাত্মকভাবে। একদিকে প্রশাসনের নীরবতা, অন্যদিকে প্রভাবশালী দখলদারদের বেপরোয়া দখল সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে চলেছে নদীমাতৃক বাংলার অস্তিত্ব।
বরিশালের প্রাণ কীর্তনখোলা নদী আজ চরম হুমকির মুখে। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ও চরবাড়িয়া এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের দুই পাশে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। দোকানপাট, স-মিল, ইট-বালুর ডিপো, অফিস, ঘরবাড়ি এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে নদীর বুক দখল করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই নদীদূষণ ও দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কালিজিরা, কর্নকাঠী, রসুলপুর ও পলাশপুর এলাকায় নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে ডকইয়ার্ড, গোডাউন ও কারখানা। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব দখলের পেছনে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এখানে আগে মাছ ধরতাম, এখন শুধু বালু আর কংক্রিট দেখি। আমাদের চলাফেরাও বন্ধ হয়ে গেছে। একটি তালিকায় দেখা গেছে, কীর্তনখোলায় ২১৪ জন,পটুয়াখালী নদীতে ৩৫৫ জন, ভোলার জাঙ্গালিয়া নদীতে ৩৫ জন, পিরোজপুরের বেলুয়া নদীতে ৮৮ জন, বরগুনার পায়রা নদীতে ১১০ জন, ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি নদীতে ২৩ জন দখলদার চিহ্নিত করা হয়েছে।
পিরোজপুরের দামোদর নদের ব্রিজ এলাকাও দখলের কবলে। নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বলেশ্বরসহ অন্যান্য নদীরও একই দশা ব্রিজ ও স্থাপনা নির্মাণে হারিয়েছে নাব্যতা।
এলাকাবাসীর দাবি, ‘নদী বাঁচান, আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচান’। প্রশাসনের উচিত এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলো ছিল এক সময়ের প্রাণ। আজ সেই প্রাণ যাচ্ছে নিভে। নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
বিআইডব্লিউটিএ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান জরিপ শেষে শুরু হবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা কীর্তনখোলা নদীর ৪ হাজার ৩২০ জন অবৈধ দখলদারের খসড়া তালিকা তৈরি করেছি। জরিপ শেষে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
বরিশাল জেলার ২৩টি নদীর দুই তীর দখলে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। শুধু কীর্তনখোলা নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য নদ-নদীগুলোর অবস্থাও শোচনীয়।’
এ বিষয়ে বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি নদীর দখলদারদের তালিকা তৈরি করছি। উচ্ছেদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৮
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০২