
২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:০৫
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের ১৫ মাস পরও বিটিভিতে তার দোসর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বহাল রয়ে গেছেন। তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করা হয়নি। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও আওয়ামী দোসর ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বিটিভিতে এখনো সবচেয়ে ক্ষমতাধর হয়ে রয়েছেন। বিভাগীয় ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো তারা বহাল তবিয়তে আছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এতে বিটিভিতে দুর্নীতির পাশাপাশি পতিত সরকারের পলাতক প্রভাবশালীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের ভয়ংকর ঝুঁকি রয়েই গেছে।
অভিযোগ আছে-তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও বিটিভির নিজস্ব একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। এসব প্রতিবেদন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা ‘লালফিতায় বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো সচিব বা উপদেষ্টার টেবিলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হয়নি। মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একটি চক্র এ কাজে জড়িত।
এ বিষয়ে জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য নেওয়ার সময় চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরও সাড়া না পেয়ে সচিবের বক্তব্যের জন্য রোববার তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এ প্রতিবেদক। তিনি সচিবের একান্ত সচিব মো. রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। মোবাইল ফোনে রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বিষয়ে সচিবের বক্তব্য নিতে প্রয়োজন তা জানতে চান। তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট বিষয় লিখে পাঠানোর পরদিন সোমবার তিনি জানান এ বিষয়ে সচিব কোনো বক্তব্য দেবেন না।
এ বিষয়ে জানতে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। পরে কয়েক দফা তাকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সবশেষ রোববার বিকালে তিনি এই প্রতিবেদকের কল রিসিভ করলেও মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি বিটিভির বেশকিছু দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। যাচাই-বাছাই শেষে ৬ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করেছেন এ প্রতিবেদক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। তিনি বিটিভির সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটাল করার প্রকল্পের কাজ কারচুপির মাধ্যমে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্টুডিওটেককে প্রদান করেন। তিনি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ঘুসের বিনিময়ে ঠিকাদারকে পূর্ণাঙ্গ বিল প্রদান করতেন। এসব অনিয়মের কারণে গত বছরের ৪ নভেম্বর দুদক তার সম্পদের হিসাব তলব করে।’ মনিরুলের পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঘরে লেখা আছে-‘তার পিতা ও আপন দুই চাচা বিএনপি মতাদর্শী।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পতিত সরকারের দোসর মনিরুল এখন বাবা-চাচার রাজনৈতিক মতামর্শ পুঁজি করে জার্সি পালটে বিএনপির পরিচয়ে দাপট দেখাচ্ছেন।
জানা গেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও ফ্যাসিস্টের চিহ্নিত দোসর কর্মকর্তারা এখনো দাপটে আছেন বিটিভিতে। জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এলেও বিটিভিকে দুর্নীতি ও আওয়ামী দোসরমুক্ত করা যায়নি। এখনো বিটিভির ভেতরে-বাইরে ফ্যাসিস্ট দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য থাকায় শিল্পী, কলাকুশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বিটিভি সদর দপ্তরের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের (চলতি দায়িত্ব) পদে বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। এরপরও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। টানা ছয় বছর ধরে উচ্চপদে চলতি দায়িত্বে আছেন মনিরুল।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই সফির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এরপরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই কেন্দ্রের উপমহাপরিচালক বার্তা ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ ও অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌসকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রেখে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক বা মুখ্য শিল্প নির্দেশক মোহাম্মাদ সেলিমও আছেন বহাল তবিয়তে। এদের সবার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক অপরাধের পরও তারা এখনো চাকরিতে বহাল। ন্যূনতম শাস্তিও পেতে হয়নি তাদের। এদের বিরুদ্ধে দুদক ও মন্ত্রণালয়ে আরও কিছু তদন্ত চলমান আছে। কিন্তু চাকরিতে বহাল থাকায় নানাভাবে তদবির করে তারা তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ আছে।
দুদকের তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। ফিরতি প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মাদ সেলিম সম্পর্কে এনএসআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সেলিম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ঢাকা কেন্দ্রের বহুল আলোচিত সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার ও বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। বিটিভির অনুষ্ঠান নির্মাণের নামে অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া-বিল ভাউচার তৈরি করে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনসহ নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।’ দুদক থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মনিরুল ইসলাম, জিল্লুর রশিদ ও আফিফা আফরোজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. সফির হোসাইন ওরফে ইলনের জালিয়াতি, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ভয়ংকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর বিটিভি সদর দপ্তর থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সাত পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনের মতামতের অংশে ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘সরকারি আদেশ ছাড়া তিনি (সফির হোসাইন) পূর্ববর্তী কর্মস্থলে অবস্থানপূর্বক বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রযোজনা করেছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রেখেছেন এবং অনুষ্ঠানের প্রযোজক হিসাবে অনুষ্ঠান বাজেটে স্বাক্ষর করেছেন। তার প্রযোজিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামা’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো সরকারি আদেশ ব্যতিরেকে তিনি স্বীয়পদের চেয়ে উচ্চতর পদের কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিজেই স্বাক্ষর করেছেন এবং এর ভিত্তিতে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ প্রমাণিত।’
