Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২১:২৯
গণতন্ত্রের ধারায় উত্তরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নের পর থেকেই বরিশালের ৬টি আসনে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মনোনয়ন পেয়েই বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রাথীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে শক্ত দল বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে কৌশলে এগুচ্ছেন অন্যান্য দল। মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, জামায়াত ও চরমোনাই পীরের সহোদর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
চরমোনাই দরবার শরীফ বরিশাল সদর উপজেলাধীন হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বেশ কর্মী-সমর্থক রয়েছে। এছাড়াও বিগত ইউপি, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এ দলটি। বিশেষ করে মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিতে জয় পেতে সব দলের শীর্ষ নেতারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) এ আসনে নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৫ম বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা ৩০ বছর বরিশাল বিএনপির রাজত্বে ছিলো মজিবর রহমান সরোয়ার। দীর্ঘ এ সময়ে সরোয়ার বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি, মহানগর সভাপতি, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব ছাড়াও উপ-নির্বাচনসহ ৪ বার সংসদ সদস্য হয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, হুইপ এবং সিটি মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত কয়েক বছর রাজনীতির মাঠে তিনি কিছুটা কোনঠাসা থাকলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর সকলেই একাট্টা হয়ে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির তিন গ্রুপ, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ পদ বঞ্চিতরাও সরোয়ারকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ধানের শীষ প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বাসসকে বলেন, এ আসনে মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছি। জনগণ তাই ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মুখ। ধানের শীষের সদর উপজেলা ও নগরীতে ভোট বেশি। সদর উপজেলায় চরমোনাই পীরের বাড়ি হলেও সব সময় ধানের শীষ বেশি ভোট পেয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বাসসকে বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তার প্রমাণ দেবে। এছাড়াও বাসদ নেত্রী বরিশালের সকল পর্যায়ের শ্রমজীবি মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দেয়া ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছেন সদর আসনে। মনিষা চক্রবর্তীও ইতিপূর্বে সিটি, জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বরিশালে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন।
বরিশাল সদর ও সিটি কপোরেশনের এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭ জন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এ আসনে চতুর্থবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছাসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জহির উদ্দিন স্বপন বাসসকে বলেন, গৌরনদী ও আগৈলঝড়া উপজেলায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু মান-অভিমানের ব্যাপার থাকলেও আমি যেহেতু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, ফলে আমার সব সহকর্মী মিলেই কথাবার্তা বলে সমাধান করে ফেলেছি।
এ আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী ঘোষণা করেছেন মো. রাসেল সরদার মেহেদীকে। এ আসনের রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যানার, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোক মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাদের সমর্থকরা জনগণের দৃষ্টি আর্কষনে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৯ জন।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে তৃতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। এ আসনে সান্টু ইতিপূর্বে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাস্টার আবদুল মান্নান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন। বাসদ নেতা এ্যাড. তরিকুল ইসলাম তারেক এ ৪ জনই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আসনটিতে প্রথমবারে দলীয় প্রার্থী ঘোষাণা করলেও দ্বিতীয়বার তাকেই মনোনয়ন দেয় দল। ইতমধ্যে উচ্ছাসিত নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাডভোটেক জয়নুল আবেদীন বাসসকে বলেন, নির্বাচনী এ আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত। সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জনগণের সাথে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কাজ করবে।
তিনি বলেন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা এরই মধ্যে গণসংযোগ জোরদার করেছেন। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ফুয়াদের নিজ বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন হওয়ায় তিনি বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকান্ডে সরব রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই দলটির বরিশাল মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে প্রার্থী ঘোষণা করে। জহির উদ্দিন দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলার সভাপতির পদে রয়েছেন।
বাবুগঞ্জ-মুলাদীর এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুয় ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন ও নারী ভোটার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫৩২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। রাজীব মনোনয়ন পাওয়ায় বরিশাল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে হওয়ায় তাদের নেতৃত্বে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব চরমোনাই পীরের ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই।
হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ আসনে তৃতীয় বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী হয়েছেন।
এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।
বরিশালের ৬টি আসনে এনসিপির মনোনয়ন চান ১১ জন: জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনের দুটিতে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও শাপলা কলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এনসিপির মনোনয়ন কিনেছেন ১১ জন।
বরিশাল-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম নিপু। তবে বরিশাল-২ আসনে এখনো চূরান্ত না হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এনসিপির ঢাকা পল্টন শাখার সদস্য অ্যাড. আলী আকবর তালুকদার ও একই আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সংগঠনের বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
