চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ব্যাহত করতে হঠাৎই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ইন্টারনেট পুনরায় চালু করে আন্দোলন বিরোধী প্রোপাগান্ডা চালাতে পরামর্শ দেন সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তবে ক্ষোভে শেখ হাসিনা তখন বলেন, তিনি আর জীবনে ইন্টারনেট সংযোগ দেবেন না।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপের অডিও রেকর্ডের বরাত দিয়ে এসব জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
এদিন জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, শেখ হাসিনার কথোপকথনের ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ও ইনুর সেই ফোনরেকর্ডে শোনা যায়-
হাসানুল হক ইনু: হ্যালো, জি জি স্লামালাইকুম।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ, ওয়ালাইকুমস্লাম, কী হইছে?
হাসানুল হক ইনু: বলছিলাম... না একটা কথা... আমি মনে করি যে আপনার পদক্ষেপটা সঠিকই হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা রিপোর্ট বাংলাদেশে পাচ্ছি আরকি। খালি ঢাকাতে আপনার রামপুরার দিকে এবং...।
শেখ হাসিনা: না রামপুরা ক্লিয়ার, শনির আখড়ায় একটু ঝামেলা এখন আছে...।
হাসানুল হক ইনু: শনির আখড়ায় কিছু মোল্লারাই...।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ জানি, না খালি মোল্লা না, ওইখানে অনেক মাদ্রাসা।
হাসানুল হক ইনু: মাদ্রাসা আছে ওই...।
শেখ হাসিনা: ... ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে... মাইকিং করতে হচ্ছে আরকি... নারায়ণগঞ্জে ঢুকতে দিচ্ছে না আর্মিকে, আমরা... নামাচ্ছি।
হাসানুল হক ইনু: ও আচ্ছা...।
শেখ হাসিনা: না, আমি বলছি ক্যাজুয়াল্টির দরকার নাই। ওরা ব্যারিকেড দিয়ে আছে তো, ঠিক আছে, আকাশ থেকে নামবে, তখন দুপাশ দিয়ে ধরবে... মেসেজটা দিয়ে দিতে পারেন যে... সেনা পাঠানো হচ্ছে... আর হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে... র্যাবের হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর দিয়ে মারবে।
হাসানুল হক ইনু: আচ্ছা ওপর দিয়ে সাউন্ড বোম যাবে আরকি, ঠিকাছে... আমি একটা পয়েন্ট আপনাকে একটু নজরে আনার জন্য রিকোয়েস্ট করতেছি যে, কারফিউ ধরেন দুই-পাঁচ দিন যা চলল, চলল; কিন্তু কারফিউয়ের পর যেন আর মিছিল না নামতে পারে সেজন্য একট হোমওয়ার্ক করতে, করা দরকার যেরকম আমি উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ীতে যারা মিছিল লিড করছে সেইগুলা চিহ্নিত আরকি... ছাত্রদল, বিএনপির ছেলে-মেয়ে, ছেলেরা, শিবিরের... মানে ধরেন রিজভীকে এরেস্ট করা বা রুহুলকে এরেস্ট করা ইম্পর্টেন্ট না, ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে ওইখানে গ্রাউন্ডে যে মিছিলটা লিড করেছে, আমি কুষ্টিয়া জেলাতে, ওখানে এসপি সেভাবে অলরেডি তালিকা করে ফেলছে। ওখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। একটা ছররা গুলি খালি একজনের পায়ে লাগছে, উনি ম্যানেজ করছে। ম্যানেজ করছে। উনি অলরেডি কম্পিউটারে ছবি দেখে দেখে ছেলেগুলার তালিকা করছে। তা আমি বললাম যে ছেলেগুলাকে আজকে রাত্রের ভেতরে পিকআপ করে নাও।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ শিওর।
