বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত দুই কর্মচারী, ঘুস লেনদেনের ভিডিও ঘিরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুস গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে দুই নারী কর্মচারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক রাসেল মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন।
প্রত্যাহার হওয়া দুই কর্মচারী হলেন শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা আক্তার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া আক্তার।
সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে ঘুস লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন ওঠে।
এ ছাড়া ঘুস লেনদেনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মিরাজ নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগও ওঠে। ঘটনাটি ঘিরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে তাঁদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার জারি করা আদেশে সানজিদা আক্তার ও সুরাইয়া আক্তারকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক রাসেল মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পৃথক তদন্তের ফলাফল, অভিযুক্তদের বক্তব্য কিংবা ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমি অফিসে নামজারি, জমির খাজনা, ভূমিসংক্রান্ত নথি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা নিতে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত যেতে হয়। এসব সেবা পেতে ঘুস বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে জনসাধারণের মধ্যে প্রশাসনিক সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।’

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৩
বরিশালের উজিরপুরে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোববার দিবাগত রাতে বানারীপাড়া উপজেলার কুন্দিহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সোমবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রতিবেশী জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কিশোরী বাড়ির পাশের ডোবার পাড়ে কলমি শাক তুলতে গেলে অভিযুক্ত তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় এসআরবি-৮-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। রোববার দিবাগত রাতে বানারীপাড়ার কুন্দিহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার জাকির হোসেনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। সোমবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের উজিরপুরে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোববার দিবাগত রাতে বানারীপাড়া উপজেলার কুন্দিহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সোমবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রতিবেশী জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কিশোরী বাড়ির পাশের ডোবার পাড়ে কলমি শাক তুলতে গেলে অভিযুক্ত তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় এসআরবি-৮-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। রোববার দিবাগত রাতে বানারীপাড়ার কুন্দিহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার জাকির হোসেনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। সোমবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৫
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া পেলে এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এটি গতিপথ পরিবর্তন করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং আগামী বুধবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায়।
এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের অবস্থান ও সম্ভাব্য গতিপথের ওপর নির্ভর করে দেশের উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, শক্তি ও উপকূলে আঘাত হানার সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন ও সরকারি সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া পেলে এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এটি গতিপথ পরিবর্তন করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং আগামী বুধবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায়।
এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের অবস্থান ও সম্ভাব্য গতিপথের ওপর নির্ভর করে দেশের উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, শক্তি ও উপকূলে আঘাত হানার সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন ও সরকারি সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৩
কৃষক-প্রজার অধিকার, শিক্ষা বিস্তার ও গণমানুষের রাজনীতিতে অনন্য এক নাম
আজ ২৬ অক্টোবর, অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও কৃষক-প্রজার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলার রাজনীতির এমন এক ব্যক্তিত্বকে, যাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষা বিস্তার ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
‘শেরে বাংলা’ অর্থ বাংলার বাঘ। সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এই উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘হক সাহেব’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
শেরে বাংলার শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ কৃতিত্বে ভরা। তাঁর বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ছিলেন আইনজীবী এবং মা সৈয়দুন্নেছা খাতুন। শৈশবে বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর গণিতে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও মেধার এই ভিত্তি তাঁকে পরবর্তী সময়ে আইন পেশা এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের দুরবস্থা, জমিদারি শোষণ এবং মহাজনি ঋণের বোঝা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে।
শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষক-প্রজার স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তৎকালীন বাংলার কৃষকদের বড় একটি অংশ ঋণ, খাজনা ও জমিসংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করেন সংগঠিত আন্দোলন ও আইন প্রণয়নের হাতিয়ার হিসেবে।
১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। দলটির রাজনীতিতে কৃষকের ঋণমুক্তি, জমিদারি শোষণ হ্রাস এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী বা প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হয়।
তাঁর সরকারের সময়ে কৃষকদের ঋণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং মহাজনি ঋণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হয়। বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন, মহাজনি আইন এবং প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধন কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান তাঁকে প্রচলিত অভিজাত রাজনীতির বাইরে একটি স্বতন্ত্র জনভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরে বাংলার সবচেয়ে আলোচিত অবদানগুলোর একটি হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। ২৩ মার্চ লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও দেশভাগের রাজনীতিতে এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এটি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আর সেই ঘটনার সঙ্গে শেরে বাংলার নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি দল বা একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটেরও পরিবর্তন ঘটে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেরে বাংলা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ওই বছর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী বিজয় পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে শেরে বাংলার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি গভর্নরের পদে ছিলেন।
তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা ছিল বৈচিত্র্যময় এবং ঘটনাবহুল। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও কৃষক-প্রজার নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি বাংলার রাজনৈতিক স্মৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।