এছাড়া বরিশাল-৩ আসনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোক্তার হোসেন, শিক্ষক তানজিল আলম দলটির মনোনয়ন চূরান্ত করেছেন। আর বরিশাল-৪ আসনে এনসিপির বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা চূরান্ত মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নরুল হুদা চৌধুরী দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশাল-৬ আসনে একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম প্রিন্স মনোনয়ন পেয়েছেন।
গণতন্ত্রের ধারায় উত্তরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নের পর থেকেই বরিশালের ৬টি আসনে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মনোনয়ন পেয়েই বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রাথীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে শক্ত দল বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে কৌশলে এগুচ্ছেন অন্যান্য দল। মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, জামায়াত ও চরমোনাই পীরের সহোদর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
চরমোনাই দরবার শরীফ বরিশাল সদর উপজেলাধীন হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বেশ কর্মী-সমর্থক রয়েছে। এছাড়াও বিগত ইউপি, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এ দলটি। বিশেষ করে মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিতে জয় পেতে সব দলের শীর্ষ নেতারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) এ আসনে নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৫ম বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা ৩০ বছর বরিশাল বিএনপির রাজত্বে ছিলো মজিবর রহমান সরোয়ার। দীর্ঘ এ সময়ে সরোয়ার বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি, মহানগর সভাপতি, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব ছাড়াও উপ-নির্বাচনসহ ৪ বার সংসদ সদস্য হয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, হুইপ এবং সিটি মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত কয়েক বছর রাজনীতির মাঠে তিনি কিছুটা কোনঠাসা থাকলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর সকলেই একাট্টা হয়ে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির তিন গ্রুপ, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ পদ বঞ্চিতরাও সরোয়ারকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ধানের শীষ প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বাসসকে বলেন, এ আসনে মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছি। জনগণ তাই ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মুখ। ধানের শীষের সদর উপজেলা ও নগরীতে ভোট বেশি। সদর উপজেলায় চরমোনাই পীরের বাড়ি হলেও সব সময় ধানের শীষ বেশি ভোট পেয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বাসসকে বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তার প্রমাণ দেবে। এছাড়াও বাসদ নেত্রী বরিশালের সকল পর্যায়ের শ্রমজীবি মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দেয়া ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছেন সদর আসনে। মনিষা চক্রবর্তীও ইতিপূর্বে সিটি, জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বরিশালে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন।
বরিশাল সদর ও সিটি কপোরেশনের এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭ জন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এ আসনে চতুর্থবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছাসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জহির উদ্দিন স্বপন বাসসকে বলেন, গৌরনদী ও আগৈলঝড়া উপজেলায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু মান-অভিমানের ব্যাপার থাকলেও আমি যেহেতু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, ফলে আমার সব সহকর্মী মিলেই কথাবার্তা বলে সমাধান করে ফেলেছি।
এ আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী ঘোষণা করেছেন মো. রাসেল সরদার মেহেদীকে। এ আসনের রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যানার, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোক মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাদের সমর্থকরা জনগণের দৃষ্টি আর্কষনে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৯ জন।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে তৃতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। এ আসনে সান্টু ইতিপূর্বে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাস্টার আবদুল মান্নান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন। বাসদ নেতা এ্যাড. তরিকুল ইসলাম তারেক এ ৪ জনই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আসনটিতে প্রথমবারে দলীয় প্রার্থী ঘোষাণা করলেও দ্বিতীয়বার তাকেই মনোনয়ন দেয় দল। ইতমধ্যে উচ্ছাসিত নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাডভোটেক জয়নুল আবেদীন বাসসকে বলেন, নির্বাচনী এ আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত। সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জনগণের সাথে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কাজ করবে।
তিনি বলেন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা এরই মধ্যে গণসংযোগ জোরদার করেছেন। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ফুয়াদের নিজ বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন হওয়ায় তিনি বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকান্ডে সরব রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই দলটির বরিশাল মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে প্রার্থী ঘোষণা করে। জহির উদ্দিন দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলার সভাপতির পদে রয়েছেন।
বাবুগঞ্জ-মুলাদীর এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুয় ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন ও নারী ভোটার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫৩২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। রাজীব মনোনয়ন পাওয়ায় বরিশাল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে হওয়ায় তাদের নেতৃত্বে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব চরমোনাই পীরের ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই।
হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ আসনে তৃতীয় বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী হয়েছেন।
এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।
বরিশালের ৬টি আসনে এনসিপির মনোনয়ন চান ১১ জন: জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনের দুটিতে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও শাপলা কলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এনসিপির মনোনয়ন কিনেছেন ১১ জন।
বরিশাল-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম নিপু। তবে বরিশাল-২ আসনে এখনো চূরান্ত না হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এনসিপির ঢাকা পল্টন শাখার সদস্য অ্যাড. আলী আকবর তালুকদার ও একই আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সংগঠনের বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
এছাড়া বরিশাল-৩ আসনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোক্তার হোসেন, শিক্ষক তানজিল আলম দলটির মনোনয়ন চূরান্ত করেছেন। আর বরিশাল-৪ আসনে এনসিপির বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা চূরান্ত মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নরুল হুদা চৌধুরী দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশাল-৬ আসনে একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম প্রিন্স মনোনয়ন পেয়েছেন।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৮:৩৯
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে গড়ে ওঠা মজিবুর অটো রাইস মিলকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিলটির কার্যক্রমে শিক্ষার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলটির ১০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে ৭১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হস্তিশুন্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এ.আর. তালুকদার গার্লস স্কুল এবং একটি নূরানি-হাফিজি মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অভিযোগ রয়েছে, মিলের বিকট শব্দ, ধুলাবালি, চালের কুঁড়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশু-বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এছাড়া মিলের ধান ও চালবোঝাই যানবাহন সড়কে অবস্থান করায় পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিলের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জিং কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন স্থানে নতুন করে আরেকটি মিল স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মিল মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে পরিচালিত মিলটির কার্যক্রম তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৭:৪৬
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩৭নং বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতি অভিযোগ দিয়েছেন তিন অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তারা হলেন- মোঃ সমির হোসেন বেপারী, নুপুর বেগম, মোঃ জিয়াউর রহমান খান। অভিযোগে বলা হয়- ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে অভিবাবক শ্রেণীর পদপ্রার্থী।
তিনি গত ১৬ জুন এবং ১৭ জুন বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি তার মোবাইল ফোনে রাখা নিজের-গোলাপ ফুল মার্কা এবং তার প্যানেলভূক্ত কাজী শাহিনের- বই, শিমু আক্তারের মই এবং রেহানা আক্তার হাসির কলস মার্কার পোস্টার দেখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচারণা চালানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভিতর থেকে যাদের ছোট ভাই বোন বা পরিচিত যাদের ছেলে মেয়ে বুখাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মাকে ওই চারটি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান।
এই চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনি তাদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন। একাধিক শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছুটি পরে বাইরে এসে তার এ সকল কার্যক্রমের বর্ণনা দেয় যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দুঃখজনক। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উক্ত নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা শস্কা প্রকাশ করেন পরবর্তীতেও তিনি শ্রেণিকক্ষে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা বলেন- মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগ নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালীন সময় প্রতি শ্রেণীতে গিয়ে পাঠদান না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এটা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। তার এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান সোহাগের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রধান শিক্ষক শিরিন আকতার বলেন- অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে গড়ে ওঠা মজিবুর অটো রাইস মিলকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিলটির কার্যক্রমে শিক্ষার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলটির ১০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে ৭১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হস্তিশুন্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এ.আর. তালুকদার গার্লস স্কুল এবং একটি নূরানি-হাফিজি মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অভিযোগ রয়েছে, মিলের বিকট শব্দ, ধুলাবালি, চালের কুঁড়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশু-বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এছাড়া মিলের ধান ও চালবোঝাই যানবাহন সড়কে অবস্থান করায় পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিলের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জিং কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন স্থানে নতুন করে আরেকটি মিল স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মিল মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার মাঝখানে পরিচালিত মিলটির কার্যক্রম তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সাতটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার
নাম তার আকাশ হাওলাদার। কিন্তু শহরের বাসিন্দাদের কাছে তিনি মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ নামে পরিচিত। তবে এই পরিচিতির বাইরে তার নামের পূর্বের একটি ভয়ংকর ট্যাগ রয়েছে, ‘ধারালো দা’ চালাতে পারদর্শী হওয়ায় তিনি ‘দাও মাসুদ’ নামেই সমাধিক পরিচিত। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা ঘেটে এমন তথ্য-উপাত্ত্ব পাওয়া যায়। বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের এই বাসিন্দা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বদৌলতে নিজের নামের পূর্বে এমন একটি বিশেষণ যুক্ত করতে পেরেছে, যা নিয়ে তিনি দম্ভোক্তিও করেন!
