Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৩:৪৬
ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে লোমহর্ষক কাহিনী শুনে বিস্মিত আদালত। জড়িত জামায়াত কর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বিচারকের নির্দেশে মামলা
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম। গত ১২ জানুয়ারি অপরাহ্নে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানাধীন শহরের ডিসি অফিসের পেছনে কালেকটরেট পুকুরের পাড় জনাকীর্ণ রাস্তা থেকে প্রকাশ্যে ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সহযোগীদের সহায়তায় আটকে মারধর করা শেষে তাকে একটি গ্যাসচালিত সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে তাকে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার আওতাধীন একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ফের মারধর করাসহ সাদা স্ট্যাম্প ও বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে নেন জামায়াত কর্মী নজরুল। কিন্তু এসব ঘটনা আড়াল করে আব্দুল বাতেনকে আওয়ামী লীগের দোসর তকমা দিয়ে ওইদিনই কোতয়ালি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। কোতয়ালি পুলিশ বাতেনকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক রোমহর্ষক এই ঘটনার ইতিবৃত্ত শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এতে জড়িত জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলামসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, বাবুগঞ্জের রহমতপুরের বাসিন্দা কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম শহরের বিএম কলেজ এলাকার বাসিন্দা মোসা: নারগিজ আক্তার লিপি এবং নুরুন্নাহারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসারে তাকে গত ১২ জানুয়ারি শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায়। এতে দুই নারীসহ অন্তত ৯জন তাকে সহযোগিতা করেন, যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তাছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বানাতে জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম যে প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুঝতে বাকি নেই। পুলিশ বলছে, ববির কর্মকর্তাকে শ্রমিক লীগের বরিশাল মহানগর শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য দাবি করে নজরুল ইসলাম এবং তিনি এর স্বপক্ষে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাশ হওয়া একটি তালিকাও সরবরাহ করেন। এই তালিকার ২৯ নম্বর সদস্য হিসেবে আব্দুল বাতেনকে দেখানো হলেও সরকারি কর্মকর্তার নামটি কম্পিউটারের কারসাজি করে বসানো হয়। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করেছে।
কোতয়ালি পুলিশ বলছে, আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে অপহরণ এবং নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করাসহ স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজন করে তুলেছে জড়িতদের আচরণে। তারা ১২ জানুয়ারি সরকারি কর্মকর্তাকে শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে অপহরণ করলেও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা হয় নথুল্লাবাদ থেকে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে ঘটনাস্থল অনুসারে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এবং নজরুল ইসলামসহ সকলে দাবি করেছিলেন তাকে নথুল্লাবাদ থেকে আটক করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, বাতেনকে আদালতসংলগ্ন কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানায় সোপর্দের পরামর্শ দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেখানে নিয়ে যায়।
এর আগে আব্দুল বাতেনকে চোখ-মুখ বেঁখে রহমতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে বাসায় নিয়ে যায় নজরুল ইসলামসহ সহযোগীরা। সেখানে আটকে রেখে দুই নারী নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করাসহ ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়া হয়। এতে তার দুই পাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত চিহ্ন হলে ভয়ে তিনি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এবং বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কারও কাছে শেয়ার করলে স্ত্রীসহ তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছেন নজরুলসহ সহযোগীরা।
সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত কর্মী নজরুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিতে তুলছেন। এসময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভুক্তভোগী বাতেন বরিশালটাইমসকে জানান, গত বছরের শেষের দিকে বিএম কলেজ মসজিদ গেটের বিপরিত পাশের বাসিন্দা নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের ০.