বরিশাল নগরীর আমিরকুটির এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গোপনে চলা এ কার্যক্রম নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কেউ যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেজন্য চারপাশে বড় পর্দা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমিরকুটির এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ওভি মিয়ার (কাদের মিয়ার বাড়ি) বাড়ির ভেতরে অবস্থিত প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের একটি বড় পুকুরে বালি ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রায় একশো বছরের পুরোনো এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণেও ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমদিকে রাতের বেলায় বালি ফেলা শুরু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কয়েকদিন পর পুকুর ভরাটের বিষয়টি নজরে এলে তারা মালিককে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে এখনো ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই পুকুরটি ভরাট করছেন।
তবে অভি মিয়ার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, "আমরা তাকে কোনো পুকুর ভরাটের অনুমতি দিইনি। সিটি করপোরেশন এ ধরনের অবৈধ কাজের অনুমোদন দেয় না। কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা সরকারি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।"
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, "আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে একজন নারী পরিদর্শক কর্মরত আছেন। আমি এখনই তাকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাস্থল সম্পর্কে এখনো অবগত নই। তবে তথ্য দিন, আমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভরাট কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেব।"
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, নগর এলাকায় পুকুর ও জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পুকুর ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। এতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩, বিভিন্ন নগর এলাকার মাস্টার প্ল্যান, এবং স্থানীয় সরকার সংস্থার বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাধার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাশয়, পুকুর ও খাল ভরাট নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন বা বাণিজ্যিক কাজে জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনে প্রশাসন ভরাট কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা, এমনকি অবৈধ ভরাট অপসারণের ব্যবস্থাও নিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই পুকুরটি অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।’

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
দেশের উপকূলীয় এলাকাসহ ১০ জেলায় রাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে, বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার (২২ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য রাত ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী কক্সবাজারের উপর দিয়ে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
দেশের উপকূলীয় এলাকাসহ ১০ জেলায় রাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে, বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার (২২ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য রাত ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী কক্সবাজারের উপর দিয়ে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছি, যার আলোকে আমাদের সব কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সেই আলোকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি সুশিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করার লক্ষে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হবে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, ইনশা আল্লাহ।’
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।’
প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছি, যার আলোকে আমাদের সব কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সেই আলোকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি সুশিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করার লক্ষে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হবে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, ইনশা আল্লাহ।’
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৩
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।

০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৪
বরিশাল নগরীর আমিরকুটির এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় শতবর্ষী একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গোপনে চলা এ কার্যক্রম নিয়ে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কেউ যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেজন্য চারপাশে বড় পর্দা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমিরকুটির এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ওভি মিয়ার (কাদের মিয়ার বাড়ি) বাড়ির ভেতরে অবস্থিত প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের একটি বড় পুকুরে বালি ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রায় একশো বছরের পুরোনো এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণেও ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমদিকে রাতের বেলায় বালি ফেলা শুরু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কয়েকদিন পর পুকুর ভরাটের বিষয়টি নজরে এলে তারা মালিককে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে এখনো ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই পুকুরটি ভরাট করছেন।
তবে অভি মিয়ার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, "আমরা তাকে কোনো পুকুর ভরাটের অনুমতি দিইনি। সিটি করপোরেশন এ ধরনের অবৈধ কাজের অনুমোদন দেয় না। কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা সরকারি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।"
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, "আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে একজন নারী পরিদর্শক কর্মরত আছেন। আমি এখনই তাকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাস্থল সম্পর্কে এখনো অবগত নই। তবে তথ্য দিন, আমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভরাট কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেব।"
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর পরিচালক মো. রফিকুল আলম বলেন, নগর এলাকায় পুকুর ও জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পুকুর ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। এতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এলাকায় পুকুর ভরাট বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩, বিভিন্ন নগর এলাকার মাস্টার প্ল্যান, এবং স্থানীয় সরকার সংস্থার বিধান অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা বেআইনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাধার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাশয়, পুকুর ও খাল ভরাট নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন বা বাণিজ্যিক কাজে জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে পারে না। প্রয়োজনে প্রশাসন ভরাট কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা, এমনকি অবৈধ ভরাট অপসারণের ব্যবস্থাও নিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই পুকুরটি অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।’
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