Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০৬ জুলাই, ২০২৫ ১৮:২৬
বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ জন। সর্বশেষ শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে রাইছা নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান মল্লিকের মেয়ে।
বরগুনা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বরগুনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ হাজার ৩৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৬৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে।
জানা গেছে, রাইছাকে কয়েক দিন আগে স্থানীয় এক চিকিৎসক ডা. এনামুল হক তুহিনের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন এবং সিবিসি পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তবে রিপোর্টে তার প্লাটিলেট স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল বলে জানান চিকিৎসক।
বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, রাইছার শরীরে ডেঙ্গুর লক্ষণ ছিল। পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও অনেক সময় রিপোর্টের বাইরে গিয়েও উপসর্গ দিয়ে রোগ নির্ণয় করতে হয়। তার প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাচ্ছিল, যা ডেঙ্গুর একটি সাধারণ এবং মারাত্মক লক্ষণ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, উন্নত চিকিৎসা পাবার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করা ২৯ জনের মধ্যে ছয়জন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। বাকিরা বরিশাল ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অথবা হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বরগুনায় সচেতনতার অভাব, সময়মতো রোগ নির্ণয়ের ঘাটতি এবং চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে শিশু রাইছার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বামনা উপজেলা, বরগুনা জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, শিশু রাইছার এ অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য এক চরম বেদনাদায়ক ঘটনা। আমরা সরকারের কাছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবে সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক তথ্য ও দ্রুত চিকিৎসা না হলে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রত্যেককে সচেতন থাকতে হবে।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা জোরদারে কাজ চলছে। বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জরুরি ওয়ার্ডে আলাদা শয্যা বাড়ানোর কাজ করছে তারা।
বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ জন। সর্বশেষ শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে রাইছা নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান মল্লিকের মেয়ে।
বরগুনা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বরগুনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ হাজার ৩৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৬৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে।
জানা গেছে, রাইছাকে কয়েক দিন আগে স্থানীয় এক চিকিৎসক ডা. এনামুল হক তুহিনের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন এবং সিবিসি পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তবে রিপোর্টে তার প্লাটিলেট স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল বলে জানান চিকিৎসক।
বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, রাইছার শরীরে ডেঙ্গুর লক্ষণ ছিল। পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও অনেক সময় রিপোর্টের বাইরে গিয়েও উপসর্গ দিয়ে রোগ নির্ণয় করতে হয়। তার প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাচ্ছিল, যা ডেঙ্গুর একটি সাধারণ এবং মারাত্মক লক্ষণ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, উন্নত চিকিৎসা পাবার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করা ২৯ জনের মধ্যে ছয়জন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। বাকিরা বরিশাল ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অথবা হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বরগুনায় সচেতনতার অভাব, সময়মতো রোগ নির্ণয়ের ঘাটতি এবং চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে শিশু রাইছার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বামনা উপজেলা, বরগুনা জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, শিশু রাইছার এ অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য এক চরম বেদনাদায়ক ঘটনা। আমরা সরকারের কাছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবে সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক তথ্য ও দ্রুত চিকিৎসা না হলে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রত্যেককে সচেতন থাকতে হবে।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা জোরদারে কাজ চলছে। বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জরুরি ওয়ার্ডে আলাদা শয্যা বাড়ানোর কাজ করছে তারা।

২৬ মে, ২০২৬ ১৪:৪১

২৫ মে, ২০২৬ ১৪:৩৭
বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার চারবারের সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন আকনকে (৭৮) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (২৪ মে) রাত ২টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ওসি আব্দুল আলিম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে বরগুনা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আনোয়ার হোসেন আকন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পাথরঘাটা পৌরসভার ঠিকাদারি কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পাথরঘাটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনটি মামলা রয়েছে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার তদন্তাধীন আছে। দুজন ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করেন।
বরগুনা সদর থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন বর্তমানে বরগুনা সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে সাবেক মেয়রকে আটকের ঘটনা পাথরঘাটার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

