
১২ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:১৪
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ক্রোড়পতি বনে যাওয়া সৌরভ কুমার সাহা নিজেকে রক্ষায় মিডিয়াপাড়ায় দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা তার দুর্নীতির আদ্যপান্ত তুলে ধরলে তিনি চাকরি বাঁচাতে স্থানীয় সংবাদপত্রকে ব্যবহার করতে চাইছেন। অর্থের বিনিময়ে পত্রিকায় সংবাদসংক্রান্ত প্রতিবাদ ছাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। বিআরটিএর মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সৌরভ কুমার সাহার বড়সড় দুর্নীতি প্রকাশ এবং টাকার বান্ডিল নিয়ে মিডিয়াপাড়ায় তার দৌঁড়াদৌঁড়ি নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নানা কানাঘুষা হচ্ছে।
বরিশালের স্থানীয় একাধিক পত্রিকার সাংবাদিক জানান, শনিবার সৌরভ সাহার সংবাদটি জাতীয় দৈনিকে আসার পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যোগাযোগ করেন। এবং টাকা নিয়ে ওই সংবাদসংক্রান্ত একটি প্রতিবাদ দেওয়ার আর্জি রাখেন। এমন একটি আবদার বরিশালটাইমস কর্তৃপক্ষের কাছে এসেছে। সুতরাং তিনি যে নিজেকে রক্ষায় টাকার বান্ডিল নিয়ে মিডিয়া মিশনে নেমেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
স্থানীয় মিডিয়া ম্যানেজে দৌঁড়ঝাপ সম্পর্কে জানতে সৌরভের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
সৌরভ কুমার সাহা চাকরিতে যোগদানের পরে প্রথম কর্মস্থল ছিল নোয়াখালী। এবং সেখানে খুলে যায় তার ভাগ্য। এরপর আর তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। অবৈধপথে উপার্জন করেছেন দুহাত ভরে। তিনি নামে-বেনামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা সৌরভের বাবা ছিলেন পত্রিকার হকার। তার সামান্য আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টানাটানির মধ্যে চলত সংসার। আওয়ামী পরিবারের সদস্য হওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার বেয়াই সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুপারিশে ২০১৪ সালে বিআরটিএ অফিসে চাকরি পান সৌরভ । গত ১১ বছরে তিনি বাবা, শ্বশুর, শ্যালকসহ বিভিন্নজনের নামে-বেনামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। কিনেছেন ১০টি বাস, চারটি প্রাইভেট কার। আছে বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। ফরিদপুরে সৌরভের ভগ্নিপতি এসব অটোরিকশা দেখাশোনা করেন। এছাড়া নিজের চলাচলের জন্য কিনেছেন অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল পাজেরো গাড়ি।
সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও জানায়, আওয়ামী পরিবারের সন্তান ও ফরিদপুরের বাসিন্দা হওয়ায় অল্পদিনেই পদোন্নতি পান সৌরভ। মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে বিআরটিএর পরিদর্শক হয়ে ঢাকার উত্তরা, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় চাকরি করেন। সর্বশেষ মাদারীপুর থেকে ২০২৩ সালের শুরুতে বরিশাল বিআরটিএর ইন্সপেক্টর পদে যোগ দেন। গত ১১ বছরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন থেকে ঘুস-বাণিজ্যের মাধ্যমে দুহাত ভরে কামিয়েছেন অঢেল অর্থ। আর অবৈধ এ অর্থ দিয়ে নিজের নামে কিছুই করেননি সুচতুর সৌরভ। আত্মীয়স্বজনসহ নামে-বেনামে কিনেছেন ১০টি বাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি, জমিসহ অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ। শুধু তাই নয়, বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মা কৃষ্ণা রানী সাহাকে বানিয়েছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর। পরে সৌরভের পিতা বিজয় কৃষ্ণ সাহা ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের আর্থিক সহায়তা করা শুরু করেন।