আরও বলা হয়েছে, ‘সরেজমিন তদন্তকালে তিনি তার চেয়ে উচ্চ পদের কর্মকর্তাদের সম্পর্কে দাপ্তরিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে সরকারি চাকরি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার ২০১৮-এর অনুছেদ-২(খ) এর পরিপন্থি কাজ করেছেন-যা তদন্তে প্রমাণিত। এছাড়া তার প্রযোজিত ও পরিশোধিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামার’ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার পরম্পরা পাওয়া যায়-যা তদন্তে প্রমাণিত।’
অভিযোগ আছে, এই প্রতিবেদন তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দুষ্টচক্র চাপা দিয়ে রেখেছে। এ কারণে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে সফির হোসাইন ইলনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের ১৫ মাস পরও বিটিভিতে তার দোসর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বহাল রয়ে গেছেন। তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করা হয়নি। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও আওয়ামী দোসর ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বিটিভিতে এখনো সবচেয়ে ক্ষমতাধর হয়ে রয়েছেন। বিভাগীয় ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো তারা বহাল তবিয়তে আছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এতে বিটিভিতে দুর্নীতির পাশাপাশি পতিত সরকারের পলাতক প্রভাবশালীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের ভয়ংকর ঝুঁকি রয়েই গেছে।
অভিযোগ আছে-তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও বিটিভির নিজস্ব একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। এসব প্রতিবেদন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা ‘লালফিতায় বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো সচিব বা উপদেষ্টার টেবিলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হয়নি। মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একটি চক্র এ কাজে জড়িত।
এ বিষয়ে জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য নেওয়ার সময় চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরও সাড়া না পেয়ে সচিবের বক্তব্যের জন্য রোববার তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এ প্রতিবেদক। তিনি সচিবের একান্ত সচিব মো. রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। মোবাইল ফোনে রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বিষয়ে সচিবের বক্তব্য নিতে প্রয়োজন তা জানতে চান। তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট বিষয় লিখে পাঠানোর পরদিন সোমবার তিনি জানান এ বিষয়ে সচিব কোনো বক্তব্য দেবেন না।
এ বিষয়ে জানতে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। পরে কয়েক দফা তাকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সবশেষ রোববার বিকালে তিনি এই প্রতিবেদকের কল রিসিভ করলেও মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি বিটিভির বেশকিছু দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। যাচাই-বাছাই শেষে ৬ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করেছেন এ প্রতিবেদক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। তিনি বিটিভির সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটাল করার প্রকল্পের কাজ কারচুপির মাধ্যমে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্টুডিওটেককে প্রদান করেন। তিনি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ঘুসের বিনিময়ে ঠিকাদারকে পূর্ণাঙ্গ বিল প্রদান করতেন। এসব অনিয়মের কারণে গত বছরের ৪ নভেম্বর দুদক তার সম্পদের হিসাব তলব করে।’ মনিরুলের পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঘরে লেখা আছে-‘তার পিতা ও আপন দুই চাচা বিএনপি মতাদর্শী।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পতিত সরকারের দোসর মনিরুল এখন বাবা-চাচার রাজনৈতিক মতামর্শ পুঁজি করে জার্সি পালটে বিএনপির পরিচয়ে দাপট দেখাচ্ছেন।
জানা গেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও ফ্যাসিস্টের চিহ্নিত দোসর কর্মকর্তারা এখনো দাপটে আছেন বিটিভিতে। জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এলেও বিটিভিকে দুর্নীতি ও আওয়ামী দোসরমুক্ত করা যায়নি। এখনো বিটিভির ভেতরে-বাইরে ফ্যাসিস্ট দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য থাকায় শিল্পী, কলাকুশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বিটিভি সদর দপ্তরের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের (চলতি দায়িত্ব) পদে বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। এরপরও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। টানা ছয় বছর ধরে উচ্চপদে চলতি দায়িত্বে আছেন মনিরুল।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই সফির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এরপরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই কেন্দ্রের উপমহাপরিচালক বার্তা ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ ও অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌসকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রেখে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক বা মুখ্য শিল্প নির্দেশক মোহাম্মাদ সেলিমও আছেন বহাল তবিয়তে। এদের সবার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক অপরাধের পরও তারা এখনো চাকরিতে বহাল। ন্যূনতম শাস্তিও পেতে হয়নি তাদের। এদের বিরুদ্ধে দুদক ও মন্ত্রণালয়ে আরও কিছু তদন্ত চলমান আছে। কিন্তু চাকরিতে বহাল থাকায় নানাভাবে তদবির করে তারা তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ আছে।
