ছবি:সংগ্রহীত
এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে পাসের হার সবচেয়ে কম। সর্বোচ্চ ফলের সূচক জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরীক্ষার ফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়বে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতেও।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় মোট আসন এবং এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিলে ৮ লাখের বেশি আসন খালি থাকতে পারে।
এর আগে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রায় ১৬ লাখ আসন খালি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। যদিও এখনো তৃতীয় ধাপে ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে, তাতেও খালি আসনের সংখ্যা খুব বেশি কমবে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
ফলে মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষা—দুই স্তরেই বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। ফল প্রকাশের পর এখন উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উচ্চশিক্ষায় আসন বেশি, পাস কম
দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবার উচ্চশিক্ষায় মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজারের মতো। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ লাখের বেশি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার লাখের বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আসন খালি থাকার কথা।
বর্তমানে দেশে ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১৭টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে উচ্চশিক্ষার সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিস্থিতি এক রকম হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন রয়েছে কমবেশি ৬৩ হাজারের কিছু বেশি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পরিচিত ও ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকবে। তবে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হতে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজে চাপ
দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে ২ হাজার ২৫৭টি। এর মধ্যে ৮৮১টি কলেজে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু আছে। এসব কলেজে সম্মান কোর্সে আসন রয়েছে সাড়ে চার লাখের বেশি। এ ছাড়া অনেক কলেজে স্নাতক (পাস) কোর্স চালু রয়েছে, যেখানে আসন প্রায় সাড়ে চার লাখ। প্রফেশনাল কোর্সেও কমবেশি ১০ হাজার আসন রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিলে এবার অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কলেজের শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতা কম, সেগুলো বেশি সংকটে পড়তে পারে।
গতকাল শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন।
ফেল করা শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষার সুযোগ
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। তাঁদের আগামী এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এ পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরে নিয়ে একই মাসে ফল প্রকাশের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা রয়েছে। যাতে এ বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে এ অপেক্ষা কমবে।
তবে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সবাই আবার পরীক্ষায় অংশ নেবেন বা পাস করবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই তাঁদের সম্ভাব্য ফলও উচ্চশিক্ষার আসন খালি থাকার হিসাবের সঙ্গে সরাসরি যোগ করা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা যায়, এখানকার বেশ কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হবেন।
প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পরিকল্পনা
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব স্তরেই শিক্ষার্থীর চাহিদা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষক ও অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। কোথাও শিক্ষার্থী কম, কিন্তু শিক্ষক ও অবকাঠামো রয়েছে; আবার কোথাও শিক্ষার্থী থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও পরিকল্পিতভাবে তা মোকাবিলার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীর চাহিদা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। এ জন্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সমন্বিত ‘ম্যাপিং’ করা দরকার। অর্থাৎ কোন এলাকায় কতটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, কোথায় কী ধরনের শিক্ষার চাহিদা রয়েছে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৬
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৯২৯ জন রোগী।
রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৮ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৭ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ জন রয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে। এর মধ্যে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৬ হাজার ১১৪ জন রোগী। অন্যদিকে আক্রান্তদের মধ্যে থেকে হাসপাতাল ছেড়েছেন মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—৮৩১ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯২ জন, রংপুর বিভাগে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার ৫১৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন ২৭৮ জন। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে (১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর ২০২৬) রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু দুটোই উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৯২৯ জন রোগী।
রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৮ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৭ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ জন রয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে। এর মধ্যে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৬ হাজার ১১৪ জন রোগী। অন্যদিকে আক্রান্তদের মধ্যে থেকে হাসপাতাল ছেড়েছেন মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—৮৩১ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯২ জন, রংপুর বিভাগে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার ৫১৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন ২৭৮ জন। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে (১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর ২০২৬) রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু দুটোই উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
