আজ ৫ আগস্ট পূর্ণ হচ্ছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তথা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ এবং খুনি শেখ হাসিনার পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি। ২০২৪ সালের এই দিনে জুলাই মাসজুড়ে চলা ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মুখে গোপনে পদত্যাগ করে ভারত পালাতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী এবং পর্যবেক্ষকরা একে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ নামে অভিহিত করে থাকেন।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেছেন, এই বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য।
আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, জুলাই আমাদের নতুন করে আশার আলো- একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।
পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনও দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হবে। আসুন সবাই মিলে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না।
আন্দোলনের সূচনা: কোটা সংস্কার থেকে একদফা
২০২৪ সালের জুনের শেষদিকে তরুণদের একটি অংশ সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এই দাবি পুরোনো হলেও নতুন মাত্রা পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন এবং সারা দেশের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে মানববন্ধন, রোডমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। কিন্তু আন্দোলন দ্রুতই কোটা সংস্কারের গন্ডি ছাড়িয়ে স্বৈরশাসন, নির্বাচনি অনিয়ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বিস্তৃত গণজাগরণে রূপ নেয়।
জুলাই মাসজুড়ে উত্তাল রাজপথ
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনার সময়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতিদিনের বিক্ষোভে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরে অচলাবস্থা তৈরি হয়। ‘মেধা না কোটা? মেধা মেধা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ। প্রশাসনের দমননীতি, বারবার ইন্টারনেট বন্ধ, গ্রেপ্তার ও গুমের প্রতিবাদে আন্দোলনের মাত্রা আরও তীব্র হয়।
দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম একটানা রাজপথে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেয়Ñ পরিবর্তন চাই। দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত না করে ছাত্র-জনতা যে ঘরে ফিরবেন না, সেই সংকল্পে বোঝা যায় আগস্ট মাসকেও জুলাই হিসেবে গণনার মধ্য দিয়ে। আগস্ট মাসের প্রথম দিনটিকে ১ আগস্টের বদলে, ৩২ জুলাই হিসেবে অভিহিত করতে থাকে আন্দোলনকারীরা। এভাবে ৫ আগস্ট হাসিনার পলায়নের দিন অভ্যুত্থানকারীদের পঞ্জিকায় স্থান পায় ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে।
৩৬ জুলাই তথা ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনার ভারত পলায়ন
আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সেদিন দুপুরে ঘোষণা আসে যে, সেনাবাহিনী প্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এই ঘোষণার পর অনুমান করা যায় যে, দেশের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। তবে তখনো জানা যায়নি যে, হাসিনা ভারত পালিয়েছেন। বিকেল ৩টার দিকে শেখ হাসিনার ভারত পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশের ভার পড়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ওপর। কয়েক দিনের মধ্যে একজন সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার মাধ্যমে অর্থনীতিবিদ ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সরকার গণতান্ত্রিক সংস্কার, মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বর্ষপূর্তিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি
আজকের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর নিজেদের মতো নানা কর্মসূচি পালন করবে। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন জেলা শহর, উপজেলা এবং পৌরসভাতেও দিবসটি উদযাপন করা হবে।
এদিন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ঘোষণা করে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে; বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেন। ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস উপলক্ষে দিনটি উদযাপন করবে সরকার।
প্রধান অনুষ্ঠানটি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এরই মধ্যেই প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে এই অনুষ্ঠান।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো। অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে আছে বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশনা, হাসিনার পালানোর ঘটনা উদযাপনে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদযাপন, বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশেষ ড্রোন শো এবং রাত ৮টায় ব্যান্ড দল আর্টসেলের পরিবেশনা। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের জেলা থেকে হাজার হাজার জনতা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

০৫ আগস্ট, ২০২৫ ০২:০০
আজ ৫ আগস্ট পূর্ণ হচ্ছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তথা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ এবং খুনি শেখ হাসিনার পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি। ২০২৪ সালের এই দিনে জুলাই মাসজুড়ে চলা ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মুখে গোপনে পদত্যাগ করে ভারত পালাতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী এবং পর্যবেক্ষকরা একে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ নামে অভিহিত করে থাকেন।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেছেন, এই বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য।
আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, জুলাই আমাদের নতুন করে আশার আলো- একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।
পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনও দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হবে। আসুন সবাই মিলে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না।
আন্দোলনের সূচনা: কোটা সংস্কার থেকে একদফা
২০২৪ সালের জুনের শেষদিকে তরুণদের একটি অংশ সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এই দাবি পুরোনো হলেও নতুন মাত্রা পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন এবং সারা দেশের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে মানববন্ধন, রোডমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। কিন্তু আন্দোলন দ্রুতই কোটা সংস্কারের গন্ডি ছাড়িয়ে স্বৈরশাসন, নির্বাচনি অনিয়ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বিস্তৃত গণজাগরণে রূপ নেয়।
জুলাই মাসজুড়ে উত্তাল রাজপথ
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনার সময়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতিদিনের বিক্ষোভে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরে অচলাবস্থা তৈরি হয়। ‘মেধা না কোটা? মেধা মেধা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ। প্রশাসনের দমননীতি, বারবার ইন্টারনেট বন্ধ, গ্রেপ্তার ও গুমের প্রতিবাদে আন্দোলনের মাত্রা আরও তীব্র হয়।
দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম একটানা রাজপথে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেয়Ñ পরিবর্তন চাই। দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত না করে ছাত্র-জনতা যে ঘরে ফিরবেন না, সেই সংকল্পে বোঝা যায় আগস্ট মাসকেও জুলাই হিসেবে গণনার মধ্য দিয়ে। আগস্ট মাসের প্রথম দিনটিকে ১ আগস্টের বদলে, ৩২ জুলাই হিসেবে অভিহিত করতে থাকে আন্দোলনকারীরা। এভাবে ৫ আগস্ট হাসিনার পলায়নের দিন অভ্যুত্থানকারীদের পঞ্জিকায় স্থান পায় ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে।
৩৬ জুলাই তথা ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনার ভারত পলায়ন
আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সেদিন দুপুরে ঘোষণা আসে যে, সেনাবাহিনী প্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এই ঘোষণার পর অনুমান করা যায় যে, দেশের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। তবে তখনো জানা যায়নি যে, হাসিনা ভারত পালিয়েছেন। বিকেল ৩টার দিকে শেখ হাসিনার ভারত পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশের ভার পড়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ওপর। কয়েক দিনের মধ্যে একজন সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার মাধ্যমে অর্থনীতিবিদ ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সরকার গণতান্ত্রিক সংস্কার, মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বর্ষপূর্তিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি
আজকের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর নিজেদের মতো নানা কর্মসূচি পালন করবে। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন জেলা শহর, উপজেলা এবং পৌরসভাতেও দিবসটি উদযাপন করা হবে।
এদিন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ঘোষণা করে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে; বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেন। ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস উপলক্ষে দিনটি উদযাপন করবে সরকার।
প্রধান অনুষ্ঠানটি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এরই মধ্যেই প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে এই অনুষ্ঠান।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো। অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে আছে বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশনা, হাসিনার পালানোর ঘটনা উদযাপনে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদযাপন, বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশেষ ড্রোন শো এবং রাত ৮টায় ব্যান্ড দল আর্টসেলের পরিবেশনা। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের জেলা থেকে হাজার হাজার জনতা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।