পত্রিকাটির অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৌরভের বেতন ২৬-২৭ হাজার টাকা হলেও মাসে অবৈধভাবে কামান ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। বরিশাল বিআরটিএর অধীনে প্রতি মাসে লাইসেন্স দিতে ছয় থেকে আটটি বোর্ড বসে। প্রতি বোর্ডে লিখিত, ভাইভা ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় ১৮০-২০০ জন অংশ নেন। বোর্ডে হাতেগোনা কয়েকজনকে পাস করানো হয়। পরে বিআরটিএর চিহ্নিত দালাল ও সৌরভের ব্যক্তিগত ড্রাইভার রিয়াজ খান, আলাউদ্দীন, জাকির, আসাদুল, হৃদয়সহ ২০-২৫ জন পরীক্ষায় ফেল করা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা পাস করানোর জন্য তিন-চার হাজার টাকার চুক্তি করেন। এর মধ্যে লাইসেন্সপ্রতি সৌরভকে দিতে হয় আড়াই হাজার টাকা। বাকি টাকা পান দালালরা।
সূত্র জানায়, ওই পরীক্ষায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকার কথা। কোনো কোনো সময় ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে পরীক্ষার কাজ শেষ করেন। ফলে বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ খুব সহজেই নিজের করা তালিকায় ম্যাজিস্ট্রেটের সই করিয়ে নেন। এ পাস বাণিজ্যে বিআরটিএর পরিদর্শক সৌরভ সাহা ও ট্রাফিক পরিদর্শকের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অন্যদের ম্যানেজ করে প্রতি বোর্ড থেকে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন সৌরভ। এভাবে মাসে তার অবৈধ আয় দাঁড়ায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফাইলপ্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা নেন সৌরভ। প্রতিটি ট্রাকের রেজিস্ট্রেশনের জন্য ঘুস নেন পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন শোরুমের মোটরসাইকেলের ফাইলপ্রতি নেন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। এছাড়া বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও সিএনজির ফিটনেস থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। সৌরভের এমন ঘুসবাণিজ্যের বিষয়টি সম্প্রতি ধরা পড়ে।
সূত্র জানায়, গত বছর বিআরটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে সিএনজির টাইপ অনুমোদনের আগেই ১৯১টি সিএনজির রেজিস্ট্রেশন করেন সৌরভ। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সিএনজি থেকে তিনি ৫০ হাজার টাকা করে ঘুস নিয়েছেন । বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে বরিশালের দুদক কর্মকর্তা রাজকুমার সাহা বাদী হয়ে সৌরভকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। মামলায় বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান, ঢাকার তেজগাঁও এলাকার ‘রানার অটো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়। মামলায় বলা হয়, পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাভবান হওয়ার জন্য অসৎ উদ্দেশে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তারা। ওই মামলায় সৌরভ গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনক কারণে জামিন হয়।
সূত্র জানায়, বরিশালের নতুনবাজার এলাকায় আধুনিক এক ভবনে ২৭ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। অফিসে যাওয়ার জন্য রয়েছে দামি প্রাইভেট কার। এ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তার পিতা বিজয় সাহার নামে। তবে গাড়ির কাগজে রয়েছে সৌরভের ফোন নম্বর। নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় রয়েছে সৌরভের ‘হাওলাদার পরিবহন’-এর বাস কাউন্টার। মাদারীপুরের টেকেরহাটের হিরো হাওলাদার ও মনির হাওলাদারের কাছ থেকে চার বছর আগে ‘হাওলাদার পরিবহন’-এর ব্যানার (রুট) কিনে নেন সৌরভ । তিনি এটি তার বাবা ও শ্বশুরের নামে কিনেছেন বলে জানান হিরো হাওলাদার। টাকা-পয়সা লেনদেন থেকে শুরু করে সবকিছুই সৌরভ করেন বলেও জানান হিরো হাওলাদার।
