কৃষক-প্রজার অধিকার, শিক্ষা বিস্তার ও গণমানুষের রাজনীতিতে অনন্য এক নাম
আজ ২৬ অক্টোবর, অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও কৃষক-প্রজার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলার রাজনীতির এমন এক ব্যক্তিত্বকে, যাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষা বিস্তার ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
‘শেরে বাংলা’ অর্থ বাংলার বাঘ। সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এই উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘হক সাহেব’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
শেরে বাংলার শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ কৃতিত্বে ভরা। তাঁর বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ছিলেন আইনজীবী এবং মা সৈয়দুন্নেছা খাতুন। শৈশবে বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর গণিতে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও মেধার এই ভিত্তি তাঁকে পরবর্তী সময়ে আইন পেশা এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের দুরবস্থা, জমিদারি শোষণ এবং মহাজনি ঋণের বোঝা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে।
শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষক-প্রজার স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তৎকালীন বাংলার কৃষকদের বড় একটি অংশ ঋণ, খাজনা ও জমিসংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করেন সংগঠিত আন্দোলন ও আইন প্রণয়নের হাতিয়ার হিসেবে।
১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। দলটির রাজনীতিতে কৃষকের ঋণমুক্তি, জমিদারি শোষণ হ্রাস এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী বা প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হয়।
তাঁর সরকারের সময়ে কৃষকদের ঋণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং মহাজনি ঋণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হয়। বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন, মহাজনি আইন এবং প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধন কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান তাঁকে প্রচলিত অভিজাত রাজনীতির বাইরে একটি স্বতন্ত্র জনভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরে বাংলার সবচেয়ে আলোচিত অবদানগুলোর একটি হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। ২৩ মার্চ লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও দেশভাগের রাজনীতিতে এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এটি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আর সেই ঘটনার সঙ্গে শেরে বাংলার নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি দল বা একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটেরও পরিবর্তন ঘটে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেরে বাংলা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ওই বছর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী বিজয় পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে শেরে বাংলার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি গভর্নরের পদে ছিলেন।
তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা ছিল বৈচিত্র্যময় এবং ঘটনাবহুল। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও কৃষক-প্রজার নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি বাংলার রাজনৈতিক স্মৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।
শেরে বাংলার জীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সম্পর্ক গভীর। তাঁর জন্মস্থান বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রাম। আর তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে; তাঁর পরিবারের সঙ্গে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামেরও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বৃহত্তর বরিশালের এই কৃতী সন্তান পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেন। তাঁর জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকাগুলো কেবল একটি ব্যক্তির শৈশবের স্মৃতি বহন করে না; এগুলো বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে শেরে বাংলা বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কৃষিনির্ভর বাংলার বাস্তবতা তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হয়।
তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতি এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব প্রদান।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা মতবিরোধ, জোট পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিতর্কও ছিল। একজন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি বাংলার কৃষকসমাজের ইতিহাস, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ। তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—জনগণের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কৃষক-প্রজার অধিকার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ (৩৫) নামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার সেরাল গ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এতে সঞ্জয় কুমার বাড়ৈও অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সঞ্জয় কুমার বাড়ৈকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, মোংলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব নির্ভর করবে। তাই জেলে, ট্রলারচালক ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৫৪
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে কাজ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছিল না। প্রাক্কলন ও দরপত্রের শর্ত অনুসরণ না করে বালু ফেলার পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা না করেই ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসের প্রায় সাড়ে ৪০০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অহনা এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির সাবঠিকাদার সাদ রহমান কাজটি করাচ্ছেন।
সাবঠিকাদার সাদ রহমানের দাবি, সড়কের প্রায় পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। মাত্র ৩০ ফুট অংশে ঢালাই বাকি থাকতেই কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে কলেজের অধ্যক্ষ, প্রকৌশলী ও হল সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ঠিকাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের দুই নেতা বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ হন। তাঁরাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ হওয়ায় ঠিকাদার বিপাকে পড়ার পর একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দাবি করেন, একটি গণমাধ্যমে ছাত্রাবাসের হল সুপার এস এম আসাদুজ্জামানের নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি তা দেননি।
এ বিষয়ে বরিশালটাইমসের কাছে আসা একটি ভিডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিদ বলেন, ভিডিওতে হল সুপারকে বলতে শোনা যায়, তিনি বরিশালের বাইরে থাকায় নির্মাণকাজের মান কীভাবে দেখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব তার নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়, তা অধ্যক্ষ দেখবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নির্মাণকাজ বন্ধের ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগও করেননি।
এদিকে, সোমবার গভীর রাতে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারের পাল্টা দাবি এবং ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্মাণকাজের মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল আগামীতে কি পদক্ষেপ রাখে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।’
