বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা হয় শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এফআইআরের নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৩
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৭
বরিশালের জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তোলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত একটি নাটকীয় মামলার সাক্ষী স্থানীয় লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী এবং পাশ্ববর্তী গৈলা ইউপির ভদ্রপাড়ার সাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে উপজেলার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই দুই সোর্সের মাধ্যমে গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের প্রথমে আটক করে। পরে তাদেরকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেসব পরিবার দাবি করা টাকা না দিতে পারে বা প্রতিবাদ করে তাদের সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশি বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির ও শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলো। হঠাৎ সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিনকে নিয়ে সাদা পোশাকে উপস্থিত হয় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ ৫/৭ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় তার ছেলে নাদিমসহ সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। এরমধ্যে প্রতিবেশিরা খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই দেখেন এএসআই রাজিব পালসহ অন্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার ছেলে নাদিম ও সাথে থাকা সাব্বির এবং সোহাগ কারো সাথেই কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি। এ ঘটনার পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পূর্বে ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গৌরনদী থানার একটি মামলায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটকের ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডিবি পুলিশের এসআই আবজাল হোসাইন উল্লেখ করেছেন তার ছেলে নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন ছয়গ্রামগামী রাস্তার মুখ। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের করা ভূয়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অথচ কিভাবে তাকে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে সেটিও অজানা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার জেলা ডিবি পুলিশের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে বলেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের একজন মাছ চাষী ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে অভিযান চালায় একদল সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। পরে জানা যায় তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য। তারা কাওসারের মুরগীর খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কযেকদিন পরে আবারও সেই মুরগির খামারে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা এবং তারাও একইভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোনও লুটে নেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী কাওসার তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷
বিএনপি নেতা জাফর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা একাধিক ধরপাকড় বাণিজ্যের ঘটনা ঘটায়। যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই কর্মকর্তারা আগে থেকেই তাকে হুমকির মুখে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে নাটকীয় ও মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলে নাদিমের নাম প্রত্যাহার এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য চালানো অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে উপস্থিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিবের সোর্স মাদক বিক্রতা নয়ন ঢালী বলেন, গত ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে আটককৃত নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পায় নাই। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বিবের বাবা বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটক করার পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। তিনি এসব অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।’
বরিশালের জেলা ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ আগস্ট) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তোলেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়েরকৃত একটি নাটকীয় মামলার সাক্ষী স্থানীয় লালমিয়া হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, জেলা ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন ঢালী এবং পাশ্ববর্তী গৈলা ইউপির ভদ্রপাড়ার সাহিন সরদারকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রায় প্রতিদিনই সাদা পোশাকে উপজেলার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এসে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ওই দুই সোর্সের মাধ্যমে গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুনদের প্রথমে আটক করে। পরে তাদেরকে মাদক দিয়ে মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেসব পরিবার দাবি করা টাকা না দিতে পারে বা প্রতিবাদ করে তাদের সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশি বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির ও শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলো। হঠাৎ সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নয়ন ঢালী ও ভদ্রপাড়া এলাকার সাহিনকে নিয়ে সাদা পোশাকে উপস্থিত হয় জেলা ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ ৫/৭ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় তার ছেলে নাদিমসহ সাব্বির ও সোহাগকে আটক করে। এরমধ্যে প্রতিবেশিরা খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই দেখেন এএসআই রাজিব পালসহ অন্যরা নাদিম, সাব্বির ও সোহাগকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তার ছেলে নাদিম ও সাথে থাকা সাব্বির এবং সোহাগ কারো সাথেই কোনো মাদকদ্রব্য পায়নি। এ ঘটনার পরে গভীর রাতে প্রতিবেশী সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পূর্বে ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় ক্ষোভ থেকে তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে গৌরনদী থানার একটি মামলায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটকের ভুয়া এজাহার তৈরি করা হয়, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডিবি পুলিশের এসআই আবজাল হোসাইন উল্লেখ করেছেন তার ছেলে নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন ছয়গ্রামগামী রাস্তার মুখ। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। এজাহারে যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিবি পুলিশের করা ভূয়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী লালমিয়া হাওলাদার বলেন ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অথচ কিভাবে তাকে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে সেটিও অজানা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাফর হাওলাদার জেলা ডিবি পুলিশের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে বলেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের একজন মাছ চাষী ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে অভিযান চালায় একদল সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। পরে জানা যায় তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য। তারা কাওসারের মুরগীর খামারে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কযেকদিন পরে আবারও সেই মুরগির খামারে অভিযানে যায় জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা এবং তারাও একইভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোনও লুটে নেয়। কিন্তু ভুক্তভোগী কাওসার তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না৷
