এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিন মাসের ব্যবধানে সাত শিশুর মৃত্যু, ক্রমগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সখ্যা
হাম বা রুবিওলা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বরিশালে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভাগের ৬টি জেলার সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৭৭ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। মর্মান্তিক বিষয় হচ্ছে, ভাইরাসজনিত এই রোগে গত তিন মাসে বরিশালে সাত শিশু মৃত্যুবরণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক-ভীতি এবং শঙ্কা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাম প্রাণঘাতী রোগে পরিণত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসে এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুতি নেয়। তবে দ্বীপ ভোলা জেলায় হামের টিকা সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম (Measles) বা রুবিওলা একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে। এটি মিজলস মর্বিলিভাইরাস নামক এক প্রকার ভাইরাসের কারণে হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে তড়িৎ গতিতে ছড়ায়। এবং এই ভাইরাসে শিশুরাই বেশিমাত্রায় আক্রান্ত হয়ে থাকে, অনেকের প্রাণহানিরও কারণ হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭ শিশু। একই সময়ে বিভাগজুড়ে ২০৬ শিশুর দেহে অত্যন্ত সংক্রামক হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিভাগের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয় ৭৭ শিশু। এবং প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বরিশাল বিভাগের বাসিন্দাদের চিকিৎসার ভরসাস্থল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে এই তিন মাসে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসে আক্রান্ত হয় ৮৯ জন। সোমবার দুপুরে এই হাসপাতালে ৩৪ জন হাম আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসাধীন দেখা গেছে। এর আগে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) শেবাচিম হাসপাতালে বানারীপাড়ার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার সকালে হামে আক্রান্ত হয়ে আরেক শিশু মারা যায়।
ভাইরাসজনিত এই রোগে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে আছেন বরিশাল সদর উপজেলার কর্নকাঠি এলাকার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার। তিনি জানান, ‘সাত দিন আগে তার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বা রুবিওলা বলে শনাক্ত করেন। অনুরূপভাবে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত শিশু সংখ্যা হাসপাতালে বাড়ছে। বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসার পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হাম রোগ শনাক্ত করা হয়।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনির বলেন, শিশুদের হামের টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদেরও এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এই ওয়ার্ডটিতে বেড সংকট ছিল, তা ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। এবং আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিয়ে দ্রুত সুস্থ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন চিকিৎসকেরা।
হামে আক্রান্ত হয়ে সাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক-উদ্বেগ-ভীতি তৈরি হয়েছে তা খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলও স্বীকার করেনে। এই চিকিৎসক জানান, হাম বা রুবিওলা (Measles) একটি অত্যন্ত ছোয়াঁচে ও তীব্র ভাইরাসঘটিত রোগ। প্যারামক্সিভাইরাস গোত্রের মর্বিলিভাইরাস গণের অন্তর্গত একটি ভাইরাসের কারণে রোগটি ঘটে থাকে; ভাইরাসটির পূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম মিজল্স মর্বিলিভাইরাস (Measles morbillivirus)। বিশেষ করে ছোঁয়াচে এই রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে খুব দ্রুত ছড়ায়। রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদে রাখতে হবে। এছাড়া যেকোনো বয়সের মানুষের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাণঘাতী এই রোগের টিকা বরিশালের ৫টি জেলায় মজুত থাকলেও দ্বীপ জেলা ভোলায় সংকট রয়েছে? এমন প্রশ্নে বিভাগের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শ্যামল বলেন, সোমবার সেখানে টিকা সরবরাহ করা হয়। এবং কোথাও সংকট দেখা দিলে সেখানে তাৎক্ষণিক প্রেরণ করা হচ্ছে। এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে হাম বা রুবিওলা প্রতিরোধে প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি সর্বসাধারণকে এই রোগ থেকে নিরাপদ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অধিক সুরক্ষার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।’

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৯
দৈনিক সমকাল বরিশাল ব্যুরো অফিসে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা রাতে তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে শহরের ৯নং ওয়ার্ডের প্যারারা রোডের অফিসে পুলিশ প্রশাসন এবং সহকর্মীরা ছুটে যান। পুলক চ্যাটার্জি এর আগে সমকাল ব্যুরো হিসেবে একই অফিসে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন, বছর তিনেক পূর্বে তাকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে সহকর্মী রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়।
