এবার অতি শক্তিশালী নিনোর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, পৃথিবী প্রবেশ করেছে ‘চরম আবহাওয়ার বিপজ্জনক অঞ্চলে’। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের এল নিনো গত ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ তথ্য বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ওপরে ছিল। কোনো কোনো মাসে তা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এমনটা হলে ১৯৫০ সালের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।” তার ভাষায়, পৃথিবী এখন এমন এক অজানা পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া প্রবণতা, যা প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর প্রভাবে বিশ্বের কোথাও খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার কোথাও দেখা দিতে পারে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এর সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে চলমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক আঘাত হানতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়বে। ইতোমধ্যে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল ১০ শতাংশেরও বেশি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় চলতি শুষ্ক মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটি ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য বিমান মোতায়েন করছে।
অন্যদিকে, চীন চলতি বছর সাতটি টাইফুনের আঘাতের আশঙ্কা করছে। আগস্টে টাইফুন ডলফিনের আঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করছে বিভিন্ন দেশ।
সূত্র: বিবিসি

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৮
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৫
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন বেড়েছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ। মূল বেতন, ভাতাসহ মোট চার ধাপে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হবে। কার্যকর হবে গত জুলাই থেকে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এত দিন চালু থাকা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ অবলুপ্ত বা বাতিল হয়ে যাবে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। আর বাড়িভাড়াসহ নতুন সব ভাতা যোগ হবে চতুর্থ ধাপে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। তবে এই সময়ে আগের ভাতা থাকবে।
নবম গ্রেডে শুরুতে মূল বেতন কত হবে
ধরুন একজন নতুন চাকরিজীবী চলতি বছরের জুলাইয়ে নবম গ্রেডে যোগ দিয়েছেন। পুরোনো কাঠামোয় এই গ্রেডের মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, তার মূল বেতন প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বেড়ে হবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হবে। তখন মূল বেতন দাঁড়াবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাই থেকে আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হলে তখন মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী পাবেন।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে ভাতাগুলো কার্যকর হবে। তখন ঢাকায় কর্মরত নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে ২২ হাজার টাকা যোগ হবে। এর সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে তখন তার মোট বেতন-ভাতা কমবেশি ৭০ হাজার টাকা হতে পারে। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন এক লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা হওয়ার সুযোগ আছে।
সরকারি চাকরিতে সদ্য ঘোষিত বেতনকাঠামোতে নতুন ও পুরোনোদের বেতন কত হবে, সে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে এ–সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারির পর।
বেতনকাঠামোর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন বেতনকাঠামো–সংক্রান্ত আদেশ অর্থ বিভাগ আজ বা আগামীকাল জারি করবে। তখন সব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন বেড়েছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ। মূল বেতন, ভাতাসহ মোট চার ধাপে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হবে। কার্যকর হবে গত জুলাই থেকে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এত দিন চালু থাকা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ অবলুপ্ত বা বাতিল হয়ে যাবে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। আর বাড়িভাড়াসহ নতুন সব ভাতা যোগ হবে চতুর্থ ধাপে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। তবে এই সময়ে আগের ভাতা থাকবে।
নবম গ্রেডে শুরুতে মূল বেতন কত হবে
ধরুন একজন নতুন চাকরিজীবী চলতি বছরের জুলাইয়ে নবম গ্রেডে যোগ দিয়েছেন। পুরোনো কাঠামোয় এই গ্রেডের মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, তার মূল বেতন প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বেড়ে হবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হবে। তখন মূল বেতন দাঁড়াবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাই থেকে আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হলে তখন মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী পাবেন।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে ভাতাগুলো কার্যকর হবে। তখন ঢাকায় কর্মরত নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে ২২ হাজার টাকা যোগ হবে। এর সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে তখন তার মোট বেতন-ভাতা কমবেশি ৭০ হাজার টাকা হতে পারে। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন এক লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা হওয়ার সুযোগ আছে।
সরকারি চাকরিতে সদ্য ঘোষিত বেতনকাঠামোতে নতুন ও পুরোনোদের বেতন কত হবে, সে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে এ–সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারির পর।
বেতনকাঠামোর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন বেতনকাঠামো–সংক্রান্ত আদেশ অর্থ বিভাগ আজ বা আগামীকাল জারি করবে। তখন সব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩০
'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শিল্পের মহারাজ। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে তাঁর বিচরণ ছিল না। সেই বিচরণ ছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী এক রাজাধিরাজের মতোই। একই সাথে ইসলামী গজল এবং সনাতনী শ্যামাসঙ্গীত কৃষ্ণসঙ্গীত লেখার মতো গভীর বৈপরীত্যের প্রতিভায় পৃথিবীতে নজরুল ছাড়া দ্বিতীয়জন সৃষ্টি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক শব্দটা শুধু তাঁর নামের সাথেই শোভা পায়। কবি হিসেবেও নজরুল ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন মহাকবি।' বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নজরুল স্মরণোৎসব-২০২৬'এর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণোৎসবে বক্তারা আরো বলেন, 'বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ শিখেছিলেন কোনো পাঠশালা কিংবা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়; তিনি বিদ্রোহ শিখেছিলেন নিজের জীবনের কাছ থেকে। অভাব তাঁকে শিখিয়েছে সংগ্রাম করতে। বঞ্চনা তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিবাদ করতে। সামাজিক বৈষম্য তাঁকে শিখিয়েছে সাম্যের কথা বলতে। ঔপনিবেশিক শাসন তাঁকে শিখিয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন সৈনিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতজ্ঞ, ধর্মীয় পন্ডিত, শিক্ষক, দার্শনিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবতাবাদী একজন অকুতোভয় যোদ্ধা।'
বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান দেশি-বিদেশি পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি মুস্তাফা হাবীবের সভাপতিত্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক আকতার উদদীন চৌধুরী, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক কবি পথিক মোস্তফা ও দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকার সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আযাদ আলাউদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট, সুশাসন ব্যক্তিত্ব ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না।
সভায় অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জাকির হোসেন সবুজ, আগরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার বড়াল, জৈনুদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবি স.ম জসিম উদ্দিন ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। বাচিক শিল্পী ও আবৃত্তিকার জাহিদ হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আগরপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবায়দুল হক শাহীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের বরিশাল জেলা সম্পাদক কবি মাহবুব রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক রাঙা প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (খন্ডকালীন) শাহিন মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
নজরুল স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং নাচের পর্ব সমগ্র অনুষ্ঠানে নান্দনিক রূপ দিয়ে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কবিতা পাঠের আসরে আবৃত্তি করেন উদীয়মান কবি আহমেদ বেলাল, কবি জিয়াউল হক, কবি শোয়েব আহমেদ ও কবি জিল্লুর রহমান। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী জগলুল আহমেদ শামীম এবং শাহরিয়ার হিমুর পরিচালনায় নজরুল সংগীতের সুরের মূর্ছনা আর নৃত্যের তালে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে লোকসাহিত্য একাডেমির পক্ষ থেকে অতিথি এবং আলোচকদের সম্মাননা স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। #

