ছবি: সংগ্রহীত
গ্যাস না পেয়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালে দুইবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজি চালকেরা। এতে আধাঘণ্টা করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভালুকা পৌর শহরের এসএনএস সিএনজি পাম্পের সামনে এবং আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন সিএনজি চালকেরা।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ভালুকা পৌর শহরের এসএনএস সিএনজি পাম্পে গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকেরা গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে খবর আসে, গ্যাস না পেয়ে এসএনএস সিএনজি পাম্পের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজি চালকেরা। এমন খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ২০-২৫ জন সিএনজি চালক মহাসড়কের মাঝখানে একটি সিএনজি দাঁড় করিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। পরে আমি জানতে চাই—কারা সড়ক অবরোধ করেছেন? তখন কেউ কোনো কথা বলেননি। এমতাবস্থায় আমি ও পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা সিএনজিটি সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এসএনএস পাম্পে গ্যাস ছিল না। তাই সিএনজি চালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এদিকে, আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে জেলার ত্রিশাল উপজেলায় সিএনজি চালকেরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাকচর রোডের মাথায় গাড়ি থামিয়ে সড়ক অবরোধ করেন সিএনজি চালকেরা। ফলে মহাসড়কের পূর্ব পাশে সব যানবাহন আটকে যায় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সিএনজি চালকেরা জানান, সিএনজিতে নামমাত্র গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এক থেকে দুই ট্রিপ মারার পর আবার গ্যাস শেষ হয়ে যায়। অথচ একবার গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এমতাবস্থায় আমাদের পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক বেলা খাই তো, আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তালেব বলেন, মাত্র কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আমি এবং টিআই সাইফুল ইসলাম মিলে যান চলাচল স্বাভাবিক করি।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১২
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথা নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ওই রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে খাওয়ার পর রাত থেকেই তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বিরিয়ানি খেয়েই তারা অসুস্থ হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা শহরের থানা রোডে, থানার কাছাকাছি অবস্থিত ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে পৃথক সময়ে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান তারা। রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই খাবার খাওয়ার পর শুরু হয় পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮) রয়েছেন। একই উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী (৩৫), তার মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) এবং তাদের আত্মীয় জিহাদ আলীর স্ত্রী সুবর্ণা খাতুন (২১) রয়েছেন ভুক্তভোগীদের তালিকায়।
এ ছাড়া আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকী গ্রামের মাঝেরপাড়ার লিখনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন (২২), একই এলাকার দেলোয়ারের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩২) ও তার দুই ছেলে জনি (১১) ও রনি (১৫), চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের ইউনুচ আলীর স্ত্রী শিরিনা খাতুন (৪০), লিখনের মেয়ে নুসরাত জাহান (১৬), ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের গৌরীহ্রদ গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী পারুলা বেগম (৪২), খাসকররা গ্রামের আলী আজগরের স্ত্রী পরিছন নেছা (৪৫), জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে জিহান (৫) ও জায়ান (১৩ মাস) এবং আসাদুল হকের মেয়ে আইভি খাতুন (২৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ছয়জন ভর্তি রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, অফিস শেষে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান তিনি। রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেই বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া। পরদিন সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, বাড়িতে ভাত রান্না করার মতোও এখন কেউ নেই। যারা ওই বিরিয়ানি খেয়েছেন, তারাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাই খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
জাহিদ হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে যান। পরিবারের তিনজন মিলে বিরিয়ানি খাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার রাতে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে আনা বিরিয়ানি খাওয়ার পরদিন সকাল থেকেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। পরে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে একই প্রতিষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর একাধিক পরিবারের সদস্যের একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় খাবারের মান, প্রস্তুতপ্রণালি, সংরক্ষণব্যবস্থা, রান্নার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টটির ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা বা অন্যান্য প্রযোজ্য অনুমোদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি এভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনিও বুঝতে পারছেন না। কেউ ইচ্ছা করে এত মানুষকে খারাপ খাবার খাওয়াবে কি না, সেটিও প্রশ্ন। ব্যবসার অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে। অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দ্রুত করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মাহমুদ বলেন, খাদ্যে পয়জনিংয়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ওই দিনের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। নমুনা পাওয়া গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যেত। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. এস. এম. শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার বিকেলে হাজী বিরিয়ানি হাউজে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন দ্রুত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ ২৬ জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথা নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ওই রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে খাওয়ার পর রাত থেকেই তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বিরিয়ানি খেয়েই তারা অসুস্থ হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা শহরের থানা রোডে, থানার কাছাকাছি অবস্থিত ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে পৃথক সময়ে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান তারা। রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই খাবার খাওয়ার পর শুরু হয় পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮) রয়েছেন। একই উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী (৩৫), তার মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) এবং তাদের আত্মীয় জিহাদ আলীর স্ত্রী সুবর্ণা খাতুন (২১) রয়েছেন ভুক্তভোগীদের তালিকায়।
