
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৭
রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত শেষে ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেব চালুর পরে আর দেখা নেই। প্রায় ৫ বছর বানিজ্যিক পরিচালন থেকে বাইরে রেখে কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত ও সংরক্ষন কাজ সমাপ্ত করে পিএস মাহসুদ গত ২৮ নভেম্বর ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশালে এবং ২৯ নভম্বর ঢাকায় ফেরত যায়। এর আগে ১৫ নভেম্বর মেরামতকৃত নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এমনকি মেরামতকৃত নৌযানটির পরিক্ষামূলক পরিচালনেও উপদেষ্টা ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমন করেছিলেন।
কিন্তু ৫ ডিসেম্বর নৌযানটির দ্বিতীয় বানিজ্যিক পরিচালনে বরিশালে এসে ৬ ডিসেম্বর ফেরত যাবার পরে আর বরিশাল মুখি হয়নি। গত ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশী কুটনীতিককে নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘পিএস মাহসুদ’এ ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমনের পরে তা ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ‘গ্রীন টুর এন্ড ট্রাভেলস’ মাসে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে পিএস মাহসুদ ইজারা গ্রহন করার পরে আর বরিশালমুখি হয়নি। এমনকি ইজারা প্রদানের আগে নৌযানটি ‘সপ্তাহে অন্তত ১দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চরাচল করবে’ বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হলেও সে কথা রাখেনি ইজারাদার সহ নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটিও। গত দু মাসে একবারও বরিশালবাসী পিএস মাহসুদ’র হুইসাল শোনেনি। তবে এখন সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে ‘ইজারাদার তার বানিজ্যিক সুবিধার বিবেচনায়ই নৌযানটি পরিচালন করছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসি নৌযানটি সপ্তাহে অন্তত ১দিন ঢাকা ও বরিশাল থেকে, যথাক্রমে শুক্র ও শণিবার পরিচালন’র যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল, তা তা আর কার্যকর রইল না।
ইজারাদার নৌযানটিতে কর্মরত সংস্থার ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ২ লাখ টাকা এবং ইজারামূল্য বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে। ৬ মাসের ভাড়া আগাম পরিশোধের বিনিময়ে দু বছরের জন্য নৌযানটি ইজারা চুক্তি করেছে বিআইডব্লিউটিসি। এব্যপারে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ সলিম উল্লাহ ইতোপূর্বে জানিয়েছিলন, ‘আমরা পর্যটন বিকাশের স্বার্থেই পিএস মাহসদু’কে একটি দক্ষ ট্যুর অপারেটরকে দায়িত্ব দিচ্ছি। তবে ‘কোন বিশ^ ঐতিহ্য ইজারা দেয়া যায় কিনা’, এমন প্রশ্নের জবাবে এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নৌযানটির সঠিক ব্যবহার ও দেশের পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।
উল্লেখ্য, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন গত ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস’র সাথে সাক্ষাত করে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ঠ উচ্ছাস প্রকাশ করে ‘কোন ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ নৌকার ডিজাইন পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। অথচ এসম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না’ । এসময় প্রধান উপদেষ্টা ‘আমাদের এই ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না’ বলে মন্তব্য করে ‘প্যাডেল স্টিমার সহ যত পুরনো নৌযান আছে সবকটিই সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলেও জানিয়েছিলেন।
এসময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, ‘পিএস মাহসুদ কেবল একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিক, আমরা চাই নতুন প্রজন্ম কাছে থেকে জানুক, দেখুক। এক সময় নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ’। তিনি ‘পিএস মাহসুদ’র পাশাপাশি পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচা সহ অন্য পুরনো স্টিমারগুলোও সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে’ বলে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছিলেন।
কিন্তু ইতোমধ্যে পিএস মাহসুদ ইজারাদারের কাছে হস্তান্তরের পরে পিএস অস্ট্রিচ’র ইজারাও চুড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই ব্যাংক গ্যরান্টি পরিষোধ সাপেক্ষে নৌযানটি ৫ বছরের জন্য ইাজারাদারের কাছে চুড়ান্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংস্থার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বেআইনীভাবে বিনা দরপত্রে ইজারা দেয়া হয় বিগত সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে। ইজারাদার নৌযানটির উপরিকাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে তছনছ করে দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়াও পরিরেশাধ করেনি। দীর্ঘদিন ইজারাদারের হাতে ‘আটক’ থাকার পরে ম্যজিষ্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে পিএস অস্ট্রিচ উদ্ধার করা হলেও বকেয়া আদায়ে আদালতে মামলা চলছে।