৯২ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে বায়না করেন। কিন্তু তারা দুজন এই ভূমিটি এক লক্ষ টাকা বেশি পেয়ে জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলে তিনি পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০/৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেন। সেই মামলা দুই নারী আদালতে হাজিরা দিয়ে দুটি কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নেন। ১১ জানুয়ারি একটি কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা তা রক্ষা করেননি। বরং টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন ফন্দি আটছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা: সাদিয়া আফরিন অভিযোগ, ১১ জানুয়ারি আদালতে গিয়ে জানা যায় দুই নারীর কেউ টাকা নিয়ে আদালতে আসেননি। একদিন বাদে ১২ জানুয়ারি বাতেন ডিসি অফিসের পেছনে আইনজীবী সমিতির কাছে অবস্থান করলে সেখান থেকে তাকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে নজরুল সহযোগীদের সহায়তায় তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে অপহরণ করার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বরিশালের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করার পরে দুই নারীসহ অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পলাতক আছেন। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দেন এবং আব্দুল বাতেনকে স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করেন। এবং বাতেন শ্রমিক লীগ মহানগরের কার্যনির্বাহী সদস্য বলেও প্রচার করেন। কিন্তু এই তালিকা আপনার তৈরি এবং দুই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যে বাতেনকে ফাঁসাতে চেয়েছেন তার প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে, এমনটি বলার পরে তিনি বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা শুনে বরিশাল মহানগর জাময়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এবং বলছেন, তিনি নজরুল ইসলামকে চেনেন, তিনি জামায়াতের সমর্থক, তার কোনো দলীয় পদপদবি নেই। এবং এই ধরনের অপরাধ জামায়াত করে না এবং এর দায়ও নেওয়ার সুযোগ নাই। অপরাধর করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচিত এই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, আব্দুল বাতেন আসামি থেকে মামলার বাদী হয়েছেন। নজরুল ইসলামসহ ৯জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার নারগিজের ছেলে মো. নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাকারে পাঠিয়ে দেন। পলাতক বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
সবশেষ খবরে জানা গেছে, নারগিজের ছেলেকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে মঙ্গলবার দিনভর কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম পুলিশের বিভিন্ন মহলে সুপারিশ রাখেন। কিন্তু আলোচিত এই ঘটনাটিতে অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে পুলিশ। কারণ মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কিছু আদালত পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে এই মামলাটি থেকে যে কথিত জামায়াত নেতা সহসাই রেহাই পাচ্ছেন না তা পুলিশের বক্তব্যেও অনুমান করা যায়।’
ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে লোমহর্ষক কাহিনী শুনে বিস্মিত আদালত। জড়িত জামায়াত কর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বিচারকের নির্দেশে মামলা
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম। গত ১২ জানুয়ারি অপরাহ্নে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানাধীন শহরের ডিসি অফিসের পেছনে কালেকটরেট পুকুরের পাড় জনাকীর্ণ রাস্তা থেকে প্রকাশ্যে ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সহযোগীদের সহায়তায় আটকে মারধর করা শেষে তাকে একটি গ্যাসচালিত সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে তাকে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার আওতাধীন একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ফের মারধর করাসহ সাদা স্ট্যাম্প ও বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে নেন জামায়াত কর্মী নজরুল। কিন্তু এসব ঘটনা আড়াল করে আব্দুল বাতেনকে আওয়ামী লীগের দোসর তকমা দিয়ে ওইদিনই কোতয়ালি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। কোতয়ালি পুলিশ বাতেনকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক রোমহর্ষক এই ঘটনার ইতিবৃত্ত শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এতে জড়িত জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলামসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, বাবুগঞ্জের রহমতপুরের বাসিন্দা কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম শহরের বিএম কলেজ এলাকার বাসিন্দা মোসা: নারগিজ আক্তার লিপি এবং নুরুন্নাহারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসারে তাকে গত ১২ জানুয়ারি শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায়। এতে দুই নারীসহ অন্তত ৯জন তাকে সহযোগিতা করেন, যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তাছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বানাতে জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম যে প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুঝতে বাকি নেই। পুলিশ বলছে, ববির কর্মকর্তাকে শ্রমিক লীগের বরিশাল মহানগর শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য দাবি করে নজরুল ইসলাম এবং তিনি এর স্বপক্ষে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাশ হওয়া একটি তালিকাও সরবরাহ করেন। এই তালিকার ২৯ নম্বর সদস্য হিসেবে আব্দুল বাতেনকে দেখানো হলেও সরকারি কর্মকর্তার নামটি কম্পিউটারের কারসাজি করে বসানো হয়। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করেছে।