পুলক চ্যাটার্জির এই মৃত্যু নিয়ে সহকর্মী সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর নেপথ্যে কোনো গল্প লুকানো আছে কী না তা তদন্ত করার জোর দাবিও তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ঝুলন্ত ছবিটি মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে। এই বিষয়টিতে পুলিশ আপাতত কোনো মন্তব্য না করলেও একটি চিকন রশিতে ফ্যানের সাথে সাংবাদিকের দেহ ঝুলে থাকা এবং পা মাটিতে ভাজ থাকার চিত্রটি তাদেরও ভাবাচ্ছে।
সহকর্মীরা জানিয়েছে, চাকরি না থাকলেও পুলক চ্যাটার্জি মাঝেমধ্যে অফিসে পত্রিকা পড়তে আসতেন এবং তার কাছে অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি অনুরূপভাবে অফিসে আসেন, যা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। তবে এ সময় ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী অফিসে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
প্যারারা রোডের এই অফিস ভবনটি বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিনের। ভবনটিতে দৈনিক আজকের পত্রিকা, দৈনিক যুগান্তর, এনটিভির অফিস রয়েছে।
পুলকের স্ত্রী নিলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, “ ২০২৩ সালের দিকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জি বলেন, চাকরি না থাকার কারণে তার ভাই কিছুটা হতাশ ছিলেন। সে কারণেও এটা হতে পারে। কিন্তু এ কারণে আত্মহত্যা করবেন, সেটা কেউ ভাবিনি।”
৫৭ বছর বয়সি এই সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-সহকর্মী সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক নেতারা ছুটে যান।
বর্তমান ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তিনি সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসে অফিসের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং পাশের জানালা দিয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিতে রশিতে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিক তৃতীয় তলায় যুগান্তর অফিসের লোকজন ডেকে এনে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও সাংবাদিকের মরদেহটি নামানটি, বরং সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলছেন, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাকে একটি চিকন রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পাটি মেঝেতে ভাজ করা ছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এই কারণে সাংবাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।’
দৈনিক সমকাল বরিশাল ব্যুরো অফিসে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা রাতে তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে শহরের ৯নং ওয়ার্ডের প্যারারা রোডের অফিসে পুলিশ প্রশাসন এবং সহকর্মীরা ছুটে যান। পুলক চ্যাটার্জি এর আগে সমকাল ব্যুরো হিসেবে একই অফিসে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন, বছর তিনেক পূর্বে তাকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে সহকর্মী রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়।
পুলক চ্যাটার্জির এই মৃত্যু নিয়ে সহকর্মী সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর নেপথ্যে কোনো গল্প লুকানো আছে কী না তা তদন্ত করার জোর দাবিও তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ঝুলন্ত ছবিটি মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে। এই বিষয়টিতে পুলিশ আপাতত কোনো মন্তব্য না করলেও একটি চিকন রশিতে ফ্যানের সাথে সাংবাদিকের দেহ ঝুলে থাকা এবং পা মাটিতে ভাজ থাকার চিত্রটি তাদেরও ভাবাচ্ছে।
সহকর্মীরা জানিয়েছে, চাকরি না থাকলেও পুলক চ্যাটার্জি মাঝেমধ্যে অফিসে পত্রিকা পড়তে আসতেন এবং তার কাছে অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি অনুরূপভাবে অফিসে আসেন, যা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। তবে এ সময় ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী অফিসে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
প্যারারা রোডের এই অফিস ভবনটি বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিনের। ভবনটিতে দৈনিক আজকের পত্রিকা, দৈনিক যুগান্তর, এনটিভির অফিস রয়েছে।
পুলকের স্ত্রী নিলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, “ ২০২৩ সালের দিকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জি বলেন, চাকরি না থাকার কারণে তার ভাই কিছুটা হতাশ ছিলেন। সে কারণেও এটা হতে পারে। কিন্তু এ কারণে আত্মহত্যা করবেন, সেটা কেউ ভাবিনি।”
৫৭ বছর বয়সি এই সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-সহকর্মী সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক নেতারা ছুটে যান।
বর্তমান ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তিনি সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসে অফিসের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং পাশের জানালা দিয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিতে রশিতে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিক তৃতীয় তলায় যুগান্তর অফিসের লোকজন ডেকে এনে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও সাংবাদিকের মরদেহটি নামানটি, বরং সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলছেন, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাকে একটি চিকন রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পাটি মেঝেতে ভাজ করা ছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এই কারণে সাংবাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।’

