বরিশালে সুজন'এর বিভাগীয় নাগরিক সংলাপ
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসন জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, 'শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলেও একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসক হয়ে উঠেছিলেন। নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে তিনি সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন। পরিবারতন্ত্র কায়েম করে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। গত ১৫-১৬ বছর একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। আমরা সেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার তৈরি না হয়। আর কোনো সরকার যেন ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য রাষ্ট্রকাঠামোর কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সেই মৌলিক সংস্কার হতে হবে। জরুরি কিছু মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আবার এদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। তাই সকলে মিলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বরিশালে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, 'একটি জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সাল থেকেই চেষ্টা করে আসছিল অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'সুজন'। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু আলাপ-আলোচনাও হয়েছিল। তবে তারা তাতে সাড়া না দেওয়ার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে একটি জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এখন আলাপ-আলোচনা চলছে। কিছু বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই। তাই জাতীয় সনদ তৈরিতে নাগরিকদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সুজন। সেজন্য আমরা নিজেদের উদ্যোগে সারাদেশে ১৫টি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে জনগণের ভাবনা, মতামত, পরামর্শ এবং প্রস্তাবগুলো জানার চেষ্টা করছি।'
শনিবার সকাল ১০টায় বরিশালের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) হলরুমে জাতীয় সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক ওই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। নাগরিক সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের বরিশাল মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এসময় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ, বরিশাল জেলা সম্পাদক রণজিৎ দত্ত, বরগুনা জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, ঝালকাঠি সদর সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা।
নাগরিক সংলাপে এসময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার, রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু জাফর শিকদার, বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যাপিকা টুনু রাণী কর্মকার, অধ্যাপিকা দীপ্তি ঘোষ, বরগুনা সৈয়দ ফজলুল হক কলেজের অধ্যাপক জিয়াউল করিম, অধ্যাপক জুলফিকার আমিন বাবু, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা'র বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী লিংকন বাইন, নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী সুপ্রিয় দত্ত, মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সহ-সভাপতি স্বপন কুমার বেপারী, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের বরগুনা জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, সাংবাদিক নাসরিন শিপু, পটুয়াখালী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, বাবুগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব, সুজনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা সুজন সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির, বানারীপাড়া সুজন সভাপতি মাহবুবুর রহমান সোহেল, আগৈলঝাড়া সুজনের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ঝালকাঠি জেলা সুজন সদস্য কবিতা হালদার, বরিশালের ক্রীড়া সংগঠক জাকির হোসেন পান্নু, নারী নেত্রী পারভীন বেগম, সিনিয়র ইয়্যুথ লিডার তানজিলা জেরিন অমি প্রমুখ। এসময় বক্তারা জাতীয় সনদ তৈরি, বাস্তবায়ন এবং সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন। ওই নাগরিক সংলাপে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শতাধিক সুজন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নে নাগরিকদের মতামত সংগ্রহের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ওই নাগরিক সংলাপে জাতীয় সংসদ কাঠামো ও সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, মৌলিক অধিকার রক্ষা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার, রাজনৈতিক দলের সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মোট ৪০ দফা প্রস্তাবের উপরে সাড়ে ৩ ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান অতিথি সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। এসময় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন, সংসদের নিম্নকক্ষ ৩০০ থেকে ৪০০ আসনে উন্নীতকরণ, নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ আসন থেকে ১০০ আসনে বৃদ্ধি করে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচন, উচ্চকক্ষের ১০০ আসনে সিনেট সদস্য নিয়োগে নিম্নকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর) পদ্ধতিতে সিনেট সদস্য নির্বাচন, সকল নির্বাচনে না ভোটের বিধান রাখা এবং সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদানের ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান চালু, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সংবিধান সংশোধনে সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোট বাধ্যতামূলক করা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনী নীতিমালা সংস্কার, পৃথক পুলিশ কমিশন, স্থানীয় সরকার কমিশন ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপন, প্রতি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রবর্তন, রাজনৈতিক দলসমূহের সংস্কার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবিত ৪০ দফার উপরে বিস্তারিত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর এবং মতামত প্রদান করেন বক্তারা। জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সারাদেশে সুজনের ১৫টি নাগরিক সংলাপের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় এই জনমত যাচাই কার্যক্রমকে অভাবনীয় এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন সচেতন মহল। রাষ্ট্র সংস্কারে সুজনের এই জনমত সংগ্রহের নাগরিক সংলাপকে ঐতিহাসিক এবং সকল সরকারের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। #

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:২০
একসময় কন্যাসন্তানকে স্কুলে পাঠানোই ছিল অনেক পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন রামুর উলামিয়া। তার সেই স্বপ্ন আজ অনন্য এক সাফল্যের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও তিনজন ছেলে—প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত।
শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, রামুর প্রত্যন্ত জনপদে নারীশিক্ষার প্রসারে উলামিয়ার এই উদ্যোগ এখন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলামিয়া এমন এক সময়ে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যখন গ্রামাঞ্চলে কন্যাসন্তানদের স্কুলে পাঠানোর প্রবণতা খুবই কম ছিল। সামাজিক নানা বাধা ও প্রচলিত ধারণাকে উপেক্ষা করে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তার বিশ্বাস ছিল—ছেলে-মেয়ে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সমান হওয়া উচিত।