হাওলাদার পরিবহনের মাদারীপুরের মোস্তফাপুর স্ট্যান্ডের চেকার জাহাঙ্গীর জানান, চার বছর আগে সৌরভ সাহা হাওলাদার পরিবহন কিনেছেন বাবা এবং শ্বশুরের নামে। হাওলাদার পরিবহনে সৌরভের পাঁচটি, আশিক পরিবহনের ব্যানারে চারটি এবং ফরিদপুর বাস মালিক সমিতিতে একটি বাস রয়েছে। এ বাসগুলোর মধ্যে ঢাকা রুটে চারটি এবং বরিশাল-ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা-গোপালগঞ্জ রুটে ১০টি বাস রয়েছে তার। এর মধ্যে ছয়মাস আগে দুটি নতুন বাস কিনেছেন বলে জানা গেছে।
হাওলাদার পরিবহনের সহকারী ম্যানেজার প্রদীপ কুমার বাড়ৈ জানান, হাওলাদার পরিবহনের মালিক বরিশাল বিআরটিএর ইন্সপেক্টর সৌরভ সাহা। হাওলাদার কাউন্টারটি মূলত রিয়াজ খান দেখাশোনা করে থাকেন। হাওলাদার পরিবহনে রিয়াজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি বাস রয়েছে। বরিশাল ইফাদ মটরস থেকে কিস্তিতে গাড়িটি নামানো হয়। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গাড়িটির প্রকৃত মালিক সৌরভ। ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও বিআরটিএ অফিসের দালাল রিয়াজের মাধ্যমেই তিনি অধিকাংশ ঘুষ বাণিজ্য করে থাকেন। অধিক বিশ্বস্ত হওয়ায় এ গাড়িটি তার নামেই রেজিস্ট্রেশন করেন সৌরভ। একইভাবে সৌরভ বরিশাল ইফাদ মোটরস থেকে তিনটি গাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। এ গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন ইফাদ মটরসের নামে। কিস্তিতে গাড়ি কেনায় কোম্পানির নামেই এগুলোর রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে বলে জানান ইফাদ মটরসের বিআরটিএ প্রতিনিধি মো. সাইফুল গাজী। এমনকি এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে সাইফুল গাজীর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এ গাড়িগুলোর কিস্তি রিয়াজ খানের মাধ্যমে সৌরভ পরিশোধ করেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে গাড়ির মালিকানার বিষয়টি জানার জন্য ইফাদ মটরসে একাধিকবার যোগযোগ করা হলেও বরিশাল অফিসে মালিকানার কোনো তথ্য নেই বলে বারবার জানিয়ে দেওয়া হয় এ প্রতিবেদককে। সৌরভ সম্প্রতি দুটি পুরোনো গাড়ি বিক্রি করে নতুন তিনটি গাড়ির চেচিস, ইঞ্জিন কিনেছেন । শিগগিরই নতুন তিনটি বাস তার গাড়িবহরে যোগ হবে।
গাড়িভাড়া নেওয়ার কথা জানিয়ে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন সৌরভের ম্যানেজার রিয়াজ খানের সঙ্গে। এ সময় রিয়াজ খান এ প্রতিবেদকের কাছে সৌরভের ১০টি বাস থাকার কথা এবং নতুন তিনটি চেচিস ইঞ্জিন কেনার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বাসের মালিক বিজয় সাহা ও তার ছেলে সৌরভ সাহা কখনোই ভাড়ার বিষয়ে কারো সঙ্গে কথা বলেন না। বলেন, ‘সবকিছুই আমিই দেখাশুনা করি’।
এদিকে ঘুসবাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম লাইসেন্সের জন্য মাঠ পরীক্ষার নামে কী হচ্ছে, তা দেখার জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার নথুল্লাবাদ বিআরটিসি বাস কাউন্টারে উপস্থিত হন এ প্রতিবেদক। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাঠের পরীক্ষা শুরু হয়। সেখানে সরাসরি ৬১ জনকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এদের মধ্যে তিনজনকে মাঠের পরীক্ষায় কৃতকার্য দেখানো হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততার জন্য তিনি থাকতে পারেননি। কেবল ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কেএম রহমান এবং বিআরটিএর ইন্সপেক্টর সৌরভ সাহা নিচ্ছিলেন মোটরসাইকেল লাইসেন্স-প্রত্যাশীদের পরীক্ষা। মোটরসাইকেলের মাঠের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর চার চাকার যানবাহনের মাঠের পরীক্ষা শুরু হয় বেলা ৩টার দিকে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার) আব্দুল্লাহ হেল মাফি বিআরটিসি কাউন্টারের পরীক্ষার মাঠে প্রবেশ করেন। তবে হাতেগোনা ছয়-সাতজন লাইসেন্সপ্রত্যাশী মাঠের পরীক্ষায় অংশ নেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ হেল মাফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছে যেগুলো পাসের যোগ্য মনে হয়েছে, তাদের পাস করানো হয়েছে।’ তবে কত জন পাস করেছে, তা তিনি জানাতে পারেননি। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলের পরীক্ষা চলাকালে তার না থাকার বিষয়ে বলেন, ব্যস্ত ছিলেন, তাই আসতে দেরি হয়েছে।
