খাল নেই, নেই চলাচলের সংযোগ সড়ক। আশপাশে নেই দৃশ্যমান কোনো জলপ্রবাহের চিহ্নও। অথচ প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি গার্ডার সেতু। পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ধূলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় সরকারি অর্থায়নে চলমান এই সেতু নির্মাণকাজ ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব প্রয়োজন ও জনসাধারণের সুবিধা বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়েছে প্রকল্পটি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি শেষ পর্যন্ত কতটা জনকল্যাণে আসবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে নেওয়া প্রকল্পটির আওতায় ধূলাসার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানির ঈদের পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের শেষ দিকে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সেতুটির আশপাশে কয়েকটি বসতঘর রয়েছে। তবে সেতুর দুই প্রান্তে দৃশ্যমান কোনো সংযোগ সড়ক কিংবা খালের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে সেতুটি নির্মাণের পর মানুষ কীভাবে সেখানে যাতায়াত করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সেতুটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পরিবর্তন হয়ে জসিম উদ্দিন খানের প্রতিষ্ঠানের হাতে যায়। তবে ঠিকাদার পরিবর্তন, কার্যাদেশ হস্তান্তর কিংবা এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় উন্নয়ন হোক, এটা আমরা চাই। কিন্তু যেখানে খাল নেই, রাস্তা নেই, সেখানে এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী? সেতু নির্মাণের আগে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা ও জায়গার বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা উচিত ছিল।’
স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘সেতু হলে মানুষের উপকার হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে সেতুর দুই পাশে যাওয়ার মতো রাস্তা নেই। খালেরও অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না। তাহলে এই সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করবে কীভাবে? প্রকল্পের টাকা খরচ হলেই তো উন্নয়ন হয় না, মানুষের কাজে আসতে হবে। আমাদের এলাকায় সেতুর চেয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার বেশি জরুরি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সেতুর নির্মাণকাজের কারণে আশপাশের কয়েকটি পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে বিষয়টি দেখুক। জনগণের টাকায় এমন কোনো প্রকল্প হওয়া উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত মানুষের কোনো উপকারেই আসবে না।’
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কয়েক দিন আগে এলাকায় খালের দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকলেও ভেকু দিয়ে খালের নকশা তৈরির মতো কাজ করতে দেখা গেছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথভাবে স্থান পরিদর্শন, খালের অস্তিত্ব যাচাই এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না।
এদিকে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তবে প্রকল্পের বাস্তবতা ও নির্মাণকাজের যৌক্তিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পের নথি ও জবাবদিহি চান স্থানীয়রা
প্রায় আড়াই কোটি টাকার এই প্রকল্পে সেতু নির্মাণের স্থান কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, অনুমোদনের আগে খাল ও সংযোগ সড়কের অস্তিত্ব যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কী—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চান স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের দাবি, প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেতুটি স্থানীয়দের হাঁটাচলার সুবিধা দেবে। তবে প্রকল্পটির স্থান নির্বাচনের যৌক্তিকতা, নকশা, সম্ভাব্য উপকারভোগীর সংখ্যা, খালের অস্তিত্ব এবং পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ সময় তিনিও সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। কিন্তু যে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই, যে স্থানে খালের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, সেই সেতুর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রায় আড়াই কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের কী কাজে আসবে, নাকি এটি অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকবে—এখন সেই প্রশ্নের জবাব চান স্থানীয়রা।

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৩
নিজের ঠিকানা মনে করতে পারছেন না। মনে করতে পারছেন না কোথায় তাঁর বাড়ি, কোন গ্রামে ফেলে এসেছেন জীবনের চেনা মানুষগুলোকে। অথচ স্বামী, সন্তান ও স্বজনদের নামগুলো এখনো স্পষ্ট মনে আছে। তাই তো বারবার মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন আর আকুতি জানাচ্ছেন—‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা কুলসুম বেগমের জীবনের গল্পটি এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’। আপাতত সংগঠনটির উদ্যোগে তাঁর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে সংগঠনটির তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ে রয়েছেন কুলসুম বেগম। স্বজনদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধা কুলসুম বেগমের বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। তাঁর স্বামীর নাম মোক্তার সিকদার (কুদ্দুস)। চার সন্তানের জননী তিনি। তাঁর এক ছেলের নাম ইব্রাহিম এবং তিন মেয়ের নাম সুফিয়া, ফিরোজা ও পারুল। এ ছাড়া তাঁর তিন দেবরের নাম জব্বার, হামিদ ও সত্তার। স্বামী একসময় ধান-চালের ব্যবসা করতেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের নাম, স্বামীর পেশা ও পারিবারিক নানা তথ্য মনে থাকলেও নিজের গ্রামের নাম, ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা জেলার পরিচয় স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না কুলসুম বেগম। তবে কথার ফাঁকে বারবার তাঁর মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ‘ঝিকরগাছা’ নামটি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তাঁর বাড়ির এলাকা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি নিয়ে বারবার বলছেন, ‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’ তাঁর এই আকুতি এখন মানবিক মানুষের সহায়তার অপেক্ষায়।
বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ তাঁর স্বামী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন কিংবা সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য জানলে সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন বলেন, ‘বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে আমরা পথে পথে ঘুরতে দেখেছি। তাঁর অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছি। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যতদিন তাঁর স্বজনদের খোঁজ পাওয়া না যাবে, ততদিন তিনি আমাদের তত্ত্বাবধানে থাকবেন।’
একজন অসহায় বৃদ্ধার একটাই চাওয়া—হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়া। হয়তো কারও একটি তথ্য, একটি ফোনকল কিংবা সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে কুলসুম বেগমের জীবনের হারিয়ে যাওয়া ঠিকানা।
নিজের ঠিকানা মনে করতে পারছেন না। মনে করতে পারছেন না কোথায় তাঁর বাড়ি, কোন গ্রামে ফেলে এসেছেন জীবনের চেনা মানুষগুলোকে। অথচ স্বামী, সন্তান ও স্বজনদের নামগুলো এখনো স্পষ্ট মনে আছে। তাই তো বারবার মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন আর আকুতি জানাচ্ছেন—‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা কুলসুম বেগমের জীবনের গল্পটি এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’। আপাতত সংগঠনটির উদ্যোগে তাঁর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে সংগঠনটির তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ে রয়েছেন কুলসুম বেগম। স্বজনদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধা কুলসুম বেগমের বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। তাঁর স্বামীর নাম মোক্তার সিকদার (কুদ্দুস)। চার সন্তানের জননী তিনি। তাঁর এক ছেলের নাম ইব্রাহিম এবং তিন মেয়ের নাম সুফিয়া, ফিরোজা ও পারুল। এ ছাড়া তাঁর তিন দেবরের নাম জব্বার, হামিদ ও সত্তার। স্বামী একসময় ধান-চালের ব্যবসা করতেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের নাম, স্বামীর পেশা ও পারিবারিক নানা তথ্য মনে থাকলেও নিজের গ্রামের নাম, ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা জেলার পরিচয় স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না কুলসুম বেগম। তবে কথার ফাঁকে বারবার তাঁর মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ‘ঝিকরগাছা’ নামটি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তাঁর বাড়ির এলাকা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি নিয়ে বারবার বলছেন, ‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’ তাঁর এই আকুতি এখন মানবিক মানুষের সহায়তার অপেক্ষায়।
বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ তাঁর স্বামী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন কিংবা সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য জানলে সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন বলেন, ‘বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে আমরা পথে পথে ঘুরতে দেখেছি। তাঁর অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছি। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যতদিন তাঁর স্বজনদের খোঁজ পাওয়া না যাবে, ততদিন তিনি আমাদের তত্ত্বাবধানে থাকবেন।’
একজন অসহায় বৃদ্ধার একটাই চাওয়া—হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়া। হয়তো কারও একটি তথ্য, একটি ফোনকল কিংবা সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে কুলসুম বেগমের জীবনের হারিয়ে যাওয়া ঠিকানা।

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১৯
১৫ তলা পাঁচতারা হোটেলসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধানে এমপি মাসুদ সাঈদী
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের এ প্রকল্পে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিকে প্রচারে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন তিনি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি সেখানে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিনা মূল্যে অবস্থানের সুযোগ এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
১৫ তলা পাঁচতারা হোটেলসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধানে এমপি মাসুদ সাঈদী
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের এ প্রকল্পে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিকে প্রচারে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন তিনি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি সেখানে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিনা মূল্যে অবস্থানের সুযোগ এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে অবৈধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবল ও স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যের হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম এবং অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক মো. শাহজালাল।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ। স্পিডবোট নিয়ে নদীতে থাকা ট্রলারগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে জেলেরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করার পর একটি ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই ট্রলারে থাকা ১০ থেকে ১২ জন জেলে বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান।
অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের সদস্য সুধাংশু জানান, জেলেরা প্রথমে স্পিডবোটের চালক শাহজালালকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ কনস্টেবল জসিম এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এতে তার হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ডাবল ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “অসাধু জেলেদের আটক করতে গেলে স্পিডবোটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত জেলেদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে অবৈধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবল ও স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যের হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম এবং অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক মো. শাহজালাল।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে যৌথ অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ। স্পিডবোট নিয়ে নদীতে থাকা ট্রলারগুলোর দিকে এগিয়ে গেলে জেলেরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করার পর একটি ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই ট্রলারে থাকা ১০ থেকে ১২ জন জেলে বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারী দলের ওপর হামলা চালান।
অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের সদস্য সুধাংশু জানান, জেলেরা প্রথমে স্পিডবোটের চালক শাহজালালকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে পুলিশ কনস্টেবল জসিম এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এতে তার হাত কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ডাবল ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “অসাধু জেলেদের আটক করতে গেলে স্পিডবোটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত জেলেদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২২
খাল নেই, নেই চলাচলের সংযোগ সড়ক। আশপাশে নেই দৃশ্যমান কোনো জলপ্রবাহের চিহ্নও। অথচ প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি গার্ডার সেতু। পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ধূলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় সরকারি অর্থায়নে চলমান এই সেতু নির্মাণকাজ ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব প্রয়োজন ও জনসাধারণের সুবিধা বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়েছে প্রকল্পটি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি শেষ পর্যন্ত কতটা জনকল্যাণে আসবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে নেওয়া প্রকল্পটির আওতায় ধূলাসার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানির ঈদের পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের শেষ দিকে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সেতুটির আশপাশে কয়েকটি বসতঘর রয়েছে। তবে সেতুর দুই প্রান্তে দৃশ্যমান কোনো সংযোগ সড়ক কিংবা খালের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে সেতুটি নির্মাণের পর মানুষ কীভাবে সেখানে যাতায়াত করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সেতুটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পরিবর্তন হয়ে জসিম উদ্দিন খানের প্রতিষ্ঠানের হাতে যায়। তবে ঠিকাদার পরিবর্তন, কার্যাদেশ হস্তান্তর কিংবা এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় উন্নয়ন হোক, এটা আমরা চাই। কিন্তু যেখানে খাল নেই, রাস্তা নেই, সেখানে এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী? সেতু নির্মাণের আগে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা ও জায়গার বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা উচিত ছিল।’
স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘সেতু হলে মানুষের উপকার হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে সেতুর দুই পাশে যাওয়ার মতো রাস্তা নেই। খালেরও অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না। তাহলে এই সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করবে কীভাবে? প্রকল্পের টাকা খরচ হলেই তো উন্নয়ন হয় না, মানুষের কাজে আসতে হবে। আমাদের এলাকায় সেতুর চেয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার বেশি জরুরি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সেতুর নির্মাণকাজের কারণে আশপাশের কয়েকটি পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে বিষয়টি দেখুক। জনগণের টাকায় এমন কোনো প্রকল্প হওয়া উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত মানুষের কোনো উপকারেই আসবে না।’
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কয়েক দিন আগে এলাকায় খালের দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকলেও ভেকু দিয়ে খালের নকশা তৈরির মতো কাজ করতে দেখা গেছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথভাবে স্থান পরিদর্শন, খালের অস্তিত্ব যাচাই এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না।
এদিকে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তবে প্রকল্পের বাস্তবতা ও নির্মাণকাজের যৌক্তিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পের নথি ও জবাবদিহি চান স্থানীয়রা
প্রায় আড়াই কোটি টাকার এই প্রকল্পে সেতু নির্মাণের স্থান কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, অনুমোদনের আগে খাল ও সংযোগ সড়কের অস্তিত্ব যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কী—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চান স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের দাবি, প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেতুটি স্থানীয়দের হাঁটাচলার সুবিধা দেবে। তবে প্রকল্পটির স্থান নির্বাচনের যৌক্তিকতা, নকশা, সম্ভাব্য উপকারভোগীর সংখ্যা, খালের অস্তিত্ব এবং পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ সময় তিনিও সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। কিন্তু যে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই, যে স্থানে খালের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, সেই সেতুর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রায় আড়াই কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের কী কাজে আসবে, নাকি এটি অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকবে—এখন সেই প্রশ্নের জবাব চান স্থানীয়রা।
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩২
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২২
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৩
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০০