বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যারা ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলমানদের সামাজিক ও ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের তালিকায় বেগম খালেদা জিয়ার নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। প্রথমত, তিনি দীর্ঘসময় বাংলাদেশী মুসলিম জাতীয়তাবাদের আদর্শ লালন করে দেশ পরিচালনা করেছেন। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থেকে অন্য অনেক ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতার তুলনায় বাস্তবে বেশি সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। ধর্মীয় রাজনীতিকেরা অনেক পরিকল্পনা করলেও অবস্থানগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেসব বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ত, গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বে ওঠার শুরু থেকেই তিনি আলেম সমাজকে কাছে টেনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ফলে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাঁর নীতিনির্ধারণে সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও পূর্ণ মেয়াদে দুই দফায় দেশ পরিচালনা করেন। প্রথমবার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল।
উভয় মেয়াদেই ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার, আলেম সমাজের মূল্যায়ন, ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন, ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও মুসলিম বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার নানা নীতি গ্রহণ করা হয়। আজকের আলোচনায় সমসাময়িক সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে প্রমাণসহ সংরক্ষিত কিছু নীতি ও উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হলো।
১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় যুক্ত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অপরিবর্তিত থাকে। বরং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার বারবার সংসদে ও সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
২০০৫ সালের সংসদীয় কার্যবিবরণীতেও এ অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৯২–৯৫ মেয়াদে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ অনুষদ বিস্তারে সরকার কয়েকটি নতুন বিভাগ অনুমোদন দেয়। ১৯৯৩ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেটেও অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ আছে।
২০০১–২০০৬ মেয়াদে ফাজিল সনদকে ডিগ্রি ও কামিল সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মূলধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
এ সময় মাদরাসা উন্নয়নেও বাজেট বৃদ্ধি করা হয়।
১৯৯২ সাল থেকে কওমি সনদের স্বীকৃতির দাবী ওঠে। ২০০৫ সালে পল্টনে বিশাল সম্মেলন ও পাঁচদিনের অবস্থান কর্মসূচির পর বেগম খালেদা জিয়া উলামাদের সঙ্গে বৈঠক করে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় গেজেটও প্রকাশ করে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ থাকলেও এটাই ছিল কওমি সনদের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
৫. ইসলামি ব্যাংকিং ও শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বিস্তার
২০০১–২০০৬ মেয়াদে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও শাখা সম্প্রসারণ পায়। ইসলামী ব্যাংকিং মধ্যবিত্তের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করে এবং এই সময় দ্রুত দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়।
২০০৫–২০০৬ সালে জাতীয় ঈদগাহ উন্নয়ন, বায়তুল মোকাররম সংস্কার এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ইমাম–মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি পায়।
১৯৯৩ ও ২০০৫ সালে বিভিন্ন মাজারের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।
সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইউএই, মালয়েশিয়া, ব্রুনাইসহ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে শ্রমবাজার, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে। OIC–এ বাংলাদেশের উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী হয়।
১৯৯২–৯৪ সালে বিভিন্ন ইসলামী ধারার ওপর অভিযোগ উঠলে খালেদা জিয়া সংসদে তদন্তের আশ্বাস দেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।
২০০৩–২০০৬ সালে হজযাত্রী পরিবহনে বিআইএ–কে শক্তিশালী করা হয় এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ভিসা প্রাপ্তি সহজ হয়।
প্রথমবারের মতো কওমি আলেমদের রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হয়। তাঁদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠানো হয় এবং ওয়াকফ সম্পত্তি, মাদরাসার জমি ও কর–সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা অনুমোদন করা হয়।
দুই মেয়াদেই রমজানে মূল্যনিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
২০০৫ সালে ইউরোপে নবীজি সম্পর্কে বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর নিন্দা জানায়।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে তিনটি দিক বিশেষভাবে স্পষ্ট ছিল:
এক. রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের মর্যাদা রক্ষা।
দুই. ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানকে নীতিগতভাবে শক্তিশালী করা।
তিন. মুসলিম বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থান জোরদার করা।
সরকারে না থাকলেও ইসলাম ও মুসলিমদের বিষয় নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে অবস্থান জানিয়েছেন। যেমন ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের বিতর্কে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দেন। একই বছর শাপলা চত্বরে তাওহিদী জনতার দাবিতে তাঁর সমর্থনও স্মরণীয়।
এমন অসংখ্য দৃষ্টান্তে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আল্লাহ এই মহীয়সী নারীকে তাঁর কর্ম অনুযায়ী উত্তম প্রতিদান দিন।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৪
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির সমকালকে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসে। ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রদর্শিত পিস্তলটির লাইসেন্স আছে কীনা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেনের এপিএস আরিফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘পিস্তল নয়, তিনি লাঠি নিয়ে অভিযানে গেছেন।’
অস্ত্রহাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা চলছে। লাইসেন্স থাকলেও নিজের অস্ত্র এভাবে প্রদর্শন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক। মাঠপর্যায়ে তাদের সরাসরি অভিযান পরিচালনা বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তাছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মুহাম্মদ নুরুল হুদা সমকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। কোনো অভিযানে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন না করাই ভালো। কারণ, তার নিরাপত্তার জন্য তো পুলিশ থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ফোন করা হয়, হোয়াটসআপে ম্যাসেজ পাঠানো হয়, তবে তাতে তিনি সাড়া দেননি।
নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযান শেষে ইশরাক বলেন- ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজ দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলবে, দেশের কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।
আসনটি মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:২২
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যারা ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলমানদের সামাজিক ও ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের তালিকায় বেগম খালেদা জিয়ার নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। প্রথমত, তিনি দীর্ঘসময় বাংলাদেশী মুসলিম জাতীয়তাবাদের আদর্শ লালন করে দেশ পরিচালনা করেছেন। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থেকে অন্য অনেক ধর্মীয় রাজনৈতিক নেতার তুলনায় বাস্তবে বেশি সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। ধর্মীয় রাজনীতিকেরা অনেক পরিকল্পনা করলেও অবস্থানগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেসব বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ত, গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বে ওঠার শুরু থেকেই তিনি আলেম সমাজকে কাছে টেনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ফলে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাঁর নীতিনির্ধারণে সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও পূর্ণ মেয়াদে দুই দফায় দেশ পরিচালনা করেন। প্রথমবার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল।
উভয় মেয়াদেই ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার, আলেম সমাজের মূল্যায়ন, ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন, ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও মুসলিম বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার নানা নীতি গ্রহণ করা হয়। আজকের আলোচনায় সমসাময়িক সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে প্রমাণসহ সংরক্ষিত কিছু নীতি ও উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হলো।
১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় যুক্ত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অপরিবর্তিত থাকে। বরং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার বারবার সংসদে ও সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
২০০৫ সালের সংসদীয় কার্যবিবরণীতেও এ অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৯২–৯৫ মেয়াদে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ অনুষদ বিস্তারে সরকার কয়েকটি নতুন বিভাগ অনুমোদন দেয়। ১৯৯৩ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেটেও অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ আছে।
২০০১–২০০৬ মেয়াদে ফাজিল সনদকে ডিগ্রি ও কামিল সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মূলধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
এ সময় মাদরাসা উন্নয়নেও বাজেট বৃদ্ধি করা হয়।
১৯৯২ সাল থেকে কওমি সনদের স্বীকৃতির দাবী ওঠে। ২০০৫ সালে পল্টনে বিশাল সম্মেলন ও পাঁচদিনের অবস্থান কর্মসূচির পর বেগম খালেদা জিয়া উলামাদের সঙ্গে বৈঠক করে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় গেজেটও প্রকাশ করে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ থাকলেও এটাই ছিল কওমি সনদের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
৫. ইসলামি ব্যাংকিং ও শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বিস্তার
২০০১–২০০৬ মেয়াদে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও শাখা সম্প্রসারণ পায়। ইসলামী ব্যাংকিং মধ্যবিত্তের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করে এবং এই সময় দ্রুত দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়।
২০০৫–২০০৬ সালে জাতীয় ঈদগাহ উন্নয়ন, বায়তুল মোকাররম সংস্কার এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ইমাম–মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি পায়।
১৯৯৩ ও ২০০৫ সালে বিভিন্ন মাজারের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।
সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইউএই, মালয়েশিয়া, ব্রুনাইসহ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে শ্রমবাজার, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে। OIC–এ বাংলাদেশের উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী হয়।
১৯৯২–৯৪ সালে বিভিন্ন ইসলামী ধারার ওপর অভিযোগ উঠলে খালেদা জিয়া সংসদে তদন্তের আশ্বাস দেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।
২০০৩–২০০৬ সালে হজযাত্রী পরিবহনে বিআইএ–কে শক্তিশালী করা হয় এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ভিসা প্রাপ্তি সহজ হয়।
প্রথমবারের মতো কওমি আলেমদের রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হয়। তাঁদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠানো হয় এবং ওয়াকফ সম্পত্তি, মাদরাসার জমি ও কর–সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা অনুমোদন করা হয়।
দুই মেয়াদেই রমজানে মূল্যনিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
২০০৫ সালে ইউরোপে নবীজি সম্পর্কে বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর নিন্দা জানায়।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে তিনটি দিক বিশেষভাবে স্পষ্ট ছিল:
এক. রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের মর্যাদা রক্ষা।
দুই. ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানকে নীতিগতভাবে শক্তিশালী করা।
তিন. মুসলিম বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থান জোরদার করা।
সরকারে না থাকলেও ইসলাম ও মুসলিমদের বিষয় নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে অবস্থান জানিয়েছেন। যেমন ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের বিতর্কে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দেন। একই বছর শাপলা চত্বরে তাওহিদী জনতার দাবিতে তাঁর সমর্থনও স্মরণীয়।
এমন অসংখ্য দৃষ্টান্তে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আল্লাহ এই মহীয়সী নারীকে তাঁর কর্ম অনুযায়ী উত্তম প্রতিদান দিন।
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৭
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৯
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৭
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