সৌরভ কুমার সাহার অনিয়ম-দুর্নীতি, ১০টি গাড়ি ও চারটি প্রাইভেট কার থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পত্রিকাটিকে বলেন, তার বাবার নামে একটি বাস আছে। এটি ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির অধীনে চলাচল করছে। এছাড়া তার পিতার রেন্ট-এ কার ব্যবসা রয়েছে। তিনি যে প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন, সেটি তার বাবার নামে। হাওলাদার পরিবহন তাদের নয় এবং এ পরিবহনে তার কোনো বাস নেই। এমনকি আশিক পরিবহনেও বাস থাকার কথা অস্বীকার করেন। এছাড়া তার নামে অন্য কোনো বাস বা প্রাইভেট কার থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। আর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের নামে-বেনামে গাড়ি কেনা বা সম্পদ গড়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ক্রোড়পতি বনে যাওয়া সৌরভ কুমার সাহা নিজেকে রক্ষায় মিডিয়াপাড়ায় দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা তার দুর্নীতির আদ্যপান্ত তুলে ধরলে তিনি চাকরি বাঁচাতে স্থানীয় সংবাদপত্রকে ব্যবহার করতে চাইছেন। অর্থের বিনিময়ে পত্রিকায় সংবাদসংক্রান্ত প্রতিবাদ ছাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। বিআরটিএর মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সৌরভ কুমার সাহার বড়সড় দুর্নীতি প্রকাশ এবং টাকার বান্ডিল নিয়ে মিডিয়াপাড়ায় তার দৌঁড়াদৌঁড়ি নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নানা কানাঘুষা হচ্ছে।
বরিশালের স্থানীয় একাধিক পত্রিকার সাংবাদিক জানান, শনিবার সৌরভ সাহার সংবাদটি জাতীয় দৈনিকে আসার পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যোগাযোগ করেন। এবং টাকা নিয়ে ওই সংবাদসংক্রান্ত একটি প্রতিবাদ দেওয়ার আর্জি রাখেন। এমন একটি আবদার বরিশালটাইমস কর্তৃপক্ষের কাছে এসেছে। সুতরাং তিনি যে নিজেকে রক্ষায় টাকার বান্ডিল নিয়ে মিডিয়া মিশনে নেমেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
স্থানীয় মিডিয়া ম্যানেজে দৌঁড়ঝাপ সম্পর্কে জানতে সৌরভের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
সৌরভ কুমার সাহা চাকরিতে যোগদানের পরে প্রথম কর্মস্থল ছিল নোয়াখালী। এবং সেখানে খুলে যায় তার ভাগ্য। এরপর আর তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। অবৈধপথে উপার্জন করেছেন দুহাত ভরে। তিনি নামে-বেনামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা সৌরভের বাবা ছিলেন পত্রিকার হকার। তার সামান্য আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টানাটানির মধ্যে চলত সংসার। আওয়ামী পরিবারের সদস্য হওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার বেয়াই সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুপারিশে ২০১৪ সালে বিআরটিএ অফিসে চাকরি পান সৌরভ । গত ১১ বছরে তিনি বাবা, শ্বশুর, শ্যালকসহ বিভিন্নজনের নামে-বেনামে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। কিনেছেন ১০টি বাস, চারটি প্রাইভেট কার। আছে বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। ফরিদপুরে সৌরভের ভগ্নিপতি এসব অটোরিকশা দেখাশোনা করেন। এছাড়া নিজের চলাচলের জন্য কিনেছেন অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল পাজেরো গাড়ি।
সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও জানায়, আওয়ামী পরিবারের সন্তান ও ফরিদপুরের বাসিন্দা হওয়ায় অল্পদিনেই পদোন্নতি পান সৌরভ। মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে বিআরটিএর পরিদর্শক হয়ে ঢাকার উত্তরা, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় চাকরি করেন। সর্বশেষ মাদারীপুর থেকে ২০২৩ সালের শুরুতে বরিশাল বিআরটিএর ইন্সপেক্টর পদে যোগ দেন। গত ১১ বছরে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন থেকে ঘুস-বাণিজ্যের মাধ্যমে দুহাত ভরে কামিয়েছেন অঢেল অর্থ। আর অবৈধ এ অর্থ দিয়ে নিজের নামে কিছুই করেননি সুচতুর সৌরভ। আত্মীয়স্বজনসহ নামে-বেনামে কিনেছেন ১০টি বাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি, জমিসহ অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ। শুধু তাই নয়, বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মা কৃষ্ণা রানী সাহাকে বানিয়েছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর। পরে সৌরভের পিতা বিজয় কৃষ্ণ সাহা ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের আর্থিক সহায়তা করা শুরু করেন।
পত্রিকাটির অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৌরভের বেতন ২৬-২৭ হাজার টাকা হলেও মাসে অবৈধভাবে কামান ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। বরিশাল বিআরটিএর অধীনে প্রতি মাসে লাইসেন্স দিতে ছয় থেকে আটটি বোর্ড বসে। প্রতি বোর্ডে লিখিত, ভাইভা ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় ১৮০-২০০ জন অংশ নেন। বোর্ডে হাতেগোনা কয়েকজনকে পাস করানো হয়। পরে বিআরটিএর চিহ্নিত দালাল ও সৌরভের ব্যক্তিগত ড্রাইভার রিয়াজ খান, আলাউদ্দীন, জাকির, আসাদুল, হৃদয়সহ ২০-২৫ জন পরীক্ষায় ফেল করা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা পাস করানোর জন্য তিন-চার হাজার টাকার চুক্তি করেন। এর মধ্যে লাইসেন্সপ্রতি সৌরভকে দিতে হয় আড়াই হাজার টাকা। বাকি টাকা পান দালালরা।
সূত্র জানায়, ওই পরীক্ষায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকার কথা। কোনো কোনো সময় ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে পরীক্ষার কাজ শেষ করেন। ফলে বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ খুব সহজেই নিজের করা তালিকায় ম্যাজিস্ট্রেটের সই করিয়ে নেন। এ পাস বাণিজ্যে বিআরটিএর পরিদর্শক সৌরভ সাহা ও ট্রাফিক পরিদর্শকের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অন্যদের ম্যানেজ করে প্রতি বোর্ড থেকে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন সৌরভ। এভাবে মাসে তার অবৈধ আয় দাঁড়ায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফাইলপ্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা নেন সৌরভ। প্রতিটি ট্রাকের রেজিস্ট্রেশনের জন্য ঘুস নেন পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন শোরুমের মোটরসাইকেলের ফাইলপ্রতি নেন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। এছাড়া বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও সিএনজির ফিটনেস থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। সৌরভের এমন ঘুসবাণিজ্যের বিষয়টি সম্প্রতি ধরা পড়ে।
সূত্র জানায়, গত বছর বিআরটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে সিএনজির টাইপ অনুমোদনের আগেই ১৯১টি সিএনজির রেজিস্ট্রেশন করেন সৌরভ। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সিএনজি থেকে তিনি ৫০ হাজার টাকা করে ঘুস নিয়েছেন । বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে বরিশালের দুদক কর্মকর্তা রাজকুমার সাহা বাদী হয়ে সৌরভকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। মামলায় বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান, ঢাকার তেজগাঁও এলাকার ‘রানার অটো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়। মামলায় বলা হয়, পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাভবান হওয়ার জন্য অসৎ উদ্দেশে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তারা। ওই মামলায় সৌরভ গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনক কারণে জামিন হয়।
