Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২১ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৪১
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসন জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, 'শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলেও একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসক হয়ে উঠেছিলেন। নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে তিনি সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন। পরিবারতন্ত্র কায়েম করে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। গত ১৫-১৬ বছর একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। আমরা সেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার তৈরি না হয়। আর কোনো সরকার যেন ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য রাষ্ট্রকাঠামোর কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সেই মৌলিক সংস্কার হতে হবে। জরুরি কিছু মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আবার এদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। তাই সকলে মিলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বরিশালে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, 'একটি জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সাল থেকেই চেষ্টা করে আসছিল অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'সুজন'। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু আলাপ-আলোচনাও হয়েছিল। তবে তারা তাতে সাড়া না দেওয়ার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে একটি জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এখন আলাপ-আলোচনা চলছে। কিছু বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই। তাই জাতীয় সনদ তৈরিতে নাগরিকদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সুজন। সেজন্য আমরা নিজেদের উদ্যোগে সারাদেশে ১৫টি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে জনগণের ভাবনা, মতামত, পরামর্শ এবং প্রস্তাবগুলো জানার চেষ্টা করছি।'
শনিবার সকাল ১০টায় বরিশালের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) হলরুমে জাতীয় সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক ওই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। নাগরিক সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের বরিশাল মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এসময় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ, বরিশাল জেলা সম্পাদক রণজিৎ দত্ত, বরগুনা জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, ঝালকাঠি সদর সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা।
নাগরিক সংলাপে এসময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার, রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু জাফর শিকদার, বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যাপিকা টুনু রাণী কর্মকার, অধ্যাপিকা দীপ্তি ঘোষ, বরগুনা সৈয়দ ফজলুল হক কলেজের অধ্যাপক জিয়াউল করিম, অধ্যাপক জুলফিকার আমিন বাবু, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা'র বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী লিংকন বাইন, নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী সুপ্রিয় দত্ত, মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সহ-সভাপতি স্বপন কুমার বেপারী, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের বরগুনা জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, সাংবাদিক নাসরিন শিপু, পটুয়াখালী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, বাবুগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব, সুজনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা সুজন সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির, বানারীপাড়া সুজন সভাপতি মাহবুবুর রহমান সোহেল, আগৈলঝাড়া সুজনের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ঝালকাঠি জেলা সুজন সদস্য কবিতা হালদার, বরিশালের ক্রীড়া সংগঠক জাকির হোসেন পান্নু, নারী নেত্রী পারভীন বেগম, সিনিয়র ইয়্যুথ লিডার তানজিলা জেরিন অমি প্রমুখ। এসময় বক্তারা জাতীয় সনদ তৈরি, বাস্তবায়ন এবং সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন। ওই নাগরিক সংলাপে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শতাধিক সুজন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নে নাগরিকদের মতামত সংগ্রহের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ওই নাগরিক সংলাপে জাতীয় সংসদ কাঠামো ও সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, মৌলিক অধিকার রক্ষা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার, রাজনৈতিক দলের সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মোট ৪০ দফা প্রস্তাবের উপরে সাড়ে ৩ ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান অতিথি সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। এসময় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন, সংসদের নিম্নকক্ষ ৩০০ থেকে ৪০০ আসনে উন্নীতকরণ, নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ আসন থেকে ১০০ আসনে বৃদ্ধি করে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচন, উচ্চকক্ষের ১০০ আসনে সিনেট সদস্য নিয়োগে নিম্নকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর) পদ্ধতিতে সিনেট সদস্য নির্বাচন, সকল নির্বাচনে না ভোটের বিধান রাখা এবং সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদানের ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান চালু, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সংবিধান সংশোধনে সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোট বাধ্যতামূলক করা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনী নীতিমালা সংস্কার, পৃথক পুলিশ কমিশন, স্থানীয় সরকার কমিশন ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপন, প্রতি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রবর্তন, রাজনৈতিক দলসমূহের সংস্কার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবিত ৪০ দফার উপরে বিস্তারিত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর এবং মতামত প্রদান করেন বক্তারা। জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সারাদেশে সুজনের ১৫টি নাগরিক সংলাপের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় এই জনমত যাচাই কার্যক্রমকে অভাবনীয় এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন সচেতন মহল। রাষ্ট্র সংস্কারে সুজনের এই জনমত সংগ্রহের নাগরিক সংলাপকে ঐতিহাসিক এবং সকল সরকারের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। #
বরিশালে সুজন'এর বিভাগীয় নাগরিক সংলাপ
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসন জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, 'শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলেও একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসক হয়ে উঠেছিলেন। নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে তিনি সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন। পরিবারতন্ত্র কায়েম করে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। গত ১৫-১৬ বছর একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। আমরা সেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার তৈরি না হয়। আর কোনো সরকার যেন ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য রাষ্ট্রকাঠামোর কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সেই মৌলিক সংস্কার হতে হবে। জরুরি কিছু মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আবার এদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। তাই সকলে মিলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বরিশালে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, 'একটি জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সাল থেকেই চেষ্টা করে আসছিল অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'সুজন'। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু আলাপ-আলোচনাও হয়েছিল। তবে তারা তাতে সাড়া না দেওয়ার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে একটি জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এখন আলাপ-আলোচনা চলছে। কিছু বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই। তাই জাতীয় সনদ তৈরিতে নাগরিকদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সুজন। সেজন্য আমরা নিজেদের উদ্যোগে সারাদেশে ১৫টি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে জনগণের ভাবনা, মতামত, পরামর্শ এবং প্রস্তাবগুলো জানার চেষ্টা করছি।'