হাসানুল হক ইনু: যেন মিছিলটা লিড না করতে পারে। তা আমি ঢাকা শহরের জন্য বলছি যে আপনার গোয়েন্দারা নিশ্চয়ই তালিকা করতে পারবে যে উত্তরায় কারা।
শেখ হাসিনা: ... খালি গোয়েন্দারটা না, লোকাল লিডারদেরও করা উচিত।
হাসানুল হক ইনু: লোকাল লিডার ওইখানে এমপি খসরু ও হাসান হাবিব আছে। আমার কালকের যে রিপোর্ট তা হাসান হাবিবের কিন্তু ও রাগ করে খসরুর ওপর ছেড়ে দিছে যে এমপি সাহেব মোকাবিলা করুক...।
শেখ হাসিনা: খসরু তো পারবে না, খসরু তো লোকাল না, হাসান তো লোকাল, ওদের তো লোকজন আছে।
হাসানুল হক ইনু: লোকাল না তো। রাইট, হাসান হাবিব নামেনি। আর এখানে ওয়াকিলও সামলাইতে পারেনি, ও দুই লাইনে পা দিয়ে চলে। তো আমার কথা হচ্ছে যে একটু লোকাল লিডারদের সাহায্যে তালিকাটা করে নিয়ে আজকের রাত্রের ভেতরে সব কাস্টডিতে নিতে পারেন তাহলে কোনো জায়গায়... আর মোহাম্মদপুরে একটা পাঁয়তারা ছিল। কালকে আপনি রাত ১২ টায় যেয়ে খুব ভালো করছেন। আজ কিন্তু গণভবন ঘেরাও করতো। কিন্তু মোহাম্মদপুরে ওইখান থেকে রেডি হচ্ছিল কালকে, মানে এইটা, সুতরাং...।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ, এইটা কয়েক দিন ধরে করছে।
হাসানুল হক ইনু: ডিসিশনটা খুবই কারেক্ট হইছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা: থ্যাংকিউ, থ্যাংকিউ... আমরা হলাম রণক্ষেত্রের সাথী।
হাসানুল হক ইনু: রণক্ষেত্রের সাথী। তা আপনি একটু দয়া করে...এই পিকআপটা করতে বলেন...।
শেখ হাসিনা: না এইটা বলা আছে, বলতেছি, বলতেছি।
হাসানুল হক ইনু: ওইটা একটু হোমওয়ার্ক করতে বলেন, করে এরেস্ট করে ফেলতে বলেন আজকে। মানে সবাইকে এরেস্ট করে ফেললে আর মিছিল করার লোক থাকবে না।
শেখ হাসিনা: লিসেন, দাঁড়ান, দাঁড়ান। এরেস্ট করে...।
হাসানুল হক ইনু: আরেকটা রিকোয়েস্ট আমার যে ইন্টারনেট আমার মনে হয় চালু করতে পারেন, এটা আমাদেরই কাজে লাগবে।
শেখ হাসিনা: ভাই কি যে চালু করব সব তো পোড়াই দিছে। ডাটা সেন্টারও পোড়ায় দিছে। এখন ওই নতুন তারতুর কিনে জোড়া লাগাতে হবে।
হাসানুল হক ইনু: ... আমি যে কথাটা বলার চেষ্টা... আমি একাত্তরে রাত আটটার সময় যাব একা কথা বলব। আমি বলব যে, সরকারের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীর কোনো বিরোধ নাই। সরকারের সঙ্গে বিরোধ হচ্ছে নাশকতাকারী বিএনপি-জামায়াতের।
শেখ হাসিনা: না ওইটা তো বলা হয়েছে। ওইটা আমি নিজেও বলছি...।
হাসানুল হক ইনু: ... এই জিনিসটা প্রোপাগান্ডায় আনতে হবে যদি ইন্টারনেট থাকে, গণমাধ্যম দিয়ে আমরা পুরা নিউজে ফ্লাড করে দিলাম...।
শেখ হাসিনা: ইন্টারনেট পাবো কোথায়? ইন্টারনেট পোড়ায় দিছে। জীবনে... আমি তো আর আনবো না, যদি অন্য সরকার আসে তাহলে আনবে... আমি দিছি ইন্টারনেট, ওরা পোড়াইতে থাকুক, ওইটা চলতে হবে...