মশার বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিদেশি গাপ্পি মাছের চেয়ে দেশীয় নাপিত খয়রা বেশি কার্যকর বলে উঠে এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এর এক গবেষণায়।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে, নাপিত খয়রা মাছ ২৪ ঘণ্টায় গড়ে মশার প্রায় ৯৪টি মশার লার্ভা খেয়েছে।
একই সময় গাপ্পি মাছ খেয়েছে গড়ে ৫৬টির মতো লার্ভা। এ ছাড়া পরীক্ষায় চার প্রজাতির মাছই দূষিত পানিতে ১০ দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিল।
তবে বাস্তব পরিবেশে এসব মাছের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি মাঠপর্যায়ের গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণায়পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার।
এতে তিনটি দেশীয় মাছ নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্সের সঙ্গে বিদেশি গাপ্পি মাছের মশার লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতা তুলনা করা হয়। পাশাপাশি দূষিত পানিতে মাছগুলোর টিকে থাকার ক্ষমতা এবং অন্য খাবারের উপস্থিতিতে মশার লার্ভার প্রতি তাদের খাদ্যপছন্দও পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণার জন্য ঢাকার সাভার এলাকার বিভিন্ন নর্দমা থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাগার ও সেমিফিল্ড পর্যায়ে পরিচালিত পরীক্ষায় প্রতিটি মাছকে আলাদা পাত্রে রেখে স্বাভাবিক ও দূষিত পানিতে তাদের লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
প্রতিটি পাত্রে কিউলেক্স মশার তৃতীয় পর্যায়ের ১০০টি লার্ভা দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর অবশিষ্ট লার্ভা গণনা করে মাছের খাবারগ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, স্বাভাবিক পানিতে নাপিত খয়রা গড়ে ৯৪ দশমিক ৫টি এবং দূষিত পানিতে ৯৩ দশমিক ৭৫টি লার্ভা খেয়েছে। জেব্রাফিশের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৮৭ ও ৮৬ দশমিক ২৫টি। আর ব্লু পাঞ্চাক্স খেয়েছে ৮০ দশমিক ৭৫ ও ৭৮ দশমিক ৭৫টি।
অন্যদিকে গাপ্পি মাছ স্বাভাবিক পানিতে গড়ে ৫৬ দশমিক ৫টি এবং দূষিত পানিতে ৬১ দশমিক ৫টি লার্ভা খেয়েছে। অর্থাৎ উভয় পরিবেশেই লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতায় অন্য তিন প্রজাতির চেয়ে এগিয়ে ছিল নাপিত খয়রা।
গবেষণায় আরো দেখা যায়, স্বাভাবিক ও দূষিত পানিতে চার প্রজাতির মাছের লার্ভা খাওয়ার হারের মধ্যে পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এতে ধারণা পাওয়া যায়, পরীক্ষার নির্দিষ্ট পরিবেশে মাছগুলো দূষিত পানিতেও মশার লার্ভা খেতে সক্ষম।
গবেষণার আরেকটি অংশে লার্ভার পাশাপাশি অন্য খাবার থাকলে মাছগুলো কোনটি বেশি পছন্দ করে, তা পরীক্ষা করা হয়। এ জন্য দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের মশার লার্ভা, টিউবিফেক্স কৃমি ও কৃত্রিম মাছের খাবার ব্যবহার করা হয়।
দেখা যায়, নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্স অন্য খাবারের তুলনায় মশার লার্ভার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্লু পাঞ্চাক্সের পছন্দ ছিল তৃতীয় পর্যায়ের লার্ভা, আর নাপিত খয়রা বেশি পছন্দ করেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের লার্ভা।
তবে গাপ্পি মাছের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো খাবারের প্রতি উল্লেখযোগ্য পছন্দ দেখা যায়নি। কৃত্রিম খাবারের প্রতিও তাদের আগ্রহ ছিল।
দূষিত পানিতে মাছগুলোর টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাইয়ে ১০ দিন ধরে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে চার প্রজাতির সব মাছই বেঁচে ছিল। এ ছাড়া জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্সের ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে দূষিত পানিতে মাছগুলো কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
গবেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি এ পরীক্ষায় মাছগুলোর বেঁচে থাকার তথ্যকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সহনশীলতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ফাইলেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এসব রোগের বাহক মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে এর অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মশার মধ্যে কীটনাশক প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশ, মানুষ ও উপকারী প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে মশার লার্ভা খেয়ে বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম মাছকে পরিবেশবান্ধব জৈবিক নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাময় উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে অতীতে মশা নিয়ন্ত্রণে বিদেশি গাপ্পি মাছ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও বিভিন্ন সময় নর্দমায় গাপ্পি মাছ ছেড়েছে। তবে বর্তমান গবেষণার ফল বলছে, লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতায় কয়েকটি দেশীয় মাছ গাপ্পির চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। দেশীয় প্রজাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে বিদেশি মাছের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে গবেষণার আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গবেষকরা বলছেন, গবেষণাগার ও সেমিফিল্ডের ফল সরাসরি বাস্তব পরিবেশে প্রয়োগের নিশ্চয়তা দেয় না। নর্দমা ও জলাশয়ের পানির গুণাগুণ, অক্সিজেনের পরিমাণ, পানির প্রবাহ, অন্যান্য খাবারের প্রাপ্যতা এবং মাছের প্রজনন ও টিকে থাকার সক্ষমতা মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে বিভিন্ন ধরনের নর্দমা ও জলাশয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।
গবেষণায় নাপিত খয়রাকে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্সও জৈবিক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে কোন পরিবেশে কোন প্রজাতির মাছ ব্যবহার সবচেয়ে উপযোগী, তা আরো গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
গবেষকদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো একক পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত বাহক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জৈবিক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ কাজে লাগানো যেতে পারে। মাঠপর্যায়ে দেশীয় মাছের কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে তা রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
মশার বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিদেশি গাপ্পি মাছের চেয়ে দেশীয় নাপিত খয়রা বেশি কার্যকর বলে উঠে এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এর এক গবেষণায়।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে, নাপিত খয়রা মাছ ২৪ ঘণ্টায় গড়ে মশার প্রায় ৯৪টি মশার লার্ভা খেয়েছে।
একই সময় গাপ্পি মাছ খেয়েছে গড়ে ৫৬টির মতো লার্ভা। এ ছাড়া পরীক্ষায় চার প্রজাতির মাছই দূষিত পানিতে ১০ দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিল।
তবে বাস্তব পরিবেশে এসব মাছের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি মাঠপর্যায়ের গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণায়পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার।
এতে তিনটি দেশীয় মাছ নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্সের সঙ্গে বিদেশি গাপ্পি মাছের মশার লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতা তুলনা করা হয়। পাশাপাশি দূষিত পানিতে মাছগুলোর টিকে থাকার ক্ষমতা এবং অন্য খাবারের উপস্থিতিতে মশার লার্ভার প্রতি তাদের খাদ্যপছন্দও পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণার জন্য ঢাকার সাভার এলাকার বিভিন্ন নর্দমা থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাগার ও সেমিফিল্ড পর্যায়ে পরিচালিত পরীক্ষায় প্রতিটি মাছকে আলাদা পাত্রে রেখে স্বাভাবিক ও দূষিত পানিতে তাদের লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
প্রতিটি পাত্রে কিউলেক্স মশার তৃতীয় পর্যায়ের ১০০টি লার্ভা দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর অবশিষ্ট লার্ভা গণনা করে মাছের খাবারগ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, স্বাভাবিক পানিতে নাপিত খয়রা গড়ে ৯৪ দশমিক ৫টি এবং দূষিত পানিতে ৯৩ দশমিক ৭৫টি লার্ভা খেয়েছে। জেব্রাফিশের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৮৭ ও ৮৬ দশমিক ২৫টি। আর ব্লু পাঞ্চাক্স খেয়েছে ৮০ দশমিক ৭৫ ও ৭৮ দশমিক ৭৫টি।
অন্যদিকে গাপ্পি মাছ স্বাভাবিক পানিতে গড়ে ৫৬ দশমিক ৫টি এবং দূষিত পানিতে ৬১ দশমিক ৫টি লার্ভা খেয়েছে। অর্থাৎ উভয় পরিবেশেই লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতায় অন্য তিন প্রজাতির চেয়ে এগিয়ে ছিল নাপিত খয়রা।
গবেষণায় আরো দেখা যায়, স্বাভাবিক ও দূষিত পানিতে চার প্রজাতির মাছের লার্ভা খাওয়ার হারের মধ্যে পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এতে ধারণা পাওয়া যায়, পরীক্ষার নির্দিষ্ট পরিবেশে মাছগুলো দূষিত পানিতেও মশার লার্ভা খেতে সক্ষম।
গবেষণার আরেকটি অংশে লার্ভার পাশাপাশি অন্য খাবার থাকলে মাছগুলো কোনটি বেশি পছন্দ করে, তা পরীক্ষা করা হয়। এ জন্য দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের মশার লার্ভা, টিউবিফেক্স কৃমি ও কৃত্রিম মাছের খাবার ব্যবহার করা হয়।
দেখা যায়, নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্স অন্য খাবারের তুলনায় মশার লার্ভার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্লু পাঞ্চাক্সের পছন্দ ছিল তৃতীয় পর্যায়ের লার্ভা, আর নাপিত খয়রা বেশি পছন্দ করেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের লার্ভা।
তবে গাপ্পি মাছের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো খাবারের প্রতি উল্লেখযোগ্য পছন্দ দেখা যায়নি। কৃত্রিম খাবারের প্রতিও তাদের আগ্রহ ছিল।
দূষিত পানিতে মাছগুলোর টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাইয়ে ১০ দিন ধরে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে চার প্রজাতির সব মাছই বেঁচে ছিল। এ ছাড়া জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্সের ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে দূষিত পানিতে মাছগুলো কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
গবেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি এ পরীক্ষায় মাছগুলোর বেঁচে থাকার তথ্যকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সহনশীলতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ফাইলেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এসব রোগের বাহক মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে এর অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মশার মধ্যে কীটনাশক প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশ, মানুষ ও উপকারী প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে মশার লার্ভা খেয়ে বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম মাছকে পরিবেশবান্ধব জৈবিক নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাময় উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে অতীতে মশা নিয়ন্ত্রণে বিদেশি গাপ্পি মাছ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও বিভিন্ন সময় নর্দমায় গাপ্পি মাছ ছেড়েছে। তবে বর্তমান গবেষণার ফল বলছে, লার্ভা খাওয়ার সক্ষমতায় কয়েকটি দেশীয় মাছ গাপ্পির চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। দেশীয় প্রজাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে বিদেশি মাছের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে গবেষণার আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গবেষকরা বলছেন, গবেষণাগার ও সেমিফিল্ডের ফল সরাসরি বাস্তব পরিবেশে প্রয়োগের নিশ্চয়তা দেয় না। নর্দমা ও জলাশয়ের পানির গুণাগুণ, অক্সিজেনের পরিমাণ, পানির প্রবাহ, অন্যান্য খাবারের প্রাপ্যতা এবং মাছের প্রজনন ও টিকে থাকার সক্ষমতা মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে বিভিন্ন ধরনের নর্দমা ও জলাশয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।
গবেষণায় নাপিত খয়রাকে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্সও জৈবিক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে কোন পরিবেশে কোন প্রজাতির মাছ ব্যবহার সবচেয়ে উপযোগী, তা আরো গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
গবেষকদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো একক পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত বাহক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জৈবিক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ কাজে লাগানো যেতে পারে। মাঠপর্যায়ে দেশীয় মাছের কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে তা রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

০১ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:৩৫
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। এটি আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভারতের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।
শনিবার দুপুর ১২টায় নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এ পরিস্থিতিতে পায়রাসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর এ সতর্কতার আওতায় থাকায় স্থানীয় উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। এটি আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভারতের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।
শনিবার দুপুর ১২টায় নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এ পরিস্থিতিতে পায়রাসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর এ সতর্কতার আওতায় থাকায় স্থানীয় উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৯
এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে পাসের হার সবচেয়ে কম। সর্বোচ্চ ফলের সূচক জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরীক্ষার ফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়বে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতেও।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় মোট আসন এবং এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিলে ৮ লাখের বেশি আসন খালি থাকতে পারে।
এর আগে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রায় ১৬ লাখ আসন খালি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। যদিও এখনো তৃতীয় ধাপে ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে, তাতেও খালি আসনের সংখ্যা খুব বেশি কমবে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
ফলে মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষা—দুই স্তরেই বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। ফল প্রকাশের পর এখন উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উচ্চশিক্ষায় আসন বেশি, পাস কম
দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবার উচ্চশিক্ষায় মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজারের মতো। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০ লাখের বেশি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার লাখের বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আসন খালি থাকার কথা।
বর্তমানে দেশে ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১৭টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে উচ্চশিক্ষার সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিস্থিতি এক রকম হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন রয়েছে কমবেশি ৬৩ হাজারের কিছু বেশি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পরিচিত ও ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকবে। তবে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হতে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজে চাপ
দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে ২ হাজার ২৫৭টি। এর মধ্যে ৮৮১টি কলেজে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু আছে। এসব কলেজে সম্মান কোর্সে আসন রয়েছে সাড়ে চার লাখের বেশি। এ ছাড়া অনেক কলেজে স্নাতক (পাস) কোর্স চালু রয়েছে, যেখানে আসন প্রায় সাড়ে চার লাখ। প্রফেশনাল কোর্সেও কমবেশি ১০ হাজার আসন রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিলে এবার অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কলেজের শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতা কম, সেগুলো বেশি সংকটে পড়তে পারে।
গতকাল শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন।
ফেল করা শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষার সুযোগ
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। তাঁদের আগামী এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এ পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরে নিয়ে একই মাসে ফল প্রকাশের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা রয়েছে। যাতে এ বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে এ অপেক্ষা কমবে।
তবে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সবাই আবার পরীক্ষায় অংশ নেবেন বা পাস করবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই তাঁদের সম্ভাব্য ফলও উচ্চশিক্ষার আসন খালি থাকার হিসাবের সঙ্গে সরাসরি যোগ করা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা যায়, এখানকার বেশ কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হবেন।
প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পরিকল্পনা
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব স্তরেই শিক্ষার্থীর চাহিদা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষক ও অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। কোথাও শিক্ষার্থী কম, কিন্তু শিক্ষক ও অবকাঠামো রয়েছে; আবার কোথাও শিক্ষার্থী থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও পরিকল্পিতভাবে তা মোকাবিলার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীর চাহিদা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। এ জন্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সমন্বিত ‘ম্যাপিং’ করা দরকার। অর্থাৎ কোন এলাকায় কতটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, কোথায় কী ধরনের শিক্ষার চাহিদা রয়েছে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:২৯
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৯
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৬