২২ মে, ২০২৬ ১৪:২৮
বরগুনায় অবৈধভাবে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের সময় দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়। এ সময় প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় একটি নদীতে উদ্ধারকৃত ওই পোনা অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলার পৌর বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে রেণু পোনার ওই ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বরগুনার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহন করছিলেন কিছু অসাধু চক্র। ওই চক্রগুলোকে ধরতে গোপনে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরগুনার পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় দুটি ট্রাকে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের খবর জানতে পায় তারা।
বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে জানালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত রেণু পোনা বরগুনার বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকার বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। তবে এ সময় জড়িত কাউকে আটক করতে না পারলেও ট্রাকের দুই চালককে আটক করা হয়।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদে মৎস্য অভিযান চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে এসব অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, নদী থেকে প্রাকৃতিকভাবে চিংড়ির পোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি চিংড়ি পোনা ধরার সময় প্রায় ৪৯৮টি অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা নষ্ট হয়, যা পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকায় সরকার অনুমোদিত দুটি চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত রেণু পোনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ হ্যাচারির তথ্য বা লাইসেন্স আমরা পাইনি। অভিযানে আটক দুই ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বরগুনার পাথরঘাটায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কাটেনি ক্ষতচিহ্ন। ভাঙা বেড়িবাঁধ, লবণাক্ত জমি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি আর জীবিকা সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন উপকূলের হাজারো মানুষ।
পুর্বে বিষখালী, পশ্চিমে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদী আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। বিষখালী ও বলেশ্বর বেষ্টিত পাথরঘাটা উপজেলা। যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েই থাকেন এখানকার বাসিন্দারা।
ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' হলো ২০২৪ সালের মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়। এটি ২৬ মে সন্ধ্যা থেকে ২৭ মে সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করে। ঘূর্ণিঝড় রিমালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাথরঘাটার কয়েকটি উপকূলীয় ইউনিয়ন। জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙে যায় বেড়িবাঁধ, পানিবন্দি হয়ে পড়ে শত শত পরিবার। মাছের ঘের, কৃষিজমি ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সুপেয় পানির সংকট হয় তীব্র।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বছরেও অনেক পরিবার ঘর মেরামত করতে পারেনি। অনেকের জমিতে এখনো লবণাক্ততার কারণে ফসল ফলছে না। নদীভাঙনের আতঙ্কও রয়েই গেছে।
পাথরঘাটার চরদুয়ানি ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন দক্ষিন চরদুয়ানী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “রিমাল আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। এখনো ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। আজও ঘর ঠিক করতে পারিনি।”
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চরলাঠিমারা গ্রামের ইদ্রিস মিয়া বলেন, রিমালের ক্ষতি যার হয়নি সে বুঝবেনা কষ্ট কতটা। রিমালে আমাদের এখানে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। লবনাক্ত পানি ঢুকে কৃষি জমিতে মনে হয় আজও লবন রয়ে গেছে। কৃষি জমিতে ফলন ভালো হচ্ছেনা।
স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস'র নির্বাহী পরিচালক সাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, ঘূর্নিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাথরঘাটায় এমনিতেই সুপেয় পানির সংকট থাকে তারপর আবার ঘূর্নিঝড়ের সময় আরও তীব্র হয়। সুপেয় পানি সংকটে সরকারি-বেসরকারিভাবে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার যা হতে হবে স্থায়ী।
বরগুনার আরডিএফ'র পরিচালক এনামুল হোসেন বলেন, রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েকশ পরিবারকে টয়লেট এবং শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বেশি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন। এ ক্ষেত্রে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা দরকার।
উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, সিডর থেকে শুরু করে বিগত দিনের যতগুলো ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হয়েছে তার চেয়ে বেশি সময় ধরে উপকূলে পানি স্থায়ী রয়েছে। যে পানি ছিলো লবনাক্ত তাতে উপকূলের ফসল ও ফসলের মাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা যে ক্ষতি আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, একটি রাষ্ট্র বা দেশকে স্থায়ীভাবে টেকসই করতে হলে উপকূলকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য উপকূলের বেরিবাঁধ, উপকূলের বনায়ন টেকসই করার বিকল্প নেই।
বরগুনার পাথরঘাটায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কাটেনি ক্ষতচিহ্ন। ভাঙা বেড়িবাঁধ, লবণাক্ত জমি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি আর জীবিকা সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন উপকূলের হাজারো মানুষ।
পুর্বে বিষখালী, পশ্চিমে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদী আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। বিষখালী ও বলেশ্বর বেষ্টিত পাথরঘাটা উপজেলা। যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েই থাকেন এখানকার বাসিন্দারা।
ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' হলো ২০২৪ সালের মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়। এটি ২৬ মে সন্ধ্যা থেকে ২৭ মে সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করে। ঘূর্ণিঝড় রিমালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাথরঘাটার কয়েকটি উপকূলীয় ইউনিয়ন। জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙে যায় বেড়িবাঁধ, পানিবন্দি হয়ে পড়ে শত শত পরিবার। মাছের ঘের, কৃষিজমি ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সুপেয় পানির সংকট হয় তীব্র।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বছরেও অনেক পরিবার ঘর মেরামত করতে পারেনি। অনেকের জমিতে এখনো লবণাক্ততার কারণে ফসল ফলছে না। নদীভাঙনের আতঙ্কও রয়েই গেছে।
পাথরঘাটার চরদুয়ানি ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন দক্ষিন চরদুয়ানী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “রিমাল আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। এখনো ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। আজও ঘর ঠিক করতে পারিনি।”
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চরলাঠিমারা গ্রামের ইদ্রিস মিয়া বলেন, রিমালের ক্ষতি যার হয়নি সে বুঝবেনা কষ্ট কতটা। রিমালে আমাদের এখানে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। লবনাক্ত পানি ঢুকে কৃষি জমিতে মনে হয় আজও লবন রয়ে গেছে। কৃষি জমিতে ফলন ভালো হচ্ছেনা।
স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস'র নির্বাহী পরিচালক সাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, ঘূর্নিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাথরঘাটায় এমনিতেই সুপেয় পানির সংকট থাকে তারপর আবার ঘূর্নিঝড়ের সময় আরও তীব্র হয়। সুপেয় পানি সংকটে সরকারি-বেসরকারিভাবে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার যা হতে হবে স্থায়ী।
বরগুনার আরডিএফ'র পরিচালক এনামুল হোসেন বলেন, রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েকশ পরিবারকে টয়লেট এবং শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বেশি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন। এ ক্ষেত্রে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা দরকার।
উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, সিডর থেকে শুরু করে বিগত দিনের যতগুলো ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হয়েছে তার চেয়ে বেশি সময় ধরে উপকূলে পানি স্থায়ী রয়েছে। যে পানি ছিলো লবনাক্ত তাতে উপকূলের ফসল ও ফসলের মাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা যে ক্ষতি আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, একটি রাষ্ট্র বা দেশকে স্থায়ীভাবে টেকসই করতে হলে উপকূলকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য উপকূলের বেরিবাঁধ, উপকূলের বনায়ন টেকসই করার বিকল্প নেই।
বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার চারবারের সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন আকনকে (৭৮) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (২৪ মে) রাত ২টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ওসি আব্দুল আলিম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে বরগুনা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আনোয়ার হোসেন আকন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পাথরঘাটা পৌরসভার ঠিকাদারি কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পাথরঘাটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনটি মামলা রয়েছে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার তদন্তাধীন আছে। দুজন ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করেন।
বরগুনা সদর থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন বর্তমানে বরগুনা সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে সাবেক মেয়রকে আটকের ঘটনা পাথরঘাটার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বরগুনায় অবৈধভাবে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের সময় দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়। এ সময় প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় একটি নদীতে উদ্ধারকৃত ওই পোনা অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলার পৌর বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে রেণু পোনার ওই ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বরগুনার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহন করছিলেন কিছু অসাধু চক্র। ওই চক্রগুলোকে ধরতে গোপনে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরগুনার পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় দুটি ট্রাকে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের খবর জানতে পায় তারা।
বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে জানালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত রেণু পোনা বরগুনার বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকার বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। তবে এ সময় জড়িত কাউকে আটক করতে না পারলেও ট্রাকের দুই চালককে আটক করা হয়।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদে মৎস্য অভিযান চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে এসব অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, নদী থেকে প্রাকৃতিকভাবে চিংড়ির পোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি চিংড়ি পোনা ধরার সময় প্রায় ৪৯৮টি অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা নষ্ট হয়, যা পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকায় সরকার অনুমোদিত দুটি চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত রেণু পোনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ হ্যাচারির তথ্য বা লাইসেন্স আমরা পাইনি। অভিযানে আটক দুই ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।