এ ছাড়া আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকী গ্রামের মাঝেরপাড়ার লিখনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন (২২), একই এলাকার দেলোয়ারের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩২) ও তার দুই ছেলে জনি (১১) ও রনি (১৫), চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের ইউনুচ আলীর স্ত্রী শিরিনা খাতুন (৪০), লিখনের মেয়ে নুসরাত জাহান (১৬), ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের গৌরীহ্রদ গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী পারুলা বেগম (৪২), খাসকররা গ্রামের আলী আজগরের স্ত্রী পরিছন নেছা (৪৫), জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে জিহান (৫) ও জায়ান (১৩ মাস) এবং আসাদুল হকের মেয়ে আইভি খাতুন (২৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ছয়জন ভর্তি রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, অফিস শেষে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান তিনি। রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেই বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া। পরদিন সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, বাড়িতে ভাত রান্না করার মতোও এখন কেউ নেই। যারা ওই বিরিয়ানি খেয়েছেন, তারাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাই খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
জাহিদ হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে যান। পরিবারের তিনজন মিলে বিরিয়ানি খাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার রাতে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে আনা বিরিয়ানি খাওয়ার পরদিন সকাল থেকেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। পরে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে একই প্রতিষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর একাধিক পরিবারের সদস্যের একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় খাবারের মান, প্রস্তুতপ্রণালি, সংরক্ষণব্যবস্থা, রান্নার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টটির ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা বা অন্যান্য প্রযোজ্য অনুমোদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি এভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনিও বুঝতে পারছেন না। কেউ ইচ্ছা করে এত মানুষকে খারাপ খাবার খাওয়াবে কি না, সেটিও প্রশ্ন। ব্যবসার অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে। অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দ্রুত করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মাহমুদ বলেন, খাদ্যে পয়জনিংয়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ওই দিনের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। নমুনা পাওয়া গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যেত। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. এস. এম. শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার বিকেলে হাজী বিরিয়ানি হাউজে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন দ্রুত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।
পুলিশ বলছে, নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র বুঝতে উদ্ধার হওয়া শিশুদের তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় তথ্যটি জানানো হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা, কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সে তথ্য উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
যাচাইয়ে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এখনো উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হয়েছে এবং ২ হাজার ৩৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি। অর্থাৎ নিখোঁজ শিশুদের প্রায় ৮৭ শতাংশই উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় কিংবা একা বাসায় ফেরার সময় অন্যত্র চলে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকার কারণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আরও জানিয়েছে, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু রয়েছে। এর ফলে সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪। ২০২৫ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে ২২ হাজার ৫৫০টি।
বরিশাল টাইমস
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।
পুলিশ বলছে, নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র বুঝতে উদ্ধার হওয়া শিশুদের তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় তথ্যটি জানানো হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা, কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সে তথ্য উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
যাচাইয়ে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এখনো উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হয়েছে এবং ২ হাজার ৩৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি। অর্থাৎ নিখোঁজ শিশুদের প্রায় ৮৭ শতাংশই উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় কিংবা একা বাসায় ফেরার সময় অন্যত্র চলে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকার কারণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আরও জানিয়েছে, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু রয়েছে। এর ফলে সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪। ২০২৫ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে ২২ হাজার ৫৫০টি।
বরিশাল টাইমস

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৫
গ্যাস না পেয়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালে দুইবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজি চালকেরা। এতে আধাঘণ্টা করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভালুকা পৌর শহরের এসএনএস সিএনজি পাম্পের সামনে এবং আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন সিএনজি চালকেরা।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ভালুকা পৌর শহরের এসএনএস সিএনজি পাম্পে গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকেরা গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে খবর আসে, গ্যাস না পেয়ে এসএনএস সিএনজি পাম্পের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজি চালকেরা। এমন খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ২০-২৫ জন সিএনজি চালক মহাসড়কের মাঝখানে একটি সিএনজি দাঁড় করিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। পরে আমি জানতে চাই—কারা সড়ক অবরোধ করেছেন? তখন কেউ কোনো কথা বলেননি। এমতাবস্থায় আমি ও পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা সিএনজিটি সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এসএনএস পাম্পে গ্যাস ছিল না। তাই সিএনজি চালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এদিকে, আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে জেলার ত্রিশাল উপজেলায় সিএনজি চালকেরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাকচর রোডের মাথায় গাড়ি থামিয়ে সড়ক অবরোধ করেন সিএনজি চালকেরা। ফলে মহাসড়কের পূর্ব পাশে সব যানবাহন আটকে যায় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সিএনজি চালকেরা জানান, সিএনজিতে নামমাত্র গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এক থেকে দুই ট্রিপ মারার পর আবার গ্যাস শেষ হয়ে যায়। অথচ একবার গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এমতাবস্থায় আমাদের পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক বেলা খাই তো, আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তালেব বলেন, মাত্র কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আমি এবং টিআই সাইফুল ইসলাম মিলে যান চলাচল স্বাভাবিক করি।
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৮
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৪
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:১৫
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