উলামিয়ার ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। হুসনে আরা বেগম বান্দরবান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সাবেকুন্নাহার কাজল হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর লতিফপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মুজিবুননাহার চকরিয়া উপজেলার কাজীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, রিজিয়া আক্তার চকরিয়া উপজেলার নিজপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সেলিনা আক্তার রামু উপজেলার মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
এ ছাড়া তাহমিদা ইয়াছমিন রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ফাহমিদা ইয়াছমিন রাউজান উপজেলার পশ্চিম সোলতানকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং শারমিন আফরোজ নওরীন রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে উলামিয়া ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার মেয়েরাও বাবার স্বপ্নকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তারা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন এবং এখন গ্রামের শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
উলামিয়ার মেয়ে আনোয়ারা বেগম তার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার ক্লাসে অনেক ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থী। সে সময় নানা প্রতিকূলতা থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন।
উলামিয়ার বড় ছেলে ও রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, তাদের বাবা সবসময় সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তার ভাষায়, বাবার কাছে শিক্ষা ছিল সম্মানের প্রতীক। বাবার মৃত্যুর পরও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন মো. প্রিন্স বলেন, উলামিয়ার ত্যাগ, দূরদর্শিতা ও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি তার গুরুত্বের কারণে পরিবারটি এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার পরিবারের সাফল্য দেখে অন্য পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত হচ্ছে।
রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। পরিবারটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।
কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এই অঞ্চলে নারীশিক্ষা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এমন বাস্তবতায় সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে উলামিয়া তার কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়েননি, সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে উলামিয়ার স্ত্রীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন এবং পরিবারের প্রতি তাদের ত্যাগ এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবার এখন রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে মেয়েরাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
উলামিয়ার পরিবারের গল্প তাই শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।
একসময় কন্যাসন্তানকে স্কুলে পাঠানোই ছিল অনেক পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন রামুর উলামিয়া। তার সেই স্বপ্ন আজ অনন্য এক সাফল্যের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও তিনজন ছেলে—প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত।
শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, রামুর প্রত্যন্ত জনপদে নারীশিক্ষার প্রসারে উলামিয়ার এই উদ্যোগ এখন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উলামিয়া এমন এক সময়ে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যখন গ্রামাঞ্চলে কন্যাসন্তানদের স্কুলে পাঠানোর প্রবণতা খুবই কম ছিল। সামাজিক নানা বাধা ও প্রচলিত ধারণাকে উপেক্ষা করে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তার বিশ্বাস ছিল—ছেলে-মেয়ে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সমান হওয়া উচিত।
উলামিয়ার ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। হুসনে আরা বেগম বান্দরবান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সাবেকুন্নাহার কাজল হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর লতিফপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মুজিবুননাহার চকরিয়া উপজেলার কাজীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, রিজিয়া আক্তার চকরিয়া উপজেলার নিজপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সেলিনা আক্তার রামু উপজেলার মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
এ ছাড়া তাহমিদা ইয়াছমিন রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ফাহমিদা ইয়াছমিন রাউজান উপজেলার পশ্চিম সোলতানকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং শারমিন আফরোজ নওরীন রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে উলামিয়া ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার মেয়েরাও বাবার স্বপ্নকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তারা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন এবং এখন গ্রামের শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
উলামিয়ার মেয়ে আনোয়ারা বেগম তার শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার ক্লাসে অনেক ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থী। সে সময় নানা প্রতিকূলতা থাকলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন।
উলামিয়ার বড় ছেলে ও রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, তাদের বাবা সবসময় সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। তার ভাষায়, বাবার কাছে শিক্ষা ছিল সম্মানের প্রতীক। বাবার মৃত্যুর পরও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন মো. প্রিন্স বলেন, উলামিয়ার ত্যাগ, দূরদর্শিতা ও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি তার গুরুত্বের কারণে পরিবারটি এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তার পরিবারের সাফল্য দেখে অন্য পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত হচ্ছে।
রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। পরিবারটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।
কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এই অঞ্চলে নারীশিক্ষা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এমন বাস্তবতায় সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে উলামিয়া তার কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়েননি, সমাজ ও দেশ গঠনের জন্য একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে উলামিয়ার স্ত্রীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, শিক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন এবং পরিবারের প্রতি তাদের ত্যাগ এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবার এখন রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা পেলে মেয়েরাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
উলামিয়ার পরিবারের গল্প তাই শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।

০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৭
