স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩০
'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শিল্পের মহারাজ। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে তাঁর বিচরণ ছিল না। সেই বিচরণ ছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী এক রাজাধিরাজের মতোই। একই সাথে ইসলামী গজল এবং সনাতনী শ্যামাসঙ্গীত কৃষ্ণসঙ্গীত লেখার মতো গভীর বৈপরীত্যের প্রতিভায় পৃথিবীতে নজরুল ছাড়া দ্বিতীয়জন সৃষ্টি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক শব্দটা শুধু তাঁর নামের সাথেই শোভা পায়। কবি হিসেবেও নজরুল ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন মহাকবি।' বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নজরুল স্মরণোৎসব-২০২৬'এর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণোৎসবে বক্তারা আরো বলেন, 'বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ শিখেছিলেন কোনো পাঠশালা কিংবা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়; তিনি বিদ্রোহ শিখেছিলেন নিজের জীবনের কাছ থেকে। অভাব তাঁকে শিখিয়েছে সংগ্রাম করতে। বঞ্চনা তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিবাদ করতে। সামাজিক বৈষম্য তাঁকে শিখিয়েছে সাম্যের কথা বলতে। ঔপনিবেশিক শাসন তাঁকে শিখিয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন সৈনিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতজ্ঞ, ধর্মীয় পন্ডিত, শিক্ষক, দার্শনিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবতাবাদী একজন অকুতোভয় যোদ্ধা।'
বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান দেশি-বিদেশি পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি মুস্তাফা হাবীবের সভাপতিত্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক আকতার উদদীন চৌধুরী, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক কবি পথিক মোস্তফা ও দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকার সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আযাদ আলাউদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট, সুশাসন ব্যক্তিত্ব ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না।
সভায় অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জাকির হোসেন সবুজ, আগরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার বড়াল, জৈনুদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবি স.ম জসিম উদ্দিন ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। বাচিক শিল্পী ও আবৃত্তিকার জাহিদ হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আগরপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবায়দুল হক শাহীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের বরিশাল জেলা সম্পাদক কবি মাহবুব রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক রাঙা প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (খন্ডকালীন) শাহিন মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
নজরুল স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং নাচের পর্ব সমগ্র অনুষ্ঠানে নান্দনিক রূপ দিয়ে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কবিতা পাঠের আসরে আবৃত্তি করেন উদীয়মান কবি আহমেদ বেলাল, কবি জিয়াউল হক, কবি শোয়েব আহমেদ ও কবি জিল্লুর রহমান। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী জগলুল আহমেদ শামীম এবং শাহরিয়ার হিমুর পরিচালনায় নজরুল সংগীতের সুরের মূর্ছনা আর নৃত্যের তালে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে লোকসাহিত্য একাডেমির পক্ষ থেকে অতিথি এবং আলোচকদের সম্মাননা স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। #

'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শিল্পের মহারাজ। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে তাঁর বিচরণ ছিল না। সেই বিচরণ ছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী এক রাজাধিরাজের মতোই। একই সাথে ইসলামী গজল এবং সনাতনী শ্যামাসঙ্গীত কৃষ্ণসঙ্গীত লেখার মতো গভীর বৈপরীত্যের প্রতিভায় পৃথিবীতে নজরুল ছাড়া দ্বিতীয়জন সৃষ্টি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক শব্দটা শুধু তাঁর নামের সাথেই শোভা পায়। কবি হিসেবেও নজরুল ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন মহাকবি।' বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নজরুল স্মরণোৎসব-২০২৬'এর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণোৎসবে বক্তারা আরো বলেন, 'বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ শিখেছিলেন কোনো পাঠশালা কিংবা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়; তিনি বিদ্রোহ শিখেছিলেন নিজের জীবনের কাছ থেকে। অভাব তাঁকে শিখিয়েছে সংগ্রাম করতে। বঞ্চনা তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিবাদ করতে। সামাজিক বৈষম্য তাঁকে শিখিয়েছে সাম্যের কথা বলতে। ঔপনিবেশিক শাসন তাঁকে শিখিয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন সৈনিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতজ্ঞ, ধর্মীয় পন্ডিত, শিক্ষক, দার্শনিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবতাবাদী একজন অকুতোভয় যোদ্ধা।'
বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান দেশি-বিদেশি পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি মুস্তাফা হাবীবের সভাপতিত্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক আকতার উদদীন চৌধুরী, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক কবি পথিক মোস্তফা ও দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকার সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আযাদ আলাউদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট, সুশাসন ব্যক্তিত্ব ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না।
সভায় অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জাকির হোসেন সবুজ, আগরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার বড়াল, জৈনুদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবি স.ম জসিম উদ্দিন ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। বাচিক শিল্পী ও আবৃত্তিকার জাহিদ হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আগরপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবায়দুল হক শাহীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের বরিশাল জেলা সম্পাদক কবি মাহবুব রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক রাঙা প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (খন্ডকালীন) শাহিন মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
নজরুল স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং নাচের পর্ব সমগ্র অনুষ্ঠানে নান্দনিক রূপ দিয়ে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কবিতা পাঠের আসরে আবৃত্তি করেন উদীয়মান কবি আহমেদ বেলাল, কবি জিয়াউল হক, কবি শোয়েব আহমেদ ও কবি জিল্লুর রহমান। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী জগলুল আহমেদ শামীম এবং শাহরিয়ার হিমুর পরিচালনায় নজরুল সংগীতের সুরের মূর্ছনা আর নৃত্যের তালে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে লোকসাহিত্য একাডেমির পক্ষ থেকে অতিথি এবং আলোচকদের সম্মাননা স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। #


২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫১
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরযোগ্য চাকা ও অটো ঢাকনাযুক্ত অত্যাধুনিক ডাস্টবিন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সের সহায়তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। এসময় উপজেলার ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে ওই ডাস্টবিন তুলে দিয়ে বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়।
ডাস্টবিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এসময় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ডাস্টবিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ সম্পর্কিত এক সচেতনামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ মাসুদুর রহমান এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান স্বপন। এসময় উপস্থিত প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শিশু নিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন মোল্লা ও খানপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা কনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্ন্যামত, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বেগম, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বিডি ক্লিন বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, আরিফুর রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিডি ক্লিনের বরিশাল টিমের সদস্যরা ছাড়াও বাবুগঞ্জ উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বিডি ক্লিনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, 'শিক্ষক হলেন জাতি গড়ার কারিগর। একটি মানবশিশুর মূল ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন তৈরি করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। আজকে যে শিশুটিকে আপনি লেখাপড়া শেখাচ্ছেন সেই শিশুটিকে যদি আপনি পরিচ্ছন্নতা শেখান তবে সে একদিন পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ উপহার দেবে। আজকের এই শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের শেখাতে হবে তার বসতঘরটি তাকে যেভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে ঠিক সেভাবেই তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তার সমাজ এবং তার দেশকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাদের দেশপ্রেম শেখাতে হবে। শেখাতে হবে পরিচ্ছন্নতা মানে শুধু ময়লা আবর্জনা পরিস্কার নয়; পরিচ্ছন্নতা মানে অন্তরের পরিশুদ্ধতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক সৌন্দর্য অর্জন করা। যা একজন মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হতে শেখাবে।'
