Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:০৫
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের ১৫ মাস পরও বিটিভিতে তার দোসর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বহাল রয়ে গেছেন। তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করা হয়নি। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও আওয়ামী দোসর ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বিটিভিতে এখনো সবচেয়ে ক্ষমতাধর হয়ে রয়েছেন। বিভাগীয় ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো তারা বহাল তবিয়তে আছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এতে বিটিভিতে দুর্নীতির পাশাপাশি পতিত সরকারের পলাতক প্রভাবশালীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের ভয়ংকর ঝুঁকি রয়েই গেছে।
অভিযোগ আছে-তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও বিটিভির নিজস্ব একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। এসব প্রতিবেদন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা ‘লালফিতায় বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো সচিব বা উপদেষ্টার টেবিলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হয়নি। মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একটি চক্র এ কাজে জড়িত।
এ বিষয়ে জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য নেওয়ার সময় চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরও সাড়া না পেয়ে সচিবের বক্তব্যের জন্য রোববার তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এ প্রতিবেদক। তিনি সচিবের একান্ত সচিব মো. রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। মোবাইল ফোনে রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বিষয়ে সচিবের বক্তব্য নিতে প্রয়োজন তা জানতে চান। তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট বিষয় লিখে পাঠানোর পরদিন সোমবার তিনি জানান এ বিষয়ে সচিব কোনো বক্তব্য দেবেন না।
এ বিষয়ে জানতে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। পরে কয়েক দফা তাকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সবশেষ রোববার বিকালে তিনি এই প্রতিবেদকের কল রিসিভ করলেও মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি বিটিভির বেশকিছু দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। যাচাই-বাছাই শেষে ৬ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করেছেন এ প্রতিবেদক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। তিনি বিটিভির সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটাল করার প্রকল্পের কাজ কারচুপির মাধ্যমে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্টুডিওটেককে প্রদান করেন। তিনি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ঘুসের বিনিময়ে ঠিকাদারকে পূর্ণাঙ্গ বিল প্রদান করতেন। এসব অনিয়মের কারণে গত বছরের ৪ নভেম্বর দুদক তার সম্পদের হিসাব তলব করে।’ মনিরুলের পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঘরে লেখা আছে-‘তার পিতা ও আপন দুই চাচা বিএনপি মতাদর্শী।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পতিত সরকারের দোসর মনিরুল এখন বাবা-চাচার রাজনৈতিক মতামর্শ পুঁজি করে জার্সি পালটে বিএনপির পরিচয়ে দাপট দেখাচ্ছেন।
জানা গেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও ফ্যাসিস্টের চিহ্নিত দোসর কর্মকর্তারা এখনো দাপটে আছেন বিটিভিতে। জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এলেও বিটিভিকে দুর্নীতি ও আওয়ামী দোসরমুক্ত করা যায়নি। এখনো বিটিভির ভেতরে-বাইরে ফ্যাসিস্ট দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য থাকায় শিল্পী, কলাকুশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বিটিভি সদর দপ্তরের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের (চলতি দায়িত্ব) পদে বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। এরপরও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। টানা ছয় বছর ধরে উচ্চপদে চলতি দায়িত্বে আছেন মনিরুল।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই সফির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এরপরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই কেন্দ্রের উপমহাপরিচালক বার্তা ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ ও অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌসকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রেখে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক বা মুখ্য শিল্প নির্দেশক মোহাম্মাদ সেলিমও আছেন বহাল তবিয়তে। এদের সবার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক অপরাধের পরও তারা এখনো চাকরিতে বহাল। ন্যূনতম শাস্তিও পেতে হয়নি তাদের। এদের বিরুদ্ধে দুদক ও মন্ত্রণালয়ে আরও কিছু তদন্ত চলমান আছে। কিন্তু চাকরিতে বহাল থাকায় নানাভাবে তদবির করে তারা তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ আছে।
দুদকের তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। ফিরতি প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মাদ সেলিম সম্পর্কে এনএসআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সেলিম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ঢাকা কেন্দ্রের বহুল আলোচিত সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার ও বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। বিটিভির অনুষ্ঠান নির্মাণের নামে অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া-বিল ভাউচার তৈরি করে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনসহ নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।’ দুদক থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মনিরুল ইসলাম, জিল্লুর রশিদ ও আফিফা আফরোজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. সফির হোসাইন ওরফে ইলনের জালিয়াতি, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ভয়ংকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর বিটিভি সদর দপ্তর থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সাত পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনের মতামতের অংশে ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘সরকারি আদেশ ছাড়া তিনি (সফির হোসাইন) পূর্ববর্তী কর্মস্থলে অবস্থানপূর্বক বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রযোজনা করেছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রেখেছেন এবং অনুষ্ঠানের প্রযোজক হিসাবে অনুষ্ঠান বাজেটে স্বাক্ষর করেছেন। তার প্রযোজিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামা’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো সরকারি আদেশ ব্যতিরেকে তিনি স্বীয়পদের চেয়ে উচ্চতর পদের কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিজেই স্বাক্ষর করেছেন এবং এর ভিত্তিতে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ প্রমাণিত।’