বিএনপি নেতা জাফর হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় জেলা ডিবি পুলিশের এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সদস্যরা একাধিক ধরপাকড় বাণিজ্যের ঘটনা ঘটায়। যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই কর্মকর্তারা আগে থেকেই তাকে হুমকির মুখে রেখেছিলেন। ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে নাটকীয় ও মিথ্যা মামলা থেকে তার ছেলে নাদিমের নাম প্রত্যাহার এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য চালানো অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে উপস্থিত হয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রাজিবের সোর্স মাদক বিক্রতা নয়ন ঢালী বলেন, গত ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে আটককৃত নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পায় নাই। নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বিবের বাবা বাদশা হাওলাদার বলেন, তার ছেলে ও প্রতিবেশী সোহাগকে আটক করার পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। তিনি এসব অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৮
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পদত্যাগের পর জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২) অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের এ দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। তার পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পদত্যাগের পর জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২) অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের এ দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।’

০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০
বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বহু বিবাহিত যুবকের অপতৎপরতায় বিব্রত পুলিশ-প্রশাসন। বাদী ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দাবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’ বরিশালের পদধারী নেতা মারযুক আব্দুল্লাহর মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একের পর এক মিথ্যে মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অভিযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গোটা বরিশালবাসী। ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিশোর্ধ্ব এই যুবক গত বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে বিএনপি-আ’লীগের নেতা-নেত্রীসহ ২৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নালিশি অভিযোগ করেন। অবশ্য নালিশিটি নিয়ে তিনি আদালতে যাওয়ার কদিন আগেই শুরু করে দেন চাঁদাবাজি, বিশেষ করে টার্গেট করা হয় শহরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের। বিতর্কিত এই মামলাটি নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই ঘটনায় তদন্তপূর্বক বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তৎকালীন একটি মামলার বাদী হিসেবে আলোচনায় আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের ১৪ মে বরিশাল আদালতে করা সেই মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার করা হয়। একই বছরের ৬ জুন এই বিতর্কিত যুবক দুই সহযোগীসহ ডাকাতি করতে পটুয়াখালীর দুমকিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে তৎকালীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এবং সেই ঘটনায় দুমকি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নূরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলাও করেন। পুলিশ মারযুকসহ সহযোগীদের পেশাদার ডাকাত উল্লেখ করে আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারেও পাঠানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ডাকাতি মামলা বেশকিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন যুবক মারযুক আব্দুল্লাহ। এবং সিঅ্যান্ড রোডের সুলতান, রূপাতলীর জুয়েল এবং শহরের চাঁদমারির জহিরকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত বরিশালে তিনটি মামলা করে, যার অধিকাংশ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষ। অবশ্য এই মিথ্যে মামলা করে মারযুকসহ সহযোগীরা বেশ কয়েকবার জনরোষের শিকারও হন। মারযুক এবং তার স্বজন পরিচয়দানকারী সুলতান খানকে এই মামলা বাণিজ্যের কারণে বিএনপির কর্মীসহ সাধারণ মানুষ গণপিটুনিও দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও তাদের অপতৎপরতা কমেনি।
মারযুকের গত বৃহস্পতিবারের (০২ জুলাই) মামলাটিতে অন্তত ৪ জন রয়েছে মৃত ব্যক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে সরকারবিরোধী মিছিল করে ককটেল ও পেট্রোলবোমা ছুড়েছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই মামলা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
অবশ্য এই মামলাটি নিয়ে প্রথমেই সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাসরি এজাহার কিংবা এফআইআরের নির্দেশনা না দিয়ে পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেন। তাছাড়া মামলাটিতে ১০, ১৬ ও ২২ জুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপড়ে মিছিল, গোপন বৈঠক, সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশ বলছে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ফলে ছাত্রশক্তি নেতার করা এই মামলাটি যে একেবারে ভিত্তিহীন তা পুলিশ প্রশাসনও জানিয়ে দিচ্ছে।
এই ধারনা আরও বদ্ধমূল হয় আওয়ামী লীগের ৪ প্রয়াত নেতাসহ বিএনপির ত্যাগি এবং নিপিড়িত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ থাকায়। এই মামলার ১৯৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী হাওলাদার, তিনি বিসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুনকে, তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ মারা গত হয়েছেন। একইভাবে ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণকারী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজাকে ২১২ এবং ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর মারা যাওয়া ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলীকেও ২২৫ নম্বর আসামি করা হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এই মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি মামলাটিতে বিএনপি নেত্রী সিটির সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীর, মজিদা বোরহান এবং আলম তাজসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ অপরাধের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মৃত্তিকা ভবন এলাকা, দ্বিতীয়টি ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় একই থানাধীন ভাঙারপোল এবং তৃতীয় ঘটনাটি ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্তিকা ভবন এলাকায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তৃতীয় অর্থাৎ ২২ জুন সন্ধ্যায় মৃত্তিকা ভবন এলাকার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার মৃত নেতাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিটিং ও মিছিল করছিলেন। খবর পেয়ে বাদীসহ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রয়াত চার নেতাও তাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মেরেছেন। এর মধ্যে খন্দকার রেজাউর হাতবোমা, আবুল ফারুক এবং হাফিজুর রশিদ ককটেল ছুড়েছেন (!)