শনিবার সকাল ১০টায় বরিশালের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) হলরুমে জাতীয় সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক ওই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। নাগরিক সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের বরিশাল মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এসময় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ, বরিশাল জেলা সম্পাদক রণজিৎ দত্ত, বরগুনা জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, ঝালকাঠি সদর সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা।
নাগরিক সংলাপে এসময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার, রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু জাফর শিকদার, বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যাপিকা টুনু রাণী কর্মকার, অধ্যাপিকা দীপ্তি ঘোষ, বরগুনা সৈয়দ ফজলুল হক কলেজের অধ্যাপক জিয়াউল করিম, অধ্যাপক জুলফিকার আমিন বাবু, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা'র বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী লিংকন বাইন, নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী সুপ্রিয় দত্ত, মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সহ-সভাপতি স্বপন কুমার বেপারী, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের বরগুনা জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, সাংবাদিক নাসরিন শিপু, পটুয়াখালী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, বাবুগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব, সুজনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা সুজন সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির, বানারীপাড়া সুজন সভাপতি মাহবুবুর রহমান সোহেল, আগৈলঝাড়া সুজনের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ঝালকাঠি জেলা সুজন সদস্য কবিতা হালদার, বরিশালের ক্রীড়া সংগঠক জাকির হোসেন পান্নু, নারী নেত্রী পারভীন বেগম, সিনিয়র ইয়্যুথ লিডার তানজিলা জেরিন অমি প্রমুখ। এসময় বক্তারা জাতীয় সনদ তৈরি, বাস্তবায়ন এবং সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন। ওই নাগরিক সংলাপে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শতাধিক সুজন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নে নাগরিকদের মতামত সংগ্রহের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ওই নাগরিক সংলাপে জাতীয় সংসদ কাঠামো ও সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, মৌলিক অধিকার রক্ষা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার, রাজনৈতিক দলের সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মোট ৪০ দফা প্রস্তাবের উপরে সাড়ে ৩ ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান অতিথি সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। এসময় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন, সংসদের নিম্নকক্ষ ৩০০ থেকে ৪০০ আসনে উন্নীতকরণ, নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ আসন থেকে ১০০ আসনে বৃদ্ধি করে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচন, উচ্চকক্ষের ১০০ আসনে সিনেট সদস্য নিয়োগে নিম্নকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর) পদ্ধতিতে সিনেট সদস্য নির্বাচন, সকল নির্বাচনে না ভোটের বিধান রাখা এবং সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদানের ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান চালু, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সংবিধান সংশোধনে সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোট বাধ্যতামূলক করা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনী নীতিমালা সংস্কার, পৃথক পুলিশ কমিশন, স্থানীয় সরকার কমিশন ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপন, প্রতি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রবর্তন, রাজনৈতিক দলসমূহের সংস্কার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবিত ৪০ দফার উপরে বিস্তারিত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর এবং মতামত প্রদান করেন বক্তারা। জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সারাদেশে সুজনের ১৫টি নাগরিক সংলাপের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় এই জনমত যাচাই কার্যক্রমকে অভাবনীয় এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন সচেতন মহল। রাষ্ট্র সংস্কারে সুজনের এই জনমত সংগ্রহের নাগরিক সংলাপকে ঐতিহাসিক এবং সকল সরকারের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। #

১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তারা। এর আগে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। সে সময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো আগে থেকেই সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।সংসদে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দল বা কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে তাকে ‘ওয়াক আউট’ বলা হয়।
এদিন সকালে শপথ নিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। প্রথমে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এরপরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন কায়সার কামাল। তিনি বর্তমানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গঠনের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১২
পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং আরব আমিরাত।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও অযৌক্তিক। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসল্লিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
দেশগুলো আরও বলেছে, দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বলেও তারা উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের দেখভাল ও প্রশাসনের আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ বিভাগের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে এবং মুসল্লিদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একইভাবে হামাসও আল-আকসা বন্ধ রাখাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক নজির বলে আখ্যা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তারা। এর আগে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। সে সময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো আগে থেকেই সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।সংসদে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দল বা কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে তাকে ‘ওয়াক আউট’ বলা হয়।
এদিন সকালে শপথ নিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। প্রথমে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এরপরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন কায়সার কামাল। তিনি বর্তমানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গঠনের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং আরব আমিরাত।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও অযৌক্তিক। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসল্লিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
দেশগুলো আরও বলেছে, দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বলেও তারা উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের দেখভাল ও প্রশাসনের আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ বিভাগের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে এবং মুসল্লিদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একইভাবে হামাসও আল-আকসা বন্ধ রাখাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক নজির বলে আখ্যা দিয়েছে।
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১