আরও বলা হয়েছে, ‘সরেজমিন তদন্তকালে তিনি তার চেয়ে উচ্চ পদের কর্মকর্তাদের সম্পর্কে দাপ্তরিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে সরকারি চাকরি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার ২০১৮-এর অনুছেদ-২(খ) এর পরিপন্থি কাজ করেছেন-যা তদন্তে প্রমাণিত। এছাড়া তার প্রযোজিত ও পরিশোধিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামার’ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার পরম্পরা পাওয়া যায়-যা তদন্তে প্রমাণিত।’
অভিযোগ আছে, এই প্রতিবেদন তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দুষ্টচক্র চাপা দিয়ে রেখেছে। এ কারণে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে সফির হোসাইন ইলনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের ১৫ মাস পরও বিটিভিতে তার দোসর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বহাল রয়ে গেছেন। তাদের টিকিটি পর্যন্ত স্পর্শ করা হয়নি। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও আওয়ামী দোসর ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বিটিভিতে এখনো সবচেয়ে ক্ষমতাধর হয়ে রয়েছেন। বিভাগীয় ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো তারা বহাল তবিয়তে আছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এতে বিটিভিতে দুর্নীতির পাশাপাশি পতিত সরকারের পলাতক প্রভাবশালীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের ভয়ংকর ঝুঁকি রয়েই গেছে।
অভিযোগ আছে-তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও বিটিভির নিজস্ব একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। এসব প্রতিবেদন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা ‘লালফিতায় বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো সচিব বা উপদেষ্টার টেবিলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হয়নি। মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একটি চক্র এ কাজে জড়িত।
এ বিষয়ে জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য নেওয়ার সময় চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পরও সাড়া না পেয়ে সচিবের বক্তব্যের জন্য রোববার তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এ প্রতিবেদক। তিনি সচিবের একান্ত সচিব মো. রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। মোবাইল ফোনে রিফাতুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বিষয়ে সচিবের বক্তব্য নিতে প্রয়োজন তা জানতে চান। তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট বিষয় লিখে পাঠানোর পরদিন সোমবার তিনি জানান এ বিষয়ে সচিব কোনো বক্তব্য দেবেন না।
এ বিষয়ে জানতে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। পরে কয়েক দফা তাকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সবশেষ রোববার বিকালে তিনি এই প্রতিবেদকের কল রিসিভ করলেও মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি বিটিভির বেশকিছু দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। যাচাই-বাছাই শেষে ৬ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করেছেন এ প্রতিবেদক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। তিনি বিটিভির সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটাল করার প্রকল্পের কাজ কারচুপির মাধ্যমে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্টুডিওটেককে প্রদান করেন। তিনি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ঘুসের বিনিময়ে ঠিকাদারকে পূর্ণাঙ্গ বিল প্রদান করতেন। এসব অনিয়মের কারণে গত বছরের ৪ নভেম্বর দুদক তার সম্পদের হিসাব তলব করে।’ মনিরুলের পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঘরে লেখা আছে-‘তার পিতা ও আপন দুই চাচা বিএনপি মতাদর্শী।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পতিত সরকারের দোসর মনিরুল এখন বাবা-চাচার রাজনৈতিক মতামর্শ পুঁজি করে জার্সি পালটে বিএনপির পরিচয়ে দাপট দেখাচ্ছেন।
জানা গেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও ফ্যাসিস্টের চিহ্নিত দোসর কর্মকর্তারা এখনো দাপটে আছেন বিটিভিতে। জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এলেও বিটিভিকে দুর্নীতি ও আওয়ামী দোসরমুক্ত করা যায়নি। এখনো বিটিভির ভেতরে-বাইরে ফ্যাসিস্ট দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য থাকায় শিল্পী, কলাকুশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বিটিভি সদর দপ্তরের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের (চলতি দায়িত্ব) পদে বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। এরপরও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। টানা ছয় বছর ধরে উচ্চপদে চলতি দায়িত্বে আছেন মনিরুল।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই সফির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এরপরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই কেন্দ্রের উপমহাপরিচালক বার্তা ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ ও অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌসকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রেখে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক বা মুখ্য শিল্প নির্দেশক মোহাম্মাদ সেলিমও আছেন বহাল তবিয়তে। এদের সবার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক অপরাধের পরও তারা এখনো চাকরিতে বহাল। ন্যূনতম শাস্তিও পেতে হয়নি তাদের। এদের বিরুদ্ধে দুদক ও মন্ত্রণালয়ে আরও কিছু তদন্ত চলমান আছে। কিন্তু চাকরিতে বহাল থাকায় নানাভাবে তদবির করে তারা তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ আছে।