হাসানুল হক ইনু: অন্য সরকার, বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ অন্য সরকার আসবে না।
শেখ হাসিনা: আসুক....না আমি আর পারবো না... যাচ্ছি এখন।
হাসানুল হক ইনু: না না... যাওয়ার দরকার নাই।
শেখ হাসিনা: জামায়াত শায়েস্তা করে ধুয়ে যেতে হবে।
হাসানুল হক ইনু: ...।
শেখ হাসিনা: ... আপনার যেখানে যেখানে লোক আছে তালিকাগুলো আপনারা করান, আমরাও করাচ্ছি।
হাসানুল হক ইনু: ...আপনি এই... জামায়াত শিবিরের মেরুদণ্ডটা আবার ভেঙে দেন ঢাকা শহরে।
শেখ হাসিনা: একেবারে...।
হাসানুল হক ইনু: ... এক্সপোজ হইছে আরকি, একটু দেখেন, আর আমি বাদবাকি আমাকে যেটা বলবেন আমি ইনশাআল্লাহ করব, কোনো অসুবিধা নাই।
শেখ হাসিনা: না ওই তালিকাগুলো একটু করায় ফালান...এই ইস্যুতে যা পারেন, শিবির যে কয়টা আছে, যা আছে সব বের করেন...।
হাসানুল হক ইনু: বুঝছি আমি বুঝছি। জি স্লামুয়ালাইকুম
শেখ হাসিনা: ঠিকাছে আচ্ছা।
হাসানুল হক ইনু: জি স্লামুয়ালাইকুম
শেখ হাসিনা: থ্যাংকিউ, থ্যাংকিউ...।

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৮
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা, দোকানসহ নানা স্থাপনা বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নগরবাসীর চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতেই এসব দখল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, সম্প্রতি ডিএনসিসির অন্যতম দখলকবলিত এলাকা ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত উন্মুক্ত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাতগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ফার্মগেটসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখলে রয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম খান। এসব এলাকায় আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট দখলও সরানো হবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়, যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন, সেখানেই প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
ফুটপাত দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি কর্পোরেশনই নিয়েছে। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করছেন।
দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম সাময়িক নয়। পর্যায়ক্রমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ সময় কিছু মহল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দলের ভেতরে কিংবা বাইরে কেউ দুষ্কৃতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার খবর প্রকাশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। এতে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।
নগরবাসী সচেতন হয়ে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা, দোকানসহ নানা স্থাপনা বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নগরবাসীর চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতেই এসব দখল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, সম্প্রতি ডিএনসিসির অন্যতম দখলকবলিত এলাকা ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত উন্মুক্ত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাতগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ফার্মগেটসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখলে রয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম খান। এসব এলাকায় আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট দখলও সরানো হবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়, যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন, সেখানেই প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
ফুটপাত দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি কর্পোরেশনই নিয়েছে। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করছেন।
দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম সাময়িক নয়। পর্যায়ক্রমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ সময় কিছু মহল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দলের ভেতরে কিংবা বাইরে কেউ দুষ্কৃতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার খবর প্রকাশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। এতে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।
নগরবাসী সচেতন হয়ে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২০:৪৮
চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ব্যাহত করতে হঠাৎই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ইন্টারনেট পুনরায় চালু করে আন্দোলন বিরোধী প্রোপাগান্ডা চালাতে পরামর্শ দেন সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তবে ক্ষোভে শেখ হাসিনা তখন বলেন, তিনি আর জীবনে ইন্টারনেট সংযোগ দেবেন না।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপের অডিও রেকর্ডের বরাত দিয়ে এসব জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
এদিন জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৫৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, শেখ হাসিনার কথোপকথনের ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ও ইনুর সেই ফোনরেকর্ডে শোনা যায়-
হাসানুল হক ইনু: হ্যালো, জি জি স্লামালাইকুম।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ, ওয়ালাইকুমস্লাম, কী হইছে?
