Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৫ জুন, ২০২৫ ১৬:১২
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ‘লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি’ অবশেষে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধ্বংসপ্রায় বিশালাকায় প্রাসাদটিকে আদিরূপ দেওয়াসহ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ বছরের পুরানো এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণ করা হবে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্প না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমানকে এক চিঠিতে জমিদারবাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালতের সলিসিটার ও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কন্যা আলপনা রায়। চিঠিতে তিনি ভবনটিকে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি রাখেন। তার ওই চিঠির ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিনে বাড়িটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয় হয়নি। বরং জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) বিশালাকায় দুটি গুদাম ও স্থাপনা নির্মাণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে জমিদারবাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ কিছুটা বিলম্বে হলেও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আলপনা রায় ভিষণ খুশি হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বাড়ি সংরক্ষণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই সময় সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরে সংস্কারে কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয় ছিল না। এখন সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়েছে, যা শুনে ভালা লাগছে এবং তার জন্য সরকার প্রশংসার দাবিও রাখে।
বরিশাল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ মে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়ায় অবস্থিত জমিদারবাড়ির সংরক্ষণে কাজ চলছে।
দোতলা ভবনটির চারপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার। ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো ছাদ, সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ নির্মাণ করা হবে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূলত ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ‘পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে ভবনটিকে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এই তথ্য নিশ্চিত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, জমিদারবাড়ির উচ্চতা ৮ দশমিক ২০ মিটার, দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ২০ মিটার। দোতলা ভবনটিতে আছে মোট ৯টি কক্ষ। জমিদারবাড়িটির চারপাশে আছে তিনটি বাঁধানো পুকুর, যেগুলো ‘বাবুবাড়ি পুকুর’ নামে পরিচিত।
ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত, জমিদার রূপচন্দ্র রায় ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে তিনি প্রায় ৪৯ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রজাদরদি হিসেবে খ্যাত রূপচন্দ্র রায়ের আমলেই লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়। রূপচন্দ্রের দুই ছেলে রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী। প্যারীলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যারিস্টার ও সমাজসেবক, তাঁর দুই পুত্র বিখ্যাত বৈমানিক ইন্দ্রলাল রায় এবং নামকরা বক্সার পরেশলাল রায় তাঁদের কীর্তির ইতিহাস সুদীর্ঘ। এই জমিদার পরিবারের সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। কবিগুরুর বড় ভাই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পুত্র অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের দুই নাতনি সুশীলা এবং চারুবালাকে। পরবর্তী সময়ে জমিদার দেবেন লাল রায় চৌধুরী ভারতে থিতু হন এবং কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মেয়ে মন্দিরা রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় বরিশালের কাশীপুরের মুখার্জি পরিবারে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জনদরদি জমিদারবংশের উদ্যোগেই রাজচন্দ্র কলেজ এবং পুষ্পরাণী চৌধুরী ইনস্টিটিউশন (পিআরসি স্কুল) প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলটি সক্রিয় আছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন নতুন করে জমিদারের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নেওয়া লাকুটিয়া গ্রামের মানুষও সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তিবিষয়ক কৌশলি সুভাষ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানাভুক্ত প্রায় আট একর জমি এবং একটি বড় পুকুরের মালিকানা পেয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে ধ্বংসপ্রায় জমিদার রূপচন্দ্র রায়ের বাড়িটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেবে।’
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ‘লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি’ অবশেষে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধ্বংসপ্রায় বিশালাকায় প্রাসাদটিকে আদিরূপ দেওয়াসহ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ বছরের পুরানো এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণ করা হবে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্প না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমানকে এক চিঠিতে জমিদারবাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালতের সলিসিটার ও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কন্যা আলপনা রায়। চিঠিতে তিনি ভবনটিকে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি রাখেন। তার ওই চিঠির ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিনে বাড়িটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয় হয়নি। বরং জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) বিশালাকায় দুটি গুদাম ও স্থাপনা নির্মাণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে জমিদারবাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ কিছুটা বিলম্বে হলেও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আলপনা রায় ভিষণ খুশি হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বাড়ি সংরক্ষণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই সময় সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরে সংস্কারে কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয় ছিল না। এখন সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়েছে, যা শুনে ভালা লাগছে এবং তার জন্য সরকার প্রশংসার দাবিও রাখে।
বরিশাল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ মে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়ায় অবস্থিত জমিদারবাড়ির সংরক্ষণে কাজ চলছে।
দোতলা ভবনটির চারপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার। ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো ছাদ, সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ নির্মাণ করা হবে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূলত ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ‘পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে ভবনটিকে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এই তথ্য নিশ্চিত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, জমিদারবাড়ির উচ্চতা ৮ দশমিক ২০ মিটার, দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ২০ মিটার। দোতলা ভবনটিতে আছে মোট ৯টি কক্ষ। জমিদারবাড়িটির চারপাশে আছে তিনটি বাঁধানো পুকুর, যেগুলো ‘বাবুবাড়ি পুকুর’ নামে পরিচিত।
ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত, জমিদার রূপচন্দ্র রায় ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে তিনি প্রায় ৪৯ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রজাদরদি হিসেবে খ্যাত রূপচন্দ্র রায়ের আমলেই লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়। রূপচন্দ্রের দুই ছেলে রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী। প্যারীলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যারিস্টার ও সমাজসেবক, তাঁর দুই পুত্র বিখ্যাত বৈমানিক ইন্দ্রলাল রায় এবং নামকরা বক্সার পরেশলাল রায় তাঁদের কীর্তির ইতিহাস সুদীর্ঘ। এই জমিদার পরিবারের সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। কবিগুরুর বড় ভাই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পুত্র অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের দুই নাতনি সুশীলা এবং চারুবালাকে। পরবর্তী সময়ে জমিদার দেবেন লাল রায় চৌধুরী ভারতে থিতু হন এবং কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মেয়ে মন্দিরা রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় বরিশালের কাশীপুরের মুখার্জি পরিবারে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জনদরদি জমিদারবংশের উদ্যোগেই রাজচন্দ্র কলেজ এবং পুষ্পরাণী চৌধুরী ইনস্টিটিউশন (পিআরসি স্কুল) প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলটি সক্রিয় আছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন নতুন করে জমিদারের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নেওয়া লাকুটিয়া গ্রামের মানুষও সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তিবিষয়ক কৌশলি সুভাষ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানাভুক্ত প্রায় আট একর জমি এবং একটি বড় পুকুরের মালিকানা পেয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে ধ্বংসপ্রায় জমিদার রূপচন্দ্র রায়ের বাড়িটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেবে।’