অপরদিকে সংস্থার হাতে থাকা ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ নামের অপর দুটি নৌযানও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনহীন অবস্থায় অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের কেউ এসব নৌযানের মেরামত ও পূনর্বাশনের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।
ফলে প্রধান উপদেষ্টার সামনে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার ‘পিএস অস্ট্রিচ সহ সবগুলো প্যডেল নৌযানই ঐতিহ্য হিসেব সংরক্ষন করা হবে’ বলে যে ঘোষনা দিয়েছিলন, তা কতটুকু কার্যকর হবে, সে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে ওয়াকিবাহাল মহলে। এমনকি গত অক্টোবরে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বরিশালে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘নভেম্বর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে পিএস মাহসুদ যাত্রী পরিবহন করবে’ বলে জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইয়ার্ডে নির্মিত পিএস মাহসুদ সহ বিআইডব্লিউটিসি’র হাতে থাকা ৪টি প্যডেল জাহাজই বিযুক্ত অবস্থায় এনে ১৯৩৮ থেকে ’৪৮ সালে কোলকাতার গার্ডেনরীচ শিপবিল্ডার্সে সংযোজন করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অন্য আরো অন্তত ২৫টি প্যাডেল জাহাজের সাথে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিস্যায় পরে ‘পিএস গাজী, পিএস মাহসুদ,পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ’ নামের নৌযানগুলো। এসব নৌযান ১৯৪৮ সালে গঠিত ‘পাকিস্তান রিভার স্টিমার্স-পিআরএস’র তত্বাবধানে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে মেইল সার্ভিস এবং নারায়গঞ্জ-বরিশাল-খুলনা নৌপথে রকেট সার্ভিসেও দীর্ঘদিন চলাচল করে।
১৯৭৮ থেকে ’৮২ সালে বেলজীয় সরকারের আর্থিক ও কারিগড়ি সহায়তায় পিএস মাহসুদ, পিএস অষ্ট্রিাচ ও পিএএস লেপচা’ কয়লা চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন সহ পরিপূর্ণ পূণর্বাশন করা হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ হাইড্রোলিক গীয়ারের কারণে মাত্র ৩ হাজার ঘন্টা চলাচলের পরেই পূণর্বাশনকৃত ৩টি নৌযানই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে সবগুলো নৌযানেই হাইড্রোলিক গীয়ারের পরিবর্তে মেকানিক্যাল গীয়ার সংযোজন সহ আরেক দফা পূনর্বাশন শেষে চালু করা হয়।
সে থেকে টানা ২৫ বছর মাহসুদ সহ এসব নৌযান ঢাকা-বরিশাল-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল-মোড়েলগঞ্জ নৌপথে যাত্রী পরিবহন করলেও দীর্ঘ অবহেলা ও উদাশীনতায় ২০২০ সালে সবগুলো প্যডেল জাহাজের মত ‘পিএস মাহসুদ’কেও বসিয়ে রাখা হয়।
রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত শেষে ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেব চালুর পরে আর দেখা নেই। প্রায় ৫ বছর বানিজ্যিক পরিচালন থেকে বাইরে রেখে কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত ও সংরক্ষন কাজ সমাপ্ত করে পিএস মাহসুদ গত ২৮ নভেম্বর ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশালে এবং ২৯ নভম্বর ঢাকায় ফেরত যায়। এর আগে ১৫ নভেম্বর মেরামতকৃত নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এমনকি মেরামতকৃত নৌযানটির পরিক্ষামূলক পরিচালনেও উপদেষ্টা ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমন করেছিলেন।
কিন্তু ৫ ডিসেম্বর নৌযানটির দ্বিতীয় বানিজ্যিক পরিচালনে বরিশালে এসে ৬ ডিসেম্বর ফেরত যাবার পরে আর বরিশাল মুখি হয়নি। গত ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশী কুটনীতিককে নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘পিএস মাহসুদ’এ ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমনের পরে তা ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ‘গ্রীন টুর এন্ড ট্রাভেলস’ মাসে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে পিএস মাহসুদ ইজারা গ্রহন করার পরে আর বরিশালমুখি হয়নি। এমনকি ইজারা প্রদানের আগে নৌযানটি ‘সপ্তাহে অন্তত ১দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চরাচল করবে’ বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হলেও সে কথা রাখেনি ইজারাদার সহ নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটিও। গত দু মাসে একবারও বরিশালবাসী পিএস মাহসুদ’র হুইসাল শোনেনি। তবে এখন সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে ‘ইজারাদার তার বানিজ্যিক সুবিধার বিবেচনায়ই নৌযানটি পরিচালন করছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসি নৌযানটি সপ্তাহে অন্তত ১দিন ঢাকা ও বরিশাল থেকে, যথাক্রমে শুক্র ও শণিবার পরিচালন’র যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল, তা তা আর কার্যকর রইল না।
ইজারাদার নৌযানটিতে কর্মরত সংস্থার ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ২ লাখ টাকা এবং ইজারামূল্য বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে। ৬ মাসের ভাড়া আগাম পরিশোধের বিনিময়ে দু বছরের জন্য নৌযানটি ইজারা চুক্তি করেছে বিআইডব্লিউটিসি। এব্যপারে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ সলিম উল্লাহ ইতোপূর্বে জানিয়েছিলন, ‘আমরা পর্যটন বিকাশের স্বার্থেই পিএস মাহসদু’কে একটি দক্ষ ট্যুর অপারেটরকে দায়িত্ব দিচ্ছি। তবে ‘কোন বিশ^ ঐতিহ্য ইজারা দেয়া যায় কিনা’, এমন প্রশ্নের জবাবে এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নৌযানটির সঠিক ব্যবহার ও দেশের পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।
