ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ফলে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার সাতদিন পার হয়ে গেলেও জেলেদের কাছে পৌঁছেনি ভিজিএফের চাল। আর ওই চাল না পেয়ে রমজানের মধ্যে কষ্ট ও দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে কদিন আগেও ট্রলার, নৌকা ও জালসহ মাছ শিকারের উপকরণ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াত জেলেরা। আজ নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও মৎস্য ঘাটে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়েছে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে।
ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ভোলার ১৯০ কিলোমিটার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ নিষেধাজ্ঞা। তাই কেউ কেউ নদীর তীরে বসে জাল মেরামত করছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার মেরামতের কাজে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কারো নেই কোনো আয়-রোজগার।
শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার জেলে মো. সাদ্দাম মাঝি জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আজ সাতদিন চলছে। আমরা জেলে এখন পর্যন্ত নদীতে গিয়ে মাছ ধরিনি। কিন্তু সরকারিভাবে চাল এখনও পাইনি।
একই এলাকার মো. শাজাহান মাঝি ও মাকসুদ মাঝি জানান, সাত দিন চলে গেছে। এখনও চাল আমাদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। আমাদের তো কাজ-কাম নেই, রোজগারও নেই, এখন কী করব? রমজান মাস চলছে, তার মধ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এখন তো আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
শিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রাকিব মাঝি জানান, সরকারি অভিযান মেনে তারা নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু এনজিও থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ হয়নি। সমিতির লোকজন সকাল-বিকেল আসেন কিস্তির টাকা নিতে। আমরা কী করব, আমাদের তো কোনো আয়-রোজগার নেই। এখনও যদি দুই মাসের কিস্তি আদায় বন্ধ না হয়, তাহলে কিস্তি পরিশোধের জন্য নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে হবে।
ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. সুমন মাঝি জানান, ১০–১২ বছর ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা পরিচালনা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের জেলে কার্ড হয়নি। দুবার আইডি কার্ড জমা দিয়েছি। এখনও কার্ড হয়নি। অথচ জেলে না হয়েও জেলে কার্ড করছে। তারা জেলেদের চালও পায়। কিন্তু প্রকৃত জেলে হয়ে আমাদের জেলে কার্ড নেই।
একই এলাকার জেলে আরিফ মাঝি ও হাসান মাঝি জানান, আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই যেন আমাদের নিষেধাজ্ঞার চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি যাদের এখনও জেলে নিবন্ধন হয়নি তাদের যাতে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। আর যারা জেলে না হয়ে জেলে কার্ড করে চাল নিচ্ছে, তাদের কার্ড বাতিল করা হোক।
ভোলা জেলা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ শুরু হবে। এ চার মাস প্রতি জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। আর জেলেদের নিবন্ধন হালনাগাদ চলছে। এতে অনিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জেলায় সাত উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। এ বছর জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ-এর চাল পাবেন প্রায় ৯০ হাজার ২০০ জন জেলে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবধরনের মাছ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য বিভাগ।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

০৬ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৪৯
ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ফলে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার সাতদিন পার হয়ে গেলেও জেলেদের কাছে পৌঁছেনি ভিজিএফের চাল। আর ওই চাল না পেয়ে রমজানের মধ্যে কষ্ট ও দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে কদিন আগেও ট্রলার, নৌকা ও জালসহ মাছ শিকারের উপকরণ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াত জেলেরা। আজ নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও মৎস্য ঘাটে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়েছে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে।
ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ভোলার ১৯০ কিলোমিটার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ নিষেধাজ্ঞা। তাই কেউ কেউ নদীর তীরে বসে জাল মেরামত করছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার মেরামতের কাজে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কারো নেই কোনো আয়-রোজগার।
শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার জেলে মো. সাদ্দাম মাঝি জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আজ সাতদিন চলছে। আমরা জেলে এখন পর্যন্ত নদীতে গিয়ে মাছ ধরিনি। কিন্তু সরকারিভাবে চাল এখনও পাইনি।
একই এলাকার মো. শাজাহান মাঝি ও মাকসুদ মাঝি জানান, সাত দিন চলে গেছে। এখনও চাল আমাদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। আমাদের তো কাজ-কাম নেই, রোজগারও নেই, এখন কী করব? রমজান মাস চলছে, তার মধ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এখন তো আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
শিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রাকিব মাঝি জানান, সরকারি অভিযান মেনে তারা নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু এনজিও থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ হয়নি। সমিতির লোকজন সকাল-বিকেল আসেন কিস্তির টাকা নিতে। আমরা কী করব, আমাদের তো কোনো আয়-রোজগার নেই। এখনও যদি দুই মাসের কিস্তি আদায় বন্ধ না হয়, তাহলে কিস্তি পরিশোধের জন্য নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে হবে।
ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. সুমন মাঝি জানান, ১০–১২ বছর ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা পরিচালনা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের জেলে কার্ড হয়নি। দুবার আইডি কার্ড জমা দিয়েছি। এখনও কার্ড হয়নি। অথচ জেলে না হয়েও জেলে কার্ড করছে। তারা জেলেদের চালও পায়। কিন্তু প্রকৃত জেলে হয়ে আমাদের জেলে কার্ড নেই।
একই এলাকার জেলে আরিফ মাঝি ও হাসান মাঝি জানান, আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই যেন আমাদের নিষেধাজ্ঞার চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি যাদের এখনও জেলে নিবন্ধন হয়নি তাদের যাতে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। আর যারা জেলে না হয়ে জেলে কার্ড করে চাল নিচ্ছে, তাদের কার্ড বাতিল করা হোক।
ভোলা জেলা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ শুরু হবে। এ চার মাস প্রতি জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। আর জেলেদের নিবন্ধন হালনাগাদ চলছে। এতে অনিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জেলায় সাত উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। এ বছর জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ-এর চাল পাবেন প্রায় ৯০ হাজার ২০০ জন জেলে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবধরনের মাছ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য বিভাগ।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৬
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫২
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১