হাসানুল হক ইনু: বলছিলাম... না একটা কথা... আমি মনে করি যে আপনার পদক্ষেপটা সঠিকই হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা রিপোর্ট বাংলাদেশে পাচ্ছি আরকি। খালি ঢাকাতে আপনার রামপুরার দিকে এবং...।
শেখ হাসিনা: না রামপুরা ক্লিয়ার, শনির আখড়ায় একটু ঝামেলা এখন আছে...।
হাসানুল হক ইনু: শনির আখড়ায় কিছু মোল্লারাই...।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ জানি, না খালি মোল্লা না, ওইখানে অনেক মাদ্রাসা।
হাসানুল হক ইনু: মাদ্রাসা আছে ওই...।
শেখ হাসিনা: ... ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে... মাইকিং করতে হচ্ছে আরকি... নারায়ণগঞ্জে ঢুকতে দিচ্ছে না আর্মিকে, আমরা... নামাচ্ছি।
হাসানুল হক ইনু: ও আচ্ছা...।
শেখ হাসিনা: না, আমি বলছি ক্যাজুয়াল্টির দরকার নাই। ওরা ব্যারিকেড দিয়ে আছে তো, ঠিক আছে, আকাশ থেকে নামবে, তখন দুপাশ দিয়ে ধরবে... মেসেজটা দিয়ে দিতে পারেন যে... সেনা পাঠানো হচ্ছে... আর হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে... র্যাবের হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর দিয়ে মারবে।
হাসানুল হক ইনু: আচ্ছা ওপর দিয়ে সাউন্ড বোম যাবে আরকি, ঠিকাছে... আমি একটা পয়েন্ট আপনাকে একটু নজরে আনার জন্য রিকোয়েস্ট করতেছি যে, কারফিউ ধরেন দুই-পাঁচ দিন যা চলল, চলল; কিন্তু কারফিউয়ের পর যেন আর মিছিল না নামতে পারে সেজন্য একট হোমওয়ার্ক করতে, করা দরকার যেরকম আমি উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ীতে যারা মিছিল লিড করছে সেইগুলা চিহ্নিত আরকি... ছাত্রদল, বিএনপির ছেলে-মেয়ে, ছেলেরা, শিবিরের... মানে ধরেন রিজভীকে এরেস্ট করা বা রুহুলকে এরেস্ট করা ইম্পর্টেন্ট না, ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে ওইখানে গ্রাউন্ডে যে মিছিলটা লিড করেছে, আমি কুষ্টিয়া জেলাতে, ওখানে এসপি সেভাবে অলরেডি তালিকা করে ফেলছে। ওখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। একটা ছররা গুলি খালি একজনের পায়ে লাগছে, উনি ম্যানেজ করছে। ম্যানেজ করছে। উনি অলরেডি কম্পিউটারে ছবি দেখে দেখে ছেলেগুলার তালিকা করছে। তা আমি বললাম যে ছেলেগুলাকে আজকে রাত্রের ভেতরে পিকআপ করে নাও।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ শিওর।
হাসানুল হক ইনু: যেন মিছিলটা লিড না করতে পারে। তা আমি ঢাকা শহরের জন্য বলছি যে আপনার গোয়েন্দারা নিশ্চয়ই তালিকা করতে পারবে যে উত্তরায় কারা।
শেখ হাসিনা: ... খালি গোয়েন্দারটা না, লোকাল লিডারদেরও করা উচিত।
হাসানুল হক ইনু: লোকাল লিডার ওইখানে এমপি খসরু ও হাসান হাবিব আছে। আমার কালকের যে রিপোর্ট তা হাসান হাবিবের কিন্তু ও রাগ করে খসরুর ওপর ছেড়ে দিছে যে এমপি সাহেব মোকাবিলা করুক...।
শেখ হাসিনা: খসরু তো পারবে না, খসরু তো লোকাল না, হাসান তো লোকাল, ওদের তো লোকজন আছে।
