বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯
দেশের উপকূলীয় এলাকাসহ ১০ জেলায় রাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে, বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার (২২ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য রাত ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী কক্সবাজারের উপর দিয়ে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
দেশের উপকূলীয় এলাকাসহ ১০ জেলায় রাতের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে, বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার (২২ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য রাত ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী কক্সবাজারের উপর দিয়ে ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২৩
প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছি, যার আলোকে আমাদের সব কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সেই আলোকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি সুশিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করার লক্ষে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হবে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, ইনশা আল্লাহ।’
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।’
প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছি, যার আলোকে আমাদের সব কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সেই আলোকে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী একটি সুশিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করার লক্ষে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান কারিগর হবে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, ইনশা আল্লাহ।’
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।’

২২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৩
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।
সংবাদমাধ্যমে পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিটিক্যাল সিস্টেম (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)- এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। শনিবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ডেটা সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গবেষক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি গণমাধ্যম কাঙ্খিত সংস্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের’ প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিয়ে কিছু উদ্যোগ নিত, তাহলে গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কিছু হলেও সমাধান হতো।
লেখক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশিক্ষণার্থী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কাজের প্রচার-প্রসার ও আমাদের কাজের মাধ্যমে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনার উৎস্যক্ষেত্র গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের ওপর আমরাও নির্ভরশীল অনেকাংশে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমের যে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে, সেটি প্রতিপালন করার সক্ষমতা সৃষ্টি এবং কাজের লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।’
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার ৪১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
এর আগে বেলা ১১টায় ড. ইফতেখারুজ্জামান সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিষ্ঠানগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্পাদনা, হা/ই।

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৯
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৪
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:২০
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:০৫
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৯