২৬ টি বিচারাধীন মামলায় অভিযুক্ত মাসুদ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বরিশাল শহরের পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে বাহিনীসমেত অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি করে। সেই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এনিয়ে বরিশালটাইমস অনলাইন নিউজপোর্টালে মাসুদের ছবিসংবলিত একটি সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে মোটাদাগে প্রকাশ করে। ১৭ জানুয়ারি ‘বরিশালে নয়া সন্ত্রাস কালা মাসুদের উত্থান’, গভীর রাতে বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া-আতঙ্ক, এই শিরোনাম সংবাদটি প্রকাশ পেলে তাকে বাগে আনতে দৌড়ঝাপ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের খবর প্রাপ্তির পরেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে অন্তর্ধানে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদ ওরফে দা মাসুদের বিরুদ্ধে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক, দস্যুতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে অন্তত ২৫টির বেশি মামলা বিচারাধীন আছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের একটি চৌকশ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত মাসুদকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেও কিছুদিন না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের আগেই মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা কালা মাসুদ বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে টার্গেট ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। বরিশাল নগরীর ছিনতাইকারীদের গডফাদার ও ভাড়াটে খুনি নামে পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়াও কালা মাসুদের রয়েছে ছিনতাইকারী কয়েকটি চক্র। সূত্রগুলো জানায়, শহরের ধোপাবাড়ির মোড়, কলেজ অ্যাভিনিউ, বৈদ্যপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে কালা মাসুদের সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা। তারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধ করে থাকেন।
বরিশালের এই আলোচিত সন্ত্রাসীকে বৃহস্পতিবার খুব সকালে তার গ্রামের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এসময় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি চাপাতিসহ ৭টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই সফল অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিমুল হক।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালা মাসুদ আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামলে বরিশাল শহরের ত্রাস চালিয়েছে। এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও প্রেরণ করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে তার যেনো নতুন ভাবে উত্থান ঘটে। এই চিহ্নিত অপরাধীকে সময় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করতে শোনা যায়!
কোতয়ালি পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাসুদ পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। সেই ঘটনায় বরিশালটাইমস পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি নেতিবাচক একটি সংবাদ প্রকাশ করে। তখন তিনি গাঢাকা দেন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে আর আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিমুল হক বরিশালটাইমসকে জানান, নয়া সন্ত্রাসী দাও মাসুদের অত্যাচারে গিলাতলী গ্রামের সাধারণ মানুষও ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়েন্দা তথ্যে অভিযান চালিয়ে মাসুদ ওরফে দাও মাসুদকে গিলাতলী গ্রামের বাসা থেকে পুলিশের জালে নিয়ে আসা হয়।
এই ভয়ংকর সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। এবং সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা টিপু সুলতান বরিশালটাইমসকে জানান, মাসুদকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত মঞ্জুর করলে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, মন্তব্য করেন পুলিশ কর্মকর্তা।
কীর্তনখোলা নদীতীর জনপদের এই মূর্তিমাণ সন্ত্রাসীকে পুলিশ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের খবর জনমনে স্বস্তি জুগিয়েছে। বিশেষ করে পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাটসহ গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা-ব্যবসায়ীরা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে।’
বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সাতটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার
নাম তার আকাশ হাওলাদার। কিন্তু শহরের বাসিন্দাদের কাছে তিনি মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ নামে পরিচিত। তবে এই পরিচিতির বাইরে তার নামের পূর্বের একটি ভয়ংকর ট্যাগ রয়েছে, ‘ধারালো দা’ চালাতে পারদর্শী হওয়ায় তিনি ‘দাও মাসুদ’ নামেই সমাধিক পরিচিত। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা ঘেটে এমন তথ্য-উপাত্ত্ব পাওয়া যায়। বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের এই বাসিন্দা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বদৌলতে নিজের নামের পূর্বে এমন একটি বিশেষণ যুক্ত করতে পেরেছে, যা নিয়ে তিনি দম্ভোক্তিও করেন!