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে একটি মানবিক ও জনমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। তাই কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী। তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে একটি মানবিক ও জনমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। তাই কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’

০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’
সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (০১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে আনাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।’

২১ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৪১
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসন জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, 'শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলেও একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসক হয়ে উঠেছিলেন। নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে তিনি সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন। পরিবারতন্ত্র কায়েম করে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। গত ১৫-১৬ বছর একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। আমরা সেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার তৈরি না হয়। আর কোনো সরকার যেন ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য রাষ্ট্রকাঠামোর কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সেই মৌলিক সংস্কার হতে হবে। জরুরি কিছু মৌলিক সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আবার এদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। তাই সকলে মিলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বরিশালে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, 'একটি জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সাল থেকেই চেষ্টা করে আসছিল অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'সুজন'। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু আলাপ-আলোচনাও হয়েছিল। তবে তারা তাতে সাড়া না দেওয়ার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে একটি জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এখন আলাপ-আলোচনা চলছে। কিছু বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই। তাই জাতীয় সনদ তৈরিতে নাগরিকদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সুজন। সেজন্য আমরা নিজেদের উদ্যোগে সারাদেশে ১৫টি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে জনগণের ভাবনা, মতামত, পরামর্শ এবং প্রস্তাবগুলো জানার চেষ্টা করছি।'
শনিবার সকাল ১০টায় বরিশালের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) হলরুমে জাতীয় সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা শীর্ষক ওই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। নাগরিক সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের বরিশাল মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এসময় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজনের পটুয়াখালী জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ, বরিশাল জেলা সম্পাদক রণজিৎ দত্ত, বরগুনা জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের, ঝালকাঠি সদর সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা।
নাগরিক সংলাপে এসময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার, রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু জাফর শিকদার, বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যাপিকা টুনু রাণী কর্মকার, অধ্যাপিকা দীপ্তি ঘোষ, বরগুনা সৈয়দ ফজলুল হক কলেজের অধ্যাপক জিয়াউল করিম, অধ্যাপক জুলফিকার আমিন বাবু, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা'র বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী লিংকন বাইন, নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী সুপ্রিয় দত্ত, মাইনরিটি রাইটস ফোরামের সহ-সভাপতি স্বপন কুমার বেপারী, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের বরগুনা জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, সাংবাদিক নাসরিন শিপু, পটুয়াখালী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, বাবুগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব, সুজনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা সুজন সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির, বানারীপাড়া সুজন সভাপতি মাহবুবুর রহমান সোহেল, আগৈলঝাড়া সুজনের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ঝালকাঠি জেলা সুজন সদস্য কবিতা হালদার, বরিশালের ক্রীড়া সংগঠক জাকির হোসেন পান্নু, নারী নেত্রী পারভীন বেগম, সিনিয়র ইয়্যুথ লিডার তানজিলা জেরিন অমি প্রমুখ। এসময় বক্তারা জাতীয় সনদ তৈরি, বাস্তবায়ন এবং সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন। ওই নাগরিক সংলাপে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শতাধিক সুজন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সনদ তৈরি এবং বাস্তবায়নে নাগরিকদের মতামত সংগ্রহের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ওই নাগরিক সংলাপে জাতীয় সংসদ কাঠামো ও সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, মৌলিক অধিকার রক্ষা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার, রাজনৈতিক দলের সংস্কার ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মোট ৪০ দফা প্রস্তাবের উপরে সাড়ে ৩ ঘন্টাব্যাপী উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধান অতিথি সুজন সম্পাদক প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার। এসময় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন, সংসদের নিম্নকক্ষ ৩০০ থেকে ৪০০ আসনে উন্নীতকরণ, নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ আসন থেকে ১০০ আসনে বৃদ্ধি করে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচন, উচ্চকক্ষের ১০০ আসনে সিনেট সদস্য নিয়োগে নিম্নকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর) পদ্ধতিতে সিনেট সদস্য নির্বাচন, সকল নির্বাচনে না ভোটের বিধান রাখা এবং সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদানের ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন, দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান চালু, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সংবিধান সংশোধনে সংসদের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোট বাধ্যতামূলক করা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনী নীতিমালা সংস্কার, পৃথক পুলিশ কমিশন, স্থানীয় সরকার কমিশন ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত স্থাপন, প্রতি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, সরকারি অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রবর্তন, রাজনৈতিক দলসমূহের সংস্কার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবিত ৪০ দফার উপরে বিস্তারিত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর এবং মতামত প্রদান করেন বক্তারা। জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সারাদেশে সুজনের ১৫টি নাগরিক সংলাপের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় এই জনমত যাচাই কার্যক্রমকে অভাবনীয় এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন সচেতন মহল। রাষ্ট্র সংস্কারে সুজনের এই জনমত সংগ্রহের নাগরিক সংলাপকে ঐতিহাসিক এবং সকল সরকারের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। #
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