দুদকের তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। ফিরতি প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মাদ সেলিম সম্পর্কে এনএসআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সেলিম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ঢাকা কেন্দ্রের বহুল আলোচিত সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার ও বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। বিটিভির অনুষ্ঠান নির্মাণের নামে অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া-বিল ভাউচার তৈরি করে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনসহ নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।’ দুদক থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মনিরুল ইসলাম, জিল্লুর রশিদ ও আফিফা আফরোজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. সফির হোসাইন ওরফে ইলনের জালিয়াতি, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ভয়ংকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর বিটিভি সদর দপ্তর থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সাত পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনের মতামতের অংশে ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘সরকারি আদেশ ছাড়া তিনি (সফির হোসাইন) পূর্ববর্তী কর্মস্থলে অবস্থানপূর্বক বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রযোজনা করেছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রেখেছেন এবং অনুষ্ঠানের প্রযোজক হিসাবে অনুষ্ঠান বাজেটে স্বাক্ষর করেছেন। তার প্রযোজিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামা’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো সরকারি আদেশ ব্যতিরেকে তিনি স্বীয়পদের চেয়ে উচ্চতর পদের কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিজেই স্বাক্ষর করেছেন এবং এর ভিত্তিতে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ প্রমাণিত।’
আরও বলা হয়েছে, ‘সরেজমিন তদন্তকালে তিনি তার চেয়ে উচ্চ পদের কর্মকর্তাদের সম্পর্কে দাপ্তরিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে সরকারি চাকরি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার ২০১৮-এর অনুছেদ-২(খ) এর পরিপন্থি কাজ করেছেন-যা তদন্তে প্রমাণিত। এছাড়া তার প্রযোজিত ও পরিশোধিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামার’ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার পরম্পরা পাওয়া যায়-যা তদন্তে প্রমাণিত।’
অভিযোগ আছে, এই প্রতিবেদন তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দুষ্টচক্র চাপা দিয়ে রেখেছে। এ কারণে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে সফির হোসাইন ইলনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।

০৯ জুন, ২০২৬ ১৩:২৬
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের এই সাক্ষাৎ আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে দু’দেশের মধ্যে সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এসময় বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষা খাতে এই সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বেগবান হবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন।
এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশাল টাইমস
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের এই সাক্ষাৎ আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে দু’দেশের মধ্যে সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এসময় বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষা খাতে এই সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বেগবান হবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন।
এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশাল টাইমস

০৭ জুন, ২০২৬ ১১:৪৫
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।
এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।
এর আগে, গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।
গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।
এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পরদিন ২০ মে (১৯ মে দিবাগত রাত) ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।
এর আগে, গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে নৃশংস এ ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।
গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

০৬ জুন, ২০২৬ ১৫:৩০
সৌদি আরবে বিদ্যুতায়িত হয়ে শামীম হোসেন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুল ছালামের বড় ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। জীবিকার তাগিদে ২০২৪ সালে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে শুকনো কাপড় তুলতে যান শামীম। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ধার-দেনা করে শামীমকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা আব্দুল ছালাম। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটু সুখের আশায় বিদেশে গিয়ে তরুণের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সৌদি আরবে বিদ্যুতায়িত হয়ে শামীম হোসেন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুল ছালামের বড় ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। জীবিকার তাগিদে ২০২৪ সালে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে দামাম শহরের একটি বাসার ছাদে শুকনো কাপড় তুলতে যান শামীম। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ধার-দেনা করে শামীমকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা আব্দুল ছালাম। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটু সুখের আশায় বিদেশে গিয়ে তরুণের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.