
১২ মার্চ, ২০২৬ ০১:৫৩
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে সমুদ্রবন্দরগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত পায়রা বন্দরকে ঘিরে রাষ্ট্রের বড় প্রত্যাশা রয়েছে। এটি শুধু একটি বন্দর নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি) ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় যে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দরপত্র প্রক্রিয়া সাধারণত স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি করা হয়। কিন্তু পায়রা বন্দরের এই প্রকল্পে দরপত্রের কঠোর শর্ত থাকা সত্ত্বেও একটি অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত চীনা কোম্পানির ক্ষেত্রে কোনো শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এমনকি তাদের ওয়েবসাইটেও বিশ্বজুড়ে মোবাইল হারবার ক্রেন সরবরাহের সুস্পষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়। বরং একটি সুপরিকল্পিত অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিশ্বখ্যাত এবং অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন এই দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি? মোবাইল হারবার ক্রেন উৎপাদনে ইতালি, জার্মানি বা চীনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অখ্যাত একটি কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। যদি সত্যিই এমনটি ঘটে থাকে, তবে তা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার মৌলিক নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
প্রায় ৪২ কোটি টাকার এই ক্রেন যদি ভবিষ্যতে নি¤œমানের বা অকার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রভাব শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটি বন্দরের কার্যক্রম নির্ভর করে তার সরঞ্জামের দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর। বন্দরের মূল কাজ হলোÑ দ্রুত ও নিরাপদভাবে পণ্য ওঠানামা নিশ্চিত করা। কিন্তু ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যদি বারবার বিকল হয় বা প্রত্যাশিত সক্ষমতা না থাকে, তবে বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর পাশাপাশি প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার দুটি শিপ-টু-শোর ক্রেন ক্রয় চুক্তি নিয়েও যে প্রশ্ন উঠেছে, তা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এত বড় অঙ্কের ক্রয়প্রক্রিয়া যদি যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া সম্পন্ন হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি প্রশাসনিক নৈতিকতাকেও দুর্বল করে দেয়।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এসব প্রকল্প যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে উন্নয়নের অর্জনও ম্লান হয়ে যায়। পায়রা বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, প্রভাবশালী কর্মকর্তা হোক বা অন্য কোনো পক্ষ, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে, এই ঘটনাটি সেই অবস্থানের বাস্তব পরীক্ষা। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে শুধু পায়রা বন্দর নয়, রাষ্ট্রীয় সব প্রকল্পেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থের অপচয় কিংবা আত্মসাতের সুযোগ কেউ পাবে না, এই বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পায়রা বন্দরের এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তিই পারে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।
বরিশাল টাইমস
ছবি: বরিশাল টাইমস
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে সমুদ্রবন্দরগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত পায়রা বন্দরকে ঘিরে রাষ্ট্রের বড় প্রত্যাশা রয়েছে। এটি শুধু একটি বন্দর নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি) ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় যে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দরপত্র প্রক্রিয়া সাধারণত স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি করা হয়। কিন্তু পায়রা বন্দরের এই প্রকল্পে দরপত্রের কঠোর শর্ত থাকা সত্ত্বেও একটি অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত চীনা কোম্পানির ক্ষেত্রে কোনো শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এমনকি তাদের ওয়েবসাইটেও বিশ্বজুড়ে মোবাইল হারবার ক্রেন সরবরাহের সুস্পষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়। বরং একটি সুপরিকল্পিত অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিশ্বখ্যাত এবং অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন এই দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি? মোবাইল হারবার ক্রেন উৎপাদনে ইতালি, জার্মানি বা চীনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অখ্যাত একটি কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। যদি সত্যিই এমনটি ঘটে থাকে, তবে তা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার মৌলিক নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
প্রায় ৪২ কোটি টাকার এই ক্রেন যদি ভবিষ্যতে নি¤œমানের বা অকার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রভাব শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটি বন্দরের কার্যক্রম নির্ভর করে তার সরঞ্জামের দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর। বন্দরের মূল কাজ হলোÑ দ্রুত ও নিরাপদভাবে পণ্য ওঠানামা নিশ্চিত করা। কিন্তু ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যদি বারবার বিকল হয় বা প্রত্যাশিত সক্ষমতা না থাকে, তবে বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর পাশাপাশি প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার দুটি শিপ-টু-শোর ক্রেন ক্রয় চুক্তি নিয়েও যে প্রশ্ন উঠেছে, তা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এত বড় অঙ্কের ক্রয়প্রক্রিয়া যদি যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া সম্পন্ন হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি প্রশাসনিক নৈতিকতাকেও দুর্বল করে দেয়।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এসব প্রকল্প যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে উন্নয়নের অর্জনও ম্লান হয়ে যায়। পায়রা বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, প্রভাবশালী কর্মকর্তা হোক বা অন্য কোনো পক্ষ, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে, এই ঘটনাটি সেই অবস্থানের বাস্তব পরীক্ষা। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে শুধু পায়রা বন্দর নয়, রাষ্ট্রীয় সব প্রকল্পেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থের অপচয় কিংবা আত্মসাতের সুযোগ কেউ পাবে না, এই বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পায়রা বন্দরের এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তিই পারে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.