
০২ জুন, ২০২৫ ২০:২১
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশ থেকে পলায়ন করা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস যেদিন চেয়ারে বসেছিলেন সেই তারিখ অনুযায়ী গতকাল রবিবার (১ জুন) পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে।
যে গেজেটের অধীনে তাকে মেয়র পদে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), সেই গেজেট অনুসারে ডিএসসিসির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে মেয়র পদে গেজেট পেলেও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের।
এ দিকে ইশরাককে শপথ পড়ানোর দাবিতে ১৭ দিন ধরে আন্দোলন করছেন তার সমর্থকরা। ১৪ দিনের বেশি সময় ধরে নগর ভবনে তালা দিয়ে রেখেছেন তারা। আজ সোমবারও নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন ইশরাক সমর্থকরা। এ সময় তারা বলেন, ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ালে নগর ভবনের তালা খুলতে দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে ধোঁয়াশায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করা হয় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে। এছাড়া এক মাস আগে সেই অনুযায়ী গেজেটও প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১২টি বাধার কথা সামনে এনে ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর আয়োজন করেনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন আইনানুযায়ী নির্বাচিত করপোরেশনের মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। তাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন।
নির্বাচন কমিশন ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে। এরপর শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তাপস। তবে ফলাফল বাতিল করে নিজেকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন ইশরাক।
ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মার্চ তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে ইসিকে নির্দেশ দিলে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গেজেটেই ইশরাকের নাম প্রতিস্থাপন করে সংশোধন আনে গত ২৭ এপ্রিল। এ দিকে তাপস মেয়র হওয়ার পর প্রথম সভা করেন ২০২০ সালের ২ জুন।
আইনানুযায়ী, তখন থেকে পাঁচ বছর হিসাব করলে মেয়াদপূর্ণ করার দিন ২০২৫ সালের ১ জুন। আর তাপসের সময় থেকেই মেয়াদ হিসেব করার পক্ষে মতামত দিচ্ছেন ইসি কর্মকর্তারা। তাদের যুক্তি, ইশরাকের নামে তো নতুন করে গেজেট হয়নি, আগের গেজেটেই কেবল তার নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
পাঁচ বছর আগে ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে তাপস পেয়েছিলেন সোয়া চার লাখ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক পান দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোট। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক।
গতকাল রবিবার ইশরাক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘ইশরাকের ব্যাপারে আদালতের কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। অবজারভেশন ও নির্দেশনা যেটা আসবে সেই অনুযায়ী আমাদের এখান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এটাই হচ্ছে আমাদের কাছে সর্বশেষ অবস্থা। আমি আপনাকে আবারো বলছি, কোনো কাগজ না পাওয়া পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না। আইনগতভাবে বিষয়টি কোনদিকে গড়াবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। কমিশনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি আছে। কাজেই কাগজটা আগে হাতে পাই, তখন আইনগত সিদ্ধান্ত।’
এরআগে, গত ২৯ মে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল (আপিলর অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হয়েছিল, তা পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত আদেশে বলা হয়, এই মামলা থেকে উদ্ভূত প্রশ্নের সুরাহার বাধ্যবাধকতা সাংবিধানিক এবং আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
তাই সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের পরও ইশরাক হোসেনের মেয়র পদ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যায়। শপথ নিয়ে তিনি এই পদে বসতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে তিন পক্ষ তিন ধরনের কথা বলেন।
এদিন আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন আইনজীবী ইয়াসিন খান। লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা। ইশরাকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান।
আদেশের পর লিভ টু আপিলকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ দিয়ে আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন এখন যথা শিগগিরই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে (যে রায়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়) আপিল দায়ের করবে। আর যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা আবার আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’
এই আইনজীবী বলেন, ‘রিটের আদেশে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন, যারা পক্ষ ছিল (মামলার) তারা আপিল করতে পারবে। আপিল করার ক্ষেত্রে তাদের যদি নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে সেই বাধ্যবাধকতা মার্জনা করে হলেও তাদের (পক্ষগুলোর) আপিল গ্রহণ করতে হবে। আর আজ আপিল বিভাগ বলে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে।
এখন হাইকোর্ট আর আপিল বিভাগের আদশ একসঙ্গে পড়লে এটাই দাঁড়ায় যে, আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আপিল করতে বলেছেন। ফলে ইশরাক হোসেনকে এখন আর শপথ পড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ গেজেটের মেয়াদ শেষ।’