শেরে বাংলার জীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সম্পর্ক গভীর। তাঁর জন্মস্থান বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রাম। আর তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে; তাঁর পরিবারের সঙ্গে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামেরও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বৃহত্তর বরিশালের এই কৃতী সন্তান পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেন। তাঁর জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকাগুলো কেবল একটি ব্যক্তির শৈশবের স্মৃতি বহন করে না; এগুলো বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে শেরে বাংলা বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কৃষিনির্ভর বাংলার বাস্তবতা তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হয়।
তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতি এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব প্রদান।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা মতবিরোধ, জোট পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিতর্কও ছিল। একজন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি বাংলার কৃষকসমাজের ইতিহাস, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ। তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—জনগণের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কৃষক-প্রজার অধিকার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।
কৃষক-প্রজার অধিকার, শিক্ষা বিস্তার ও গণমানুষের রাজনীতিতে অনন্য এক নাম
আজ ২৬ অক্টোবর, অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও কৃষক-প্রজার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলার রাজনীতির এমন এক ব্যক্তিত্বকে, যাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষা বিস্তার ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
‘শেরে বাংলা’ অর্থ বাংলার বাঘ। সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এই উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘হক সাহেব’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
শেরে বাংলার শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ কৃতিত্বে ভরা। তাঁর বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ছিলেন আইনজীবী এবং মা সৈয়দুন্নেছা খাতুন। শৈশবে বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর গণিতে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও মেধার এই ভিত্তি তাঁকে পরবর্তী সময়ে আইন পেশা এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের দুরবস্থা, জমিদারি শোষণ এবং মহাজনি ঋণের বোঝা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে।
শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষক-প্রজার স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তৎকালীন বাংলার কৃষকদের বড় একটি অংশ ঋণ, খাজনা ও জমিসংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করেন সংগঠিত আন্দোলন ও আইন প্রণয়নের হাতিয়ার হিসেবে।
১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। দলটির রাজনীতিতে কৃষকের ঋণমুক্তি, জমিদারি শোষণ হ্রাস এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী বা প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হয়।
তাঁর সরকারের সময়ে কৃষকদের ঋণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং মহাজনি ঋণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হয়। বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন, মহাজনি আইন এবং প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধন কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান তাঁকে প্রচলিত অভিজাত রাজনীতির বাইরে একটি স্বতন্ত্র জনভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরে বাংলার সবচেয়ে আলোচিত অবদানগুলোর একটি হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। ২৩ মার্চ লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও দেশভাগের রাজনীতিতে এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এটি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আর সেই ঘটনার সঙ্গে শেরে বাংলার নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি দল বা একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটেরও পরিবর্তন ঘটে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেরে বাংলা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ওই বছর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী বিজয় পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে শেরে বাংলার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি গভর্নরের পদে ছিলেন।
তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা ছিল বৈচিত্র্যময় এবং ঘটনাবহুল। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও কৃষক-প্রজার নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি বাংলার রাজনৈতিক স্মৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।
শেরে বাংলার জীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সম্পর্ক গভীর। তাঁর জন্মস্থান বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রাম। আর তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে; তাঁর পরিবারের সঙ্গে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামেরও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বৃহত্তর বরিশালের এই কৃতী সন্তান পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেন। তাঁর জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকাগুলো কেবল একটি ব্যক্তির শৈশবের স্মৃতি বহন করে না; এগুলো বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে শেরে বাংলা বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কৃষিনির্ভর বাংলার বাস্তবতা তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হয়।
তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতি এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব প্রদান।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা মতবিরোধ, জোট পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিতর্কও ছিল। একজন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি বাংলার কৃষকসমাজের ইতিহাস, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ। তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—জনগণের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কৃষক-প্রজার অধিকার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত দুই কর্মচারী, ঘুস লেনদেনের ভিডিও ঘিরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুস গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে দুই নারী কর্মচারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক রাসেল মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন।
প্রত্যাহার হওয়া দুই কর্মচারী হলেন শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা আক্তার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া আক্তার।
সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে ঘুস লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন ওঠে।
এ ছাড়া ঘুস লেনদেনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মিরাজ নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগও ওঠে। ঘটনাটি ঘিরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে তাঁদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার জারি করা আদেশে সানজিদা আক্তার ও সুরাইয়া আক্তারকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক রাসেল মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পৃথক তদন্তের ফলাফল, অভিযুক্তদের বক্তব্য কিংবা ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমি অফিসে নামজারি, জমির খাজনা, ভূমিসংক্রান্ত নথি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা নিতে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত যেতে হয়। এসব সেবা পেতে ঘুস বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে জনসাধারণের মধ্যে প্রশাসনিক সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।’
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৫
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৩