'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শিল্পের মহারাজ। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে তাঁর বিচরণ ছিল না। সেই বিচরণ ছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী এক রাজাধিরাজের মতোই। একই সাথে ইসলামী গজল এবং সনাতনী শ্যামাসঙ্গীত কৃষ্ণসঙ্গীত লেখার মতো গভীর বৈপরীত্যের প্রতিভায় পৃথিবীতে নজরুল ছাড়া দ্বিতীয়জন সৃষ্টি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক শব্দটা শুধু তাঁর নামের সাথেই শোভা পায়। কবি হিসেবেও নজরুল ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন মহাকবি।' বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নজরুল স্মরণোৎসব-২০২৬'এর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণোৎসবে বক্তারা আরো বলেন, 'বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ শিখেছিলেন কোনো পাঠশালা কিংবা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়; তিনি বিদ্রোহ শিখেছিলেন নিজের জীবনের কাছ থেকে। অভাব তাঁকে শিখিয়েছে সংগ্রাম করতে। বঞ্চনা তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিবাদ করতে। সামাজিক বৈষম্য তাঁকে শিখিয়েছে সাম্যের কথা বলতে। ঔপনিবেশিক শাসন তাঁকে শিখিয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন সৈনিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতজ্ঞ, ধর্মীয় পন্ডিত, শিক্ষক, দার্শনিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবতাবাদী একজন অকুতোভয় যোদ্ধা।'
বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান দেশি-বিদেশি পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি মুস্তাফা হাবীবের সভাপতিত্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক আকতার উদদীন চৌধুরী, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক কবি পথিক মোস্তফা ও দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকার সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আযাদ আলাউদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট, সুশাসন ব্যক্তিত্ব ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না।
সভায় অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জাকির হোসেন সবুজ, আগরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার বড়াল, জৈনুদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবি স.ম জসিম উদ্দিন ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। বাচিক শিল্পী ও আবৃত্তিকার জাহিদ হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আগরপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবায়দুল হক শাহীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের বরিশাল জেলা সম্পাদক কবি মাহবুব রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক রাঙা প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (খন্ডকালীন) শাহিন মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
নজরুল স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং নাচের পর্ব সমগ্র অনুষ্ঠানে নান্দনিক রূপ দিয়ে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কবিতা পাঠের আসরে আবৃত্তি করেন উদীয়মান কবি আহমেদ বেলাল, কবি জিয়াউল হক, কবি শোয়েব আহমেদ ও কবি জিল্লুর রহমান। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী জগলুল আহমেদ শামীম এবং শাহরিয়ার হিমুর পরিচালনায় নজরুল সংগীতের সুরের মূর্ছনা আর নৃত্যের তালে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে লোকসাহিত্য একাডেমির পক্ষ থেকে অতিথি এবং আলোচকদের সম্মাননা স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। #


০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
এবার অতি শক্তিশালী নিনোর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, পৃথিবী প্রবেশ করেছে ‘চরম আবহাওয়ার বিপজ্জনক অঞ্চলে’। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের এল নিনো গত ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ তথ্য বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ওপরে ছিল। কোনো কোনো মাসে তা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এমনটা হলে ১৯৫০ সালের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।” তার ভাষায়, পৃথিবী এখন এমন এক অজানা পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া প্রবণতা, যা প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর প্রভাবে বিশ্বের কোথাও খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার কোথাও দেখা দিতে পারে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এর সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে চলমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক আঘাত হানতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়বে। ইতোমধ্যে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল ১০ শতাংশেরও বেশি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় চলতি শুষ্ক মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটি ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য বিমান মোতায়েন করছে।
অন্যদিকে, চীন চলতি বছর সাতটি টাইফুনের আঘাতের আশঙ্কা করছে। আগস্টে টাইফুন ডলফিনের আঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করছে বিভিন্ন দেশ।
সূত্র: বিবিসি
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৮
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৪
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:১৫
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