ইশরাকের আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলকারী গেজেট স্থগিত চেয়েছিলেন। আপিল বিভাগ সেটি স্থগিত করেননি। কোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, এ ব্যাপারে ইসিই সিদ্ধান্ত নিবে।
ইসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে আপিল করতে বলেছিল। কিন্তু ইসি চিঠি দিয়ে বলেছে, এই মামলার (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মামলা) কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ না। আদালতের আদেশ অনুসারে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ইসি আপিল করবে না।’
ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ। ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয় রিটে। সেই সঙ্গে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও রিটে চাওয়া হয়।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশ থেকে পলায়ন করা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস যেদিন চেয়ারে বসেছিলেন সেই তারিখ অনুযায়ী গতকাল রবিবার (১ জুন) পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে।
যে গেজেটের অধীনে তাকে মেয়র পদে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), সেই গেজেট অনুসারে ডিএসসিসির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে মেয়র পদে গেজেট পেলেও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের।
এ দিকে ইশরাককে শপথ পড়ানোর দাবিতে ১৭ দিন ধরে আন্দোলন করছেন তার সমর্থকরা। ১৪ দিনের বেশি সময় ধরে নগর ভবনে তালা দিয়ে রেখেছেন তারা। আজ সোমবারও নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন ইশরাক সমর্থকরা। এ সময় তারা বলেন, ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ালে নগর ভবনের তালা খুলতে দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে ধোঁয়াশায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করা হয় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে। এছাড়া এক মাস আগে সেই অনুযায়ী গেজেটও প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১২টি বাধার কথা সামনে এনে ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর আয়োজন করেনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন আইনানুযায়ী নির্বাচিত করপোরেশনের মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। তাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন।
নির্বাচন কমিশন ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে। এরপর শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তাপস। তবে ফলাফল বাতিল করে নিজেকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন ইশরাক।
ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মার্চ তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে ইসিকে নির্দেশ দিলে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গেজেটেই ইশরাকের নাম প্রতিস্থাপন করে সংশোধন আনে গত ২৭ এপ্রিল। এ দিকে তাপস মেয়র হওয়ার পর প্রথম সভা করেন ২০২০ সালের ২ জুন।
আইনানুযায়ী, তখন থেকে পাঁচ বছর হিসাব করলে মেয়াদপূর্ণ করার দিন ২০২৫ সালের ১ জুন। আর তাপসের সময় থেকেই মেয়াদ হিসেব করার পক্ষে মতামত দিচ্ছেন ইসি কর্মকর্তারা। তাদের যুক্তি, ইশরাকের নামে তো নতুন করে গেজেট হয়নি, আগের গেজেটেই কেবল তার নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
পাঁচ বছর আগে ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে তাপস পেয়েছিলেন সোয়া চার লাখ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক পান দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোট। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক।
গতকাল রবিবার ইশরাক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘ইশরাকের ব্যাপারে আদালতের কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। অবজারভেশন ও নির্দেশনা যেটা আসবে সেই অনুযায়ী আমাদের এখান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এটাই হচ্ছে আমাদের কাছে সর্বশেষ অবস্থা। আমি আপনাকে আবারো বলছি, কোনো কাগজ না পাওয়া পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না। আইনগতভাবে বিষয়টি কোনদিকে গড়াবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। কমিশনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি আছে। কাজেই কাগজটা আগে হাতে পাই, তখন আইনগত সিদ্ধান্ত।’
এরআগে, গত ২৯ মে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল (আপিলর অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হয়েছিল, তা পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত আদেশে বলা হয়, এই মামলা থেকে উদ্ভূত প্রশ্নের সুরাহার বাধ্যবাধকতা সাংবিধানিক এবং আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
তাই সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের পরও ইশরাক হোসেনের মেয়র পদ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যায়। শপথ নিয়ে তিনি এই পদে বসতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে তিন পক্ষ তিন ধরনের কথা বলেন।
এদিন আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন আইনজীবী ইয়াসিন খান। লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা। ইশরাকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান।
আদেশের পর লিভ টু আপিলকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ দিয়ে আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। আমরা আশা করব নির্বাচন কমিশন এখন যথা শিগগিরই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে (যে রায়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়) আপিল দায়ের করবে। আর যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা আবার আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’
