
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি মূল্যায়নে পটুয়াখালী সফর করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বরিশাল এরিয়ার অধীন পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি মোতায়েনরত সেনা সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
সফরকালে সেনাপ্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালনকারী সেনা সদস্যদের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্ব, সংযম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ওয়াকার-উজ-জামান।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এসময় ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘‘একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং নাগরিকবান্ধব আচরণ বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
এছাড়া বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি মূল্যায়নে পটুয়াখালী সফর করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বরিশাল এরিয়ার অধীন পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি মোতায়েনরত সেনা সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
সফরকালে সেনাপ্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালনকারী সেনা সদস্যদের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্ব, সংযম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ওয়াকার-উজ-জামান।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এসময় ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘‘একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং নাগরিকবান্ধব আচরণ বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
এছাড়া বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৫
বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণের দাবিতে থানার সামনে সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা তারা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
জামায়াতের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক সড়কের পশ্চিম পাশে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণ দাবি করে নানা স্লোগান দেয়। অনেক নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে সড়কে বসে পড়ে।
কয়েকদিন আগে বাউফল উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে জামায়াত বাউফল থানার ওসির অপসারণ দাবি করেছিল।
পরে রোববার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের নির্বাচনি মিছিলে বিএনপির হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এ সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা মিছিল বের করে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যখন পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে বিকাল ৪টার দিকে বিপুল সংখ্যক জামায়াতের কর্মী-সমর্থক থানার সামনে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে ওসির অপসারণ দাবি করে।
খবর পেয়ে বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তবে তারা তা মানেনি।
এ সময় দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থলে এসে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। একপর্যায়ে ওসির অপসারণের বিষয়ে আশ্বাস পেয়ে কর্মী-সমর্থকরা সড়ক ছেড়ে চলে যায়।

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০৩
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গর্ভবতী নারীসহ নির্বাচনি মিছিলে হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে স্মরণকালের বিশাল নারী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকরা এ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাউফল সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন ডা. জাকিয়া ফারহানা এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সমাবেশে ডা. জাকিয়া ফারহানা বলেন, ‘চন্দ্রদ্বীপে গর্ভবতী নারীর ওপর বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। এ হামলা জাহেলি যুগকেও হার মানিয়েছে। ওই গর্ভবতী মা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার একমাত্র অপরাধ ছিল দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাওয়া ও ডা. মাসুদের পক্ষে প্রচার করা। হামলা ও হুমকি দিয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকানো যাবে না। মাসুদের বিজয় হবেই, ইনশাআল্লাহ।’
সমাবেশে ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘এরপর যদি কোনো মা-বোন বা আমার কোনো কর্মীর ওপর হামলা করা হয় কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় তাহলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আমরা ভয় পাওয়ার মানুষ নই। মা-বোনদের ভোটেই আমি বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ। কোনো চোখরাঙানিতে আমরা ভয় পাই না।’
তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চন্দ্রদ্বীপের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
বিক্ষোভ মিছিলে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের অগ্রভাগ ও পশ্চাদভাগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৪
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ( ধানের শীষ) বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার বাউফল উপজেলার সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই ইশতেহার ঘোষনা করেন।
ইশতেহারে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বগা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাউফল উপজেলা হাসপাতাল আধুনিকায়ন, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও জরুরি সেবা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদীতীরবর্তী এলাকা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, নারী ও শিশুদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়ক উন্নয়ন, বাউফল পৌর এলাকায় যানজট নিরসনে বিলবিলাস থেকে কালাইয়া পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং কালাইয়া থেকে ভোলা পর্যন্ত নিয়মিত ফেরি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে মহিলা কলেজ ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাউফল গড়ে তুলতে সামাজিক আন্দোলন জোরদার, ধর্মীয় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়ন, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ইশতেহারে জেলে ও মৎস্যজীবীদের জন্য নিরাপদ ঘাট ও নৌযান সহায়তা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
এ বিষয়ে শহিদুল আলম তালুকদারের হয়ে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক তছলিম তালুকদার বলেন,বাউফলকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের সমর্থন পেলে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।
বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণের দাবিতে থানার সামনে সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা তারা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
জামায়াতের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক সড়কের পশ্চিম পাশে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণ দাবি করে নানা স্লোগান দেয়। অনেক নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে সড়কে বসে পড়ে।
কয়েকদিন আগে বাউফল উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে জামায়াত বাউফল থানার ওসির অপসারণ দাবি করেছিল।
পরে রোববার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের নির্বাচনি মিছিলে বিএনপির হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এ সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা মিছিল বের করে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যখন পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে বিকাল ৪টার দিকে বিপুল সংখ্যক জামায়াতের কর্মী-সমর্থক থানার সামনে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে ওসির অপসারণ দাবি করে।
খবর পেয়ে বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তবে তারা তা মানেনি।
এ সময় দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থলে এসে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। একপর্যায়ে ওসির অপসারণের বিষয়ে আশ্বাস পেয়ে কর্মী-সমর্থকরা সড়ক ছেড়ে চলে যায়।
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গর্ভবতী নারীসহ নির্বাচনি মিছিলে হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে স্মরণকালের বিশাল নারী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের নারী কর্মী ও সমর্থকরা এ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাউফল সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন ডা. জাকিয়া ফারহানা এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সমাবেশে ডা. জাকিয়া ফারহানা বলেন, ‘চন্দ্রদ্বীপে গর্ভবতী নারীর ওপর বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। এ হামলা জাহেলি যুগকেও হার মানিয়েছে। ওই গর্ভবতী মা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার একমাত্র অপরাধ ছিল দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাওয়া ও ডা. মাসুদের পক্ষে প্রচার করা। হামলা ও হুমকি দিয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকানো যাবে না। মাসুদের বিজয় হবেই, ইনশাআল্লাহ।’
সমাবেশে ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘এরপর যদি কোনো মা-বোন বা আমার কোনো কর্মীর ওপর হামলা করা হয় কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় তাহলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আমরা ভয় পাওয়ার মানুষ নই। মা-বোনদের ভোটেই আমি বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ। কোনো চোখরাঙানিতে আমরা ভয় পাই না।’
তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চন্দ্রদ্বীপের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
বিক্ষোভ মিছিলে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের অগ্রভাগ ও পশ্চাদভাগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ( ধানের শীষ) বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার বাউফল উপজেলার সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই ইশতেহার ঘোষনা করেন।
ইশতেহারে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বগা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাউফল উপজেলা হাসপাতাল আধুনিকায়ন, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও জরুরি সেবা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদীতীরবর্তী এলাকা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, নারী ও শিশুদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়ক উন্নয়ন, বাউফল পৌর এলাকায় যানজট নিরসনে বিলবিলাস থেকে কালাইয়া পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং কালাইয়া থেকে ভোলা পর্যন্ত নিয়মিত ফেরি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে মহিলা কলেজ ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাউফল গড়ে তুলতে সামাজিক আন্দোলন জোরদার, ধর্মীয় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়ন, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ইশতেহারে জেলে ও মৎস্যজীবীদের জন্য নিরাপদ ঘাট ও নৌযান সহায়তা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
এ বিষয়ে শহিদুল আলম তালুকদারের হয়ে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক তছলিম তালুকদার বলেন,বাউফলকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের সমর্থন পেলে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।