মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, অভিযোগ নিয়ে ধোঁয়াশা; আগাম জানানো হয়নি ঢাকাকে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ঢাকা। এরই মধ্যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
গ্রেপ্তারের দুই বছর পর মৃত্যুদণ্ড
বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কনস্যুলেটের কাছে সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিতালিকায় নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে, সিতি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের কথা লেখা ছিল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া ওই বন্দিতালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নিয়মিত বন্দিতালিকা পাওয়ার পরও দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় হয়েছে—এমন তথ্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বন্দিতালিকায় উল্লেখ করা অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও আদালতের রায় না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
কী বলছে সৌদি আরব?
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন এবং ইসলামী আইনের ‘তাজির’ বিধানের আওতায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তাজির হলো এমন এক ধরনের শাস্তি, যেখানে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারক প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক কাঠামোর মধ্যে শাস্তি নির্ধারণের এখতিয়ার পান। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযোগের গুরুত্ব এবং স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী বিচারিক অনুমোদন এবং রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর দণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নাম, কথিত ঘটনার তারিখ, মামলার বিস্তারিত প্রমাণ কিংবা বিচার চলাকালে আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের কী সুযোগ পেয়েছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশকে কেন জানানো হলো না?
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সৌদি আরবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারিক কার্যক্রম, আদালতের রায় এবং আগাম অবহিত না করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে মামলার নথি ও রায়ের অনুলিপি চেয়েছে।
কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত না করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে আটক কোনো নাগরিকের মামলা, আইনি সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে নিজ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভূমিকা কী ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে পূর্ণাঙ্গ নথি ও সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের কোনো নির্দিষ্ট বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
স্বামী-স্ত্রী ছিলেন, নাকি পরিচিত—যা জানা গেছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁরা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের বাবার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, নজরুল অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীর সম্পর্ক কী ছিল, সে বিষয়ে পরিবারও কিছু জানত না বলে জানিয়েছে।
অতএব, তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিংবা কথিত ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
শিরশ্ছেদের ভিডিওটি কি তাঁদের?
মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর শিরশ্ছেদের একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটি সাম্প্রতিক দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য বলে দাবি করা হলেও তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি ২০১৫ সালের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও।
প্রথম আলোসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা নারী ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক লায়লা বিনতে আবদুল মুত্তালিব বাসিম। তাঁকে অন্য একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, ভিডিওটি ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নয়। একইভাবে, তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওও অন্য ব্যক্তির মরদেহের বলে ফ্যাক্টচেকে উঠে এসেছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর থাকলেও কী পদ্ধতিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট নয়। তাই তাঁদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে—এমন দাবি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এখন সামনে যেসব প্রশ্ন
ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ কী? আদালতে কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল? তাঁরা আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না? আপিলের সুযোগ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল? আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া জরুরি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত হলেও মামলার নেপথ্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার কিংবা যাচাইহীন ভিডিওর বদলে সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন ও প্রথম আলো।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৭
কলকাতার দুর্গাপূজায় অঘটন। শনিবার(১৭ অক্টোবর) সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে প্রবল ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
হুড়োহুড়িতে বেশ ক দর্শনার্থী আহত হন বলে অভিযোগ। তাদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, আহতের সংখ্যা ২৫। তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
যদিও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে নিশ্চিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতার অন্যতম আকর্ষণীয় পুজা চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রতিমা দর্শনের জন্য উপচে পড়ে ভিড়।