সূত্র জানায়, বরিশালের নতুনবাজার এলাকায় আধুনিক এক ভবনে ২৭ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। অফিসে যাওয়ার জন্য রয়েছে দামি প্রাইভেট কার। এ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তার পিতা বিজয় সাহার নামে। তবে গাড়ির কাগজে রয়েছে সৌরভের ফোন নম্বর। নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় রয়েছে সৌরভের ‘হাওলাদার পরিবহন’-এর বাস কাউন্টার। মাদারীপুরের টেকেরহাটের হিরো হাওলাদার ও মনির হাওলাদারের কাছ থেকে চার বছর আগে ‘হাওলাদার পরিবহন’-এর ব্যানার (রুট) কিনে নেন সৌরভ । তিনি এটি তার বাবা ও শ্বশুরের নামে কিনেছেন বলে জানান হিরো হাওলাদার। টাকা-পয়সা লেনদেন থেকে শুরু করে সবকিছুই সৌরভ করেন বলেও জানান হিরো হাওলাদার।
হাওলাদার পরিবহনের মাদারীপুরের মোস্তফাপুর স্ট্যান্ডের চেকার জাহাঙ্গীর জানান, চার বছর আগে সৌরভ সাহা হাওলাদার পরিবহন কিনেছেন বাবা এবং শ্বশুরের নামে। হাওলাদার পরিবহনে সৌরভের পাঁচটি, আশিক পরিবহনের ব্যানারে চারটি এবং ফরিদপুর বাস মালিক সমিতিতে একটি বাস রয়েছে। এ বাসগুলোর মধ্যে ঢাকা রুটে চারটি এবং বরিশাল-ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা-গোপালগঞ্জ রুটে ১০টি বাস রয়েছে তার। এর মধ্যে ছয়মাস আগে দুটি নতুন বাস কিনেছেন বলে জানা গেছে।
হাওলাদার পরিবহনের সহকারী ম্যানেজার প্রদীপ কুমার বাড়ৈ জানান, হাওলাদার পরিবহনের মালিক বরিশাল বিআরটিএর ইন্সপেক্টর সৌরভ সাহা। হাওলাদার কাউন্টারটি মূলত রিয়াজ খান দেখাশোনা করে থাকেন। হাওলাদার পরিবহনে রিয়াজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি বাস রয়েছে। বরিশাল ইফাদ মটরস থেকে কিস্তিতে গাড়িটি নামানো হয়। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গাড়িটির প্রকৃত মালিক সৌরভ। ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও বিআরটিএ অফিসের দালাল রিয়াজের মাধ্যমেই তিনি অধিকাংশ ঘুষ বাণিজ্য করে থাকেন। অধিক বিশ্বস্ত হওয়ায় এ গাড়িটি তার নামেই রেজিস্ট্রেশন করেন সৌরভ। একইভাবে সৌরভ বরিশাল ইফাদ মোটরস থেকে তিনটি গাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। এ গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন ইফাদ মটরসের নামে। কিস্তিতে গাড়ি কেনায় কোম্পানির নামেই এগুলোর রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে বলে জানান ইফাদ মটরসের বিআরটিএ প্রতিনিধি মো. সাইফুল গাজী। এমনকি এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে সাইফুল গাজীর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এ গাড়িগুলোর কিস্তি রিয়াজ খানের মাধ্যমে সৌরভ পরিশোধ করেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে গাড়ির মালিকানার বিষয়টি জানার জন্য ইফাদ মটরসে একাধিকবার যোগযোগ করা হলেও বরিশাল অফিসে মালিকানার কোনো তথ্য নেই বলে বারবার জানিয়ে দেওয়া হয় এ প্রতিবেদককে। সৌরভ সম্প্রতি দুটি পুরোনো গাড়ি বিক্রি করে নতুন তিনটি গাড়ির চেচিস, ইঞ্জিন কিনেছেন । শিগগিরই নতুন তিনটি বাস তার গাড়িবহরে যোগ হবে।
গাড়িভাড়া নেওয়ার কথা জানিয়ে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন সৌরভের ম্যানেজার রিয়াজ খানের সঙ্গে। এ সময় রিয়াজ খান এ প্রতিবেদকের কাছে সৌরভের ১০টি বাস থাকার কথা এবং নতুন তিনটি চেচিস ইঞ্জিন কেনার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বাসের মালিক বিজয় সাহা ও তার ছেলে সৌরভ সাহা কখনোই ভাড়ার বিষয়ে কারো সঙ্গে কথা বলেন না। বলেন, ‘সবকিছুই আমিই দেখাশুনা করি’।