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:২৪
বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। মৃত দুই শিশুর একজনের বয়স চার মাস এবং অপরজনের বয়স ১৩ মাস।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চার মাস বয়সী হুজাইফা এবং বরগুনার তালতলী উপজেলার ১৩ মাস বয়সী আবদুল্লাহ রয়েছে। তারা উভয়েই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যুবরণ করেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ১৬৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে ৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে বিভাগজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪১৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, হাম-রুবেলার উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে তিন হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, মার্চ মাসে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও বর্তমানে তা কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। তবে রোগীর চাপ এখনও বেশি থাকায় হাসপাতালগুলোতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, হামের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং টিকার কোনো সংকট নেই। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেও টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তবুও রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। মৃত দুই শিশুর একজনের বয়স চার মাস এবং অপরজনের বয়স ১৩ মাস।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চার মাস বয়সী হুজাইফা এবং বরগুনার তালতলী উপজেলার ১৩ মাস বয়সী আবদুল্লাহ রয়েছে। তারা উভয়েই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মৃত্যুবরণ করেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ১৬৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে ৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে বিভাগজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪১৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, হাম-রুবেলার উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে তিন হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, মার্চ মাসে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও বর্তমানে তা কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। তবে রোগীর চাপ এখনও বেশি থাকায় হাসপাতালগুলোতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, হামের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং টিকার কোনো সংকট নেই। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেও টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তবুও রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০১
বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার ‘হোটেল রয়েল প্লাস’-এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কোতোয়ালি মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আমিনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে হোটেল রয়েল প্লাসে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুই নারী এবং হোটেলের ম্যানেজারসহ আরও তিন কর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী স্টাফ রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। নগরীর জননিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার ‘হোটেল রয়েল প্লাস’-এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কোতোয়ালি মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আমিনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে হোটেল রয়েল প্লাসে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুই নারী এবং হোটেলের ম্যানেজারসহ আরও তিন কর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী স্টাফ রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। নগরীর জননিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:০৩
বরিশালের বাবুগঞ্জে সমন্বিত কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষির টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের সহায়তায় বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি ভবন মিলনায়তনে দিনব্যাপী ওই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
'প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত ওই কংগ্রেসে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ মোঃ শহিদুল ইসলাম। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার সভাপতিত্বে পার্টনার কংগ্রেসে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাঃ আব্দুর রউফ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রোমানা শারমিন রিপার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্টনার প্রকল্পের বরিশাল অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক এবিএম মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক, চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ী, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, পার্টনার এনজিও প্রতিনিধি সাইদুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সুমন, সফল চাষী রুম্মন হোসেন, ঝর্ণা রাণী প্রমুখ।
পার্টনার কংগ্রেসে বিশেষ অতিথি হিসেবে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এএফএম নাজমুস সালেহীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান হিমু খান, রহমতপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন্টু, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম ওমর, রফিকুল ইসলাম, সাদিকুর রহমান সুরুজ, বিবি হাজেরা রিমি, রেশমা আক্তার প্রমুখ। এসময় পার্টনার প্রকল্পের স্টেক হোল্ডাররা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক কৃষাণ-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
পার্টনার প্রকল্প সম্পর্কে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাঃ আব্দুর রউফ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেমিক্যাল ও পেস্টিসাইডমুক্ত আধুনিক, নিরাপদ এবং সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করাই এই পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটি কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করবে। এছাড়াও নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনসহ কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এতে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষকদের কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যাবে তেমনি প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। #
বরিশালের বাবুগঞ্জে সমন্বিত কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষির টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের সহায়তায় বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি ভবন মিলনায়তনে দিনব্যাপী ওই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
'প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত ওই কংগ্রেসে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ মোঃ শহিদুল ইসলাম। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার সভাপতিত্বে পার্টনার কংগ্রেসে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাঃ আব্দুর রউফ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রোমানা শারমিন রিপার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্টনার প্রকল্পের বরিশাল অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক এবিএম মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক, চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ী, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, পার্টনার এনজিও প্রতিনিধি সাইদুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সুমন, সফল চাষী রুম্মন হোসেন, ঝর্ণা রাণী প্রমুখ।
পার্টনার কংগ্রেসে বিশেষ অতিথি হিসেবে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এএফএম নাজমুস সালেহীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান হিমু খান, রহমতপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন্টু, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম ওমর, রফিকুল ইসলাম, সাদিকুর রহমান সুরুজ, বিবি হাজেরা রিমি, রেশমা আক্তার প্রমুখ। এসময় পার্টনার প্রকল্পের স্টেক হোল্ডাররা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক কৃষাণ-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
পার্টনার প্রকল্প সম্পর্কে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাঃ আব্দুর রউফ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেমিক্যাল ও পেস্টিসাইডমুক্ত আধুনিক, নিরাপদ এবং সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করাই এই পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটি কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করবে। এছাড়াও নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনসহ কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এতে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষকদের কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যাবে তেমনি প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। #