সেই সময় আচমকাই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের একাংশের দাবি, বৃষ্টির জেরে লাইনের পিছন থেকে প্রবল চাপ তৈরি হয়। সেই চাপে সামনের দিকে থাকা দর্শনার্থীরা ভারসাম্য হারিয়ে একের পর এক পড়ে যান। এর জেরেই পদপিষ্ট হয়ে একাধিক মানুষ আহত হন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, আহতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য মণ্ডপের পিছনের গেট ভেঙে দেন স্থানীয়রা, বলে খবর। এরপর আহতদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে ২৫ জনকে নিয়ে আসার খবর পাওয়া গেলেও, তাদের মধ্যে কতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সমস্ত চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে হাসপাতালের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধারকাজে নেমেছে দমকল বিভাগও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজোমণ্ডপ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির থিম ছিল ‘অরব’, যার ইংরেজি তর্জমা ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর বিশেষ বার্তা তুলে ধরা হয়েছিল এই মণ্ডপে। তবে শুধু শব্দের ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না মণ্ডপের পরিকল্পনা। ৩৬০ ডিগ্রির বিশেষ ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল গোটা মণ্ডপ। আর সেই মণ্ডপেই প্রতিমা দর্শনকে ঘিরে বিপুল ভিড় জমেছিল বলে জানা যাচ্ছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই বিপত্তি ঘটল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না এবং কীভাবে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হয়ে উঠল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কলকাতার দুর্গাপূজায় অঘটন। শনিবার(১৭ অক্টোবর) সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে প্রবল ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
হুড়োহুড়িতে বেশ ক দর্শনার্থী আহত হন বলে অভিযোগ। তাদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, আহতের সংখ্যা ২৫। তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
যদিও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে নিশ্চিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতার অন্যতম আকর্ষণীয় পুজা চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রতিমা দর্শনের জন্য উপচে পড়ে ভিড়।
সেই সময় আচমকাই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের একাংশের দাবি, বৃষ্টির জেরে লাইনের পিছন থেকে প্রবল চাপ তৈরি হয়। সেই চাপে সামনের দিকে থাকা দর্শনার্থীরা ভারসাম্য হারিয়ে একের পর এক পড়ে যান। এর জেরেই পদপিষ্ট হয়ে একাধিক মানুষ আহত হন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, আহতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য মণ্ডপের পিছনের গেট ভেঙে দেন স্থানীয়রা, বলে খবর। এরপর আহতদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে ২৫ জনকে নিয়ে আসার খবর পাওয়া গেলেও, তাদের মধ্যে কতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সমস্ত চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে হাসপাতালের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধারকাজে নেমেছে দমকল বিভাগও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজোমণ্ডপ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির থিম ছিল ‘অরব’, যার ইংরেজি তর্জমা ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর বিশেষ বার্তা তুলে ধরা হয়েছিল এই মণ্ডপে। তবে শুধু শব্দের ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না মণ্ডপের পরিকল্পনা। ৩৬০ ডিগ্রির বিশেষ ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল গোটা মণ্ডপ। আর সেই মণ্ডপেই প্রতিমা দর্শনকে ঘিরে বিপুল ভিড় জমেছিল বলে জানা যাচ্ছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই বিপত্তি ঘটল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না এবং কীভাবে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হয়ে উঠল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। অনেকেই ইউনূসের মতো সম্মানী ব্যক্তিতে হেনস্তার জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবিও করেছেন।
তবে উল্টো সুর শোনা গেল আলোচিত মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলমের কন্ঠে। মৎসজীবী দলের এই নেত্রী ইউনূসের শাসনামলে তার সঙ্গে হওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তার প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক পোস্ট করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে মেঘনা লেখেন, ‘ইউনূস কি অবস্থা? এক সৌদি বেটাকে খুশি করতে নিজ দেশের ইমেজ, ইজ্জত দুনিয়াতে ছোট করে, নিজ দেশের মহিলাকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ নাটক করে হেনস্থা করেছো। তোমার কপালে হেনস্থা হওয়া আরও লেখা আছে!’
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ ও ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
বিমানবন্দরের এই ঘটনার পর ড. ইউনূসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মেঘনা আলমের এই পোস্ট সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। অনেকেই ইউনূসের মতো সম্মানী ব্যক্তিতে হেনস্তার জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবিও করেছেন।
তবে উল্টো সুর শোনা গেল আলোচিত মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলমের কন্ঠে। মৎসজীবী দলের এই নেত্রী ইউনূসের শাসনামলে তার সঙ্গে হওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তার প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক পোস্ট করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে মেঘনা লেখেন, ‘ইউনূস কি অবস্থা? এক সৌদি বেটাকে খুশি করতে নিজ দেশের ইমেজ, ইজ্জত দুনিয়াতে ছোট করে, নিজ দেশের মহিলাকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ নাটক করে হেনস্থা করেছো। তোমার কপালে হেনস্থা হওয়া আরও লেখা আছে!’