হাসানুল হক ইনু: লোকাল না তো। রাইট, হাসান হাবিব নামেনি। আর এখানে ওয়াকিলও সামলাইতে পারেনি, ও দুই লাইনে পা দিয়ে চলে। তো আমার কথা হচ্ছে যে একটু লোকাল লিডারদের সাহায্যে তালিকাটা করে নিয়ে আজকের রাত্রের ভেতরে সব কাস্টডিতে নিতে পারেন তাহলে কোনো জায়গায়... আর মোহাম্মদপুরে একটা পাঁয়তারা ছিল। কালকে আপনি রাত ১২ টায় যেয়ে খুব ভালো করছেন। আজ কিন্তু গণভবন ঘেরাও করতো। কিন্তু মোহাম্মদপুরে ওইখান থেকে রেডি হচ্ছিল কালকে, মানে এইটা, সুতরাং...।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ, এইটা কয়েক দিন ধরে করছে।
হাসানুল হক ইনু: ডিসিশনটা খুবই কারেক্ট হইছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা: থ্যাংকিউ, থ্যাংকিউ... আমরা হলাম রণক্ষেত্রের সাথী।
হাসানুল হক ইনু: রণক্ষেত্রের সাথী। তা আপনি একটু দয়া করে...এই পিকআপটা করতে বলেন...।
শেখ হাসিনা: না এইটা বলা আছে, বলতেছি, বলতেছি।
হাসানুল হক ইনু: ওইটা একটু হোমওয়ার্ক করতে বলেন, করে এরেস্ট করে ফেলতে বলেন আজকে। মানে সবাইকে এরেস্ট করে ফেললে আর মিছিল করার লোক থাকবে না।
শেখ হাসিনা: লিসেন, দাঁড়ান, দাঁড়ান। এরেস্ট করে...।
হাসানুল হক ইনু: আরেকটা রিকোয়েস্ট আমার যে ইন্টারনেট আমার মনে হয় চালু করতে পারেন, এটা আমাদেরই কাজে লাগবে।
শেখ হাসিনা: ভাই কি যে চালু করব সব তো পোড়াই দিছে। ডাটা সেন্টারও পোড়ায় দিছে। এখন ওই নতুন তারতুর কিনে জোড়া লাগাতে হবে।
হাসানুল হক ইনু: ... আমি যে কথাটা বলার চেষ্টা... আমি একাত্তরে রাত আটটার সময় যাব একা কথা বলব। আমি বলব যে, সরকারের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীর কোনো বিরোধ নাই। সরকারের সঙ্গে বিরোধ হচ্ছে নাশকতাকারী বিএনপি-জামায়াতের।
শেখ হাসিনা: না ওইটা তো বলা হয়েছে। ওইটা আমি নিজেও বলছি...।
হাসানুল হক ইনু: ... এই জিনিসটা প্রোপাগান্ডায় আনতে হবে যদি ইন্টারনেট থাকে, গণমাধ্যম দিয়ে আমরা পুরা নিউজে ফ্লাড করে দিলাম...।
শেখ হাসিনা: ইন্টারনেট পাবো কোথায়? ইন্টারনেট পোড়ায় দিছে। জীবনে... আমি তো আর আনবো না, যদি অন্য সরকার আসে তাহলে আনবে... আমি দিছি ইন্টারনেট, ওরা পোড়াইতে থাকুক, ওইটা চলতে হবে...
হাসানুল হক ইনু: অন্য সরকার, বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ অন্য সরকার আসবে না।
শেখ হাসিনা: আসুক....না আমি আর পারবো না... যাচ্ছি এখন।
হাসানুল হক ইনু: না না... যাওয়ার দরকার নাই।
শেখ হাসিনা: জামায়াত শায়েস্তা করে ধুয়ে যেতে হবে।
হাসানুল হক ইনু: ...।
শেখ হাসিনা: ... আপনার যেখানে যেখানে লোক আছে তালিকাগুলো আপনারা করান, আমরাও করাচ্ছি।
হাসানুল হক ইনু: ...আপনি এই... জামায়াত শিবিরের মেরুদণ্ডটা আবার ভেঙে দেন ঢাকা শহরে।
শেখ হাসিনা: একেবারে...।
হাসানুল হক ইনু: ... এক্সপোজ হইছে আরকি, একটু দেখেন, আর আমি বাদবাকি আমাকে যেটা বলবেন আমি ইনশাআল্লাহ করব, কোনো অসুবিধা নাই।
শেখ হাসিনা: না ওই তালিকাগুলো একটু করায় ফালান...এই ইস্যুতে যা পারেন, শিবির যে কয়টা আছে, যা আছে সব বের করেন...।
হাসানুল হক ইনু: বুঝছি আমি বুঝছি। জি স্লামুয়ালাইকুম
শেখ হাসিনা: ঠিকাছে আচ্ছা।
হাসানুল হক ইনু: জি স্লামুয়ালাইকুম
শেখ হাসিনা: থ্যাংকিউ, থ্যাংকিউ...।