২৬ টি বিচারাধীন মামলায় অভিযুক্ত মাসুদ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বরিশাল শহরের পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে বাহিনীসমেত অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি করে। সেই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এনিয়ে বরিশালটাইমস অনলাইন নিউজপোর্টালে মাসুদের ছবিসংবলিত একটি সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে মোটাদাগে প্রকাশ করে। ১৭ জানুয়ারি ‘বরিশালে নয়া সন্ত্রাস কালা মাসুদের উত্থান’, গভীর রাতে বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া-আতঙ্ক, এই শিরোনাম সংবাদটি প্রকাশ পেলে তাকে বাগে আনতে দৌড়ঝাপ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের খবর প্রাপ্তির পরেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে অন্তর্ধানে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদ ওরফে দা মাসুদের বিরুদ্ধে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক, দস্যুতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে অন্তত ২৫টির বেশি মামলা বিচারাধীন আছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের একটি চৌকশ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত মাসুদকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেও কিছুদিন না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের আগেই মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা কালা মাসুদ বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে টার্গেট ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। বরিশাল নগরীর ছিনতাইকারীদের গডফাদার ও ভাড়াটে খুনি নামে পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়াও কালা মাসুদের রয়েছে ছিনতাইকারী কয়েকটি চক্র। সূত্রগুলো জানায়, শহরের ধোপাবাড়ির মোড়, কলেজ অ্যাভিনিউ, বৈদ্যপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে কালা মাসুদের সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা। তারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধ করে থাকেন।
বরিশালের এই আলোচিত সন্ত্রাসীকে বৃহস্পতিবার খুব সকালে তার গ্রামের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এসময় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি চাপাতিসহ ৭টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই সফল অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিমুল হক।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালা মাসুদ আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামলে বরিশাল শহরের ত্রাস চালিয়েছে। এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও প্রেরণ করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে তার যেনো নতুন ভাবে উত্থান ঘটে। এই চিহ্নিত অপরাধীকে সময় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করতে শোনা যায়!
কোতয়ালি পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাসুদ পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। সেই ঘটনায় বরিশালটাইমস পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি নেতিবাচক একটি সংবাদ প্রকাশ করে। তখন তিনি গাঢাকা দেন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে আর আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিমুল হক বরিশালটাইমসকে জানান, নয়া সন্ত্রাসী দাও মাসুদের অত্যাচারে গিলাতলী গ্রামের সাধারণ মানুষও ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়েন্দা তথ্যে অভিযান চালিয়ে মাসুদ ওরফে দাও মাসুদকে গিলাতলী গ্রামের বাসা থেকে পুলিশের জালে নিয়ে আসা হয়।
এই ভয়ংকর সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। এবং সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা টিপু সুলতান বরিশালটাইমসকে জানান, মাসুদকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত মঞ্জুর করলে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, মন্তব্য করেন পুলিশ কর্মকর্তা।
কীর্তনখোলা নদীতীর জনপদের এই মূর্তিমাণ সন্ত্রাসীকে পুলিশ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের খবর জনমনে স্বস্তি জুগিয়েছে। বিশেষ করে পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাটসহ গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা-ব্যবসায়ীরা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে।’
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৪
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২১
১৮ জুন, ২০২৬ ১৮:৫১
১৮ জুন, ২০২৬ ১৮:৩৯