দুদকের তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। ফিরতি প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মাদ সেলিম সম্পর্কে এনএসআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সেলিম আওয়ামী লীগ মতাদর্শী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ঢাকা কেন্দ্রের বহুল আলোচিত সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার ও বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। বিটিভির অনুষ্ঠান নির্মাণের নামে অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া-বিল ভাউচার তৈরি করে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনসহ নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।’ দুদক থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মনিরুল ইসলাম, জিল্লুর রশিদ ও আফিফা আফরোজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. সফির হোসাইন ওরফে ইলনের জালিয়াতি, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ভয়ংকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর বিটিভি সদর দপ্তর থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সাত পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনের মতামতের অংশে ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘সরকারি আদেশ ছাড়া তিনি (সফির হোসাইন) পূর্ববর্তী কর্মস্থলে অবস্থানপূর্বক বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রযোজনা করেছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রেখেছেন এবং অনুষ্ঠানের প্রযোজক হিসাবে অনুষ্ঠান বাজেটে স্বাক্ষর করেছেন। তার প্রযোজিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামা’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো সরকারি আদেশ ব্যতিরেকে তিনি স্বীয়পদের চেয়ে উচ্চতর পদের কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিজেই স্বাক্ষর করেছেন এবং এর ভিত্তিতে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ প্রমাণিত।’
আরও বলা হয়েছে, ‘সরেজমিন তদন্তকালে তিনি তার চেয়ে উচ্চ পদের কর্মকর্তাদের সম্পর্কে দাপ্তরিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে সরকারি চাকরি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার ২০১৮-এর অনুছেদ-২(খ) এর পরিপন্থি কাজ করেছেন-যা তদন্তে প্রমাণিত। এছাড়া তার প্রযোজিত ও পরিশোধিত ‘অনুষ্ঠান ব্যয় প্রস্তাবনামার’ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার পরম্পরা পাওয়া যায়-যা তদন্তে প্রমাণিত।’
অভিযোগ আছে, এই প্রতিবেদন তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দুষ্টচক্র চাপা দিয়ে রেখেছে। এ কারণে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে সফির হোসাইন ইলনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার একই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।

১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তারা। এর আগে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। সে সময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো আগে থেকেই সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।সংসদে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দল বা কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে তাকে ‘ওয়াক আউট’ বলা হয়।
এদিন সকালে শপথ নিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। প্রথমে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এরপরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন কায়সার কামাল। তিনি বর্তমানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গঠনের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১২
পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং আরব আমিরাত।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও অযৌক্তিক। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসল্লিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
দেশগুলো আরও বলেছে, দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বলেও তারা উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের দেখভাল ও প্রশাসনের আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ বিভাগের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে এবং মুসল্লিদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একইভাবে হামাসও আল-আকসা বন্ধ রাখাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক নজির বলে আখ্যা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াক আউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তারা। এর আগে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ দেখান। সে সময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো আগে থেকেই সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।সংসদে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দল বা কোনো সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে তাকে ‘ওয়াক আউট’ বলা হয়।
এদিন সকালে শপথ নিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। প্রথমে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এরপরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অধিবেশনে সভাপতি জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন কায়সার কামাল। তিনি বর্তমানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্যে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গঠনের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ। দেশগুলো হলো কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং আরব আমিরাত।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও অযৌক্তিক। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসল্লিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
দেশগুলো আরও বলেছে, দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা কেবল মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বলেও তারা উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের দেখভাল ও প্রশাসনের আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ বিভাগের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে এবং মুসল্লিদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একইভাবে হামাসও আল-আকসা বন্ধ রাখাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক নজির বলে আখ্যা দিয়েছে।
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১