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ ও ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
বিমানবন্দরের এই ঘটনার পর ড. ইউনূসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মেঘনা আলমের এই পোস্ট সামনে এসেছে।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৬
ভারতের উত্তর প্রদেশে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই ঘটনায় মসজিদের মাইক জব্দ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে এ ঘটনা ঘটে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে মহল্লা মাকবারা এলাকায় একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের নির্দেশে মসজিদটির মাইক জব্দ করা হয় এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করা হয়। পরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক অনুমোদিত শব্দসীমার মধ্যে চলছে কি না, তা যাচাই করে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ধর্মীয় উপাসনার প্রচলিত রীতির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আনুপাতিক হচ্ছে? শব্দসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের উত্তর প্রদেশে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই ঘটনায় মসজিদের মাইক জব্দ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে এ ঘটনা ঘটে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে মহল্লা মাকবারা এলাকায় একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের নির্দেশে মসজিদটির মাইক জব্দ করা হয় এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করা হয়। পরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাইক অনুমোদিত শব্দসীমার মধ্যে চলছে কি না, তা যাচাই করে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ধর্মীয় উপাসনার প্রচলিত রীতির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আনুপাতিক হচ্ছে? শব্দসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৬
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, অভিযোগ নিয়ে ধোঁয়াশা; আগাম জানানো হয়নি ঢাকাকে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ঢাকা। এরই মধ্যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
গ্রেপ্তারের দুই বছর পর মৃত্যুদণ্ড
বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কনস্যুলেটের কাছে সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিতালিকায় নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে, সিতি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের কথা লেখা ছিল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া ওই বন্দিতালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নিয়মিত বন্দিতালিকা পাওয়ার পরও দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় হয়েছে—এমন তথ্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বন্দিতালিকায় উল্লেখ করা অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও আদালতের রায় না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
কী বলছে সৌদি আরব?
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন এবং ইসলামী আইনের ‘তাজির’ বিধানের আওতায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তাজির হলো এমন এক ধরনের শাস্তি, যেখানে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারক প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক কাঠামোর মধ্যে শাস্তি নির্ধারণের এখতিয়ার পান। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযোগের গুরুত্ব এবং স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী বিচারিক অনুমোদন এবং রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর দণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নাম, কথিত ঘটনার তারিখ, মামলার বিস্তারিত প্রমাণ কিংবা বিচার চলাকালে আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের কী সুযোগ পেয়েছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশকে কেন জানানো হলো না?
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সৌদি আরবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারিক কার্যক্রম, আদালতের রায় এবং আগাম অবহিত না করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে মামলার নথি ও রায়ের অনুলিপি চেয়েছে।
কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত না করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে আটক কোনো নাগরিকের মামলা, আইনি সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে নিজ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভূমিকা কী ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে পূর্ণাঙ্গ নথি ও সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের কোনো নির্দিষ্ট বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
স্বামী-স্ত্রী ছিলেন, নাকি পরিচিত—যা জানা গেছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁরা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের বাবার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, নজরুল অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীর সম্পর্ক কী ছিল, সে বিষয়ে পরিবারও কিছু জানত না বলে জানিয়েছে।
অতএব, তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিংবা কথিত ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
শিরশ্ছেদের ভিডিওটি কি তাঁদের?
মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর শিরশ্ছেদের একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটি সাম্প্রতিক দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য বলে দাবি করা হলেও তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি ২০১৫ সালের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও।
প্রথম আলোসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা নারী ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক লায়লা বিনতে আবদুল মুত্তালিব বাসিম। তাঁকে অন্য একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, ভিডিওটি ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নয়। একইভাবে, তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওও অন্য ব্যক্তির মরদেহের বলে ফ্যাক্টচেকে উঠে এসেছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর থাকলেও কী পদ্ধতিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট নয়। তাই তাঁদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে—এমন দাবি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এখন সামনে যেসব প্রশ্ন
ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ কী? আদালতে কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল? তাঁরা আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না? আপিলের সুযোগ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল? আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া জরুরি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত হলেও মামলার নেপথ্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার কিংবা যাচাইহীন ভিডিওর বদলে সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন ও প্রথম আলো।
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২৫
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৭
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪০
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১১