তবে মারযুকের এমন এজাহারের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার আওতাধীন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।
এই মামলাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো করেছেন বিদেশে পলাতক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দেশদাতা হিসেবে মামলায় তার নাম আছে। এবং এটি বাণিজ্য করার উদ্দেশে মারজুক আব্দুল্লাহ ফাঁদ পেতেছেন। এবং মামলার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগেই তিনি ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পাননি তাদের এই মামলাটি নাম রেখেছেন।
অবশ্য এমন অভিযোগ একই মামলার আসামি ও বরিশাল নগরীর কলাপট্টি এলাকার জয়নাল হাজারীর ছেলে নিলয় আহম্মেদ রাব্বি ওরফে রাইডার রাব্বিও করেছেন। তার দাবি, মারজুক আব্দুল্লাহ নিজেই ফোন করে তার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে মামলার ৬ নম্বর আসামি করা হয়।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে বৈষম্যবিরোধী এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, মামলার সাক্ষীদের কারণে নিরীহ লোকের নাম এসেছে।
বাণিজ্য করতে গিয়ে বরিশাল শহরের অসংখ্য মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়টি ক্ষমতাসীন বিএনপিও ভালো ভাবে গ্রহণ করেনি। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা এপিপি হাফিজ আহমেদ বাবলু মামলাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী বলেন, মামলায় মিথ্যা তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিকে আসামি করাটাও একটি অপরাধ। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অথচ এই মামলাটি সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি না।
বিজ্ঞ আদালত বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি, এ মামলাটির কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা হবে এবং মামলার সত্যতা কতটুকু তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এতে বাদীর কোনো অনিয়ম পেলে আদালত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।
এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য এবং মিথ্যে মামলা দেওয়ায় বাদী ছাত্রশক্তি নেতা মারযুকের ওপর ক্ষেপেছেন বরিশাল শহরের নাগরিক সমাজ। অভিযোগ, এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে, সে আবার কিভাবে আদালতে মিথ্যে মামলা করে? ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চোক পাকিয়ে দেখছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ মে মারযুক একটি মামলা করলে আদালত তা থানা পুলিশকে এজাহার করার নির্দেশ দেন। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান এবং মারযুক মিলিমিশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। এরপরে ওসি মিজান বদলি হয়ে বিমানবন্দর থানায় যোগদান করেন। এবার সেই থানা এলাকাতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে মামলাটি করা হলো। এখানে ওসি মিজান এবং মারযুকের কোনো যোগসূত্র আছে কী না তাও তদন্ত করার জোরালো দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুককে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রাখা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে ওসি মিজানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম জানান, এই যুবকের বিতর্কিত কান্ডে পুলিশ বিব্রত। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে, গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে গাঢাকা দিয়ে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারাও মারযুক আব্দুল্লাহকে ক্রাইমার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির কারণে তাকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও তাকে রোহিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
এই মামলাটি এবং ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মারযুকের অপতৎপরতা নিয়ে পুলিশও বিব্রত বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলছেন, যেহেতু আদালত তদন্ত করতে বলেছেন, এর আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আইনবিদরা বলছেন, অভিযোগ যদি মিথ্যে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে তেমন আসে তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় অভিযোগ আনারও সুযোগ থাকছে।’
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৭