এদিকে ঘুসবাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম লাইসেন্সের জন্য মাঠ পরীক্ষার নামে কী হচ্ছে, তা দেখার জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার নথুল্লাবাদ বিআরটিসি বাস কাউন্টারে উপস্থিত হন এ প্রতিবেদক। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাঠের পরীক্ষা শুরু হয়। সেখানে সরাসরি ৬১ জনকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এদের মধ্যে তিনজনকে মাঠের পরীক্ষায় কৃতকার্য দেখানো হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততার জন্য তিনি থাকতে পারেননি। কেবল ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কেএম রহমান এবং বিআরটিএর ইন্সপেক্টর সৌরভ সাহা নিচ্ছিলেন মোটরসাইকেল লাইসেন্স-প্রত্যাশীদের পরীক্ষা। মোটরসাইকেলের মাঠের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর চার চাকার যানবাহনের মাঠের পরীক্ষা শুরু হয় বেলা ৩টার দিকে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার) আব্দুল্লাহ হেল মাফি বিআরটিসি কাউন্টারের পরীক্ষার মাঠে প্রবেশ করেন। তবে হাতেগোনা ছয়-সাতজন লাইসেন্সপ্রত্যাশী মাঠের পরীক্ষায় অংশ নেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ হেল মাফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছে যেগুলো পাসের যোগ্য মনে হয়েছে, তাদের পাস করানো হয়েছে।’ তবে কত জন পাস করেছে, তা তিনি জানাতে পারেননি। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলের পরীক্ষা চলাকালে তার না থাকার বিষয়ে বলেন, ব্যস্ত ছিলেন, তাই আসতে দেরি হয়েছে।
সৌরভ কুমার সাহার অনিয়ম-দুর্নীতি, ১০টি গাড়ি ও চারটি প্রাইভেট কার থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পত্রিকাটিকে বলেন, তার বাবার নামে একটি বাস আছে। এটি ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির অধীনে চলাচল করছে। এছাড়া তার পিতার রেন্ট-এ কার ব্যবসা রয়েছে। তিনি যে প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন, সেটি তার বাবার নামে। হাওলাদার পরিবহন তাদের নয় এবং এ পরিবহনে তার কোনো বাস নেই। এমনকি আশিক পরিবহনেও বাস থাকার কথা অস্বীকার করেন। এছাড়া তার নামে অন্য কোনো বাস বা প্রাইভেট কার থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। আর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের নামে-বেনামে গাড়ি কেনা বা সম্পদ গড়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

১৩ জুন, ২০২৬ ২০:০৭
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামীকাল রোববার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা।
ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজ নেওয়া বাস চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচল করায় পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ধর্মঘট শুরু হলে পাঁচ জেলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
যে তিন দাবিতে ধর্মঘটের ডাক
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জুন, ২০২৬ ১৮:২৪
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৩ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
বরিশালের গৌরনদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া ওই যুবকের নাম আরিফ আকন। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফের বাম হাত ভেঙে প্রায় অকেজো হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরোনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাথরুম নির্মাণ করছিলেন প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে নসিমনচালক রুবেল আকন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সকালে আরিফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুরে রুবেল বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আরিফকে হত্যার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিকেলে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির পাশে আরিফকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। একপর্যায়ে আরিফ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে আরিফের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিরা মনি বেগম আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল আকনসহ তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.