বাবুগঞ্জে শুরু হওয়া পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের উদ্যোক্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'গত মাস থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সবুজায়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই কাজে টেকনিক্যাল সহায়তা দিচ্ছে বিডি ক্লিন এবং সহযোগিতা করছে সুজন। উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস ক্লিন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও স্টেশনে ডাস্টবিন স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও উপজেলার খালগুলোকে পরিস্কার করে এর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরযোগ্য চাকা এবং ঢাকনাযুক্ত অত্যাধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সের সহায়তায় আপাতত আমরা প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরযোগ্য এসব আধুনিক ডাস্টবিন দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। বাবুগঞ্জ উপজেলাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন সবুজে ঘেরা একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।' #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরযোগ্য চাকা ও অটো ঢাকনাযুক্ত অত্যাধুনিক ডাস্টবিন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সের সহায়তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। এসময় উপজেলার ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে ওই ডাস্টবিন তুলে দিয়ে বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়।
ডাস্টবিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এসময় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ডাস্টবিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ সম্পর্কিত এক সচেতনামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ মাসুদুর রহমান এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান স্বপন। এসময় উপস্থিত প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শিশু নিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন মোল্লা ও খানপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা কনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্ন্যামত, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বেগম, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বিডি ক্লিন বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, আরিফুর রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিডি ক্লিনের বরিশাল টিমের সদস্যরা ছাড়াও বাবুগঞ্জ উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বিডি ক্লিনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, 'শিক্ষক হলেন জাতি গড়ার কারিগর। একটি মানবশিশুর মূল ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন তৈরি করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। আজকে যে শিশুটিকে আপনি লেখাপড়া শেখাচ্ছেন সেই শিশুটিকে যদি আপনি পরিচ্ছন্নতা শেখান তবে সে একদিন পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ উপহার দেবে। আজকের এই শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের শেখাতে হবে তার বসতঘরটি তাকে যেভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে ঠিক সেভাবেই তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তার সমাজ এবং তার দেশকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাদের দেশপ্রেম শেখাতে হবে। শেখাতে হবে পরিচ্ছন্নতা মানে শুধু ময়লা আবর্জনা পরিস্কার নয়; পরিচ্ছন্নতা মানে অন্তরের পরিশুদ্ধতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক সৌন্দর্য অর্জন করা। যা একজন মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হতে শেখাবে।'
বাবুগঞ্জে শুরু হওয়া পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের উদ্যোক্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'গত মাস থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সবুজায়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই কাজে টেকনিক্যাল সহায়তা দিচ্ছে বিডি ক্লিন এবং সহযোগিতা করছে সুজন। উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস ক্লিন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও স্টেশনে ডাস্টবিন স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও উপজেলার খালগুলোকে পরিস্কার করে এর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরযোগ্য চাকা এবং ঢাকনাযুক্ত অত্যাধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সের সহায়তায় আপাতত আমরা প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরযোগ্য এসব আধুনিক ডাস্টবিন দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। বাবুগঞ্জ উপজেলাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন সবুজে ঘেরা একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।' #

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৫
