নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার হলে সিলিং ফ্যান খুলে মাথায় পড়ে আহত হওয়া পরীক্ষার্থীর খোঁজ নিতে দুপুরে তার বাসায় গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান।
এরআগে, রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ নম্বর কক্ষের সিলিং ফ্যান খুলে ওই পরীক্ষার্থীর মাথা পড়ে কেটে রক্তাক্ত হয়।
তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও বরাদ্দ দেওয়া হয়। আহত পরীক্ষার্থী মো. নিয়ামুল হাসান (১৭)। তার রোল নম্বর ১৯২২৬৭। তিনি জাফরুল হুসাইনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ কক্ষের সিলিং ফ্যান খুলে সরাসরি পরীক্ষার্থীর মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান। এ ঘটনায় পরীক্ষার কক্ষে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি মেডিকেল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও দুর্ঘটনার কারণে সময় নষ্ট হওয়ায় তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
পরে দুপুর ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান আহত নিয়ামুল হাসানের খোঁজ নিতে তার বাসায় যান এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ও শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
এ সময় ইউএনও মো. কায়েসুর রহমান বলেন, পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহপাকের রহমতে আমাদের নিয়ামুল হাসান (১৭), এসএসসি পরীক্ষার্থী, দারুল ইসলাম মডেল একাডেমির শিক্ষার্থী, এখন সুস্থ আছে। মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে মহান আল্লাহ পাক তাকে রক্ষা করেছেন। উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারের পাশে আছে এবং থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থী নিয়ামুল ঘুম থেকে উঠে চা-নাস্তা করে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে এবং এই ছোট্ট দুর্ঘটনাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে—এটাই প্রত্যাশা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিয়ামুল বর্তমানে সুস্থ আছে এবং মানসিকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসা শেষে সে আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রের কিছু কক্ষে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সিলিং ফ্যান থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা চলাকালে ফ্যান খুলে পড়ে এক পরীক্ষার্থী আহত হয়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ‘বিএনপির দোসরদের’ তালিকা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘সময় এসেছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বিএনপির দোসরদের তালিকা করার।’
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’: পাটওয়ারী
তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাকিদের নাম কমেন্টে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
এর আগে গতকাল এক পোস্টে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সরকারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাসায় কী কারণে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাদের পরিচয় ও তারা ছাত্রলীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী তা তাৎক্ষণিকভাবে বলেনি পুলিশ।
ওই সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রিমন বাসায় ছিলেন না।
রিমন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'
‘২ কোটি টাকার কমে নড়ব না’, ‘সব সই করে দেব’—আর্থিক লেনদেন নিয়ে এমন বিস্ফোরক কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি অংশে মো. নুরুল আমিনকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।”
কথোপকথনের আরেক অংশে একটি বিলের বিপরীতে দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। এ সময় তিন লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার কথা উল্লেখ করে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের হিসাবের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। ওই অর্থ থেকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে সই করে দেওয়ার কথাও উঠে আসে ভিডিওতে।
ভিডিওর এসব বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কাজের হিসাব, বিল অনুমোদন এবং কথিত আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওর আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কথোপকথনও শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এক লাখ ৩৫।’ পরে ওই ব্যক্তি আগে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ভিডিওতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, তাঁদের মুখ স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিডিবির দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধি অনুযায়ী মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বিধি অনুসারে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর তাঁর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।”
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন মূল প্রশ্ন—কথোপকথনে উঠে আসা কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে বাস্তব কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, কথিত লেনদেনের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বিল ও মালামালের হিসাব কতটা সঠিক।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের মাধ্যমে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।'

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:০৯
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার হলে সিলিং ফ্যান খুলে মাথায় পড়ে আহত হওয়া পরীক্ষার্থীর খোঁজ নিতে দুপুরে তার বাসায় গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান।
এরআগে, রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ নম্বর কক্ষের সিলিং ফ্যান খুলে ওই পরীক্ষার্থীর মাথা পড়ে কেটে রক্তাক্ত হয়।
তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও বরাদ্দ দেওয়া হয়। আহত পরীক্ষার্থী মো. নিয়ামুল হাসান (১৭)। তার রোল নম্বর ১৯২২৬৭। তিনি জাফরুল হুসাইনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ কক্ষের সিলিং ফ্যান খুলে সরাসরি পরীক্ষার্থীর মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান। এ ঘটনায় পরীক্ষার কক্ষে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি মেডিকেল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও দুর্ঘটনার কারণে সময় নষ্ট হওয়ায় তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
পরে দুপুর ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান আহত নিয়ামুল হাসানের খোঁজ নিতে তার বাসায় যান এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ও শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
এ সময় ইউএনও মো. কায়েসুর রহমান বলেন, পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহপাকের রহমতে আমাদের নিয়ামুল হাসান (১৭), এসএসসি পরীক্ষার্থী, দারুল ইসলাম মডেল একাডেমির শিক্ষার্থী, এখন সুস্থ আছে। মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে মহান আল্লাহ পাক তাকে রক্ষা করেছেন। উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারের পাশে আছে এবং থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থী নিয়ামুল ঘুম থেকে উঠে চা-নাস্তা করে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে এবং এই ছোট্ট দুর্ঘটনাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে—এটাই প্রত্যাশা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিয়ামুল বর্তমানে সুস্থ আছে এবং মানসিকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসা শেষে সে আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রের কিছু কক্ষে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সিলিং ফ্যান থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা চলাকালে ফ্যান খুলে পড়ে এক পরীক্ষার্থী আহত হয়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৫৩
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪৯
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৯