এই আইনজীবী বলেন, ‘রিটের আদেশে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন, যারা পক্ষ ছিল (মামলার) তারা আপিল করতে পারবে। আপিল করার ক্ষেত্রে তাদের যদি নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে সেই বাধ্যবাধকতা মার্জনা করে হলেও তাদের (পক্ষগুলোর) আপিল গ্রহণ করতে হবে। আর আজ আপিল বিভাগ বলে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে।
এখন হাইকোর্ট আর আপিল বিভাগের আদশ একসঙ্গে পড়লে এটাই দাঁড়ায় যে, আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আপিল করতে বলেছেন। ফলে ইশরাক হোসেনকে এখন আর শপথ পড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ গেজেটের মেয়াদ শেষ।’
ইশরাকের আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলকারী গেজেট স্থগিত চেয়েছিলেন। আপিল বিভাগ সেটি স্থগিত করেননি। কোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, এ ব্যাপারে ইসিই সিদ্ধান্ত নিবে।
ইসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে আপিল করতে বলেছিল। কিন্তু ইসি চিঠি দিয়ে বলেছে, এই মামলার (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মামলা) কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ না। আদালতের আদেশ অনুসারে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ইসি আপিল করবে না।’
ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ। ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয় রিটে। সেই সঙ্গে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও রিটে চাওয়া হয়।

১২ মে, ২০২৬ ১২:১৯
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক-বাস্তবমুখী করতে কাজ করছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থী এবং এলামনাইদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh : Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা গবেষণা ও জ্ঞানে উৎকর্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি বলেন, র্যাংকিং ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকে মনে হয় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদদের আরও চিন্তাভাবনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে মনে হয় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কিছুটা হলেও কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে, এটিই স্বাভাবিক।
এলামনাইদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে, আমি যতটুকু জানি- ব্রিটেনসহ অনেক দেশই যারা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সাধারণত পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।
তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অর্থবিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেই সব এলামনাইদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।
এদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন। অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর। সেদিন তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন।
কর্মশালায় পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খানও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক-বাস্তবমুখী করতে কাজ করছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থী এবং এলামনাইদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh : Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা গবেষণা ও জ্ঞানে উৎকর্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি বলেন, র্যাংকিং ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকে মনে হয় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদদের আরও চিন্তাভাবনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে মনে হয় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কিছুটা হলেও কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে, এটিই স্বাভাবিক।
এলামনাইদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে, আমি যতটুকু জানি- ব্রিটেনসহ অনেক দেশই যারা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সাধারণত পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।
তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অর্থবিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেই সব এলামনাইদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।
এদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন। অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর। সেদিন তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন।
কর্মশালায় পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খানও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন।

১১ মে, ২০২৬ ১২:৪২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের পর এবার সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব ছাড়লেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লিখেছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রোক্টর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছি।
তিনি লেখেন, শিক্ষকতা পেশার সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না তার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবেননি কখনো।
তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের ফোন পাওয়ার পর দায়িত্বটি নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে জানান তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এতো বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি!!
তিনি আরও লেখেন, একে তো নতুন বাংলাদেশ অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার ওপর আমার ডিপার্ট্মেন্টের বড় ভাই -স্যার, আমি মানা করব!???
সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, গত দুটি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছে, কিভাবে একজন প্রক্টরকে, অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যেকেল দিতে হয় আর সর্বপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।
তিনি আরও লেখেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় তিনি শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন, ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি।
নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করব না। আমি জানিও না ট বি ট্রু।
তিনি লেখেন, আমি কেবল জানি একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সঙ্গে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।
জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, জুলাই এবং জুলাই পরবর্তী এমন সময় আর সিচুয়েশন আদোও এই দেশে আর আসবে কিনা আমি জানিনা। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, প্রবাব্লি, করবেও নাহ।
নতুন প্রক্টর ও তার টিমকে শুভকামনা জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, আমার দলের সঙ্গে এবং আমাদের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্যারের নেতৃত্বে কাজ করা আমার জন্য পরম সম্মানের বিষয় ছিল। আমাদের নতুন প্রোক্টর এবং তাদের দলকে অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে দলটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের পর এবার সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব ছাড়লেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লিখেছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রোক্টর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছি।
তিনি লেখেন, শিক্ষকতা পেশার সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না তার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবেননি কখনো।
তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের ফোন পাওয়ার পর দায়িত্বটি নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে জানান তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এতো বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি!!
তিনি আরও লেখেন, একে তো নতুন বাংলাদেশ অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার ওপর আমার ডিপার্ট্মেন্টের বড় ভাই -স্যার, আমি মানা করব!???
সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, গত দুটি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছে, কিভাবে একজন প্রক্টরকে, অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যেকেল দিতে হয় আর সর্বপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।
তিনি আরও লেখেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় তিনি শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন, ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি।
নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করব না। আমি জানিও না ট বি ট্রু।
তিনি লেখেন, আমি কেবল জানি একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সঙ্গে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।
জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, জুলাই এবং জুলাই পরবর্তী এমন সময় আর সিচুয়েশন আদোও এই দেশে আর আসবে কিনা আমি জানিনা। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, প্রবাব্লি, করবেও নাহ।
নতুন প্রক্টর ও তার টিমকে শুভকামনা জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, আমার দলের সঙ্গে এবং আমাদের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্যারের নেতৃত্বে কাজ করা আমার জন্য পরম সম্মানের বিষয় ছিল। আমাদের নতুন প্রোক্টর এবং তাদের দলকে অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে দলটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

১০ মে, ২০২৬ ১২:৩৫
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৫০ হাজার জনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ও প্রশ্ন ওঠায় বাহিনীতে অভ্যন্তরীণ এই তদন্ত চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তে পুলিশের এই অর্ধলক্ষ সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, এমনকি স্থায়ী ঠিকানার সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার ও দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে সরকার।
এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বিগত ১০ বছরের পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়গুলো তদন্তে পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ দেওয়া হয়।
এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে এক জেলার প্রার্থীকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ, রাজনৈতিক সুপারিশ থাকা তালিকা ব্যবহার এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অজুহাতে মেধাবীদের বাদ দিয়ে দলীয় লোকজনকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করাসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তরকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তর জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ এবং রিজার্ভ অফিস ইন্সপেক্টর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন এপ্রিলের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা ৬৪ জেলায় পৌঁছানোর পর জেলা পুলিশ নিয়োগের তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জেলা থেকে থানা পর্যায়ে পাঠানো এ-সংক্রান্ত চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলরা ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন কি না, অন্য জেলার প্রার্থীকে জমি কেনার ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছে কি না, কিংবা অর্থের বিনিময়ে বিশেষ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে কি না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা বা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের সিরাজগঞ্জ জেলার এক উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে চিঠি পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন। ওই সময়ে তাঁর থানা এলাকার ৩০-৩৫ জন কনস্টেবল নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে স্থায়ী ঠিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে কিছু সমস্যাও হচ্ছে। যেমন—নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের কনফিডেনশিয়াল শাখার উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কামরুল আহসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন আসতে শুরু করেছে। সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে। রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শাখা বিষয়টি দেখভাল করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কনস্টেবল পদে ৫০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োগ পান। বাকিরা ছিলেন উপপরিদর্শক পদের।
বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণ করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে পুলিশকে ব্যবহার করতেই দলীয় লোকজনকে বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাদের।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত বগুড়ার এক কনস্টেবল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনিয়ম করে কেউ চাকরি নিলে তদন্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে যাঁরা নিয়ম মেনে চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটাও দেখতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের আমলে কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক নিয়োগেও জেলা কোটা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি আরও বলছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৩তম থেকে ৪০তম ব্যাচে অন্তত ১৫ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দ্রুত মাঠে নামাতে উপপরিদর্শকদের দুই বছরের প্রশিক্ষণ এক বছরে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এমনকি লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত শেষে সন্দেহজনকভাবে নিয়োগ পাওয়া উপপরিদর্শকদের বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হবে। বিশেষ করে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জের নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে যাচাইয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, বিভিন্ন সময়েই টিআরসি নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ শোনা যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন, আবার কেউ সহজে পার হয়ে যান। নিয়োগপ্রক্রিয়াকে মানসম্মত ও স্বচ্ছ করা গেলে ভবিষ্যতে এমন তদন্তের প্রয়োজন পড়বে না। সব সরকারেরই উচিত অন্তত ছোট ছোট নিয়োগেও রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ চাপিয়ে না দেওয়া।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৫০ হাজার জনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ও প্রশ্ন ওঠায় বাহিনীতে অভ্যন্তরীণ এই তদন্ত চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তে পুলিশের এই অর্ধলক্ষ সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, এমনকি স্থায়ী ঠিকানার সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার ও দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে সরকার।
এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বিগত ১০ বছরের পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়গুলো তদন্তে পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ দেওয়া হয়।
এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে এক জেলার প্রার্থীকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ, রাজনৈতিক সুপারিশ থাকা তালিকা ব্যবহার এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অজুহাতে মেধাবীদের বাদ দিয়ে দলীয় লোকজনকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করাসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তরকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তর জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ এবং রিজার্ভ অফিস ইন্সপেক্টর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন এপ্রিলের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা ৬৪ জেলায় পৌঁছানোর পর জেলা পুলিশ নিয়োগের তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জেলা থেকে থানা পর্যায়ে পাঠানো এ-সংক্রান্ত চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলরা ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন কি না, অন্য জেলার প্রার্থীকে জমি কেনার ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছে কি না, কিংবা অর্থের বিনিময়ে বিশেষ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে কি না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা বা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের সিরাজগঞ্জ জেলার এক উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে চিঠি পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন। ওই সময়ে তাঁর থানা এলাকার ৩০-৩৫ জন কনস্টেবল নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে স্থায়ী ঠিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে কিছু সমস্যাও হচ্ছে। যেমন—নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের কনফিডেনশিয়াল শাখার উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কামরুল আহসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন আসতে শুরু করেছে। সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে। রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শাখা বিষয়টি দেখভাল করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কনস্টেবল পদে ৫০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োগ পান। বাকিরা ছিলেন উপপরিদর্শক পদের।
বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ বাহিনীকে দলীয়করণ করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে পুলিশকে ব্যবহার করতেই দলীয় লোকজনকে বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তাদের।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত বগুড়ার এক কনস্টেবল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনিয়ম করে কেউ চাকরি নিলে তদন্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে যাঁরা নিয়ম মেনে চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটাও দেখতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের আমলে কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক নিয়োগেও জেলা কোটা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি আরও বলছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৩তম থেকে ৪০তম ব্যাচে অন্তত ১৫ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দ্রুত মাঠে নামাতে উপপরিদর্শকদের দুই বছরের প্রশিক্ষণ এক বছরে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এমনকি লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত শেষে সন্দেহজনকভাবে নিয়োগ পাওয়া উপপরিদর্শকদের বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হবে। বিশেষ করে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জের নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে যাচাইয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, বিভিন্ন সময়েই টিআরসি নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ শোনা যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন, আবার কেউ সহজে পার হয়ে যান। নিয়োগপ্রক্রিয়াকে মানসম্মত ও স্বচ্ছ করা গেলে ভবিষ্যতে এমন তদন্তের প্রয়োজন পড়বে না। সব সরকারেরই উচিত অন্তত ছোট ছোট নিয়োগেও রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ চাপিয়ে না দেওয়া।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.