পিরিয়ড নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। অথচ বিষয়টি ঘিরে সমাজে এখনো প্রচলিত রয়েছে নানা ভুল ধারণা, অযাচিত মন্তব্য ও অকারণ বিধিনিষেধ। কোথাও মেয়েদের চুপ থাকতে বলা হয়, কোথাও প্রশ্ন তোলা হয় তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ নিয়েও। এসব কথা ও আচরণ একসময় অদৃশ্য জালের মতো ঘিরে ধরে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতাকে।
সমাজের এই চেনা বাস্তবতাকে ভিন্নধর্মী ও প্রতীকী উপস্থাপনায় সামনে এনেছে এসএমসি জয়া স্যানিটারি ন্যাপকিন। দুটি কৌতূহলজাগানিয়া টিজারের পর প্রকাশিত নতুন টিভিসিতে পিরিয়ডকে ঘিরে তৈরি সামাজিক সংকোচ, কুসংস্কার ও নীরবতার সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এসব বাঁধন ভেঙে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা।
প্রচারণার টিজারগুলোতে পিরিয়ড নিয়ে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক কথাবার্তা ও ধারণাগুলোকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। পরিচিত এসব মন্তব্য কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে না; ধীরে ধীরে সেগুলো মেয়েদের চারপাশে তৈরি করে অদৃশ্য সীমারেখা। নতুন টিভিসিতে সেই বাস্তবতাই আরও বিস্তৃতভাবে ফুটে উঠেছে—কীভাবে ভুল ধারণা, সামাজিক চাপ ও অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ একজন মেয়ের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই প্রচারণার মূল বক্তব্য—পিরিয়ড নিয়ে অস্বস্তি, ভয় কিংবা গোপনীয়তা নয়; প্রয়োজন সঠিক তথ্য, সহমর্মিতা ও খোলামেলা আলোচনা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের দায়িত্ব মেয়েদের ভয় দেখানো বা সীমাবদ্ধ করে রাখা নয়; বরং তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।
এসএমসি জয়ার এই উদ্যোগ তাই কেবল একটি পণ্যের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পিরিয়ড নিয়ে সমাজে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলেরও আহ্বান। ভুল ধারণা ও অস্বস্তিকর নীরবতার জাল ছিন্ন করে মেয়েদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার বার্তাই উঠে এসেছে পুরো প্রচারণায়।
বার্তাটি স্পষ্ট—পিরিয়ড লজ্জা বা সংকোচের বিষয় নয়। কথার জাল ও ভুল ধারণার বাঁধন ভেঙে প্রতিটি মেয়ের অধিকার আছে স্বস্তি, স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার।
পিরিয়ড নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। অথচ বিষয়টি ঘিরে সমাজে এখনো প্রচলিত রয়েছে নানা ভুল ধারণা, অযাচিত মন্তব্য ও অকারণ বিধিনিষেধ। কোথাও মেয়েদের চুপ থাকতে বলা হয়, কোথাও প্রশ্ন তোলা হয় তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ নিয়েও। এসব কথা ও আচরণ একসময় অদৃশ্য জালের মতো ঘিরে ধরে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতাকে।
সমাজের এই চেনা বাস্তবতাকে ভিন্নধর্মী ও প্রতীকী উপস্থাপনায় সামনে এনেছে এসএমসি জয়া স্যানিটারি ন্যাপকিন। দুটি কৌতূহলজাগানিয়া টিজারের পর প্রকাশিত নতুন টিভিসিতে পিরিয়ডকে ঘিরে তৈরি সামাজিক সংকোচ, কুসংস্কার ও নীরবতার সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এসব বাঁধন ভেঙে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা।
প্রচারণার টিজারগুলোতে পিরিয়ড নিয়ে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক কথাবার্তা ও ধারণাগুলোকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। পরিচিত এসব মন্তব্য কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে না; ধীরে ধীরে সেগুলো মেয়েদের চারপাশে তৈরি করে অদৃশ্য সীমারেখা। নতুন টিভিসিতে সেই বাস্তবতাই আরও বিস্তৃতভাবে ফুটে উঠেছে—কীভাবে ভুল ধারণা, সামাজিক চাপ ও অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ একজন মেয়ের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই প্রচারণার মূল বক্তব্য—পিরিয়ড নিয়ে অস্বস্তি, ভয় কিংবা গোপনীয়তা নয়; প্রয়োজন সঠিক তথ্য, সহমর্মিতা ও খোলামেলা আলোচনা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের দায়িত্ব মেয়েদের ভয় দেখানো বা সীমাবদ্ধ করে রাখা নয়; বরং তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।
এসএমসি জয়ার এই উদ্যোগ তাই কেবল একটি পণ্যের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পিরিয়ড নিয়ে সমাজে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলেরও আহ্বান। ভুল ধারণা ও অস্বস্তিকর নীরবতার জাল ছিন্ন করে মেয়েদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার বার্তাই উঠে এসেছে পুরো প্রচারণায়।
বার্তাটি স্পষ্ট—পিরিয়ড লজ্জা বা সংকোচের বিষয় নয়। কথার জাল ও ভুল ধারণার বাঁধন ভেঙে প্রতিটি মেয়ের অধিকার আছে স্বস্তি, স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার।

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৯
স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২১
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩০
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৯
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৫