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে কাজ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছিল না। প্রাক্কলন ও দরপত্রের শর্ত অনুসরণ না করে বালু ফেলার পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা না করেই ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসের প্রায় সাড়ে ৪০০ ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অহনা এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির সাবঠিকাদার সাদ রহমান কাজটি করাচ্ছেন।
সাবঠিকাদার সাদ রহমানের দাবি, সড়কের প্রায় পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। মাত্র ৩০ ফুট অংশে ঢালাই বাকি থাকতেই কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে কলেজের অধ্যক্ষ, প্রকৌশলী ও হল সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
ঠিকাদারের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের দুই নেতা বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখে শিক্ষার্থীরা সংক্ষুব্ধ হন। তাঁরাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ হওয়ায় ঠিকাদার বিপাকে পড়ার পর একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তারা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দাবি করেন, একটি গণমাধ্যমে ছাত্রাবাসের হল সুপার এস এম আসাদুজ্জামানের নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি তা দেননি।
এ বিষয়ে বরিশালটাইমসের কাছে আসা একটি ভিডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিদ বলেন, ভিডিওতে হল সুপারকে বলতে শোনা যায়, তিনি বরিশালের বাইরে থাকায় নির্মাণকাজের মান কীভাবে দেখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব তার নয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণকাজে ত্রুটি ছিল এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়, তা অধ্যক্ষ দেখবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নির্মাণকাজ বন্ধের ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিএম কলেজে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগও করেননি।
এদিকে, সোমবার গভীর রাতে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারের পাল্টা দাবি এবং ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্মাণকাজের মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রকৌশল আগামীতে কি পদক্ষেপ রাখে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।’

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৩
কৃষক-প্রজার অধিকার, শিক্ষা বিস্তার ও গণমানুষের রাজনীতিতে অনন্য এক নাম
আজ ২৬ অক্টোবর, অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও কৃষক-প্রজার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলার রাজনীতির এমন এক ব্যক্তিত্বকে, যাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রে ছিল কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষা বিস্তার ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
‘শেরে বাংলা’ অর্থ বাংলার বাঘ। সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এই উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘হক সাহেব’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
শেরে বাংলার শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ কৃতিত্বে ভরা। তাঁর বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ছিলেন আইনজীবী এবং মা সৈয়দুন্নেছা খাতুন। শৈশবে বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর গণিতে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও মেধার এই ভিত্তি তাঁকে পরবর্তী সময়ে আইন পেশা এবং রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের দুরবস্থা, জমিদারি শোষণ এবং মহাজনি ঋণের বোঝা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে।
শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষক-প্রজার স্বার্থকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তৎকালীন বাংলার কৃষকদের বড় একটি অংশ ঋণ, খাজনা ও জমিসংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করেন সংগঠিত আন্দোলন ও আইন প্রণয়নের হাতিয়ার হিসেবে।
১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। দলটির রাজনীতিতে কৃষকের ঋণমুক্তি, জমিদারি শোষণ হ্রাস এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী বা প্রিমিয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালিত হয়।
তাঁর সরকারের সময়ে কৃষকদের ঋণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং মহাজনি ঋণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হয়। বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন, মহাজনি আইন এবং প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধন কৃষকের স্বার্থ রক্ষার আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর এই অবস্থান তাঁকে প্রচলিত অভিজাত রাজনীতির বাইরে একটি স্বতন্ত্র জনভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরে বাংলার সবচেয়ে আলোচিত অবদানগুলোর একটি হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। ২৩ মার্চ লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও দেশভাগের রাজনীতিতে এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এটি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আর সেই ঘটনার সঙ্গে শেরে বাংলার নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি দল বা একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটেরও পরিবর্তন ঘটে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেরে বাংলা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ওই বছর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী বিজয় পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে শেরে বাংলার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি গভর্নরের পদে ছিলেন।
তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা ছিল বৈচিত্র্যময় এবং ঘটনাবহুল। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলেও কৃষক-প্রজার নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি বাংলার রাজনৈতিক স্মৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।
শেরে বাংলার জীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের সম্পর্ক গভীর। তাঁর জন্মস্থান বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রাম। আর তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে; তাঁর পরিবারের সঙ্গে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামেরও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বৃহত্তর বরিশালের এই কৃতী সন্তান পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেন। তাঁর জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকাগুলো কেবল একটি ব্যক্তির শৈশবের স্মৃতি বহন করে না; এগুলো বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে শেরে বাংলা বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কৃষিনির্ভর বাংলার বাস্তবতা তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হয়।
তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতি এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব প্রদান।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা মতবিরোধ, জোট পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিতর্কও ছিল। একজন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; এটি বাংলার কৃষকসমাজের ইতিহাস, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ। তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—জনগণের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কৃষক-প্রজার অধিকার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৫
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৮
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৫৪