উল্লেখ্য, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন গত ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস’র সাথে সাক্ষাত করে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ঠ উচ্ছাস প্রকাশ করে ‘কোন ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ নৌকার ডিজাইন পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। অথচ এসম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না’ । এসময় প্রধান উপদেষ্টা ‘আমাদের এই ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না’ বলে মন্তব্য করে ‘প্যাডেল স্টিমার সহ যত পুরনো নৌযান আছে সবকটিই সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলেও জানিয়েছিলেন।
এসময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, ‘পিএস মাহসুদ কেবল একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিক, আমরা চাই নতুন প্রজন্ম কাছে থেকে জানুক, দেখুক। এক সময় নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ’। তিনি ‘পিএস মাহসুদ’র পাশাপাশি পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচা সহ অন্য পুরনো স্টিমারগুলোও সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে’ বলে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছিলেন।
কিন্তু ইতোমধ্যে পিএস মাহসুদ ইজারাদারের কাছে হস্তান্তরের পরে পিএস অস্ট্রিচ’র ইজারাও চুড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই ব্যাংক গ্যরান্টি পরিষোধ সাপেক্ষে নৌযানটি ৫ বছরের জন্য ইাজারাদারের কাছে চুড়ান্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংস্থার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বেআইনীভাবে বিনা দরপত্রে ইজারা দেয়া হয় বিগত সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে। ইজারাদার নৌযানটির উপরিকাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে তছনছ করে দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়াও পরিরেশাধ করেনি। দীর্ঘদিন ইজারাদারের হাতে ‘আটক’ থাকার পরে ম্যজিষ্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে পিএস অস্ট্রিচ উদ্ধার করা হলেও বকেয়া আদায়ে আদালতে মামলা চলছে।
অপরদিকে সংস্থার হাতে থাকা ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ নামের অপর দুটি নৌযানও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনহীন অবস্থায় অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের কেউ এসব নৌযানের মেরামত ও পূনর্বাশনের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।
ফলে প্রধান উপদেষ্টার সামনে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার ‘পিএস অস্ট্রিচ সহ সবগুলো প্যডেল নৌযানই ঐতিহ্য হিসেব সংরক্ষন করা হবে’ বলে যে ঘোষনা দিয়েছিলন, তা কতটুকু কার্যকর হবে, সে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে ওয়াকিবাহাল মহলে। এমনকি গত অক্টোবরে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বরিশালে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘নভেম্বর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে পিএস মাহসুদ যাত্রী পরিবহন করবে’ বলে জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইয়ার্ডে নির্মিত পিএস মাহসুদ সহ বিআইডব্লিউটিসি’র হাতে থাকা ৪টি প্যডেল জাহাজই বিযুক্ত অবস্থায় এনে ১৯৩৮ থেকে ’৪৮ সালে কোলকাতার গার্ডেনরীচ শিপবিল্ডার্সে সংযোজন করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অন্য আরো অন্তত ২৫টি প্যাডেল জাহাজের সাথে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিস্যায় পরে ‘পিএস গাজী, পিএস মাহসুদ,পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ’ নামের নৌযানগুলো। এসব নৌযান ১৯৪৮ সালে গঠিত ‘পাকিস্তান রিভার স্টিমার্স-পিআরএস’র তত্বাবধানে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে মেইল সার্ভিস এবং নারায়গঞ্জ-বরিশাল-খুলনা নৌপথে রকেট সার্ভিসেও দীর্ঘদিন চলাচল করে।
১৯৭৮ থেকে ’৮২ সালে বেলজীয় সরকারের আর্থিক ও কারিগড়ি সহায়তায় পিএস মাহসুদ, পিএস অষ্ট্রিাচ ও পিএএস লেপচা’ কয়লা চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন সহ পরিপূর্ণ পূণর্বাশন করা হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ হাইড্রোলিক গীয়ারের কারণে মাত্র ৩ হাজার ঘন্টা চলাচলের পরেই পূণর্বাশনকৃত ৩টি নৌযানই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে সবগুলো নৌযানেই হাইড্রোলিক গীয়ারের পরিবর্তে মেকানিক্যাল গীয়ার সংযোজন সহ আরেক দফা পূনর্বাশন শেষে চালু করা হয়।
সে থেকে টানা ২৫ বছর মাহসুদ সহ এসব নৌযান ঢাকা-বরিশাল-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল-মোড়েলগঞ্জ নৌপথে যাত্রী পরিবহন করলেও দীর্ঘ অবহেলা ও উদাশীনতায় ২০২০ সালে সবগুলো প্যডেল জাহাজের মত ‘পিএস মাহসুদ’কেও বসিয়ে রাখা হয়।

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.