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২২
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৫:২৪
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিন মাসের ব্যবধানে সাত শিশুর মৃত্যু, ক্রমগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সখ্যা
হাম বা রুবিওলা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বরিশালে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভাগের ৬টি জেলার সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৭৭ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। মর্মান্তিক বিষয় হচ্ছে, ভাইরাসজনিত এই রোগে গত তিন মাসে বরিশালে সাত শিশু মৃত্যুবরণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক-ভীতি এবং শঙ্কা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাম প্রাণঘাতী রোগে পরিণত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসে এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুতি নেয়। তবে দ্বীপ ভোলা জেলায় হামের টিকা সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম (Measles) বা রুবিওলা একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে। এটি মিজলস মর্বিলিভাইরাস নামক এক প্রকার ভাইরাসের কারণে হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে তড়িৎ গতিতে ছড়ায়। এবং এই ভাইরাসে শিশুরাই বেশিমাত্রায় আক্রান্ত হয়ে থাকে, অনেকের প্রাণহানিরও কারণ হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭ শিশু। একই সময়ে বিভাগজুড়ে ২০৬ শিশুর দেহে অত্যন্ত সংক্রামক হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিভাগের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয় ৭৭ শিশু। এবং প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বরিশাল বিভাগের বাসিন্দাদের চিকিৎসার ভরসাস্থল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে এই তিন মাসে ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসে আক্রান্ত হয় ৮৯ জন। সোমবার দুপুরে এই হাসপাতালে ৩৪ জন হাম আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসাধীন দেখা গেছে। এর আগে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) শেবাচিম হাসপাতালে বানারীপাড়ার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার সকালে হামে আক্রান্ত হয়ে আরেক শিশু মারা যায়।
ভাইরাসজনিত এই রোগে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে আছেন বরিশাল সদর উপজেলার কর্নকাঠি এলাকার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার। তিনি জানান, ‘সাত দিন আগে তার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বা রুবিওলা বলে শনাক্ত করেন। অনুরূপভাবে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত শিশু সংখ্যা হাসপাতালে বাড়ছে। বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসার পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হাম রোগ শনাক্ত করা হয়।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনির বলেন, শিশুদের হামের টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদেরও এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এই ওয়ার্ডটিতে বেড সংকট ছিল, তা ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। এবং আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিয়ে দ্রুত সুস্থ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন চিকিৎসকেরা।
হামে আক্রান্ত হয়ে সাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক-উদ্বেগ-ভীতি তৈরি হয়েছে তা খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলও স্বীকার করেনে। এই চিকিৎসক জানান, হাম বা রুবিওলা (Measles) একটি অত্যন্ত ছোয়াঁচে ও তীব্র ভাইরাসঘটিত রোগ। প্যারামক্সিভাইরাস গোত্রের মর্বিলিভাইরাস গণের অন্তর্গত একটি ভাইরাসের কারণে রোগটি ঘটে থাকে; ভাইরাসটির পূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম মিজল্স মর্বিলিভাইরাস (Measles morbillivirus)। বিশেষ করে ছোঁয়াচে এই রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে খুব দ্রুত ছড়ায়। রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদে রাখতে হবে। এছাড়া যেকোনো বয়সের মানুষের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাণঘাতী এই রোগের টিকা বরিশালের ৫টি জেলায় মজুত থাকলেও দ্বীপ জেলা ভোলায় সংকট রয়েছে? এমন প্রশ্নে বিভাগের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শ্যামল বলেন, সোমবার সেখানে টিকা সরবরাহ করা হয়। এবং কোথাও সংকট দেখা দিলে সেখানে তাৎক্ষণিক প্রেরণ করা হচ্ছে। এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে হাম বা রুবিওলা প্রতিরোধে প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি সর্বসাধারণকে এই রোগ থেকে নিরাপদ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অধিক সুরক্ষার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৩
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০০
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৭