কোতয়ালি পুলিশ বলছে, আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে অপহরণ এবং নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করাসহ স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজন করে তুলেছে জড়িতদের আচরণে। তারা ১২ জানুয়ারি সরকারি কর্মকর্তাকে শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে অপহরণ করলেও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা হয় নথুল্লাবাদ থেকে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে ঘটনাস্থল অনুসারে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এবং নজরুল ইসলামসহ সকলে দাবি করেছিলেন তাকে নথুল্লাবাদ থেকে আটক করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, বাতেনকে আদালতসংলগ্ন কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানায় সোপর্দের পরামর্শ দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেখানে নিয়ে যায়।
এর আগে আব্দুল বাতেনকে চোখ-মুখ বেঁখে রহমতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে বাসায় নিয়ে যায় নজরুল ইসলামসহ সহযোগীরা। সেখানে আটকে রেখে দুই নারী নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করাসহ ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়া হয়। এতে তার দুই পাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত চিহ্ন হলে ভয়ে তিনি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এবং বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কারও কাছে শেয়ার করলে স্ত্রীসহ তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছেন নজরুলসহ সহযোগীরা।
সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত কর্মী নজরুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিতে তুলছেন। এসময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভুক্তভোগী বাতেন বরিশালটাইমসকে জানান, গত বছরের শেষের দিকে বিএম কলেজ মসজিদ গেটের বিপরিত পাশের বাসিন্দা নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের ০.৯২ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে বায়না করেন। কিন্তু তারা দুজন এই ভূমিটি এক লক্ষ টাকা বেশি পেয়ে জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলে তিনি পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০/৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেন। সেই মামলা দুই নারী আদালতে হাজিরা দিয়ে দুটি কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নেন। ১১ জানুয়ারি একটি কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা তা রক্ষা করেননি। বরং টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন ফন্দি আটছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা: সাদিয়া আফরিন অভিযোগ, ১১ জানুয়ারি আদালতে গিয়ে জানা যায় দুই নারীর কেউ টাকা নিয়ে আদালতে আসেননি। একদিন বাদে ১২ জানুয়ারি বাতেন ডিসি অফিসের পেছনে আইনজীবী সমিতির কাছে অবস্থান করলে সেখান থেকে তাকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে নজরুল সহযোগীদের সহায়তায় তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে অপহরণ করার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বরিশালের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করার পরে দুই নারীসহ অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পলাতক আছেন। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দেন এবং আব্দুল বাতেনকে স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করেন। এবং বাতেন শ্রমিক লীগ মহানগরের কার্যনির্বাহী সদস্য বলেও প্রচার করেন। কিন্তু এই তালিকা আপনার তৈরি এবং দুই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যে বাতেনকে ফাঁসাতে চেয়েছেন তার প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে, এমনটি বলার পরে তিনি বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা শুনে বরিশাল মহানগর জাময়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এবং বলছেন, তিনি নজরুল ইসলামকে চেনেন, তিনি জামায়াতের সমর্থক, তার কোনো দলীয় পদপদবি নেই। এবং এই ধরনের অপরাধ জামায়াত করে না এবং এর দায়ও নেওয়ার সুযোগ নাই। অপরাধর করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচিত এই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, আব্দুল বাতেন আসামি থেকে মামলার বাদী হয়েছেন। নজরুল ইসলামসহ ৯জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার নারগিজের ছেলে মো. নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাকারে পাঠিয়ে দেন। পলাতক বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
সবশেষ খবরে জানা গেছে, নারগিজের ছেলেকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে মঙ্গলবার দিনভর কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম পুলিশের বিভিন্ন মহলে সুপারিশ রাখেন। কিন্তু আলোচিত এই ঘটনাটিতে অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে পুলিশ। কারণ মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কিছু আদালত পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে এই মামলাটি থেকে যে কথিত জামায়াত নেতা সহসাই রেহাই পাচ্ছেন না তা পুলিশের বক্তব্যেও অনুমান করা যায়।’

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস